সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

অর্থনৈতিক ইতিহাস

পঞ্চদশ শতকের শুরুর দিক। দিল্লি সুলতানির শেষের শুরু। বিদেশি আক্রমণ, কলহ-বিবাদে ভারতের রাজনৈতিক আকাশ তখন মেঘাচ্ছন্ন। এমন এক সময় ভারত থেকে কয়েক হাজার মাইল দূরে ইউরোপের এক ছোট্ট দেশ পর্তুগালের সাহসী জাহাজ জিব্রাল্টার প্রণালী পার হয়ে মরক্কোর সেউটায় এক উপনিবেশ (১৪১৫ সাধারণাব্দ) তৈরি করে ফেলে। আফ্রিকায় প্রথম ইউরোপীয় উপনিবেশ। পরবর্তী ৮০ বছরের মধ্যে কেপ ভার্দে, ঘানার এলমিনা, মোজাম্বিক দখল করে দাস ব্যবসা, অন্যান্য পণ্য ও স্বর্ণ বাণিজ্যের হাত ধরে পর্তুগিজদের ব্যবসায়িক রমরমার চূড়ান্ত অবস্থা। আর যেদিন উত্তমাশা অন্তরীপ পার হওয়ার জাদুকাঠির সন্ধান পাওয়া গেল, তার পর তো দ্রুতবেগে পর্তুগিজ নৃশংসতায় ভর করে পূর্ব আফ্রিকার মোম্বাসা, কিলওয়া, সোফালা - একের পর এক বাণিজ্য ঘাঁটিতে পর্তুগিজ পতাকা উড়তে থাকে। সোফালা বন্দরে এসে ভাস্কো দা গামা ভারতীয় নাবিকদের দেখা পান।
১৯২০ সালে রাশিয়ার বলশেভিকরা তিন বছরের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের পর শ্বেতরক্ষীদের নির্ণায়কভাবে পরাস্ত করতে সক্ষম হলেও দেশের অর্থনীতি ও পরিকাঠামো ভেঙে চুরে যায়। রাশিয়ার পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সমাজতান্ত্রিক আদর্শ থেকে খানিকটা পেছনে সরে এসে নেওয়া হয় নয়া আর্থিক নীতি বা নেপ। এতে গ্রামাঞ্চলে ধনী কৃষক ও কুলাকদের অনেকটা ছাড় দেওয়া হয়, যাতে রাশিয়ায় কৃষি উৎপাদন বাড়ে এবং সেনাবাহিনী ও শহরে পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ বরাদ্দ থাকে। ভারী শিল্প ও কলকারখানা এরপরেও বেশ কয়েক বছর বেশ সঙ্কটগ্রস্থ অবস্থায় থাকলেও কৃষি উৎপাদন ক্রমশ বাড়তে থাকে। ১৯২৪ এ লেনিনের মৃত্যুর পর রাশিয়ায় শুরু হয় নেপ নিয়ে এক মহাবিতর্ক।
একটা পুরো মহাসাগরের নাম আমাদের দেশের নামে হয়ে গেছে। পৃথিবীতে যুগে যুগে বহু ক্ষমতাধরেরা এসেছেন, সেসব দেশের পাশেও মহাসাগর আছে, কিন্তু তবু অন্য কোনো দেশ এই সৌভাগ্যের অধিকারী হয়নি, তাদের নামে একটা মহাসাগরের নাম হয়নি। ভারতের সঙ্গে এই মহাসাগর, তার নিকটবর্তী অন্যান্য সাগরগুলির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। অতি প্রাচীন যুগ থেকে, প্রথমে পশ্চিম ও পরে পূর্ব উপকূল ধরে, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এই উপমহাদেশের মানুষ সমুদ্রপথে বাণিজ্য করেছে। সেই ইতিহাস আজ হারিয়ে গেছে। ভারতবর্ষের মানুষের সেই গৌরবের কথা, সম্পদের স্মৃতিও আর নেই। তবে সেই ইতিহাস তার প্রতি বিদেশি বণিকের আকর্ষণ গড়ে তুলেছিল। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ইতিহাসে সেই বাণিজ্য ও তার সঙ্গে সাংস্কৃতিক দেনাপাওনার স্মৃতি রয়ে গেছে।