সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

লেখক: নবাঙ্কুর মজুমদার

নবাঙ্কুর মজুমদার
ইতিহাস বিষয়ে স্নাতকোত্তর, বর্তমানে শিক্ষকতার সাথে যুক্ত। বসবাস কলকাতায়। প্রিয় বিষয় প্রাচীন ভারতের ইতিহাস আর অকাজে হিমালয়ের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়ানো।
পঞ্চদশ শতকের শুরুর দিক। দিল্লি সুলতানির শেষের শুরু। বিদেশি আক্রমণ, কলহ-বিবাদে ভারতের রাজনৈতিক আকাশ তখন মেঘাচ্ছন্ন। এমন এক সময় ভারত থেকে কয়েক হাজার মাইল দূরে ইউরোপের এক ছোট্ট দেশ পর্তুগালের সাহসী জাহাজ জিব্রাল্টার প্রণালী পার হয়ে মরক্কোর সেউটায় এক উপনিবেশ (১৪১৫ সাধারণাব্দ) তৈরি করে ফেলে। আফ্রিকায় প্রথম ইউরোপীয় উপনিবেশ। পরবর্তী ৮০ বছরের মধ্যে কেপ ভার্দে, ঘানার এলমিনা, মোজাম্বিক দখল করে দাস ব্যবসা, অন্যান্য পণ্য ও স্বর্ণ বাণিজ্যের হাত ধরে পর্তুগিজদের ব্যবসায়িক রমরমার চূড়ান্ত অবস্থা। আর যেদিন উত্তমাশা অন্তরীপ পার হওয়ার জাদুকাঠির সন্ধান পাওয়া গেল, তার পর তো দ্রুতবেগে পর্তুগিজ নৃশংসতায় ভর করে পূর্ব আফ্রিকার মোম্বাসা, কিলওয়া, সোফালা - একের পর এক বাণিজ্য ঘাঁটিতে পর্তুগিজ পতাকা উড়তে থাকে। সোফালা বন্দরে এসে ভাস্কো দা গামা ভারতীয় নাবিকদের দেখা পান।
বাংলা গান। বাঙালির এক অপরিমেয় অহংকার। তার নিজস্ব রত্নভাণ্ডার। বাঙালির হাজারও দোষের চর্চা হলেও ভারত জুড়ে আজও তার কোকিলকন্ঠের প্রশংসা করার লোকের অভাব হয় না। চর্যাপদের গায়েন থেকে শুরু করে আজকের স্বনামধন্য গায়ক গায়িকা পর্যন্ত সংগীতের এক স্বপ্নিল উত্তরাধিকারের ধারক বাঙালির সংগীতপ্রেমের জুড়ি মেলা ভার। শুরুর সেদিন থেকে বাঙালির সংগীত বহু ধারা উপধারায় বহমান। সমস্ত ধারাকে একসাথে এই ছোট্ট পরিসরে ধরা এক সুকঠিন কাজ। কারণ, বাঙালির সংগীতের সূচনালগ্ন থেকেই তাতে সমান্তরাল দুটি ধারা পরিপুষ্ট হয়ে চলেছে —লোকসংগীত ও শাস্ত্রীয় সংগীত। আর গান মানে তাতে বিভিন্ন রাগ রাগিণীর ব্যবহার থাকবেই। বঙ্গাল, ভাটিয়ালি, গৌড় মল্লার, গৌড় সারঙ্গ ইত্যাদি রাগিণী যে এই পোড়া দেশের ছাই উড়িয়ে পাওয়া অমূল্য রতন তা তো ‘নাম দিয়ে যায় চেনা’। সূচনালগ্নের চর্যাগান থেকে কীর্তন ও ঢপ কীর্তন পর্যন্ত পারস্পরিক আত্মীয় সম্পর্কে বাঁধা কয়েকটি গানের ধারা কেবল আমরা এই প্রবন্ধে আলোচনা করব। তবে শুরুরও একটা শুরু থাকে।
মাস আষ্টেক আগে দিল্লি থেকে একা ফিরছি। ট্রেনে। নিউ দিল্লি ষ্টেশন থেকে ট্রেনে উঠে দেখি আমার কুপে পাঁচটা ছেলে-মেয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে আছে। ছয় নম্বর সিটটা আমার। দেখে মনে মনে একটু আশঙ্কিতই হলাম। একুশ বাইশ বছরের এতগুলো বাচ্চা ছেলে-মেয়ে। হুল্লোড়ের চোটে আমার জার্নিটা মাটি না হয়! ট্রেন ছাড়তেই একটু গুছিয়ে বসে আলাপ করে জানলাম, এরা সবাই ইউপিএসসি-র প্রস্তুতির জন্য দিল্লির কোনও এক কোচিং সেন্টারে পড়াশুনো করে, কয়েকদিনের জন্য বাড়ি ফিরছে। ট্রেন গতি নিয়েছে। ওরা নিজেদের মধ্যে মশগুল দেখে আমিও একটা বই খুলে আরাম করে বসলাম। আমার এখনও মনে আছে, বইটা ছিল ‘মুঘল রিলেশনস উইথ পার্সিয়া’। কয়েকটা পাতা এগিয়েছি সবে। চোখ তুলে দেখি ওরা আমার বইটার দিকে তাকিয়ে নিচু স্বরে কথা বলছে।