সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

সামাজিক ইতিহাস

বাংলাদেশে বসবাসকারী আদিবাসী জনগোষ্টীর মধ্যে ‘চাকমা’ বা ‘চাঙমা’ সমাজ নানাকারণে বিশিষ্টতার দাবিদার। সাহিত্য-শিল্পকলা-শিক্ষা-সংস্কৃতিতে অগ্রগামী এই জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের আদিবাসী নৃগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠও বটে। বাংলাদেশে প্রধানত পাহাড়ি চাদর আবৃত পার্বত্য চট্রগ্রামেই তাদের মূল আবাস। এছাড়াও ভারতের ত্রিপুরা, মিজোরামের দক্ষিণাংশে, অরুণাচল, মিকির হিলসেও চাকমারা বাস করে। মিজোরামে ‘চাকমা অটোনোমাস ডিষ্ট্রিক কাউন্সিল’ নামে একটি এলাকাও আছে। মায়ানমারের আরাকানে, বাংলাদেশের কক্সবাজারের টেকনাফে ‘দৈংতাক’ নামে চাকমাদের আর একটা শাখা বসবাস করে, যারা সেখানে বাংলাদেশী চাকমাদের মতো নিজেদের ‘চাঙমা’ বলে।
"তুমি যে হাসপাতালে সেটা শুনে খুব প্রীত হলাম। আমৃত্যু যেন যন্ত্রণা ভোগ কর সেই কামনা করি, নির্বোধ!" চিঠিটার নীচে স্বাক্ষর করেছিলেন 'একজন ইংলিশম্যান' । ১৯১৩ সালের জুনে এমিলি উইল্ডিং ডেভিডসন যখন হাসপাতালের মৃত্যু শয্যায়, তখন তাঁর কাছে এই চিঠি আসে। এমিলি ডেভিডসন, ইংল্যান্ডে নারীদের ভোটাধিকারের আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী। কয়েকদিন আগে তিনি এপসমের রাজকীয়, সম্ভ্রান্ত ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় ভোটাধিকার চেয়ে বিক্ষোভ করতে গিয়েছিলেন। ঘোড়ার লাথিতে আহত হন। সংজ্ঞাহীন অবস্থায় হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়। সেই জ্ঞান আর ফেরেনি। ৮ই জুন মারা যান তিনি। মৃত্যুশয্যায় শুয়েও গালাগালি ভরা যে ধরণের চিঠি তিনি পেয়েছিলেন, তা থেকে স্পষ্ট, কীরকম ঘৃণা, বিদ্বেষ এবং হুমকির সম্মুখীন হতেন ভোটাধিকারের আন্দোলনের নারীরা।
১৯৪৪-এর অক্টোবর মাসে বিজন ভট্টাচার্যের ‘নবান্ন’ নাটক প্রথম মঞ্চস্থ হয় কলকাতার শ্রীরঙ্গম থিয়েটারে। তারপর গণনাট্য সংঘের এই নাটকটি ভারতের নানা জায়গায় ‘ভয়েস অফ বেঙ্গল’-এর অঙ্গ হিসেবে মঞ্চস্থ হয়ে কীভাবে সাড়া ফেলে দিয়েছিল, সে কথা ইতিহাসে লেখা আছে উজ্জ্বল অক্ষরে। কিন্তু যা হয়তো সেভাবে লেখা নেই, তা হলো ‘নবান্ন’ নাটকের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মনে পঞ্চাশের মন্বন্তরের অভিঘাত। যেমন ধরুন, সে সময়ে আশুতোষ কলেজের ছাত্রী ১৮/১৯ বছরের তৃপ্তি মিত্র কীভাবে দেখেছিলেন মন্বন্তরকে, ‘নবান্ন’-এ ছোট বউ বিনোদিনীর ভূমিকায় অভিনয়ের সময় কীভাবে উৎসারিত হতো তাঁর সেই দেখা—এগুলোর কথা আমাদের অজানাই রয়ে গেছে অনেকাংশে।