ঋত্বিক ঘটক তাঁর ছবির মধ্য দিয়েই বুঝিয়েছেন তিনি নির্ভীক, নিষ্ঠাবান, আপসহীন শক্তিশালী পরিচালক। ছবি নির্মাণে প্রথাগত ব্যাকরণ ভেঙ্গে নিজেই নতুন ব্যাকরণ তৈরি করেছেন। কাহিনি, সংলাপ, চরিত্রচিত্রণ, আবহসঙ্গীত, ক্যামেরা সবেতেই তাঁর প্রতিভা ও যত্নের ছাপ রয়েছে। উচ্চাঙ্গ সংগীতের পাশাপাশি রবীন্দ্র সঙ্গীত, লোকসঙ্গীতকেও ব্যবহার করেছেন তাঁর ছবিতে। বারবার এনেছেন দেশভাগের কথা, উদ্বাস্তু মানুষের যন্ত্রণার কথা, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতায় মানুষের বলি হওয়ার কথা। বেশির ভাগ প্রধান চরিত্র রামায়ণ, মহাভারত ও পুরাণ থেকে নিয়েছেন, শঙ্কর, ভৃগু, রাম, অভিরাম, ঋষি, ঈশ্বর, নীলকণ্ঠ তাঁর ছবির চরিত্র। নারী চরিত্রগুলিও এনেছেন সেভাবে। নামকরণের ক্ষেত্রে রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ থেকে এনে আধুনিক যুগের কালানুগ করে তুলেছেন। সীতা, অনুসূয়া, উমা, শকুন্তলা, জগদ্ধাত্রী ভারতীয় সংস্কৃতির শাশ্বত চরিত্র। তাঁর কয়েকটি ছবিতে প্রধান নারী চরিত্রের নামকরণ হয়েছে এদের নামে। সীতা, দুর্গা, উমা একাধিকবার এসেছে তাঁর ছবিতে। সেকালের নারী চরিত্ররা একালের দেশ, কাল ও সামাজিক পরিবেশে কতটা প্রাসঙ্গিক হতে পারে তা দেখিয়েছেন।
বারোশো বছর পুরোনো আঙ্কোর নগরী - কম্বোডিয়ার উত্তর-পশ্চিমাংশে। আঙ্কোর শব্দের অর্থ নগর, সংস্কৃত নগর শব্দ অপভ্রষ্ট হয়ে আঙ্কোর। এখন অবশ্য এই নগরীর ধ্বংসস্তূপই রয়ে গেছে, তবে বেশ অক্ষত অবস্থায়- এখনও দেখলে মানসচক্ষে গোচর করা যায়, সে যুগে কেমন লাগত এই শহর। কয়েকশো মন্দির, কয়েকশো তোরণ, চারিদিকে জলের পরিখা, তাদের উপর দিয়ে ছোটো ছোটো সেতু, আর অজস্র নাগ। সেতুর রেলিংগুলো নাগের শরীর, মন্দিরের প্রবেশপথের দুধারের রেলিংগুলিও নাগ, মন্দিরের দেয়ালচিত্রে নাগ, গৌতম বুদ্ধের মস্তক আবৃত করে তাঁকে রক্ষা করে চলেছে একটি নাগ- সারা শহরে আধিপত্য করছে দুটি নাগ- বৌদ্ধদের মুচলিন্দ আর হিন্দুদের বাসুকি।