সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

সাংস্কৃতিক ইতিহাস

আমাদের মধ্যে ক’জনই বা ভোজপুরি সিনেমা সম্পর্কে খবর রাখি! এ ভাষার ছবি আজ বিশেষ কিছু ঝোঁকের জন্য পরিচিত। টেলিভিশনে তেমন ছবির অংশ বিশেষ দেখালে বেশ কৌতুক আর হয়ত কিছুটা তাচ্ছিল্য নিয়ে তাকায় ‘সিনেমাপ্রাণ’ বাঙালি দর্শক। তাই ষাটের দশকে এই ধারায় কোন পরিচালক কেমন ছবি তৈরি করেছিলেন তার তথ্য আমাদের কাছে না থাকাই স্বাভাবিক। ঔদাসীন্য যেখানে থাকার থাক, উল্লেখ করা যাক যে ১৯৬৬ সালে কুন্দন কুমার নামে একজন পরিচালক তৈরি করেছিলেন ‘লোহা সিং’ নামে ভোজপুরি চলচ্চিত্র। নামেই মজে যান অনেকে, তেমনি আবার চটেও যান বহু মানুষ। কোনো ছবির নাম ‘লোহা সিং’ ছিল শুনলে আর এক দফা অবজ্ঞা ধেয়ে আসবে নির্ঘাত। ছবিটা ওই সময়েও ভালো বাণিজ্য করেছিল জানলেও চলে যাওয়ার নয় এই অবজ্ঞা।১ তবে নামের পেছনে কাহিনিটা জানলে বোধহয় মনোভাব পাল্টাতে পারে খানিকটা।
ঋত্বিক ঘটক তাঁর ছবির মধ্য দিয়েই বুঝিয়েছেন তিনি নির্ভীক, নিষ্ঠাবান, আপসহীন শক্তিশালী পরিচালক। ছবি নির্মাণে প্রথাগত ব্যাকরণ ভেঙ্গে নিজেই নতুন ব্যাকরণ তৈরি করেছেন। কাহিনি, সংলাপ, চরিত্রচিত্রণ, আবহসঙ্গীত, ক্যামেরা সবেতেই তাঁর প্রতিভা ও যত্নের ছাপ রয়েছে। উচ্চাঙ্গ সংগীতের পাশাপাশি রবীন্দ্র সঙ্গীত, লোকসঙ্গীতকেও ব্যবহার করেছেন তাঁর ছবিতে। বারবার এনেছেন দেশভাগের কথা, উদ্বাস্তু মানুষের যন্ত্রণার কথা, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতায় মানুষের বলি হওয়ার কথা। বেশির ভাগ প্রধান চরিত্র রামায়ণ, মহাভারত ও পুরাণ থেকে নিয়েছেন, শঙ্কর, ভৃগু, রাম, অভিরাম, ঋষি, ঈশ্বর, নীলকণ্ঠ তাঁর ছবির চরিত্র। নারী চরিত্রগুলিও এনেছেন সেভাবে। নামকরণের ক্ষেত্রে রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ থেকে এনে আধুনিক যুগের কালানুগ করে তুলেছেন। সীতা, অনুসূয়া, উমা, শকুন্তলা, জগদ্ধাত্রী ভারতীয় সংস্কৃতির শাশ্বত চরিত্র। তাঁর কয়েকটি ছবিতে প্রধান নারী চরিত্রের নামকরণ হয়েছে এদের নামে। সীতা, দুর্গা, উমা একাধিকবার এসেছে তাঁর ছবিতে। সেকালের নারী চরিত্ররা একালের দেশ, কাল ও সামাজিক পরিবেশে কতটা প্রাসঙ্গিক হতে পারে তা দেখিয়েছেন।
পূর্বতন একটি নিবন্ধে আমরা সংস্কৃতের সঙ্গে ল্যাটিনের তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে দেখিয়েছিলাম যে কোনোটিই ‘কৃত্রিম’ ভাষা নয়, বরং উভয়ই জৈবিক ভাষাগত বিবর্তনের ফলে সৃষ্ট মানকীকৃত সাহিত্যিক রূপ। এই প্রবন্ধে আমরা ল্যাটিন ভাষার সম্পূর্ণ যাত্রাকে অনুসরণ করব। তার ইন্দো-ইউরোপীয় উৎস থেকে শুরু করে আদি ল্যাটিনের উদ্ভব, ধ্রুপদী ল্যাটিনের মানকীকরণ, তার জটিল ব্যাকরণিক কাঠামো, সাহিত্যিক অবদান এবং শেষে রোমান্স ভাষাগুলিতে তার রূপান্তর। বিশেষত, আমরা দেখাব কীভাবে ধ্রুপদী ল্যাটিন একটি স্বাভাবিক ভাষাগত বিবর্তনের ফসল ছিল, যেখানে সাহিত্যিক ও বাগ্মীরা কথ্য ভাষার বৈচিত্র্য থেকে একটি মানক সাহিত্যিক রূপ তৈরি করেছিলেন।
আলমপুরের নবব্রহ্মা মন্দিরগুচ্ছ ৭ম থেকে ৯ম শতাব্দীর মধ্যে নির্মিত নয়টি প্রাচীন বাদামি চালুক্য মন্দির৷ এই মন্দিরগুলি অন্ধ্রপ্রদেশের সীমান্তে তুঙ্গভদ্রা নদী এবং কৃষ্ণা নদীর মিলনস্থলের কাছে তেলঙ্গানার আলমপুরে অবস্থিত। তাদের অনুপম স্থাপত্যশৈলীর জন্য মন্দিরগুলি বিশিষ্ট বটে, তবে আরেকটি কারণে তারা ভারতীয় শিল্প-স্থাপত্যের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। ব্রাহ্মণ্য সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ এক দেবতা-গোষ্ঠী, নিত্যপূজায় যাদের উদ্দেশ্যে গন্ধপুষ্প নিবেদন অবশ্য-কর্তব্য বলে বিবেচিত হয়, সেই দিকপাল-দেবতাদের তাদের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী মন্দিরের নির্দিষ্ট অংশে রূপায়ণের প্রাচীনতম সংরক্ষিত উদাহরণগুলো এই মন্দিরগুলিতেই দেখা যায়।
বারোশো বছর পুরোনো আঙ্কোর নগরী - কম্বোডিয়ার উত্তর-পশ্চিমাংশে। আঙ্কোর শব্দের অর্থ নগর, সংস্কৃত নগর শব্দ অপভ্রষ্ট হয়ে আঙ্কোর। এখন অবশ্য এই নগরীর ধ্বংসস্তূপই রয়ে গেছে, তবে বেশ অক্ষত অবস্থায়- এখনও দেখলে মানসচক্ষে গোচর করা যায়, সে যুগে কেমন লাগত এই শহর। কয়েকশো মন্দির, কয়েকশো তোরণ, চারিদিকে জলের পরিখা, তাদের উপর দিয়ে ছোটো ছোটো সেতু, আর অজস্র নাগ। সেতুর রেলিংগুলো নাগের শরীর, মন্দিরের প্রবেশপথের দুধারের রেলিংগুলিও নাগ, মন্দিরের দেয়ালচিত্রে নাগ, গৌতম বুদ্ধের মস্তক আবৃত করে তাঁকে রক্ষা করে চলেছে একটি নাগ- সারা শহরে আধিপত্য করছে দুটি নাগ- বৌদ্ধদের মুচলিন্দ আর হিন্দুদের বাসুকি।