সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

সাংস্কৃতিক ইতিহাস

জন্মলগ্ন থেকেই আমার দেশ বৈচিত্র্যে পরিপূর্ণা। এ দেশে দুঃখের অনলে দগ্ধ হবার হোমযজ্ঞ যেমন আছে, তেমনই আনন্দ ধারায় শীতল স্নানের সপ্তনদী-সংস্কার আছে। এ মাটিতে যুদ্ধ হানাহানির ক্ষতবিক্ষত দাগ যেমন আছে, তেমনি এ মাটিতে সুপ্রাচীন কালের শিক্ষা ও সংস্কৃতির সুনিপুণ পদচিহ্ন আছে। আর সেই প্রাচীন সংস্কৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে রয়েছে ভারতীয় নৃত্য। ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন নৃত্যকলা হল ভরতনাট্যম নৃত্যকলা। কালক্রমে এই প্রাচীন নৃত্যকলা রূপে, রঙে পরিবর্তিত হলেও তার সুরের নদীতে বয়ে চলেছে বিশুদ্ধ আধ্যাত্মিকতা। তবে এর ইতিহাস বলে শুধু আধ্যাত্মিকতাই নয়, এ নদীতে বয়ে চলেছে অধ্যবসায়, অশ্রুধারা, সামাজিক ব্যাধির দুর্গন্ধ আর সংগ্রাম।
১৯৮৪ সালে সত্যজিৎ রায়কে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় যখন সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রীতে ভূষিত করে, সে সভায় তিনি বলেন “এখন এই উপমহাদেশে এমন একটা সময় এসেছে যেখানে চলচ্চিত্র পাঠ একাডেমিক স্তরে কেবলমাত্র চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য নয়, চলচ্চিত্রবিদ্যার জন্য, যেমনভাবে আমরা সাহিত্য নিয়ে পড়ি, তেমনভাবে সিনেমা নিয়ে যেন পড়তে পারে। এই রকম ভাবনা থেকেই ইউ.জি.সি., যারা আমাদের পড়াশোনার বিষয়গুলি পরিচালনা করে তারা নবম পরিকল্পনায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ফিল্ম স্টাডিজ’ শুরু করেন। এই পঠনের সূচনায় যে তিনজন প্রধান অধ্যাপক ছিলেন, তাদের মধ্যে আমি একজন। যাদবপুরে এরকম দুটো বিষয় শুরু হয়েছিল, যার একটি হল ‘কম্পারেটিভ লিটারেচার’ বা ‘তুলনামূলক সাহিত্য’ - বুদ্ধদেব বসুর নেতৃত্বে এবং দ্বিতীয়টি হল ‘ফিল্ম স্টাডিজ’ বা ‘চলচ্চিত্রবিদ্যা’।