শ
হরকে আমরা সাধারণত দেখি স্থাপত্য, অর্থনীতি, প্রশাসন কিংবা জনসংখ্যার পরিসংখ্যানের মধ্যে দিয়ে একটি দৃশ্যমান, মানচিত্রায়িত এবং শাসিত পরিসর হিসেবে। কিন্তু শহর কি কেবল দৃশ্যমান? শহর কি কেবল রাস্তাঘাট, ভবন এবং নাগরিক পরিকাঠামোর সমষ্টি? নাকি শহরকে বোঝার জন্য আমাদের প্রবেশ করতে হবে সেইসব অদৃশ্য স্তরে, যেখানে ইতিহাস কাগজে লেখা হয় না, বরং লেখা হয় শরীরে, গন্ধে, স্বপ্নে, অনুভূতিতে? এই নিবন্ধ সেই অদৃশ্য স্তরগুলির দিকে তাকানোর একটি প্রয়াস মাত্র, যেখানে ‘গন্ধ’ এবং ‘স্বপ্ন’ মিলিত হয়ে গড়ে তোলে শহরের এক অবচেতন আর্কাইভ, এবং যেখানে জাত ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা গভীরভাবে বিন্যস্ত থাকে ক্ষমতা, বর্জন এবং স্মৃতির রাজনীতিতে।
ইউরোপ, এমনকি মহাসাগরের ওপারে ইউরোপীয় সভ্যতারই সম্প্রসারিত রূপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কল্পনা ও মননে রোমের পতনের দীর্ঘ ছায়া আজও বিদ্যমান। আজও ‘পশ্চিম’-এর পতন সংক্রান্ত যে কোনও বিতর্কে হামেশাই রোমের পতনের সঙ্গে তুলনা টেনে আনা হয়। বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করেন রোমান সাম্রাজ্যের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরও কোনও একদিন পতন হবে কিনা, ইউরোপের অতি-দক্ষিণপন্থীরা বর্বর আক্রমণের সঙ্গে তুলনা টানেন অভিবাসনের। মোট কথা, ‘পতন’ বলতেই ইউরোপীয়দের (এবং আমেরিকানদের) মননে প্রথম যে চিত্রটি ভেসে ওঠে, তা প্রাচীন রোম-সংক্রান্ত। এই প্রসঙ্গে বলে নেওয়া ভালো, রোমের পতন বলতে খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতকের শেষের দশকে পশ্চিম রোমান সাম্রাজ্যের পতনের কথা আমরা বলছি। পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য, যা ১৪৫৩ খ্রিস্টাব্দ অবধি বজায় ছিল, তার সম্পর্কে ইউরোপের ঐতিহাসিক স্মৃতি ও ধারণা অন্যপ্রকার, সে এই আলোচনার বিষয় নয়। এই প্রবন্ধের উদ্দেশ্য, আধুনিক ইউরোপের বদলাতে থাকা ঘটনাবলী রোমের পতন সংক্রান্ত ঐতিহাসিক আলোচনাকে কিভাবে প্রভাবিত করেছে, তার একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা প্রদান করা।