সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

ফিরে দেখা

রাজ্যের রাজধানী রাঁচির কাছেই গুমলা। পাহাড় জঙ্গলে ঘেরা এই অঞ্চল আদিবাসীদের বাসভূমি। আদিবাসীদের মধ্যে ওঁরাও সম্প্রদায়ের সংখ্যাধিক্য। গত শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে এই অঞ্চলের 'চিংড়ি নাভাটোলি' গ্রাম থেকে ওঁরাও সম্প্রদায়ের মধ্যে এক নব জাগরণ আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। গ্রামের পঁচিশ বছরের তরতাজা যুবক 'যাত্রা ওঁরাও' ছিলেন এই জাগরণের হোতা। ১৯১৪ সালে যাত্রা ওঁরাও ঘোষণা করেন, তাঁদের দেবতা 'ধর্মেশ'- এর কাছ থেকে তিনি 'ওঁরাও' রাজ প্রতিষ্ঠা করার নির্দেশ পেয়েছেন। যাত্রা বলেন ওঁরাওদের ধর্মের কলুষতা থেকে মুক্ত করতে হবে। মদ্যপান, পশুবলি, ভূত বা আত্মায় বিশ্বাস, অপদেবতা সন্দেহে নিধন বন্ধ। যাত্রা কৃচ্ছতাসাধন, নিরামিষ ভক্ষণ ও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের জন‍্য আহবান জানান। এই আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল। আর এই আন্দোলনের সঙ্গে অচিরেই যুক্ত হল জীবন ও জীবিকার প্রশ্নগুলি।
বিশ শতক সমগ্র বিশ্বের ইতিহাসে এক অনন্য সময়। এই সময়ে একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক রাজনীতি ছিল উত্তাল তেমনি তার প্রভাব বিভিন্ন দেশ গুলির আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও দেখতে পাওয়া যায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ফলে জার সাম্রাজ্যবাদের পতন ঘটে, সোভিয়েত ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে রাশিয়ায় সমাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়। এই ঘটনা একদিকে যেমন বিশ্বের সর্বহারার শ্রেণী আন্দোলনে নতুন জোয়ার নিয়ে এল, তেমনি সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা একাধিপত্যেও বেশ কিছুটা ঘা লাগল। রাশিয়ার বিপ্লব ভারতবর্ষের মতো পরাধীন দেশ গুলির চোখে ঔপনিবেশিক শক্তির করাল ছায়া থেকে মুক্তির এক নতুন স্বপ্ন বুনে দিচ্ছিল । দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ধনতন্ত্রের সংকট প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসানে শেষ হল না, বিশ্বশান্তিও বেশি দিন স্থায়ী হল না। এ