সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

লেখক: সুদীপ্ত পাল

সুদীপ্ত পাল
সুদীপ্ত একজন পরিসংখ্যানবিদ, প্রাবন্ধিক ও ঔপন্যাসিক। ইতিহাস ও যৌন সংখ্যালঘু মানুষদের বিষয়ে লেখেন। কর্পোরেটে প্রান্তিক লিঙ্গপরিচয়ের মানুষদের জন্য সাপোর্ট গ্ৰুপ ও কর্মসংস্থান তৈরির কাজে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়েছেন।

সুদীপ্ত কলকাতার ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিকাল ইন্স্টিটিউটের ছাত্র ছিলেন। শিল্পক্ষেত্রে ডাটা সাইন্স এবং বিহেভিওরাল ইকোনমিকস নিয়ে কাজ করেন।
সূর্যের শীতকালীন অয়নান্ত বা উইন্টার সলস্টিস হল বছরের ক্ষুদ্রতম দিন – তিন দিন এক জায়গায় থেমে থাকার পর আবার সূর্যের উত্তরমুখী চলন শুরু হয়। সূর্যের উদয়স্থান একটু একটু করে উত্তর দিকে এগোতে থাকে, আর দিনের দৈর্ঘ্যও বাড়তে থাকে। সূর্যের এই উত্তরায়ণকে বিভিন্ন ভাবে উদযাপন করত মানুষ। বাঙালির ইতুপূজা উৎসব বা অতীতের বৈদিক গবাময়ন যজ্ঞ - মোটামুটি এই দিনটারই আশেপাশে। মকর সংক্রান্তি অতীতে এই দিনই হত- একুশে ডিসেম্বরের আশেপাশে। জার্মানদের ইউলটাইড বা রোমানদের সূর্যপূজা - সোল ইনভিক্টাস উৎসবও এই উত্তরায়ণের উদযাপন আর ক্রিসমাসের উৎস এই সোল ইনভিক্টাস উৎসব থেকেই। কিন্তু এইসব উৎসবের অনেক আগে, আজ থেকে সাড়ে চার হাজার বছর আগে, ব্যাবিলন-মিশরের জ্যোতির্বিদ্যা ইংল্যান্ডে তখনও পৌঁছায়নি - স্টোনহেঞ্জে নব্যপ্রস্তর যুগের মানুষ তৈরি করেছিল গ্রীষ্ম ও শীতকালীন অয়নান্ত মাপার ব্যবস্থা- কয়েকটি পাথরের স্তম্ভ ব্যবহার করে।
বারোশো বছর পুরোনো আঙ্কোর নগরী - কম্বোডিয়ার উত্তর-পশ্চিমাংশে। আঙ্কোর শব্দের অর্থ নগর, সংস্কৃত নগর শব্দ অপভ্রষ্ট হয়ে আঙ্কোর। এখন অবশ্য এই নগরীর ধ্বংসস্তূপই রয়ে গেছে, তবে বেশ অক্ষত অবস্থায়- এখনও দেখলে মানসচক্ষে গোচর করা যায়, সে যুগে কেমন লাগত এই শহর। কয়েকশো মন্দির, কয়েকশো তোরণ, চারিদিকে জলের পরিখা, তাদের উপর দিয়ে ছোটো ছোটো সেতু, আর অজস্র নাগ। সেতুর রেলিংগুলো নাগের শরীর, মন্দিরের প্রবেশপথের দুধারের রেলিংগুলিও নাগ, মন্দিরের দেয়ালচিত্রে নাগ, গৌতম বুদ্ধের মস্তক আবৃত করে তাঁকে রক্ষা করে চলেছে একটি নাগ- সারা শহরে আধিপত্য করছে দুটি নাগ- বৌদ্ধদের মুচলিন্দ আর হিন্দুদের বাসুকি।