সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

প্রাগিতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব

মানুষ ঠিক কবে থেকে সঙ্গীত আয়ত্ত করেছিল, তার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। প্রথম সঙ্গীত ছিল মানুষের কণ্ঠস্বর আর আশেপাশে থাকা বস্তুর উপর ঠুকে তোলা আওয়াজ বা ছন্দ; স্বাভাবিকভাবেই তার কোনো বস্তুগত প্রমাণ পাওয়া যায় না। তবুও গবেষণায় মোটামুটি পরিষ্কার যে, প্রাগৈতিহাসিক মানুষের দৈনন্দিন জীবনেই সঙ্গীতের বীজ তৈরি হয়েছিল। প্রকৃতির বিভিন্ন শব্দ ও পশুপাখিদের আওয়াজ অনুসারে সুর তৈরি করে তা গুনগুন করা, তালি বাজানো, পা ফেলা, পাথর বা কাঠের টুকরো ঘষে বা ঠুকে শব্দ বের করা—এসবই ছিল যোগাযোগ, শিকার, উৎসব আর গোষ্ঠীর ঐক্য রক্ষার এক স্বাভাবিক উপায়। শব্দের মধ্যেই প্রাচীন মানুষ নিরাপত্তা, উত্তেজনা বা সংহতির অনুভূতি তৈরি করত। এর ফলে সঙ্গীত কেবল বিনোদন ছিল না, বরং সামাজিক ও মানসিক দিক থেকে বেঁচে থাকার একটা হাতিয়ার।
মধ্যপ্রদেশের পশ্চিম অংশে আছে মালওয়া মালভূমি—মালওয়া মালভূমি প্রায় ৬ কোটি বছর আগে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে তৈরি হয়েছিল। কালো মাটির দেশ। সেখানে গিয়েছিলাম ভীমবেটকার গুহাশিল্প দেখতে। ভীমবেটকা গুহাগুলিতে ভারতবর্ষের প্রাগৈতিহাসিক মানুষের অন্যতম প্রাচীন গুহাশিল্প পাওয়া গেছে। চারিদিকে ঘন বন। তার মাঝে পাহাড়, সেখানে আছে প্রাচীন মানুষের প্রাকৃতিক শিলাশ্রয়স্থল (রক শেল্টার)। শিলাশ্রয়স্থল হল প্রাকৃতিক, অগভীর গুহার মতো খোলা জায়গা। এই আশ্রয়স্থলগুলি প্রাগৈতিহাসিক মানুষের জন্য ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ — এখানে তারা পেত হিংস্র পশু আর রুক্ষ আবহাওয়া থেকে সুরক্ষা। আবার পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে শিলাশ্রয়স্থলগুলি থেকে পাওয়া গেছে মানুষের কঙ্কাল, প্রাগৈতিহাসিক চিত্রকলা যা তাদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে আমাদের বেশ কিছু তথ্য দেয়। ভীমবেটকাতে প্রাকৃতিক শিলাশ্রয়গুলির পাঁচটি আলাদা স্তবক (ক্লাস্টার) রয়েছে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর অতীত সম্বন্ধে আমাদের খুব বেশি কিছু জানা থাকে না। যেটুকু সামান্য জানার উৎসাহ জাগে তা কেবল আমাদের দেশের সাথে, আমাদের গৌরবজনক সংযোগ সূত্রগুলো ঘিরেই। দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর ইউরোপীয় অধীনতার কবল থেকে স্বাধীন হবার পরেই কেবল তাদের নিজেদের অতীত জানার আগ্রহ দেখা দিতে শুরু করে। এই আগ্রহের পেছনে তাগাদা ছিল ইউরোপীয় ধাঁচে জাতি-রাষ্ট্র গঠনের জন্য আপন আপন জাত্যাভিমানের সৃষ্টি করা। ইউরোপীয় ভাবধারায় জাতি-রাষ্ট্র গঠনের জন্য প্রয়োজন প্রতিটি রাজনৈতিক রাষ্ট্রের নিজস্ব জাতি পরিচয় সৃষ্টি করা ও তাকে সুদৃঢ় জাতিসত্তায় পরিবর্তিত করা। এই রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার থেকেই নবীন রাষ্ট্রগুলো তাদের ইতিহাস চর্চার প্রয়োজন অনুভব করে।