সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

লেখক: কৃশানু নস্কর

কৃশানু নস্কর
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যার স্নাতক এবং বি ই কলেজ থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞানে পোস্ট গ্রাজুয়েট। চাকরি করেছেন রাজ্য সরকারের হোম ডিপাটমেন্ট-এ, কমার্সিয়াল ট্যাক্স department এ, ইউনিয়ন সরকারের অডিট ডিপাটমেন্ট-এ। বর্তমানে বেথুন কলেজে কম্পিউটার বিজ্ঞানের অধ্যাপক। শখ মূলত বিভিন্ন বিষয়ে পড়া এবং অল্পস্বল্প লেখালেখি।
পূর্বতন একটি নিবন্ধে আমরা সংস্কৃতের সঙ্গে ল্যাটিনের তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে দেখিয়েছিলাম যে কোনোটিই ‘কৃত্রিম’ ভাষা নয়, বরং উভয়ই জৈবিক ভাষাগত বিবর্তনের ফলে সৃষ্ট মানকীকৃত সাহিত্যিক রূপ। এই প্রবন্ধে আমরা ল্যাটিন ভাষার সম্পূর্ণ যাত্রাকে অনুসরণ করব। তার ইন্দো-ইউরোপীয় উৎস থেকে শুরু করে আদি ল্যাটিনের উদ্ভব, ধ্রুপদী ল্যাটিনের মানকীকরণ, তার জটিল ব্যাকরণিক কাঠামো, সাহিত্যিক অবদান এবং শেষে রোমান্স ভাষাগুলিতে তার রূপান্তর। বিশেষত, আমরা দেখাব কীভাবে ধ্রুপদী ল্যাটিন একটি স্বাভাবিক ভাষাগত বিবর্তনের ফসল ছিল, যেখানে সাহিত্যিক ও বাগ্মীরা কথ্য ভাষার বৈচিত্র্য থেকে একটি মানক সাহিত্যিক রূপ তৈরি করেছিলেন।
সাধারণপূর্ব তৃতীয় ও চতুর্থ শতাব্দীতে মৌর্য সাম্রাজ্যের অধীনে উপমহাদেশে জনপদগুলো গঠিত হয়েছে। এই সময়ের ইতিহাস জানার অন্যতম সূত্র হল প্রাচীন গ্রন্থসমূহ, গ্রন্থগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কৌটিল্য প্রণীত অর্থশাস্ত্র। কৌটিল্যর সময়কাল মোটামুটি সাধারণপূর্ব ৩৭০-২৮৩ অব্দ। অর্থশাস্ত্র হল মূলত রাষ্ট্রবিজ্ঞান, রাজনীতি, অর্থনীতি এবং সামরিক কৌশল সম্পর্কিত প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃত গ্রন্থ। পাঠ্যটি সম্ভবত বহু শতাব্দী ধরে অনেক লেখকের কাজের সম্মিলিত রূপ। সাধারণপূর্ব ২য় শতাব্দী এবং সাধারণপূর্ব ৩য় শতাব্দীর মধ্যে এই গ্রন্থ রচনা, সম্প্রসারিত ও সংশোধিত হয়। ঐতিহ্যগতভাবে কৌটিল্যকে এই গ্রন্থের লেখক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
বোর-সমারফেল্ড-এর পরমাণু মডেল আপাতভাবে পরমাণুর গঠন, স্থায়িত্ব ও বর্ণালীসমূহের কারণ ব্যাখ্যা করলেও একটা ব্যাপারে তখনও প্রশ্ন ছিল। পরমাণুর কেন্দ্রীন সুস্থিত থাকে কী করে? ধনাত্মক আধান সমন্বিত একাধিক প্রোটন কণাগুলোতো একে অপরকে কুলম্বীয় বিকর্ষণ বলের কারণে দূরে ঠেলবে। অর্থাৎ কেন্দ্রীনের মতো ক্ষুদ্র জায়গায় একজোট হয়ে থাকার পরিবর্তে তাদের একে অপরের থেকে ছিটকে সরে যাবার কথা। কিন্তু এমনটা হয় না, কেন? নিশ্চয়ই এমন কোনো বল বা force আছে যা কুলম্বীয় বল বা তড়িৎচুম্বকীয় বলের থেকে বেশি শক্তিশালী। এই বলের নাম দেওয়া হল, Strong Interactive Force বা তীব্র মিথস্ক্রিয়া বল—সহজ ভাষায় তীব্র বল। দেখা গেল, এই বলের তীব্রতা মহাকর্ষ বা তড়িৎচুম্বকীয় বলের তুলনায় অনেক বেশি হলেও এর সীমা বা range খুবই কম। এর প্রভাব পরমাণুর মধ্যে, বলতে কী, কেন্দ্রীনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।