সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং স্থান

সুরসিক সাহিত্যিক, সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিত, অনুবাদক, বৈয়াকরণ রাজশেখর বসুর নাম আমরা শিক্ষিত বাঙালি মাত্রেই জানি। তাঁরই কনিষ্ঠতম সহোদর ভারতের প্রথম মনঃসমীক্ষক গিরীন্দ্রশেখর বসুর ক্ষেত্রে তা বলা যাবে না। গিরীন্দ্রশেখরও সংস্কৃত ভাষায় সুপণ্ডিত ছিলেন। সাহিত্যকর্ম হিসেবে ছোটোদের জন্য লেখা তাঁর ‘লালকালো’ বইটিও কম উল্লেখযোগ্য নয়। কিন্তু তাঁর যে প্রধান কর্মক্ষেত্র ও গবেষণার বিষয় সেই মনঃসমীক্ষণ কখনই এদেশে খুব বেশি জনপ্রিয়তা পায়নি। সিগমুন্ড ফ্রয়েডের তত্ত্ব নিয়ে ইউরোপে যত হৈ চৈ হয়েছে, তার পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত রূপ নিয়ে বিদ্যাজগতের লোক এবং নারীবাদীরা যত আলোচনা করেছেন, আমাদের দেশে নানা কারণে ততটা গুরুত্ব পায়নি এই তত্ত্ব। কিন্তু গিরীন্দ্রশেখর এদেশে ফ্রয়েডের তত্ত্বকে সরাসরি প্রয়োগ করার চেষ্টা করেননি। তিনি মনঃসমীক্ষাকে গুরুত্ব দিলেও দেশজ পরিপ্রেক্ষিতটিকে মাথায় রেখে তার এক স্বাধীন, স্বতন্ত্র রূপ গড়ে তুলতে সচেষ্ট হয়েছিলেন। সেটাই সবচেয়ে আগ্রহোদ্দীপক।
[২০২১ সাল নেতাজী সুভাষচন্দ্রের জন্মের ১২৫ তম বার্ষিকী। এই উপলক্ষ্যে বাংলা ও দেশজুড়ে তাঁকে নিয়ে নতুন করে চর্চার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। সুভাষচন্দ্র সম্পর্কে চর্চার সিংহভাগ জুড়ে রয়েছে তাঁর রহস্যময় অন্তর্ধান ও তাঁকে নিয়ে গড়ে ওঠা নানা মিথ ও রহস্য কাহিনী। আই. এন. এ. র বীরত্বপূর্ণ লড়াই বা মহানিষ্ক্রমণ নিয়ে কিছু চর্চার বাইরে তাঁর রাজনীতির বিভিন্ন পর্বকে ইতিহাসের পটে রেখে সামগ্রিক আলোচনা বেশ কম। কয়েকটি পরস্পর সম্পর্কিত লেখায় আমরা সেই চর্চার দিকে জোর দিতে চাই। বর্তমান নিবন্ধটিতে তার সূচনা। এখানে আলোচিত হয়েছে বিশ শতকের বিশের দশকে তরুণ সুভাষচন্দ্র যখন আই. সি. এস. এর চাকরী ছেড়ে দেশের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন, তখনকার রাজনৈতিক ইতিহাস। এই পর্বে সুভাষ দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের অনুগামী।]
১৮৯০-এর ২৮ নভেম্বর সাবিত্রীবাই ফুলে তাঁর বিগত পঞ্চাশ বছরের বন্ধু ও সহকর্মী, স্বামী ও শিক্ষক মহাত্মা জ্যোতিরাও ফুলের শেষযাত্রা ও শেষকৃত্যের লোকাচার নিজের হাতে সম্পন্ন করেন — নিজেই এগিয়ে এসে জলভরা ঘট হাতে শেষযাত্রায় সামনে থাকেন ও চিতায় আগুন দেওয়ার কাজ নিজ হাতেই করেন। ২০০৮ সালে ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশন রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং’ কর্তৃক প্রকাশিত পুস্তকে এই ঘটনাকে “ভারতের বিগত হাজার বছরের ইতিহাসে সম্ভবত এই প্রথম কোনও নারীর হস্তে শেষকৃত্যের লোকাচার সম্পন্ন হল” বলে বর্ণনা করা হয়েছে।১ ব্রাহ্মণ্যবাদী বিধানে শেষকৃত্যের অধিকার কেবলমাত্র পুরুষ উত্তরাধিকারীর ওপরই অর্পিত। সাবিত্রীবাই এই পিতৃতান্ত্রিক বিধান অমান্য করেছিলেন।