সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

লেখক: বিজয়া গোস্বামী

বিজয়া গোস্বামী
স্নেহাংশুকান্ত আচার্য্য ও সুপ্রিয়া আচার্য্যর কন্যা বিজয়া গোস্বামী দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন সংস্কৃত সাহিত‍্য, কাব‍্য, ব‍্যাকরণ, ভাষাতত্ত্ব, রামায়ণ, মহাভারত নিয়ে। ছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের অধ‍্যাপিকা। মার্কসবাদে বিশ্বাসী। অবসর কাটে সাহিত‍্য, ইতিহাস, সঙ্গীত চর্চায়। মানুষের সঙ্গ ও পশুপাখি ভালোবাসেন।
কিছুদিন আগেই ‘ইতিহাস তথ্য ও তর্ক’ ফেসবুক পেজ-এ প্রাচীনকালের খাওয়া-পরা নিয়ে একটি সচিত্র প্রতিবেদন পেয়েছি। ভালো লেগেছিল, তাই ভারতবর্ষের প্রাচীনকালের আহার নিয়ে আরও কিছু কথা বলতে উদ্যোগী হয়েছি। সব জীবিত প্রাণীরই বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য গ্রহণ করা আবশ্যক। উপরন্তু জিভের স্বাদের জন্যও সুখাদ্যের অনুসন্ধান চলে বটে। তার জন্য লাগে পছন্দসই বিশেষ খাবার! তাই আদিম যুগ থেকেই খাদ্য সংগ্রহ করা এবং তা খাবার উপযুক্ত করে তোলা—এই দুটি মানুষের প্রথম ও প্রধান চিন্তা ছিল। প্রাগৈতিহাসিক যুগে মানুষের আহার্য ছিল পশুপাখির মাংস, ফলমূল, বুনো শস্য ইত্যাদি। আদি প্রস্তর যুগেও এই দেশে পাথরের অস্ত্রশস্ত্র পাওয়া গেছে, যেগুলি মূলত শিকারে ব্যবহার করা হলেও সম্ভবত সংঘর্ষেও ব্যবহৃত হত। ভারতবর্ষে বন্য ও গৃহপালিত পশুর হাড়ও পাওয়া গেছে। মধ্যপ্রদেশের ভীমবেটকা গুহায় পশুপাখি ও শিকারিদের গুহাচিত্র দেখা যায়।
প্রথমেই বলে রাখি—যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় আমার কাছে অত্যন্ত আপন। আমার জন্মের বহু আগে, ব্রিটিশ রাজ যখন আমাদের দেশকে লৌহশৃঙ্খলে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে, তখনই এর প্রথম বীজ রোপিত হয়েছিল, জাতীয় শিক্ষা পরিষদ-এর (National Council of Education) মাধ্যমে। ১৯০৬ সালের ১১ই মার্চ এই প্রতিষ্ঠানের সূত্রপাত হয়, সে সময়ের যত জ্ঞানীগুণী ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি ছিলেন সবাই এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে ছিলেন। এসব কাহিনী আগে এক সময় বলেছি। এই বিদ্বজ্জনের মধ্যে আমার প্রপিতামহ মহারাজা সূর্য্যকান্ত আচার্য্যও ছিলেন। তিনি বড়ো রকমের অর্থসাহায্যও করেছিলেন। প্রসঙ্গত বলি, রাজা সুবোধচন্দ্র মল্লিক এবং আমার প্রপিতামহ—এই দুজনের জমি নিয়ে এখনকার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ক্যাম্পাস তৈরি হয়েছিল। বিশেষত এই কারণেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমার নাড়ির যোগ।
ভারতের স্বদেশী আন্দোলন নিয়ে—বিশেষত শিক্ষার উপরে তার প্রভাব নিয়ে অনেক কিছু লিখেছেন বহু জ্ঞানী গুণী। আমি একটি বিশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্ভব কেমন করে স্বদেশী যুগের প্রভাবে হল, সে বিষয়ে দু চার কথা বলতে উদ্যোগী হয়েছি। এই ধৃষ্টতা যে ঐতিহসিক না হয়েও আমি করেছি, তার কারণ হল, এর জন্মসূত্র থেকে এর সঙ্গে আমার পরিবারের ঘনিষ্ঠ যোগ। সেই পরিবার হল অধুনা বাংলাদেশের ময়মনসিংহের আচার্য্য পরিবার। তিন পুরুষ ধরে এই পরিবারের সদস্য বঙ্গীয় জাতীয় শিক্ষা পরিষদ এবং পরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে প্রত্যক্ষভাবে ব্রতী হয়েছিলেন—বর্তমান প্রজন্মেও আমরা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থেকেছি।