সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

সুকুমারীদিকে যেমন দেখেছি

সুকুমারীদিকে যেমন দেখেছি

বিজয়া গোস্বামী

জুলাই ১২, ২০২১ ৩৫৬ ১৩

অধ্যাপিকা সুকুমারী ভট্টাচার্যকে আমি প্রথম কাছ থেকে দেখি ১৯৭১ সালে — যখন আমি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃত স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে ভর্তি হই। তার বহু আগে থেকে তাঁর নাম জানি, তাঁর পাণ্ডিত্যের খ্যাতি চারিদিকে তখন ছড়িয়ে গেছে। সেই প্রথম দেখার পর সুদীর্ঘ দিন তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হবার সুযোগ পেয়েছি, তাঁর অপরিমিত স্নেহভাণ্ডারে নিতান্ত অযোগ্য হয়েও ভাগ বসিয়েছি। দিদি চলে গেছেন কত বছর হয়ে গেছে, কিন্তু আজও অনেক কথা মনে পড়ে, যা হয়তো আর কখনও বলার সুযোগ পাব না, তাই সেই পুরানো কথাই কিছু কিছু বলতে বসেছি।

সুকুমারীদির জন্ম ১২ জুলাই, ১৯২১ — আমার জন্মের ঠিক ৩০ বছর আগে। আমার বেশ মনে আছে কর্মজীবনে যতদিন আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি, ঐদিনটা বিভাগের সবার সঙ্গে ছোটখাটো উৎসব করে উদ্‌যাপন করেছি। এইদিন সকালে প্রথম ফোনটা হয় দিদি আমাকে, নয়তো আমি দিদিকে করতাম। দিদি আবার ঠাট্টা করে বলতেন, জুলিয়াস সীজারের সঙ্গে একই দিনে আমাদের জন্ম! এই হৃদ্যতা গড়ে উঠতে কিন্তু অনেক সময় লেগেছে। ছাত্রাবস্থায় অন্যান্য ছেলেমেয়েদের মতো আমিও সুকুমারীদিকে একটু একটু ভয় পেতাম। এক এক দিন ক্লাসের বাইরে করিডোরে ছেলে মেয়েরা গোলমাল করলে সুকুমারীদি ক্লাসের মধ্যে বইখাতা রেখে হন্ হন্ করে বেরিয়ে যেতেন তাদের শাসন করতে। আমরা বলাবলি করতাম, “দিদি দুষ্টের দমন করতে যাচ্ছেন!” শাসিত ‘দুষ্ট’দের মধ্যে আমিও কয়েকবার ছিলাম না, এমন নয়! প্রথম প্রথম ভয়ে ক্লাসে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারতাম না। তারপর সাহস সঞ্চয় করে এক একবার উত্তর দিতে দিতে সাহস বাড়ল। তাঁর পড়ানোর ভঙ্গিতে প্রথম থেকেই আকৃষ্ট না হয়ে পারিনি। আমার ছোট থেকেই বই পড়া রোগ, তাই পড়ার বই ছাড়াও যে অনেক বই আছে, সেখানে মনে ধরার মতো বস্তু আছে, এই বোধটা ছিল। এই সূত্রেই দিদির বরফ গলাতে পেরেছিলাম। বইপত্র নিয়ে আলোচনা হতে হতেই ঘনিষ্ঠতা জন্মায়।

আমি যখন এই বিভাগের গবেষিকা, তখন সুকুমারীদির সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতা বাড়ে, এবং আমার বাবা মা’র সঙ্গেও তাঁর বন্ধুত্ব জন্মায়। আমার বাবাকে তিনি ‘দাদা’ বলতেন, এবং মা’কে বলতেন, “আমি কিন্তু তোমার চেয়ে বয়সে বড়। মা জন্মেছিলেন ১৯২২-এ! সুকুমারীদির স্বামী অধ্যাপক অমল ভট্টাচার্যকে আমি দেখিনি, তবে তাঁর সম্বন্ধে সুকুমারীদির কাছে শুনেছি। আমার বিয়ের পর আমার স্বামীর সঙ্গেও দিদির আলাপ হয় এবং সেও দিদির স্নেহের ভাগীদার হয়। একসময় আমি কেয়াতলায় থাকতাম, দিদির বাড়ি থেকে ‘ঢিল-ছোঁড়া- দূরত্বে’, যদিও ঢিল ছোঁড়ার থেকে সহজ ছিল দু’ পা হেঁটে যাওয়া! তখন প্রায়ই ওঁর বাড়িতে চলে যেতাম। আমার ছেলের জন্ম হয় এই সময়েই, ও যখন খুব ছোট, ওকে কোলে নিয়ে মাঝে মাঝেই দিদির বাড়ি চলে যেতাম। ওঁর কন্যা ও জামাতা, তনিকাদি ও সুমিতদার সঙ্গে ওখানেই আলাপ হয়।

এই সময়টা খুব সমস্যাসঙ্কুল ছিল। অনেকেই এখন লিখছেন যে সুকুমারীদি তাঁর যোগ্যতার যথাযথ সম্মান পাননি, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর প্রতি অসম্মান দেখানো হয়েছিল। যথাযোগ্য সম্মানের কথা আর কি বলব, আমাদের দেশে — শুধু আমাদের দেশে কেন, সারা পৃথিবীতেই কম মানুষ আছেন যাঁরা তাঁদের জীবদ্দশায় তাঁদের প্রতিভার কদর হয়েছে এমনটা দেখে যেতে পেরেছেন ! তবে অন্য বক্তব্যটি নিয়ে আমার দু এক কথা বলার আছে। সুকুমারীদির সংস্কৃত ভাষা, সাহিত্য ইত্যাদি বিষয়ে প্রগাঢ় জ্ঞানের স্বীকৃতি প্রথম যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ই কি দেয়নি? তাঁর প্রথম জীবনে সংস্কৃতে এম এ পড়ায় রূঢ়ভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। তিনি শিক্ষাজীবন শুরু করেছিলেন ইংরেজির অধ্যাপিকা হিসাবে। যাদবপুরে তাঁকে প্রথম নিয়ে আসা হয় তুলনামূলক সাহিত্যের অধ্যাপিকা হিসাবে। কিন্তু পরে তাঁকে সংস্কৃত বিভাগেই সর্বসময়ের অধ্যাপিকার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। সেখানে তিনি বহু শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অর্জন করে নিয়েছিলেন। তবে সমস্যাটা এসেছিল অন্য দিক দিয়ে। বিভাগের জনৈক অধ্যাপক সুকুমারীদির প্রতি বিদ্বেষভাবাপন্ন ছিলেন। তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত আইন অনুসারে বিভাগে শুধুমাত্র প্রফেসর শ্রেণীভুক্ত অধ্যাপকেরাই বিভাগীয় প্রধান হতে পারতেন, এবং একজন প্রধান হলে বরাবরের জন্য তিনিই প্রধান থেকে যেতেন। যে অধ্যাপকের কথা বলছিলাম, তিনি এইভাবে বিভাগের প্রধান হয়ে দীর্ঘদিন ছিলেন। বিশেষত রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে তিনি নানাভাবে সুকুমারীদির প্রতি দুর্ব্যবহার করে যাচ্ছিলেন। সুকুমারীদি মেরিট প্রোমোশনের জন্য দরখাস্ত করলে এই ব্যক্তিই নানাভাবে বাধা দিতে থাকেন, কারণ এই প্রোমোশন হলে সুকুমারীদিও প্রফেসর হবেন এবং বিভাগীয় প্রধান হবার যোগ্যতা অর্জন করবেন। তারপর এই অধ্যাপক পরীক্ষার নম্বর কারচুপি করার মিথ্যা অভিযোগ আনেন সুকুমারীদির বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ে কেউই বিশ্বাস করেননি, কিন্তু এই অজুহাতে এক অতি যোগ্য শিক্ষক তাঁর প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। ১৯৭৭ সালে পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় আসে, এবং এই সময় বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত নতুন আইনকানুন তৈরি হয়। নতুন নিয়মে নির্বাচিত কোর্ট ও কাউন্সিলের হাতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ভার আসে। ইতিমধ্যে বিচারপতি অজয় বসু একটি তদন্ত কমিশনের দায়িত্ব নিয়ে এই ধরণের একাধিক অভিযোগের শুনানি করেন, এবং সুকুমারীদির বিরুদ্ধে অভিযোগ বিচারে খারিজ হয়ে যায়। কাউন্সিল সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে সুকুমারীদিকে প্রফেসর নির্বাচিত করা হয়। এর পরেই তিনি rotational headship নিয়মে বিভাগের প্রধান হন, ৬ মাসের জন্য। ৬ মাস পরেই তাঁর অবসরের বয়স হয়ে গেল। তখন থেকে পরবর্তী ৫ বছর তিনি re-employment এ বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন নিয়ম চালু করা ইত্যাদিতে আমার বাবা সক্রিয় ভাবে যুক্ত ছিলেন, এবং সুকুমারীদিকে হেনস্থা করার যেমন তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন, তেমনি তাঁর পদোন্নতিতে যাঁরা আগ্রহী তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন। সেজন্য এই গোটা ব্যাপারটার সঙ্গে আমার শুরু থেকেই যোগ ছিল। এই সময়টা আমার নিজের পক্ষে তত অনুকূল ছিল না, কারণ ১৯৮২ সালে আমার পি. এইচ. ডি. সম্পূর্ণ করার সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে আমার স্বামীর মৃত্যু হয়। সেই বিভীষিকার দিনগুলো আর এখন মনে করতে চাই না, শুধু এইটুকুই বলব, এ সময়ে আমার ছেলে ৪ বছরের, এবং আমি এতটাই মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম যে আমার কাছের মানুষ যাঁরা, তাঁদের বিশেষ উদ্বেগের কারণ উপস্থিত হয়েছিল। যাই হোক, মোটামুটি সামলে উঠেছিলাম কাজের মধ্যে দিয়েই। প্রথমে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং তার পরে যাদবপুরে সন্ধ্যাবেলার ক্লাস নিতে আংশিক সময়ের অধ্যাপিকা নিযুক্ত হই। দ্বিতীয় কাজটির বিষয়েও সুকুমারীদির অবদান ভোলবার নয়। পূর্বোক্ত অধ্যাপকটি আমাদের কজনের যাতে চাকরি না হয় তার জন্য কলকাঠি নেড়েছিলেন, চাকরির দরখাস্ত পর্যন্ত চেপে দেওয়া হয়, কিন্তু সুকুমারীদি সময়মত বাধা দেওয়ার ফলে তাঁর ষড়যন্ত্র বিফল হয়।

১৯৮৪ সালে আমি সুকুমারীদির সহকর্মী হিসাবে সর্বসময়ের অধ্যাপিকা হয়ে যাদবপুরের সংস্কৃত বিভাগে যোগ দিই। শুরু থেকেই তাঁর সাহায্য বলব না, আশীর্বাদ পেয়েছি। তিনি যে যে বিষয়গুলি পড়াতেন, তার অনেকগুলির ভার তিনি ধীরে ধীরে আমার উপর দেন, এবং তাঁর বহু অমূল্য নোট দিয়ে সহায়তা করেন। এই সময় তাঁকে কাছ থেকে দেখার প্রচুর সুযোগ পেয়েছি। বিভাগের সবার সঙ্গে সাধারণভাবে তাঁর হৃদ্যতা ছিল, তবে কখনওই তো রেখে ঢেকে কথা বলতেন না, তাই সকলের সঙ্গে সমান সম্পর্ক অবশ্যই ছিল না—তার একটি উদাহরণ তো দিয়েইছি। কিন্তু বাড়ি থেকে রান্না করে এনে সবাইকে খাওয়ানো, মাঝে মাঝে কেক, আইসক্রিম সবার জন্য নিয়ে আসা—এসব নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার ছিল। আজীবন বামপন্থায় বিশ্বাসী ছিলেন, যে কোনো রকম কুসংস্কারের প্রবল বিরোধিতা না করে পারতেন না। যেমন কড়া কথা বলতে পারতেন, তেমনি কোমল হৃদয় ছিল তাঁর। বিশেষত মেয়েদের এবং নিপীড়িত মানুষের প্রতি তাঁর সহজাত সমবেদনা ছিল। তাঁদের কোনো এক ছাত্রের বোনকে তার শ্বশুরবাড়িতে কি ভাবে পণের জন্য পুড়িয়ে মারা হয়েছিল, বৃদ্ধ বয়সেও সেই গল্প আমাকে যখন বলেছিলেন, তখন তাঁর চোখে জল দেখেছি! আমাদের জনৈক ছাত্র ঘর ভাড়া করে কলকাতায় থাকত, এবং নিজে রেঁধে খেত। প্রায়ই তার সারাদিন কিছুই খাওয়া হত না, আমরা সে কথা জানতে পারিনি। আমি তখন সবে চাকরিতে ঢুকেছি। হঠাৎ একদিন ছেলেটি অজ্ঞান হয়ে যায়, তার সহপাঠীরা তাকে স্টুডেন্টস্ হেল্থ হোমে ভর্তি করে। তখন আমরা জানতে পারলাম, এবং শিক্ষকেরা নিয়মিত গিয়ে তার দেখাশোনা করা, অর্থসাহায্য করা, এইভাবে তার সহপাঠীদের সঙ্গে মিলে তাকে সুস্থ করে তোলা হয়। সুকুমারীদিরই উদ্যোগে আমরা তখন একটা ফাণ্ড তৈরি করি, সেখানে প্রতি মাসে চাঁদা দেওয়া হত। এই টাকা ছাত্রটির হাতে তুলে দেওয়া হত। এইভাবেই তার এম. এ. পড়ার খরচ চলে। তার পরীক্ষার টাকাও বোধ হয় দিদিই দিয়েছিলেন। ছেলেটি পাশ করে যাবার পর দিদি প্রস্তাব করেন, এই ফান্ড চালু রাখা হোক, অনেক ছাত্রছাত্রীর কাজে লাগবে। আমি যখন অবসর নিলাম, সে পর্যন্ত এই ফান্ড চালু ছিল বলে জানি।

বিভাগে সুকুমারীদির বিশেষ প্রিয়পাত্রী ছিলাম আমি এবং আমার প্রিয় বন্ধু নন্দিতাদি। তিনি আমাদের মাষ্টারমশায় অধ্যাপক হেমন্তকুমার গাঙ্গুলির মেয়ে। নন্দিতাদি যাকে বলে ‘ব্রিলিয়ান্ট’ ছাত্রী ছিলেন, এবং অধ্যাপিকা হিসাবেও অসাধারণ। আমি তাঁরও এককালের ছাত্রী। উপরন্তু তাঁর স্বভাব ছিল অত্যন্ত মধুর। দিদির সঙ্গে মতে না মিললে আমি কটকট করে যা বলার বলে দিতাম, ও সেটা বলত না। তবে আমাদের উপর কখনো দিদিকে রাগ করতে দেখিনি। খুব কান-পাতলা মানুষ ছিলেন, কারো সম্বন্ধে কিছু শুনলে আর যাচাই করে দেখা নয়, রেগেমেগে অস্থির! তখন আমরাই তাঁর রাগ ভাঙাতাম!

সুকুমারীদির স্নেহের স্পর্শ তাঁর কাছে যারাই এসেছিল, তারাই পেয়েছে। কিন্তু যাদের মধ্যে তিনি খাঁটি ব্যাপারটা পেতেন না, তার বিষয়ে কোনো compromise এর প্রশ্নই ছিল না। বলেছি, তিনি আমূল বামপন্থী ছিলেন, সেখানে ভেজালের কোনো জায়গা ছিল না। তাঁর যারা শত্রু, তারা এই কারণেই তাঁকে সহ্য করতে পারত না, তিনিও তাদের বিষয়ে সমান অসহিষ্ণু ছিলেন। তাঁর শত্রু যারা, তারা এই কারণেই শত্রু! যা তিনি মন থেকে মানতে পারতেন না, সেখানে যা বলার স্পষ্টভাবেই বলে দিতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন না কারো পা ছুঁয়ে প্রণাম করা উচিত! প্রতি বছর পুজোর ছুটির পর ছেলেমেয়েরা সব শিক্ষকদের প্রণাম করতে আসত। দিদি খুব কঠোরভাবেই তাদের বারণ করতেন। আমাদেরও বহুবার বলেছেন, “আমি প্রণাম নিই না, প্রণাম কোরো না!” জীবনে প্রথম বার তাঁকে প্রণাম করার অবকাশ হল যখন তিনি চিরদিনের মতো স্তব্ধ হয়ে গেছেন, যখন আর বাধা বা সম্মতি, কিছুই দেবার মতো তাঁর পরিস্থিতি নেই। তারপরে বহু বছর কেটে গেছে, তাঁর যা আশঙ্কা ছিল তা সত্য হয়েছে — মৌলবাদের নির্মম মুঠিতে সারা দেশ আজ নিপীড়িত। আজকের দিনে তিনি যে পথ দেখিয়ে গেছেন — জ্ঞানের পথ — আমরা তাঁর অক্ষম ছাত্রছাত্রীরা সেই পথে চলার চেষ্টা আজও করে যাচ্ছি।

মন্তব্য তালিকা - “সুকুমারীদিকে যেমন দেখেছি”

  1. সুকুমারী ভট্টাচার্য দিদিকে সবার আগে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।আর আপনাকে শ্রদ্ধা জানাই ও কৃতজ্ঞতা জানাই এই মানুষটিকে নিবিড় দেখার অভিজ্ঞতা আমাদের সাথে ভাগ করে নেওয়ার জন্য।

  2. আমি ইতিহাস, সংস্কৃত বা অন্য কোনো হিউম‍্যানিটিস বিভাগের ছাত্র নই এবং যাদবপুরের ও ছাত্র ছিলাম না। ফলে যে সমস্ত মানুষের সাহচর্য পাওয়ার ইচ্ছা আমার মনে ছিল তাঁদের কারো সাহচর্যই পাইনি।
    এধরনের স্মৃতিচারণমূলক লেখা তাই আমার কাছে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতো।
    তবে অন‍্যরা যেমন আপনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এমন অভিজ্ঞতা আমাদের সঙ্গে ভাগ করার জন্য তেমনটা আমি জানালেও সঙ্গে আরেকটি কথা জানাতে চাই। আপনি কিন্তু আমার মতো দুর্ভাগা লোকেদের ঈর্ষার পাত্র।
    আরো আরো এমন লেখা লিখে আমাদের ঈর্ষা আরো বাড়িয়ে তুলবেন এই দাবী জানাই।

  3. আমি দিদির সংস্পর্শে এসেছি কাজের সুত্রে। তাকে একজন গোড়া বাম্পন্থী হিসেবে দেখেছি।সহকর্মীদের যারা সেদিনে বাম পন্থী ছিল তারা খুব শ্রদ্ধা করতো কিন্তু সিংগুর নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় কৃষকদের সপক্ষে তার জামাতা সুমিত সরকার ও অনেকবুদ্ধিজীবিদের মত তিনি ও দাড়ালেন তখন সেই সহকর্মীরা তার বিরূদ্ধে চলে গেলো। এই সুযোগে এই শিরদাড়া সোজা আজীবন বাম পন্থী মানুষ টিকে শ্রদ্ধা জানাই।

  4. অপূর্ব স্মৃতিচারণ! মুগ্ধ হয়ে পড়লাম। ব্যক্তি সুকুমারী দেবীকে বেশি করে জানলাম। আমাদের প্রিয় লেখিকাকে ধন্যবাদ এমন অমূল্য রচনা উপহার দেওয়ার জন্য।

  5. লেখিকার সৌভাগ্য যে তিনি ১৯৭১-৭৩ স্নাতকোত্তর ছাড়াও গবেষণা করেছেন সুকুমারী দির কাছে। সেই দীর্ঘ সান্নিধ্য এই মানুষটির পাণ্ডিত্যের বাইরে তাঁর কোমল স্নেহপ্রবণ অন্তরটিকে চিনতে এবং ধন্য হতে সাহায্য করেছে।
    আমি ১৯৬৭-৬৯ ব্যাচে নন্দিতার সহপাঠী এবং
    Buddhist logic and Nyaya এর সুবাদে হেমন্ত বাবুর বিশেষ ছাত্র ছিলাম।বহু দিকপাল অধ্যাপক এর মধ্যেও সুকুমারী দির বিশেষ ও অগাধ স্নেহ পেয়েছি।
    শিক্ষা জগতের বাইরে থেকেও আমি ওনার লেখার একনিষ্ঠ পাঠক।
    ভাল লাগল।প্রয়াতা বান্ধবী নন্দিতার স্মৃতি এবং সুকুমারীদির স্মৃতি কারণেই আপনাকে ধন্যবাদ।

  6. অনেক ধন্যবাদ।
    মন ছুঁয়ে গেল। কত যে স্মৃতি- 1971 কঠিন সময়। আমিও যাদবপুরে তখন স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে।
    খুব ভালো লাগল।

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।