সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির ইতিহাস

স্টিভেন এইচ. মাইলস ২০২০ সালে প্রকাশিত তাঁর গ্রন্থ The Torture Doctors: Human Rights Crimes & Road to Justice-এ লিখছেন – “২০০৩ সালের বসন্তে ইরাকে আমেরিকার ‘জিজ্ঞাসাবাদের’ কেন্দ্র আবু ঘ্রাইব থেকে লুকিয়ে পাচার করা অনেকগুলো ফটোগ্রাফের মধ্যে ছিল একটি ফটো ছিল বরফের ব্যাগে ভরা এক ক্ষতবিক্ষত বন্দীর ওপরে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থাকা এক সেনার ছবি। মন আদেল আল-জামাদি নামে এই ব্যক্তির মৃত্যু এর আগে রিপোর্টেড ছিল না। এ ঘটনার ফলে সাংবাদিকেরা আমেরিকান সরকারের ওপরে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে এই বন্দীর মৃত্যু সম্পর্কে তথ্য জানার জন্য। সরকার আংশিক এক সেট ডেথ সার্টিফিকেট প্রকাশ করে যাতে স্বাভাবিক মৃত্যু এবং লুকিয়ে রাখা মৃত্যুকে বাড়িয়ে দেখানো হয়েছিল, যেখানে বাস্তবে ঘটেছিল হত্যা করা এবং জেলের অ-নিরাপদ পরিস্থিতি। আল-জামাদির মৃত্যু হয়েছিল হিংস্র অত্যাচারের ফলে।” (পৃ: ১৪৯)
পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষ লগ্ন থেকেই পৃথিবীর নানা অঞ্চল, সমুদ্র, দ্বীপ, নতুন মহাদেশ সম্পর্কে জানাবোঝা বাড়তে থাকে ইউরোপীয় অভিযাত্রীদের অভিযানগুলির হাত ধরে। পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষ লগ্ন থেকেই এই অভিযানগুলি আরম্ভ হয়ে গিয়েছিল এবং ষোড়শ শতকে এই অভিযান ও বাণিজ্যের সূত্রে বিভিন্ন শক্তি পরস্পরের মধ্যে সংগ্রামে জড়িয়ে পড়ে। নৌ অভিযান সংক্রান্ত যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে নানা নতুন আবিষ্কার হতে থাকে, নৌ সমরবিদ্যাকেও ঢেলে সাজানোর দরকার পড়ে। পৃথিবীর মানচিত্র ও সমুদ্রচিত্র সম্পর্কে জ্ঞান বস্তুগত প্রয়োজনের সাথে যুক্ত হয়ে যায়। বিভিন্ন বিষয়ের জ্ঞানকে বেশি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রযুক্তি হাতে এসে যায় গুটেনবার্গ এর ছাপাখানা আবিষ্কার (১৪৪০ খ্রিঃ) ও তার অগ্রগতির মধ্যে দিয়ে। ষোড়শ শতাব্দীতে যখন সমুদ্র অভিযানগুলি পূর্ণ মাত্রায় চলছে ও নতুন নতুন তথ্য ও পর্যবেক্ষণ হাতে আসছে, তখন দর্শনের জগতেও একটা মৌলিক বদল আনলেন ফ্রান্সিস বেকন। অ্যারিস্টটলের ধারণা ও নির্ধারণবাদভিত্তিক দর্শনের জায়গায় বেকন বললেন পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষালব্ধ জ্ঞানের ভিত্তিতে সত্যে উপনীত হবার কথা। এটাই ছিল আধুনিক বিজ্ঞানের জয়যাত্রার মূল ভিত্তি।
জ্যামিতির সাথে আমার পরিচয় বহুদিনের। সেই যখন ষষ্ঠ শ্রেণীতে নিরঞ্জন স্যার ( আমার অন্যতম প্রিয় শিক্ষকদের মধ্যে একজন ) কোণ রেখা বৃত্ত ত্রিভুজ ইত্যাদির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন। এর সঙ্গেই পরিচয় হলো জ্যামিতির কিছু বিশেষ ধর্মের সঙ্গে। পরবর্তীকালে যেগুলোকে হয় উপপাদ্য অথবা স্বতঃসিদ্ধ বলে জানলাম। তখন অবশ্য জানা ছিল না যে জ্যামিতির ইতিহাস আদতে বুড়ি পৃথিবীর মতই প্রাচীন। সভ্যতার আদিকাল থেকেই নানা প্রাত্যহিক প্রয়োজনে, যেমন গৃহ নির্মাণ, যজ্ঞবেদী নির্মাণ অথবা বন্যার পরে ভূখণ্ডকে পুনর্বিভাজন ইত্যাদি কারণে রেখা কোণ এবং তার বৃত্তীয় পরিমাপ সংক্রান্ত টুকরো টুকরো জ্ঞান জমা পড়ছিল মানব সভ্যতার ভান্ডারে। ত্রিভুজ চতুর্ভুজ ও বৃত্তের কিছু কিছু ধর্ম আবিষ্কৃত ও ব্যবহৃত ছিল। সমকোণ আঁকার পদ্ধতিও অনেক প্রাচীন সভ্যতা বের করে ফেলেছিল। চীন, ভারত মিশর ইত্যাদি সব সভ্যতাতেই জ্যামিতিক জ্ঞানের কিছু ব্যবহার দেখা যায়।