সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

Author: জয়ন্ত দাস

জয়ন্ত দাস
লেখক পেশায় চিকিৎসক, ত্বক-বিশেষজ্ঞ। জনস্বাস্থ্য-আন্দোলনের কর্মী। স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিষয়ক একটি দ্বিমাসিক পত্রিকার ও একই বিষয়ে একটি ওয়েব-পোর্টালের অন্যতম সম্পাদক। ইতিহাসের আগ্রহী পাঠক। প্রাবন্ধিক।
প্রথম নজরে চার্লস ডারউইনকে কোনোদিক থেকেই এক বিপ্লবীর ভাবমূর্তির সঙ্গে খাপ খাওয়ানো যায় না। তাঁর চাইতে ন’বছরের ছোট কার্ল মার্ক্সের সঙ্গে তুলনা করলে ডারউইনকে নেহাতই ছাপোষা, তদানীন্তন ইউরোপীয় উচ্চবিত্ত পরিবারের এক সাধারণ সদস্য বলে মনে হবার কথা। যৌবনেও তাঁকে আর পাঁচজনের চাইতে অন্যরকম বা প্রতিভাবান বলেও মনে হয়নি। ডারউইনের বাবা ভাবতেন ছেলেটা কুঁড়ের হদ্দ, তার ওপরে জীবনে কোনও লক্ষ্য নেই। প্রথমে ডাক্তারি পড়ার বৃথা চেষ্টা করার পরে পাদ্রী হবার জন্য কিছুদিন পড়াশুনা করেন ডারউইন, তারপর সে পাঠও ছেড়ে দেন। ছোটবেলা থেকে ডারউইনের প্রকৃতি নিয়ে আগ্রহ ছিল বটে, কিন্তু সেটা তখনকার ইংল্যান্ডের অবস্থাপন্ন ঘরের ছেলেদের নেশা ছিল।
সে বড় সুখের সময় নয়, অন্তত ব্রিটেনের পক্ষে। ফ্রান্সে তখন নেপোলিয়ানের রাজত্ব। তিনি ব্রিটেন আক্রমণের ছক কষছেন। ফ্রান্সের সেনাবাহিনীর সামনে ইংরেজ সেনাবাহিনী দাঁড়াতে পারবে না। ব্রিটেনের একমাত্র আশা, যদি বিভিন্ন বন্দরেই ফরাসী আর তাদের সঙ্গে থাকা স্প্যানিশ নৌবহরকে আটকে দেওয়া যায়। কিন্তু তাই বা হবে কী করে? ফরাসী নৌবহরকে বোতলবন্দী করে রাখতে গেলে ইংরেজদের জাহাজগুলোকে পাঠাতে হয় দূরে। কিন্তু কিছুদিন দূরে থাকবার পরেই নৌসেনা আর নাবিকরা অসুস্থ হয়ে পড়ে—মাড়ি ফুলে গিয়ে রক্ত বেরোয়, দাঁত পড়ে যায়, হাঁটু ফোলে, পা দুটো যায় দুর্বল হয়ে, চামড়ায় লাল-লাল দাগ হয়ে যায়। কোনও কাজেই লাগতে পারে না তারা।