সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

লেখক: মানসপ্রতিম দাস

বিজ্ঞানের ইতিহাস ও জনপ্রিয় বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখি ও সম্প্রচারের কাজে তিন দশক ধরে যুক্ত আছেন। স্নাতক থেকে পিএইচডি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। আকাশবাণীর অনুষ্ঠান আধিকারিক হওয়ার পাশাপাশি একজন স্বাধীন গবেষক। প্রকাশিত বই: ন্যানোটেকনোলজি, নক্ষত্রের নকশিকাঁথা, শতাব্দীর বিশ্বমারী, জলবায়ু বিতর্ক, একুশ শতকের নোবেলজয়ী চিকিৎসাবিজ্ঞান, সুস্থায়ী উন্নয়নের নীল নকশা, সত্যেন্দ্রনাথ বসু: একটি জীবনকথা।
দ্বারকানাথ ঘোষ। তাঁর কোম্পানির নাম Dwarkin & Sons; নামের এইরকম ইঙ্গ-করণ হয়েছিল সম্ভবত যুগের সঙ্গে তাল রাখতে গিয়ে। ব্রিটিশের উচ্চারণে এটা হয়েছিল ‘ডোয়ারকিন’। ১৮৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানি নানারকম বাদ্যযন্ত্র তৈরি ও বিপণনে সাফল্য পায়—এর মধ্যে অন্যতম হারমোনিয়াম। কোম্পানির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, হারমোনিয়াম যন্ত্রের আধুনিক রূপটি আকার পেয়েছে দ্বারকানাথের হাতে। উনবিংশ শতকের দ্বিতীয় ভাগে যে সময়টার কথা বলছি সেই সময় ভারতের ঘর-গেরস্থালিতে চেয়ারের ব্যবহার তেমন ছিল না। ফলে ইউরোপের হারমোনিয়াম এদেশে চলেনি। দাঁড় করানো সে যন্ত্র ছিল বেশ উঁচু এবং পা দিয়ে প্যাডেল করে সেটা থেকে আওয়াজ বের করতে হত।
আমাদের মধ্যে ক’জনই বা ভোজপুরি সিনেমা সম্পর্কে খবর রাখি! এ ভাষার ছবি আজ বিশেষ কিছু ঝোঁকের জন্য পরিচিত। টেলিভিশনে তেমন ছবির অংশ বিশেষ দেখালে বেশ কৌতুক আর হয়ত কিছুটা তাচ্ছিল্য নিয়ে তাকায় ‘সিনেমাপ্রাণ’ বাঙালি দর্শক। তাই ষাটের দশকে এই ধারায় কোন পরিচালক কেমন ছবি তৈরি করেছিলেন তার তথ্য আমাদের কাছে না থাকাই স্বাভাবিক। ঔদাসীন্য যেখানে থাকার থাক, উল্লেখ করা যাক যে ১৯৬৬ সালে কুন্দন কুমার নামে একজন পরিচালক তৈরি করেছিলেন ‘লোহা সিং’ নামে ভোজপুরি চলচ্চিত্র। নামেই মজে যান অনেকে, তেমনি আবার চটেও যান বহু মানুষ। কোনো ছবির নাম ‘লোহা সিং’ ছিল শুনলে আর এক দফা অবজ্ঞা ধেয়ে আসবে নির্ঘাত। ছবিটা ওই সময়েও ভালো বাণিজ্য করেছিল জানলেও চলে যাওয়ার নয় এই অবজ্ঞা।১ তবে নামের পেছনে কাহিনিটা জানলে বোধহয় মনোভাব পাল্টাতে পারে খানিকটা।
একটা রঙ নিয়ে মাতামাতি চরমে। কিন্তু প্রাকৃতিক রূপে সহজে পাওয়া যাচ্ছে না সেটা। অতএব সন্ধান বিকল্পের। ফ্রান্সে জাতীয় শিল্পসমূহকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য তৈরি সোসাইটি ১৮২৪ সালে ঘোষণা করল ছ’ হাজার ফ্রাঁ পুরস্কারমূল্য। যে পারবে ওই রঙের কৃত্রিম রাসায়নিক সংস্করণ বের করতে সেই পাবে পুরস্কার। এমন পুরস্কার ঘোষিত হয়েছে আগেও। ১৮১৭ সালে ইংল্যাণ্ড-এর রয়্যাল কলেজ অফ আর্টস ঘোষণা করেছিল এমন পুরস্কার তবে সেখানে অর্থমূল্য ছিল অনেক কম। যাই হোক, ফরাসি সংস্থার ঘোষণায় আকৃষ্ট হল সে যুগের সব ধরনের কারিগর। আবোলতাবোল দাবি করে উপার্জন করা ভুয়ো পণ্ডিত থেকে দক্ষ শিল্পী—সবাই ছিলেন প্রতিযোগীর দলে। অবশেষে তুলোঁ শহরের জঁ-ব্যাপতিস্ত গিমেত সাফল হলেন ব্যাপারটায়। প্যারিসে এসে তিনি রীতিমত ব্যবসা শুরু করলেন নিজের তৈরি কৃত্রিম রঞ্জক নিয়ে। প্রাকৃতিক রঞ্জকের দামের এক-দশমাংশ দামে তিনি বিক্রি করতে লাগলেন নিজের রাসায়নিক রঞ্জক।