সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

লেখক: সৌভিক ঘোষাল

সৌভিক ঘোষাল
লেখক সাহিত্যের শিক্ষক। আগ্রহের বিষয় ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস, রাজনীতি, সমাজতত্ত্ব।
রুশ বিপ্লবের আগেও মার্ক্স এবং তাঁর প্রথম ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ হয়েছিল। কলকাতা থেকে জনৈক ব্যক্তি প্রথম ইন্টারন্যাশনালের কাছে একটি চিঠি লিখে শ্রমিক ইউনিয়নকে তার অন্তর্ভুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। চিঠিটি ইন্টারন্যাশনালের অধিবেশনে পঠিত ও আলোচিত হয়েছিল, এটুকু জানা গেলেও কে এর লেখক বা কোন ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্তির আবেদন এখানে ছিল, তার পরিণতিই বা কী হয়েছিল, সে বিষয়ে বিশেষ কোনও খোঁজখবর পাওয়া যায় না। প্রথম ইন্টারন্যাশনালের অবলুপ্তির পর যে দ্বিতীয় ইন্টারন্যাশনাল গড়ে উঠেছিল, সেখানেও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা গিয়েছেন ও বক্তৃতা দিয়েছেন। মার্ক্স সম্পর্কে ১৯১২ সালেই আগ্রহ উদ্দীপক লেখা প্রকাশিত হয় কলকাতার ‘মডার্ন রিভিউ’ পত্রিকায়। হরদয়ালের এই লেখাটির শিরোনাম ছিল, ‘কার্ল মার্ক্স : এ মডার্ন ঋষি’। তবে মার্ক্সবাদের সঙ্গে বা কমিউনিস্ট আদর্শ ও সংগঠনের সঙ্গে ভারত তথা বাংলার ধারাবাহিক সংযোগ স্থাপিত হয়েছিল রুশ বিপ্লবের পরে। ১৯১৭ সালে রুশ বিপ্লবের পরে যে সব কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে উঠেছিল, তার মধ্যে ছিল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিও। পার্টির প্রতিষ্ঠা নিয়ে অবশ্য একটি বিতর্ক আছে। এর প্রতিষ্ঠা ১৯২০ সালে ভারতের বাইরে তাসখন্দে, না ১৯২৫ সালে ভারতের মধ্যে কানপুরে – সে নিয়ে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিগুলো একমত নয়।
জেন অস্টেন তাঁর নভেলগুলির খসড়া লেখার কাজ শুরু করে দিয়েছিলেন ১৭৯৫ সালে, যখন তাঁর বয়স মাত্র একুশ। জেনের তিনটি উপন্যাস – ‘সেন্স অ্যান্ড সেন্সিবিলিটি’, ‘প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’ ও ‘নর্দাঙ্গার অ্যাবে’-র প্রথম খসড়া ১৭৯৫ থেকে ১৮০০ সালের মধ্যেই লেখা হয়ে গিয়েছিল। নভেলগুলি ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত হতে শুরু করল অবশ্য ১৮১১ সাল থেকে। মাঝের সময়টায় আগের খসড়াকে তিনি নানাভাবে বদলেছেন, সমৃদ্ধ ও পরিণত করেছেন। ১৮১৩ থেকে ১৮১৬ সালের মধ্যে ‘ম্যানসফিল্ড পার্ক’, ‘এমা’ ও ‘পারসুয়েশান’ নামে তিনটি নতুন উপন্যাসও তিনি লেখেন। নিবিড় পাঠক শুধু এই উপন্যাসগুলির ভিত্তিতেই সে সময়কার ইংল্যান্ড বিষয়ে বেশ কিছু খবর আমাদের জানাতে পারবেন। আপাতত আমাদের দেখার বিষয় সমকালীন ইংল্যান্ডের যানবাহন ও যাতায়াত সম্পর্কে জেন অস্টেনের উপন্যাস আমাদের কী জানায়। সেই তথ্যের সঙ্গে সেকালের এই বিষয়ক সামাজিক সাংস্কৃতিক ইতিহাসের কিছু তথ্য মেলালে আমরা দূর দেশকালে বসেও সেই সময়টাকে খানিকটা উপলব্ধি করতে সক্ষম হব।
বাংলা ভাষা সাহিত্যের ইতিহাসে মধ্যযুগের দীর্ঘ সময়টাকে আমরা দুটো বড়ো উপবিভাগে বিভক্ত করে থাকি। প্রথম অংশটাকে বলি আদি-মধ্যযুগ আর পরের অংশটাকে অন্ত-মধ্যযুগ। এই দুই যুগের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন মধ্যযুগের বাংলার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব শ্রীচৈতন্যদেব। চৈতন্যদেবের জন্ম ১৪৮৬ খ্রিস্টাব্দে আর প্রয়াণ ১৫৩৩ খ্রিস্টাব্দে। সাধারণভাবে ১৩৫০ থেকে ১৫০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে আমরা আদি-মধ্যযুগ এবং ১৫০০ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে অন্ত-মধ্যযুগ বলে থাকি। ১২০০ থেকে ১৩৫০ – এই সময়কালের বাংলা ভাষা বা সাহিত্যের তেমন কোনও নিদর্শন আমাদের কাছে নেই। ফলে বাংলা ভাষা সাহিত্যের আদিযুগ যখন ১২০০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ শেষ হয়ে গেল, তখনই আদি-মধ্যযুগের শুরু এমনটা বললেন না ভাষা সাহিত্যের ইতিহাসকাররা। তাঁদের মনে হল ১২০০ – ১৩৫০ কে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে মতো আকর বা আলো যখন পাওয়া যাচ্ছে না, তখন একে অন্ধকার যুগ হিসেবেই আপাতত চিহ্নিত করা বাঞ্ছনীয়। এই ধরনের যুগবিভাগ অবশ্যই পালটে যেতে পারে যদি এই পর্বে লেখা ভাষা সাহিত্যের কোনও গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন আমরা খুঁজে পাই।