সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

সাংস্কৃতিক ইতিহাস

বারোশো বছর পুরোনো আঙ্কোর নগরী - কম্বোডিয়ার উত্তর-পশ্চিমাংশে। আঙ্কোর শব্দের অর্থ নগর, সংস্কৃত নগর শব্দ অপভ্রষ্ট হয়ে আঙ্কোর। এখন অবশ্য এই নগরীর ধ্বংসস্তূপই রয়ে গেছে, তবে বেশ অক্ষত অবস্থায়- এখনও দেখলে মানসচক্ষে গোচর করা যায়, সে যুগে কেমন লাগত এই শহর। কয়েকশো মন্দির, কয়েকশো তোরণ, চারিদিকে জলের পরিখা, তাদের উপর দিয়ে ছোটো ছোটো সেতু, আর অজস্র নাগ। সেতুর রেলিংগুলো নাগের শরীর, মন্দিরের প্রবেশপথের দুধারের রেলিংগুলিও নাগ, মন্দিরের দেয়ালচিত্রে নাগ, গৌতম বুদ্ধের মস্তক আবৃত করে তাঁকে রক্ষা করে চলেছে একটি নাগ- সারা শহরে আধিপত্য করছে দুটি নাগ- বৌদ্ধদের মুচলিন্দ আর হিন্দুদের বাসুকি।
ইদানীং ফেসবুকে ঘুরতে ঘুরতে নানা তরজা চোখে পড়ে। তার মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয় তরজার বিষয় হল বিরিয়ানি সত্যিই মোগলরা ভারতবর্ষে নিয়ে এসেছিল কি না! বিরিয়ানি নিয়ে বাঙালির আহ্লাদের অন্ত নেই। ক’বছর আগে পর্যন্ত কলকাতার বিরিয়ানিতে ইতিহাসের চর্চা বলতে ওয়াজিদ আলি শাহ পর্যন্তই ছিল। বরং কোন দোকানের বিরিয়ানি ভালো, সে ব্যাপারে বাঙালির উৎসাহ ছিল বেশি — সিরাজ, আমিনিয়া, আলিয়া, রয়্যাল, আরসালান ইত্যাদি। আইটি সূত্রে বাঙালি হায়দরাবাদে ঘনঘন যাওয়ায় প্যারাডাইসের হায়দরাবাদি বিরিয়ানিও আলোচনায় ঢুকে পড়ে। তবে পছন্দ যাই হোক না কেন, তাজমহল কিংবা ফতেপুর সিক্রির মতো বিরিয়ানিও যে মোগলাই অবদান, এ ব্যাপারে বাঙালি ছিল নিশ্চিন্ত। কিন্তু গোল বাধল বছর কয়েক আগে। দেশ জুড়ে মোগলদের বিরুদ্ধে প্রবল ‘আন্দোলন’ (বকলমে কুৎসা) শুরু হওয়ায় বিরিয়ানিকেও পরিচয়পত্র জোগাড়ে নামতে হল। তবে ভাগ্য ভালো, বিরিয়ানি মোগলাই খাবারের তালিকায় আছে বলে তাকে দেশছাড়া করার হুমকি দেওয়া হয়নি। বরং তাকে খাঁটি ভারতীয় খাবার বলে প্রতিষ্ঠা করার প্রয়াস শুরু হল।