সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

মধ্যযুগের উত্তর ও মধ্যভারতের ক্রীতদাসীরা: একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা

মধ্যযুগের উত্তর ও মধ্যভারতের ক্রীতদাসীরা: একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা

সুচেতনা মুখোপাধ্যায়

জানুয়ারি ২০, ২০২৪ ৪৮০ 5

“একজন খোরাসানি মেয়েকে কেনো ঘরের কাজের জন্য, হিন্দু মেয়েকে কেনো সন্তান প্রতিপালনের জন্য, পারস্যের মেয়ে কেনো ভোগ করার জন্য আর বাকি তিন বাঁদিকে ভয় পাওয়ানোর উদ্দেশ্যে মারধর করার জন্য কেনো ট্রান্সকশিয়ানার মেয়ে…।”

যেহেতু এই নিবন্ধের প্রধান উদ্দেশ্য হল মধ্যযুগের উত্তর ভারতে ক্রীতদাসীদের অবস্থা সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা উপস্থাপন করা, তাই আলোচনা শুরু হোক উপরোক্ত এই উদ্ধৃতিটির মধ্য দিয়ে।

পাঠক জানেন, প্রাচীন ভারতে দাস ব্যবস্থার অস্তিত্ব বরাবরই এক সর্বজনস্বীকৃত বাস্তব। যুদ্ধজয়ের পর বিজিত রাজ্যের অধিকাংশ পুরুষকে হত্যা অথবা বন্দি করার পর রাজ্যের নারী ও শিশুদের দখল করা, জনপদের ‘চতুষ্পথ’গুলির মোড়ে বা নতুন রাজ্যের বাজারে তাদের ক্রয় বিক্রয়, সমস্ত সম্ভবপর শ্রমসাধ্য কাজ থেকে যৌন বিনোদন পর্যন্ত নারীদের ব্যবহার করার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ উল্লেখ মহাভারত থেকে বৌদ্ধ ‘বানিজ্জ সুত্ত’, সম্রাট অশোকের নির্দেশাবলি থেকে কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র, মনুস্মৃতি থেকে বৈয়াকরণ পানিনির অষ্টাধ্যায়ী, হিন্দু ধর্মশাস্ত্রগুলি থেকে চালুক্য ‘লেখপদ্ধতি’ পর্যন্ত বহু বার, বহু অঞ্চলে ও বহু নামে পাওয়া যায়। তবে এদেশে প্রাচীন মিশর বা রোম সাম্রাজ্যের মতো পৃথক কোনও দাস বাজার, স্বতন্ত্র দাস সমাজ বা দাসদের ওপর রাষ্ট্রযন্ত্র দ্বারা সংগঠিত কোনো  ভয়াবহ নির্যাতন বা গণহত্যা ব্যবস্থা না থাকায় প্রাচীনকালে আগত গ্রিক দূত মেগাস্থিনিস ও তাঁর পরবর্তী সময়কালের বিদেশি পর্যটকরা এদেশের দাস ব্যবস্থার স্বরূপটিকে স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে পারেননি।

মধ্যযুগের উত্তর ভারতের সার্বিক পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ে সমকালীন লেখালেখি বিপুল। কিন্তু আদ্যন্ত পুরুষপ্রধান সে সমস্ত বিবরণে মধ্যযুগীয় নারী জীবনের বিশদ উল্লেখ কিন্তু কমই এসেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সেই সংক্ষিপ্ত বর্ণনের বৃত্তে ক্রীতদাসীদের জীবন প্রতিফলিত হয়েছে আরও সংক্ষিপ্তভাবে। তবু সুলতানি ও মোগল আমলের রাজকীয় ঐতিহাসিকদের বর্ণন, আইনি কাগজপত্র, সুফি সাহিত্য, কাব্য উপাখ্যান এবং বিদেশি পর্যটকদের বিবরণে টুকরো টুকরোভাবে হলেও বারবার নিজেদের সকল বিপন্নতা নিয়ে হাজির হয়েছেন সেকালের ক্রীতদাসীরা। ক্রীতদাসীদের অধিকাংশ উল্লেখ এসেছে ‘মুসলমান’ দলিল থেকে। তুলনায় দু’একটি প্রশাসনিক বা কাব্যিক সূত্র বাদে সমকালের ‘হিন্দু’ বর্ণনাগুলিতে হিন্দু রাজা ও অভিজাতদের অন্দরমহলে নানা উৎস থেকে আগত বিপুল সংখ্যক উপপত্নী ও ক্রীতদাসীর অস্তিত্ব সাধারণভাবে অনুচ্চারিত থেকেছে। তবে মুসলমান হোক বা হিন্দু বিবরণ, লিখিত সূত্রগুলির ভিত্তিতে বলা যায়, ভারতীয় উপমহাদেশে দ্বাদশ থেকে অষ্টাদশ সাধারণ শতক পর্যন্ত সময়ে আঞ্চলিক ‘চতুষ্পথ’গুলির ধারের প্রাচীন দাসবাজার থেকে রাজধানী দিল্লি আর তার আশপাশের বৃহৎ গবাদি পশু আর ক্রীতদাসের ‘মন্ডি’গুলি হয়ে আন্তর্জাতিক বাজার পর্যন্ত যে বৃহদাকায় দাসব্যবসা ফুলে ফেঁপে উঠেছিল, তার বেশিটাই সম্ভবপর হয়েছিল পরাজিত অঞ্চলগুলি থেকে বিজয়ী সৈনিক আর দালালদের রশিতে বেঁধে আনা অগণিত পরাজিত, স্বজনবিছিন্ন, অসহায় নারীর মাংস-রক্ত-ঘামের ভিতে!

ক্রীতদাসীদের উৎস সমূহ

প্রাচীন বহির্বিশ্বের মতো এদেশেও ক্রীতদাসীদের মধ্যে যুদ্ধবন্দি হিসেবে দাস বাজারে বিক্রি হওয়া নারীরা ছিলেন সর্বাধিক সংখ্যক। অপহৃত কমবয়সী মেয়েদেরও দাস বাজারে বিক্রি করা হতো। এছাড়া দুর্ভিক্ষ, দারিদ্র, মহামারী কিংবা কোনো বিপর্যয়ে স্বজনহীন হয়ে পড়া নারীরা নিজে কিংবা পরিবারের উদ্যোগে পেটের দায়ে বিক্রি হওয়ার জন্য বাজারে আসতেন। যেমন দ্বাদশ সাধারণ শতকের চালুক্য আমলের গুজরাটের ৪টি ‘লেখপদ্ধতি’ দলিলে আমরা একেবারে সরাসরি যুদ্ধজয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত দু’জন, ‘ম্লেচ্ছ’ আর রাষ্ট্রকূটদের আক্রমণের ফলে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষে নিঃস্ব পিতা, স্বামী ও পরিবার দ্বারা পরিত্যক্তা উঁচু ‘রাজপুত্র’ বর্ণের একজন এবং কোনো দাস মালিক দ্বারা বাজারে আবার বিক্রি হয়ে যাওয়া চতুর্থজন; অর্থাৎ মোট চারজন ক্রীতদাসীর উল্লেখ পাই। সেকালে বর্ণহিন্দু সমাজে কঠোর জাতিভেদ প্রথা থাকলেও হিন্দু ক্রীতদাসীদের সামাজিক কাঠামোর হিসেবের বাইরে রাখা হতো। হিন্দু সূত্রগুলিরও উচ্চবর্ণের ক্রীতদাসীদের সঙ্গে নিম্নতর বর্ণের হিন্দু প্রভুর সহবাসকে বৈধ হিসেবে মান্যতা দিতে সুবিধা হয়েছিল!

দিল্লি সুলতানির প্রথম একশো বছরে ইলতুৎমিস, বলবন এবং আলাউদ্দিন খলজির নেতৃত্বে উত্তর থেকে দক্ষিণ, পশ্চিম থেকে পূর্ব ভারত পর্যন্ত যে অগুনতি সফল সামরিক অভিযান সংঘটিত হয়েছিল, তার প্রতিটির পরবর্তী দিন-মাসগুলোয় দেশের প্রতি কোন থেকে রাজধানী দিল্লি পর্যন্ত সমস্ত বাজারে অগণিত যুদ্ধবন্দি পুরুষ ‘গুলাম’-এর পাশাপাশি নারী ‘বাঁদি’, ‘খাদিমা’, ‘লৌন্ডি’ আর নাবালক ক্রীতদাসের ঢল নামত। গরিব ঘরের এই গ্রাম্য বন্দিনীদের বিষয়ে ইবন বতুতা তাঁর আল রিহলাতে বলেছেন, “গ্রাম থেকে আনা ক্রীতদাসীরা অপরিচ্ছন্ন, এরা সুসভ্য ব্যবহারও জানেনা..”। এঁদের যোগান বিপুল থাকায় দাম ছিল খুব কম। জিয়াউদ্দিন বরণী তাঁর তারিখ-ই-ফিরুজশাহী’তে লিখেছেন, সুলতান বলবনের প্রতিটি বিজয় পর্বের পর পশুর বাজারে গবাদি পশুর মতো দিল্লির দাস বাজারগুলিতে ক্রীতদাসীর যোগান বহুগুণ বেড়ে যেত। তাঁর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, সেকালে ক্রীতদাস বা ক্রীতদাসীদের খরিদ করে আনা গবাদি পশু বা জড়বস্তুর সমতুল বলেই মনে করা হতো এবং সেভাবেই তাঁদের সঙ্গে আচরণ করা হতো। দিল্লিতে গবাদি পশু ও দাসদের বাজারটিও কিন্তু বসত একই সঙ্গে! খাস দিল্লির দাসবাজার ছিল সুলতানি আমলের ভারতীয় উপমহাদেশের বৃহত্তম দাসবাজার। সুসংগঠিত অভ্যন্তরীণ তথা আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক কাঠামোর মাধ্যমে গোটা দেশ থেকে সেখানে এবং সেখান থেকে গোটা দেশ কিংবা পারস্য, আরব আর আরও পশ্চিমে বহির্বিশ্বে ঢেউয়ের মতো ক্রীতদাসীদের ক্রমাগত বেচাকেনা – চলাচল চলতেই থাকত। উত্তর পশ্চিম সীমান্ত থেকে তুর্কিস্তান, চীন, বাইজেন্টাইন, পারস্য, এমনকি আফ্রিকার ক্রীতদাসীদেরও আমদানি করা হতো দিল্লির বাজারে।

ক্রীতদাসীদের ‘বাজারদর’ আর বেচাকেনা

বরণী জানাচ্ছেন, শারীরিক সৌন্দর্য, অভিজাত্য, বয়স, দৈহিক সুস্থতা, কর্মক্ষমতা আর অন্যান্য বিশেষ গুণাগুণের ভিত্তিতে ক্রীতদাসীদের দাম নির্ধারিত হতো। সবচেয়ে কমদামি ছিলেন সাধারণ বাঁদি, খাদিমা আর লৌন্ডি’রা। সংসারের যাবতীয় শ্রমসাধ্য কাজ করা ছাড়াও মালিককে নিয়মিত দেহসুখ প্রদানের জন্য এঁদের কেনা হতো। আলাউদ্দিন খলজির সময় শহরাঞ্চলের আম সৈনিক, গরিব সুফি দরবেশ বা একটু পয়সাওয়ালা সংসারী পুরুষরা ঘরোয়া কাজের গ্রাম্য ক্রীতদাসীদের কিনতেন মাত্র ৫-১২ টঙ্কায়। ক্রীতদাসী যুবতী ও কিছু সুদর্শনা হলে তাঁকে রক্ষিতা/উপপত্নী হিসেবে ১৫-৩০ টঙ্কায় খরিদ করা হতো। শিহাবুদ্দিন আল উমারি জানিয়েছেন, সুদর্শনা- গৌরবর্ণা, ইসলামী ধর্মশাস্ত্র পাঠে প্রশিক্ষিতা, চৌসার আর দাবা খেলতে জানা, গল্প বলা, নাচ গান কিংবা কাব্যরচনার মতো শৈল্পিক গুণ তথা দেহকলায় পারদর্শিনী কমবয়স্কা ‘কনিজ’ ক্রীতদাসীদের নিজেদের হারেমে ভরা বা বুখারা, সমরখন্দ, তুর্কিস্তান বা পারস্যের বাজারে বিক্রির জন্য ২০ হাজার টঙ্কা পর্যন্ত চড়া দাম দিয়ে দ্রুত কিনে নিতেন তুর্কি অভিজাত আর বিদেশি বণিকরা। আলাউদ্দিন খলজির আমলে বাকি সব পণ্যের মতো এঁদের দামও নিয়ন্ত্রিত ছিল। তবে আলাউদ্দিনের আগের বা পরের পর্বগুলিতে দামি ক্রীতদাসীদের কেনার ক্ষেত্রে বাজারদর নিয়ন্ত্রণের কোনো নিয়ম কাজ করত না। বাজারে আগত গুণী গোত্রের ক্রীতদাসীদের পাওয়ার জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা চলত বলে এঁদের বিক্রির সময় নিলামও ডাকা হতো কিছু সময়ে। ইবন বতুতা লিখেছেন, সুলতান মহম্মদ বিন তুঘলকের সময়কালে উঁচু বংশের সুন্দরী ও সুভদ্র হিন্দু ক্রীতদাসীরা ২০ হাজার টঙ্কায় বিক্রি হতেন। স্বয়ং তিনি ও তাঁর এক সহযাত্রী বাংলা ভ্রমণকালে ‘আশুরা’ এবং ‘লুলু’ নাম্নী দুই সুন্দরী কন্যাকে যথাক্রমে ১ স্বর্ণ দিনার অর্থাৎ ১০ রৌপ্য টঙ্কা এবং ২ স্বর্ণ দিনার অর্থাৎ ২০ রৌপ্য টঙ্কায় কিনেছিলেন। অপ্রশিক্ষিত নাবালিকা ক্রীতদাসীদের দাম ছিল ২-৫ টঙ্কা।

ক্রীতদাস প্রশিক্ষক বা দাস ব্যবসায়ী দালালদের কাছে এরা ছিল বিনিয়োগের মাধ্যম। এরা কমদামে বালিকাদের কিনে কয়েক বছরের বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এদের দামি ক্রীতদাসী হিসেবে চড়া দামে বিক্রি করে প্রচুর লাভ করত। মুক্তিপ্রাপ্ত (মাওয়ালা) ক্রীতদাসদের দ্বারা ক্রীতদাসী খরিদের খবর যেমন জানা যায়, তেমন জানা যায় পরিবার কর্তৃক ক্রীতদাসীদের টাকার বিনিময়ে মুক্ত করে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিরল তথ্যও। যেমন সুফি কিতাব ফাওয়াইদ উল ফুয়াদ-এর রচয়িতা হাসান আল সিজ্জির লেখায় মাওয়ালা মালেহ’র ৫ টঙ্কায় দেওগিরের এক নাবালিকাকে খরিদ করা আর সেই নাবালিকার পরিবার কর্তৃক ১০ টঙ্কা দিয়ে মেয়েটিকে মুক্ত করে  নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

সুলতানি সময়ে উত্তর পশ্চিম সীমান্তে পরাজিত কোনো মোঙ্গল নেতার হারেমের মহিলা বা আফ্রিকা, চীন কিংবা ককেশিয়ান নারীদের ক্রীতদাসী হিসেবে কিনতে পারলে সামাজিক বৃত্তে সম্মান বাড়ত। ফলে সুলতানির অভিজাতদের মধ্যে চলত চড়া দামে বিদেশি ক্রীতদাসী সংগ্রহ করার প্রতিযোগিতা। অন্যদিকে মোগল আমলে চাহিদা ছিল ইউরোপীয় ক্রীতদাসীদের। যেমন, ১৬৩২-এ শাহজাহান কর্তৃক হুগলিতে পোর্তুগিজদের কুঠি আক্রমণের সময় মারিয়া দি টাইডেস বা থোমাজিয়া মার্টিন্সের মতো বেশ কিছু পোর্তুগিজ মহিলা বন্দিকে নিজস্ব হারেমে আনার জন্য মোগল অভিজাতদের মধ্যে কাড়াকাড়ি পড়ে গেছিল।

আলাউদ্দিন খলজির সময় গবাদি পশু ও দাসবাজারের একটি মূল্য তালিকা

সাইমন ডিগবি’র বিখ্যাত গ্রন্থ ‘ওয়ার হর্স অ্যান্ড এলিফ্যান্ট ইন দিল্লি সুলতানেট: এ স্টাডি অফ সাপ্লাইস’ থেকে প্রাপ্ত ওপরের এই তালিকাটি থেকে আলাউদ্দিন খলজির আমলে দিল্লির গবাদি পশু ও দাসদের নিয়ন্ত্রিত মূল্যের বাজারে বিক্রয়যোগ্য ক্রীতদাসীদের দামের একটি ধারণা পাওয়া যায়। তালিকায় দেখা যাচ্ছে, বাজারে জবাই করার মহিষ আর ঘরের কাজের বাঁদি’র মূল্য প্রায় একই। এ থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, সেকালের ভারতীয় সমাজ ক্রীতদাসীদের দেখত পশুর সমপর্যায়ভুক্ত আর সমস্ত মানবিক অনুভূতিবিহীন নিছক এক পণ্য হিসেবে। সাধারণ ক্রীতদাসীদের ছিন্নমূল জীবনের এক বিষন্ন বিবরণ আমরা পাই ইবন বতুতার কলম থেকে, “সে সময় প্রচুর যুদ্ধবন্দি নারীকে ক্রীতদাসী হিসেবে রাজধানীতে আনা হল। সুলতান মহম্মদ বিন তুঘলকের ওয়াজির তাদের মধ্যে দশজনকে উপহার স্বরূপ আমায় পাঠালেন। যে লোকটি তাদেরকে নিয়ে এসেছিলেন, তাকে আমি একটি মেয়ে দিলাম, কিন্তু সে নিতে অস্বীকার করল। আমার সঙ্গীরা নিল তিনটি নাবালিকাকে। বাকিদের কী হয়েছিল, তা আমার আর জানা নেই। হিন্দে প্রশিক্ষিত ক্রীতদাসীরা এত সুলভ যে, বিপুল সস্তা হলেও এই অমার্জিত আর অসংস্কৃত যুদ্ধবন্দি নারীদের কেউ কিনতে চায়না…।”

অন্তহীন শ্রম আর ক্রীতদাসীদের মানুষেতর জীবন

ভারতীয় উপমহাদেশে সুলতানি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর দাস বাজার থেকে রাজকীয় হারেম পর্যন্ত, ছাপোষা দাস মালিকের উঠোন থেকে তাঁর শয্যা পর্যন্ত সমস্ত কাজে ক্রীতদাসীদের ব্যবহার করা একটি রাষ্ট্র অনুমোদিত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা হয়ে উঠেছিল। ডাচ ব্যবসায়ী পেলসার্ট লিখেছেন, স্বচ্ছল নাগরিক থেকে নিচু স্তরের রাজকর্মচারী প্রায় সব অভিজাতদের সংসারে তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতা অনুসারে ন্যূনতম ৩-৪ জন বিবাহিতা স্ত্রী এবং ১০-৫০০ জন পর্যন্ত বিবাহ-বহির্ভূত উপপত্নী, ক্রীতদাসী এবং পরিচারিকা থাকতেন।

ইসলামী আইনে ক্রীতদাসী মায়ের থেকে তাঁর সন্তানকে আলাদা করা নিষিদ্ধ হলেও, দখলীকৃত, অপহৃত বা বিক্রি হয়ে যাওয়া অবিবাহিতা বা সন্তানহীন বিবাহিতা যুবতীদের নিজস্ব পরিবারের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখার অধিকার থাকত না। কিনে আনা ক্রীতদাসীদের ওপর মালিকের কর্তৃত্বই ছিল চূড়ান্ত। বিক্রি হয়ে ভিন্ন ধর্মের মালিকের কাছে আসার পর বাঁদি ও গুলাম নির্বিশেষে সকলকেই ধর্মান্তরিত করা হতো এবং পুরোনো নামের বদলে রাখা হতো নতুন নাম। যেমন সুলতানি যুগের শুরুর দিকে ক্রীতদাসীদের গুল বদন, গুল-ই-রানা, গুল আনার, দিল আফরোজ, গুল রঙ্গ, ইয়াসমিন, নার্গিস, মেহন্দি প্রভৃতি নামের উল্লেখ পাওয়া গেলেও, পরবর্তী সময়ে স্থানীয় ক্রীতদাসীদের সংখ্যা এতটাই বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছিল যে তাঁদের ভারতীয় নামগুলি যেমন, চম্পা, চামেলি, গুলাব, মধুমতী, সুগন্ধারা, বাসন্তী, মৃগ নয়ন, কমল নয়ন ইত্যাদি ( নিকোলো মানুচ্চির স্টোরিয়া দো মোগোর) সম্ভবত আর বদলানো সম্ভব হচ্ছিল না। ধর্মান্তকরণের পর ক্রীতদাসীরা তাঁদের প্রাত্যহিক কাজের জীবনে ঢুকে যেতেন। সম্ভব অসম্ভব সমস্ত শ্রমসাধ্য কাজে ব্যবহার করা ছাড়াও মালিক বা তার পরিবারের পুরুষ সদস্যদের দ্বারা এঁদের ভোগ করা বা কেনাবেচা করা, উপহার হিসেবে দেওয়া, ঋণের বিনিময়ে বন্ধক রাখা বা অন্য মালিকের ক্রীতদাসীদের সঙ্গে বিনিময় করা ছিল প্রচলিত প্ৰথা। ছাপোষা খাদিমা হোন বা মহামূল্য কনিজ; নিজ জীবনের ওপর ন্যূনতম অধিকারও থাকত না কোনো ক্রীতদাসীর।

তবে সবচেয়ে দুরবস্থা ছিল ঘরোয়া কাজের জন্য নিযুক্ত ‘বাঁদি’, ‘খাদিমা’ বা ‘লৌন্ডি’দের। সমকালীন যুগপৎ হিন্দু ও মুসলিম বইপত্তর থেকে আমরা এই ক্রীতদাসীদের অন্তহীন কাজের চাপকে পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারি। ভোর রাত থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মালিকের সংসারে এঁদের শস্য পেষাই, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ, জল তুলে আনা, গবাদি পশুদের দেখভাল, ঘাস কাটা, মালিকের ক্ষেত বা বাগানের সমস্ত শ্রমসাধ্য কাজ, কাপড় কাচা, বাসন মাজা, ঘরদোর পরিষ্কার করা, রান্নায় সাহায্য করা ইত্যাদি “পবিত্র” কাজে তো বটেই, মালিকের পরিবারের মলমূত্র ফেলে আসার মতো ‘অপবিত্র’ যে কোনো ধরনের কাজও তাঁদের করতে হতো। সঙ্গে ছিল মালিক আর তার পরিবারের পুরুষ সদস্যদের যৌনচাহিদা মেটানোর ক্রমাগত চাপ। মালিক বা তার পরিবার পরিজনের আদেশ না মানলে, অসুস্থতা, ক্লান্তি, সন্তান প্রসব বা অন্য কোনও কারণে কম শ্রম দিলে বা মালিকের আনুষ্ঠানিক মুক্তির অনুমতি ব্যতীত পালিয়ে গেলে ক্রীতদাসীকে নিষ্ঠুরভাবে মারধোর করা, বেঁধে রাখা, বেচে দেওয়া তো বটেই, মৃত্যুদণ্ড দেওয়ারও সম্পূর্ণ অধিকার থাকত মালিকদের। তবে কেবল পুরুষের বহু ক্রীতদাসী বা উপপত্নী গ্রহণই নয়, স্ত্রীদের অধিকারের সংরক্ষণও দেখা গেছে সমকালীন কিছু প্রশাসনিক ‘সিয়াকনামা’ দলিল এবং মুসলমান ‘নিকাহনামা’তে। বাণিজ্য শহর সুরাটের একটি ‘নিকাহনামা’য় যেমন বিবাহিতা স্ত্রীকে স্বামীর ক্রীতদাসীর সঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করা, স্বামীর ক্রীতদাসীকে বিক্রি করা, উপহারে কাউকে দিয়ে দেওয়া বা মুক্তি দেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছিল। কারণ ক্রীতদাসীর প্রতি অধিক মনোযোগী হয়ে অনেকেই তাঁদের বৈধ পরিবারকে অবহেলা করতেন। খেয়ে পরে থাকার দায়ে বাড়ির রোজগেরে পুরুষটিকে চটানোর উপায় না থাকায়, স্বামীর অসহায় উপপত্নী আর বাঁদীদের আশ মিটিয়ে অত্যাচার করছে মালিকের স্ত্রী সন্তানরা; এমন বেশ ক’টি তথ্য পাওয়া যায় বিদেশি পর্যটকদের লেখায়। যেমন, ইংরেজ বণিক পিটার মুন্ডি লিখেছেন, ১০ বছরের এক বাঁদির কথা, যে তার মালিকের স্ত্রীর অত্যাচার সইতে না পেরে একলা পালিয়ে এসেছিল। হিন্দু-মুসলমানের পারম্পরিক সামাজিক বৃত্তে ক্রীতদাসীরা সম্পূর্ণ ব্রাত্য ছিলেন বলে, তাঁদের মৃত্যু পরবর্তী সময়কার ধর্মীয় আচারগুলিকেও গুরুত্ব সহকারে পালন করা হতো না। যেমন আমরা দেখতে পাই, শারীরিক-মানসিক অত্যাচারে ক্লান্ত বা অসুস্থ হয়ে আত্মহত্যা করা ক্রীতদাসীকে হরেক আঞ্চলিক ধর্মশাস্ত্রে ‘গর্দভী’, ‘ডাকিনী’, ‘চণ্ডালি’র মতো হীন শব্দে ডাকা হয়েছে অথচ তাঁর মালিককে গণ্য করা হয়েছে ‘গঙ্গাজলে স্নান সেরে ওঠা’ ব্যক্তির মতো ‘পবিত্র’ হিসেবে।

মুসলমান হারেম আর হিন্দু অন্দরমহলের ক্রীতদাসীরা

এবার আসা যাক সেকালের হারেমে বসবাসকারী ক্রীতদাসীদের প্রসঙ্গে। সুলতানি বা মোগল আমলের উত্তর ভারতে খোদ হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে যে সুলতান- বাদশাহ- হিন্দু রাজন্যবর্গ বা তাঁদের আমির- ওমরাহ- অভিজাতরা; চড়া দামে অতি সুন্দরী তথা নানা গুণে গুণান্বিতা ক্রীতদাসীদের কিনে যে উপপত্নী বা রক্ষিতা হিসেবে নিজেদের হারেম বা মহিলামহলে ভরে দিতেন, সে কথা সকল পাঠক জানেন। মহম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয় বিষয়ে রচিত গ্রন্থ ‘চাচনামা’য় লিখিত একটি পংক্তিতে রয়েছে; “এদের মেয়েরা কস্তুরী মৃগের মতো শ্বেতাঙ্গী ও সুবাসিনী, এখন আমাদের হারেমে নিদ্রিতা…”। সুলতান ইলতুৎমিস, আলাউদ্দিন খলজি, মহম্মদ বিন তুঘলক, ফিরোজ শাহ তুঘলক বা লোদী সুলতানরা;  মোগল বাদশাহ বাবর, আকবর, জাহাঙ্গীর, শাহজাহান, ঔরঙ্গজেব বা পরবর্তী রাজকীয় মোগলদের সকলের হারেমেই ছিলেন পশ্চিম এশীয়, চৈনিক-মোঙ্গল ও ভারতের নানা প্রান্তের বহু সহস্র ক্রীতদাসী। আবুল ফজলের আইন-ই-আকবরী অনুযায়ী, আকবরের হারেমে ৫০০০, মোগল অভিজাত ইসমাইল কুলি খানের হারেমে ১২০০, মান সিংহের অন্দরমহলে ১৫০০ ক্রীতদাসী ছিলেন। ইতালীয় পর্যটক মানুচ্চি জানাচ্ছেন, সৈয়দ খান বাহাদুর নামক অভিজাতের অধীনে উপপত্নী আর ক্রীতদাসীদের সংখ্যা এতটাই বেশি ছিল যে মাত্র ৪ বছরের মধ্যে তাঁর ৬০ জন পুত্রসন্তান জন্মেছিল ( তিনি এই ব্যক্তির কন্যা সন্তানদের সংখ্যা জানান নি)। বিশালাকৃতি হলঘরে একসঙ্গে বা কয়েকজনের দলে ভাগ করে এঁদের থাকার ব্যবস্থা হতো। লাঠি হাতে এঁদের নিয়ন্ত্রণ করতেন হারেমের বয়স্ক কোনো শক্তপোক্ত ক্রীতদাসী। ক্রীতদাসীদের বেশিরভাগই হারেমে আসতেন যুদ্ধবিগ্রহের পর। এঁদের মধ্যে সুন্দরী বা নাচ, গান, কাব্যে পারদর্শিনীরা উপপত্নী হিসেবে আর বাকিরা হারেমের রোজকার কাজে নিয়োজিত হতেন।

হারেমের মহিলা মহলে সম্পূর্ণ পৃথকীকৃত সুবিশাল মহলে খোজা প্রহরীদের নিশ্ছিদ্র সুরক্ষাতলে পরিবারের মহিলাদের পাশাপাশি উপপত্নীরাও থাকতেন। সুলতানদের দেখাদেখি খোজা দ্বারা পাহারা দেওয়া হারেমে বা স্ত্রী আর উপপত্নীদের রাখার চল শুরু করেন খান-ই-আজম লাদ খান বা আজম খান তাতারের মতো উচ্চপদস্থ অভিজাতরাও। তবে পর্দার কঠোরতা প্রত্যাশিতভাবেই উপপত্নী ক্রীতদাসীদের জন্য সেভাবে কার্যকর ছিল না। যেমন অনেক সময়েই খাস পরিবারের নারীরা সর্বাঙ্গ ঢাকা পালকি বা রথে এক জায়গা থেকে অন্যত্র গেলেও উপপত্নী ক্রীতদাসীদের নিয়ে যাওয়া হতো খোলা ঘোড়ার পিঠে। মুসলমান প্রথার অনুকরণে হিন্দু রাজা বা অভিজাতদের অন্দরমহলেও পর্দাপ্রথা পালিত হতো, যার আওতায় ছিলেন তাদের হিন্দু উপপত্নীরাও। পর্দাপ্রথার কড়াকড়ি তেমন ছিল না বলে সমরাভিযান, শিকার বা বাইরের জগতের অন্যান্য বিলাস- বিনোদনের সময় সুলতান-মহারাজা বা ছোটো বড়ো অভিজাতরা নর্তকী, কনিজ ক্রীতদাসী বা বিশ্বাসভাজন অন্য উপপত্নীদের সঙ্গে নিতেন।

উচ্চাকাঙ্ক্ষী কিংবা গুপ্তচর ক্রীতদাসীরা

হারেমে সম্রাট, সম্রাজ্ঞী সমেত ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা অভিজাত নারী পুরুষদের চোখে পড়ার জন্য উচ্চাকাঙ্ক্ষী ক্রীতদাসীদের মধ্যে তুমুল প্রতিযোগিতা চলত। সুলতানি হারেমের সর্বজনশ্রদ্ধেয় আর অবশ্যই প্রবল ক্ষমতাশালী ক্রীতদাসীদের মধ্যে শুরুতেই আসে সুলতান ইলতুৎমিসের প্রিয়তমা পত্নী ও সুলতান রুকনুদ্দিন ফিরোজের (মতান্তরে রাজিয়ারও) জন্মদাত্রী ‘খুদাবন্দ-ই-জাহান’ শাহ তুর্কানের নাম। ইসলামি ধর্মশাস্ত্র ও সাহিত্যে পারদর্শিনী, প্রখর বুদ্ধিমতী তথা দানশীল ইলতুৎমিসের এই উপপত্নী ছিলেন সুলতানের হারেমের দায়িত্বে। অযোগ্য সন্তান রুকনুদ্দিন ফিরোজের রাজত্বকালে তিনি ৬ মাসের জন্য আড়াল থেকে দিল্লি সুলতানির প্রকৃত শাসিকা হিসেবেও কাজ করেছিলেন। বাবরের ক্রীতদাসী গুলনার আঘাচাও ছিলেন মোগল হারেমের ক্ষমতাশালিনী ব্যক্তিত্ব। সম্রাট বা শাহজাদাদের ঔরসে বিশেষত পুত্রসন্তানের জন্ম দিতে পারলে হারেমের বৃত্তে সেই উপপত্নী আর ক্রীতদাসীদের পদোন্নতি ঘটত বলে জানায় বাবরনামা। পরবর্তী মোগলযুগেও উচ্চাকাঙ্খী কনিজ ক্রীতদাসীদের আমরা বারবার দেখেছি। যেমন দারা শিকোহর জর্জিয়ান ক্রীতদাসী উদয়পুরীমহল বা শাহজাদা মুরাদের ক্রীতদাসীরা ঔরঙ্গজেবকে ক্ষমতা লাভে নানাভাবে সাহায্য করেছিলেন। বাদশাহ জাহান্দার শাহকে ব্যবহার করে ক্ষমতার শীর্ষে উঠেছিলেন তাঁর প্রিয়তমা কনিজ লাল কুঁয়র। অবশ্য এই উচ্চাকাঙ্ক্ষার উল্টো পিঠে আকবরের প্রিয় কনিজ লাল কলাওয়ান্ত বা তাঁর মৃত্যুর পর আফিম খেয়ে আত্মহত্যা করা এক অনাম্নী ক্রীতদাসী (জাহাঙ্গীরের আত্মকথায় উদ্ধৃত), বন্দি শাহজাহানের আমৃত্যু সঙ্গিনী আকবরাবাদী মহল ও ফতেহ্পুরী মহল, বা দারা শিকোহর উপপত্নী নর্তকী রানা-ই-দিল প্রমুখ ব্যক্তিত্বদেরও আমরা পাই, যাঁরা ব্যক্তিগত নীতিবোধ তথা মালিকের প্রতি আনুগত্যের উজ্জ্বল উদাহরণ ছিলেন।

চীন বা পারস্যের সম্রাটদের সঙ্গে কূটনৈতিক উপহার হিসেবে ভারতীয় সম্রাটরা যেমন বিপুল সংখ্যক ক্রীতদাসী বিনিময় করতেন, তেমন উৎসব অনুষ্ঠানে সাম্রাজ্যের অভিজাতদের মধ্যেও বিতরণ করতেন নিজস্ব হারেমের ক্রীতদাসী ও উপপত্নীদের। যেমন ইবন বতুতার রিহলা অনুসারে, মহম্মদ বিন তুঘলক ঈদ-উল-ফিতরের সময় একটানা ৭ দিন ধরে উপহার হিসেবে তাঁর হারেমের ক্রীতদাসীদের অভিজাতদের মধ্যে বিতরণ করতেন। এসময় দাস দাসীদের মুক্তিদান ও তাঁদের মধ্যে নিকাহও করানো হতো। ঈদের উপহারে সুলতান কর্তৃক দাসদাসী বিতরণের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল তাঁর চারপাশের অভিজাতদের আনুগত্যকে নিয়ন্ত্রণ করা। কী ভাবে হতো এই নিয়ন্ত্রণ? এ বিষয়ে সুলতানি যুগের শামস সিরাজ আফিফ, জিয়াউদ্দিন বরণী বা ইবন বতুতা সকলেই লিখেছেন, হিন্দুস্তানের সুলতানদের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল, হারেমের নির্ভরযোগ্য ক্রীতদাসীদের উপহার হিসেবে ছোটো বড়ো সমস্ত শ্রেণীর অভিজাতদের দান করা। এই ক্রীতদাসীরা মূলত গুপ্তচর হিসেবে সুলতানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলি আদান প্রদানের কাজ করতেন। এঁদের দেওয়া খবরের গুরুত্ব ছিল অনেক। যেমন, গোপনে শয্যাকক্ষের অলিন্দে উপস্থিত এক বিশ্বাসী ক্রীতদাসীর খবরের ভিত্তিতে মহম্মদ বিন তুঘলক তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী এক অভিজাতকে হত্যা করেছিলেন।

মোল আমলের ‘আঘা’, ‘কনিজ’ আর ‘সহেলি’রা

প্রথম দুই মোগল বাদশাহের সময় হারেমের পর্দাপ্রথার কঠোরতা সুলতানি আমলের তুলনায় হ্রাস পেয়েছিল। এ সময় ক্রীতদাসী উপপত্নীদের মধ্যে যাঁরা মালিকের সুনজরে আসতেন, তাঁরা ছাড়াও হারেমে থাকতেন ‘আঘা’( অভিজাত পরিবার থেকে আগত উপপত্নী) বা ‘আঘাচা’( সাধারণ উপপত্নী) নামে পরিচিতা বাদশাহদের অবিবাহিত স্ত্রীরাও। আঘা-রা খাস হারেমের উৎসব অনুষ্ঠানের সম্মানীয় অংশীদার হতেন, এমনকি নিজস্ব কৌশলে বাদশাহের প্রিয় বেগমও হয়ে উঠতেন। বেগমরা আঘাদের সন্তানকে দত্তক নিয়েছেন, আছে এমন উদাহরণও। বাবরনামায় খোলাখুলিভাবে বাবর নিজের বেগমদের পাশাপাশি তাঁর উপপত্নী ও তাঁদের ঔরসজাত সন্তানদের নামও জানিয়েছেন। হুমায়ুননামায় গুলবদন বানো বেগমও জানিয়েছেন অনেকটা একইরকম তথ্য। সুলতানি যুগের মতো মোগল আমলেও অভিজাতরা বাদশাহী পরিবারকে অনুকরণ করে হারেমে রাখতেন বহুসংখ্যক উপপত্নী আর ক্রীতদাসী। পর্যটক পরবর্তীকালে মোগল সাম্রাজ্য বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে হারেমে আগত উপপত্নী হিসেবে গৃহীত নারী আর দেশ বিদেশ থেকে উপহার হিসেবে প্রাপ্ত ক্রীতদাসীদের সংখ্যা এতটাই বৃদ্ধি পায় যে এঁদের থাকার জন্য খাস হারেম থেকে আলাদা নতুন মহল বানাতে হয়েছিল। এসব মহলের সুপ্রশস্ত কক্ষগুলিতে একসঙ্গে বাস করতেন এঁরা। এঁদের মধ্যে উচ্চবংশীয়ারা উপপত্নীর মর্যাদা পেতেন এবং আকবর আর জাহাঙ্গীরের সময়ে পরিচিত হতেন ‘পরিস্তারান’ বা ‘খাওয়াস-ই-খিদমৎগারান’ নামে। ‘কনিজ’, ‘কনিজাক’ বা ‘দাহ্’ নামে পরিচিতি পেতেন নাচ গান জানা ক্রীতদাসীরা। তবে অবাক করা তথ্য হল, জাহাঙ্গীরের সময়ে হারেমের কাজে নিযুক্ত সাধারণ ক্রীতদাসীদের ‘সহেলি’ তো বটেই এমনকি উপপত্নীদের জন্য নির্দিষ্ট ‘পরিস্তারান’ নামেও ডাকা হতো।

বিদেশে রপ্তানির জন্য ক্রীতদাস-দাসী সংগ্রহের ব্যবসাকে আকবর তাঁর সিংহাসনে আরোহনের সপ্তম বর্ষেই নিষিদ্ধ করেন, কিন্তু লিঙ্গ নির্বিশেষে যুদ্ধবন্দিদের বিক্রিকে তিনি প্রচ্ছন্নভাবে সমর্থন করতেন। ফলে তাঁর আমলে আগের মতো রমরমা দাস ব্যবসা না থাকলেও খাস দিল্লির বুকে গোপনে চড়া দামে বিক্রি হতেন ক্রীতদাসীরা। ১৫৮২তে আকবর তাঁর বহুসংখ্যক ক্রীতদাসকে মুক্তি দিলেও মোগল হারেমে বন্দি অগণিত ক্রীতদাসীকে মুক্তি দেওয়ার কৃতিত্ব কিন্তু ছিল প্রধানত সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের! তিনি ১২-৪০ বছর বয়সী ‘সহেলি’দের মুক্ত করেন এবং ‘আহাদি’ সৈন্য ও মুক্তিপ্রাপ্ত ‘চেলা’ ক্রীতদাসদের সঙ্গে বিয়ে দেন এবং চল্লিশোর্ধ ‘সহেলি’দের ক্রীতদাসত্বের শৃঙ্খল থেকে নিঃশর্ত মুক্তিদান করেন। এরপর সম্রাজ্ঞী মুমতাজমহলও একই পদ্ধতিতে তাঁর হারেমের বহু শত ক্রীতদাসীকে মুক্ত করেছিলেন। প্ৰখর ধর্মপরায়ণ হলেও ঔরঙ্গজেবের আমলে কিন্তু তাঁর প্রচ্ছন্ন অনুমতিতে বাদশাহী যুদ্ধে পরাজিত পক্ষের মহিলাদের ‘বাঁদি’ হিসেবে দখল করা বা ক্রীতদাসী হিসেবে বিক্রি স্বীকৃত ছিল। যদিও সম্রাটের মৃত্যুর পর মোগল সাম্রাজ্যের পতনের দশকগুলিতে রাজপরিবার তথা অভিজাতদের হারেমের সুস্থিতির দিন দ্রুত বদলাতে শুরু করে। 

মালিক ও ক্রীতদাসীদের মধ্যে সুসম্পর্কের নানা রূপ

ক্রীতদাসীদের অস্তিত্ব যেহেতু সুলতানি ও মোগল আমলে সমাজের সর্বজনস্বীকৃত এক প্রথা ছিল, তাই সেকালের সুফি সন্তরাও এই ব্যবস্থাকে নিতান্ত স্বাভাবিক এক ব্যবস্থা হিসেবে গণ্য করতেন। আমির হাসান সিজ্জি রচিত সুফি গ্রন্থ ‘ফাওয়াইদ উল ফুয়াদ’ থেকে আমরা জানতে পারি যে, সেকালের সুফিসন্তরাও ক্রীতদাস ও দাসী খরিদ করতেন এবং শারীরিক চাহিদা নিবৃত্তির জন্য মুরিদদের(শিষ্য) হয় নিকাহ, নাহয় ‘লৌন্ডি’ ক্রীতদাসীর সঙ্গ করার উপদেশ দিতেন। সাধারণভাবে সুফি সন্তদের পরিবারে আগত  ক্রীতদাস-দাসীরা আন্তরিক ব্যবহার পেতেন এবং বিনিময়ে মালিক পরিবারের বিপদে সর্বতোভাবে পাশে থাকতেন। এমনকি চিস্তি সুফি সন্ত নিজামুদ্দিন আউলিয়া, শাহ তুর্ক বা শেখ নাসিরউদ্দিনের এক শিষ্যের দারিদ্রের সময় তাঁদের ক্রীতদাসী তুলো ধুনে কিংবা কাপড় বুনে রোজগারের ‘টঙ্কা’ মালিকের হাতে তুলে দিয়েছেন, এমন তথ্যও পাওয়া যায়। অন্যদিকে আবার ইবন বতুতার লেখা থেকে জানা যায়, সুরাবর্দী সুফি শেখ হুদ-এর ক্রীতদাসীর মণিমুক্তোপান্না খচিত বহুমূল্য ৭হাজার দিনারি জুতোজোড়ার কথাও। সুফি সন্তদের ক্রীতদাসী রাখাকে গর্হিত বলে মনে না করা হলেও নিজামুদ্দিন আউলিয়ার মুরিদ মওলানা কাওয়াম আল-দিন আওয়াধিল’র দখলে একজনও ক্রীতদাসী না থাকার কারণে তাঁকে বিশেষভাবে শ্রদ্ধা করা হতো। মাওলানা কাওয়াম বৃদ্ধ বয়সে একজন ক্রীতদাসীকে যথাযোগ্য সম্মানের সঙ্গে নিকাহ করেছিলেন এবং দুটি কন্যাসন্তানের পিতা হয়েছিলেন।

বিশেষ কোনো ক্রীতদাসীর প্রতি মালিকের প্রেমের মনোভাবের উদাহরণও বিরল ছিলনা সেযুগে। ইবন বতুতা এমনই এক যুবক অভিজাত বা ‘ওয়াজিরদাহ্’র কথা লিখেছেন, যিনি মৃত্যুর আগে তাঁর প্রিয় ক্রীতদাসীর হাতে একটি পান মাত্র খেতে চেয়েছিলেন। নিজামুদ্দিন আউলিয়ার শিষ্য মওলানা আমিনি দারিদ্রের কারণে অন্য এক মুরিদের কাছে তাঁর এক ক্রীতদাসীকে বিক্রি করে দেওয়ার পর সেই নারীর প্রতি মওলানার প্রেমের অনুভব জাগ্রত হয়। গুরু নিজামুদ্দিনের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই দরিদ্র মওলানা প্রেয়সীকে ফিরে পেয়েছিলেন। সমকালের কবি বদর চাচ ‘গুল চেহরা’ নামক এক পরমাসুন্দরী ক্রীতদাসীকে ৯০০ টঙ্কায় কিনতে না পেরে একটি বিষাদগাথা লিখেছিলেন। সম্পূর্ণ মানবিক কারণে বদায়ুনের এক বয়স্ক স্বজনবিচ্ছিন্না যুদ্ধবন্দি ক্রীতদাসীকে মুক্তি দিয়েছিলেন মওলানা আল আলদিন নামক এক ব্যক্তি; লিখেছিলেন হাসান আল সিজ্জি।

রাজনীতির পালাবদল আর ক্রীতদাসীরা

ওপরে উল্লিখিত বিবরণগুলি থেকে এ লেখার পাঠক হয়ত স্পষ্টতরভাবে ক্রীতদাসীদের ছিন্নমূল জীবনের অনিশ্চয়তা এবং যন্ত্রণাকে অনুভব করতে পারছেন। দাসবাজার থেকে একের পর এক মালিকের হাত বদল হতে থাকা এই নারীরা সুলতান, বাদশাহ, রাজা মহারাজা, উচ্চপদস্থ অভিজাত, ধনী ব্যবসায়ী বা বিদেশি কূটনীতিকদের অন্দরমহলে থাকুন বা থাকুন সুফি সন্ত, সাধারণ সেনা বা স্বচ্ছল কারিগর, বণিক বা চাষীর সংসারে, সর্বত্রই এঁরা আগাগোড়া এক অস্থির জীবন কাটাতেন। বাঁদি খরিদ করে সাময়িক সাংসারিক আর দৈহিক প্রয়োজন মিটিয়ে নেওয়ার পর এঁদের কপর্দক শূন্য অবস্থায় ফেলে রেখে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায় মোগল আমলের কিছু সূত্র থেকে। দেশে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটলে দিল্লি সহ অন্যান্য প্রশাসনিক কেন্দ্রের রাজকর্মচারীদের মতো তাঁদের হারেমে হাজির বিবাহিতা স্ত্রী, উপপত্নী আর ক্রীতদাসীদের জীবনেও পালাবদল ঘটত। সুলতানি যুগের নিয়ত রাজনৈতিক অস্থিরতায়, অষ্টাদশ শতকে মোগল আমলের সমাপ্তি কালে আর উপমহাদেশ জুড়ে ব্রিটিশ শাসনের সূচনার যুগ সন্ধিক্ষণে হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে উত্তর ও মধ্য ভারতের বেশিরভাগ পুরোনো অভিজাত পরিবারগুলিতে নেমে আসা অস্তিত্বের সংকট এবং তীব্র দারিদ্র হারেমের নারীদের সার্বিক জীবনকে কঠিনতর করে তুললেও এসময় নিজেদের মতো করে মুক্ত হচ্ছিলেন ঘরোয়া কাজে নিযুক্ত বাঁদিরা। পরাজিত পুরুষ অভিভাবকটির জয়ী প্রতিপক্ষরা সদলবলে অন্দরমহল বা হারেমের বিবাহিতা নারী এবং সুন্দরী উপপত্নীদের জবর দখল করলেও, ভোগ করার পর আর চাহিদা থাকত না এঁদের। আজীবন শোষিত এই নারীরা মালিকবাড়ির জন্য ভালোবাসার কোনো পিছুটানও অনুভব করতেন না। ফলে ডামাডোলের সুযোগে দ্রুত মালিক বাড়ির কিছু ধনসম্পদ হস্তগত করে বোরখা-ঘোমটার আড়ালে হোক বা ছদ্মবেশে, একাকী হোক অথবা পুরুষ ক্রীতদাসদের সঙ্গে একযোগে বেরিয়ে গিয়ে এঁরা মুক্ত সমাজের সুবিশাল আঙিনায় শহরে, গঞ্জে, কসবায়, বাজারে মজদুরি থেকে দেহব্যবসা পর্যন্ত নানা রকমের কাজে যুক্ত হয়ে নতুন জীবন শুরু করতেন।

ব্রিটিশ আমলের শুরুর দিকেও দুর্ভিক্ষ, মহামারী আর ভয়াবহ দারিদ্র্যের কারণে পরিবারের মেয়েদের বেচে দেওয়ার পুরোনো ধারা বজায় ছিল। ১৮১২-১৩-এর বাংলা-বিহার কিংবা ১৮২৩-২৪-এর মালওয়া সহ আশপাশের রাজ্যে ‘নাকিন’ দালালদের মাধ্যমে নানা দামের শয়ে শয়ে নিম্নবর্ণের হিন্দু নাবালিকা সমেত সমস্ত বয়সের নারীর অবাধ বেচাকেনা দেখেছিলেন ব্রিটিশ সমীক্ষক ফ্রান্সিস বুকানন আর বম্বের গভর্নর জন ম্যালকম। এঁদের একদিকে যেমন অভিজাত রাজপুত, উচ্চপদস্থ ব্রাহ্মণ আর নব্য জমিদার পরিবারে খাটা আর মালিক পরিবারের পুরুষদের দেহসুখ দানের জন্য কেনা হতো, তেমন কেনা হতো নাচনি বা তওয়ায়েফ হিসেবে গড়ে তোলার জন্যও। ১৮৪৩-এ ব্রিটিশ শাসকরা ভারতীয় উপমহাদেশে ক্রীতদাস প্রথা নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পর, মধ্যযুগের মতো খোলামেলা ভাবে না হলেও নতুন নানা নাম আর কাঠামোর আড়ালে উত্তর ও মধ্যভারত জুড়ে অগণিত ক্রীতদাসীর অন্ধকার অস্তিত্ব বজায় ছিল পরবর্তী আরও বহু দশক জুড়ে।

কিছু প্রাসঙ্গিক তথ্যসূত্র

১. Shadab Bano, “Women Slaves in Medieval India” in ‘Proceedings of the Indian History Congress, Vol. 65 (2004)’; Indian History Congress, pp. 314-323.

২. Fouzia Farooq Ahmed, “Female Slaves in the Historiography of the Delhi Sultanate, 1192-1526” in ‘Journal of the Research Society of Pakistan, Vol. 57, Issue 3 (July-Sept 2020)’; University of The Punjab, pp. 41-50.

৩. Shadab Bano, “Slave Markets in Medieval India” in ‘Proceedings of the Indian History Congress, Vol. 61, Part One: Millennium (2000-2001)’; Indian History Congress, pp. 365-373.  

৪. Tim Mackintosh-Smith edited, ‘The Travels of Ibn Battutah’; Macmillan Collector’s Library, 84. 2003.

৫. Tapan Raychaudhuri and Irfan Habib edited, ‘The Cambridge Economic History of India, Volume 1 and 2’; Cambridge University Press, online publication date: March 2008.

৬. K.S Lal, ‘Muslim Slave System in Medieval India’; New Delhi: Aditya Prakashan, 1994.

বর্তমানে শিক্ষকতার পেশায় নিযুক্ত লেখক ও প্রাবন্ধিক সুচেতনা মুখোপাধ্যায় অতীতের প্রেসিডেন্সি কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছেন। নারী ইতিহাস রচনা ও সমাজে তাদের অবদানকে উন্মিলিত করা তিনি নিজের ব্রতজ্ঞান করেন। তার রচিত ‘আলোর মেয়েদের গল্প’ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্রন্থ। নিয়মিত লেখালেখি, নারী আন্দোলন ও সামাজিক কাজে যুক্ত থাকা তার আগ্রহের বিষয়।

মন্তব্য তালিকা - “মধ্যযুগের উত্তর ও মধ্যভারতের ক্রীতদাসীরা: একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা”

  1. সুলিখিত এবং তথ্যপূর্ণ।
    দুটো জিজ্ঞাসা।
    এক, সুচেতনা লিখেছেন, বর্ণ ব্যবস্থা নিম্নবর্ণের দাসীমালিকদের উচ্চবর্ণের দাসীকে ভোগের সমর্থন যোগাত। আমি উল্টোটাই জানতাম। অন্তত বিয়ের ক্ষেত্রে।
    দুই, সমসাময়িক কাব্যে উপন্যাসে দাসীদের উল্লেখ আছে কি?

  2. প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ।
    আপনার প্রথম প্রশ্নের উত্তরে জানাই, হিন্দু ক্রীতদাসীরা ট্র্যাডিশনাল সামাজিক কাঠামোয় ব্রাত্য ছিলেন বলেই, উচ্চবর্ণের ক্রীতদাসীকে কেনার অধিকার থাকত নিম্নবর্ণের হিন্দু মালিকের। ‘লেখপদ্ধতি’ দলিলগুলিতে এই তথ্য পাবেন। এ জন্য আপনি ‘Lekhapaddhati Documents, Relating to slavery A.D 1230-31 (Pushpa Prasad , IHR, XV, PAGE 269-275) দেখতে পারেন।
    ‘গুল চেহরা’ নামক ক্রীতদাসীর জন্য গীতিকবিতা লেখার উল্লেখ পাই ইবন বতুতার লেখায়। তবে এই একটি উদাহরণই যথেষ্ট নয় জানি, ফলে আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের বিষয়টি আরও বিশদ খুঁজব এবং তারপর নাহয় জানাব।

  3. অসাধারণ লেখা। বিশেষ করে আমার মতো সখের ইতিহাস-পাঠকদের জন্য এটা দাসপ্রথার ইতিহাস জানার একটা নতুন দৃষ্টিকোণ। তবে পরের লেখায় বাংলা অনুবাদটা আর একটু ভালো হওয়া দরকার ।

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।