সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

লেখক: শিবাশীষ বসু

লেখক একজন মুক্তমনা ইতিহাস অন্বেষক। নিরপেক্ষ এবং বিজ্ঞানমনস্ক দৃষ্টিকোণ থেকে ঐতিহাসিক ঘটনা বিশেষত গৌরবময় উনবিংশ শতাব্দীর বিশ্লেষণে আগ্রহী।
ইতিহাসের পরিহাস ছাড়া আর কী বা বলা যেতে পারে একে! না হলে, প্রথম বাংলা সংবাদপত্রের নাম হিসেবে ইতিহাস বইতে জন মার্শম্যান সম্পাদিত ‘সমাচার দর্পণ’-এর নাম জ্বলজ্বল করতে থাকে আর গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য হারিয়ে যান বিস্মৃতির অন্ধকারে৷ গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যর প্রকাশিত পত্রিকার নামও সকলে ভুলে গেছেন। ইতিহাস বলে যে, ১৭৮০ সাধারণাব্দের ২৯ জানুয়ারি জেমস আগস্টাস হিকি (James Augustus Hicky) প্রকাশিত ‘দি বেঙ্গল গেজেট’-ই হচ্ছে ভারতবর্ষে প্রচলিত প্রথম সংবাদপত্র। তবে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের বহু পূর্বে মুঘল যুগে এক বিশেষ ধরনের হাতে লেখা সংবাদপত্র প্রচলিত ছিল। বাদশার দরবারের প্রত্যেক আমির-ওমরাহ, প্রাদেশিক শাসন-কর্তা এবং করদ-রাজার একজন করে বিশেষ কর্মচারী থাকতেন যারা নিয়মিতভাবে, অন্ততঃ প্রতিমাসে একবার করে, রাজধানীতে এবং অন্যান্য প্রদেশে যে-সকল আশ্চর্য অথবা বিশেষ বিশেষ ঘটনা সাম্প্রতিককালে ঘটেছে, তাদের সংক্ষিপ্ত বিবরণী নিজেদের প্রভুর কাছে লিখে পাঠাতেন।
১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর ভোর বেলা জার্মান সেনাবাহিনীর পোলিশ সীমান্ত অতিক্রম করবার মধ্যে দিয়ে সরকারিভাবে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সূচনা হয়। ওই বছরের আগস্ট থেকে নভেম্বর—এই কয়েক মাসে বিশ্বরাজনীতির মঞ্চে কয়েকটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে। • ২৩ আগস্ট বলশেভিক সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং নাৎসি জার্মানি—মতাদর্শগত দুটি সম্পূর্ণ পরস্পরবিরোধী শক্তি অনাক্রমণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করল। • পরের ঘটনাটি আরও চমকপ্রদ। ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি পোল্যান্ড আক্রমণ করবার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে সোভিয়েত ইউনিয়ন তাদের সীমান্ত বরাবর পোল্যান্ড আক্রমণ করে প্রায় অর্ধেক এলাকা দখল করে নেয়। • এবং মাসখানেক পরে ৩০ নভেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়ন ফিনল্যান্ড আক্রমণ করল।
১৯৩৫ সাল। ফ্যাসিবাদী ইতালির এবং নাৎসি জার্মানির রণহুঙ্কার যেন তখন কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে। কিছুদিন আগেই ১৯৩৪ সালের ২রা আগস্ট প্রেসিডেন্ট হিন্ডেনবার্গের মৃত্যুর পর হিটলার নিজেই প্রেসিডেন্ট ও চ্যান্সেলর উভয় পদই দখল করে নিয়েছেন এবং নিজেকে ফ্যুয়েরার হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এর মাস খানেক আগে থেকেই শুরু হয়ে গেছে ইহুদিদের উপর জার্মান নিপীড়ন। সাম্রাজ্যবাদী লক্ষ্য পূরণে মুসোলিনির প্রথম প্রয়াস হল আবিসিনিয়া দখল করা। ইতালিতে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় স্থান অনুসন্ধান, খাদ্য সংস্থান, শিল্পের জন্য কাঁচামাল সংগ্রহ, ও উৎপাদিত দ্রব্য সামগ্রী বিপণনের উপযুক্ত বাজার ইত্যাদির জন্য আবিসিনিয়া তথা ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা দখল করার জন্য ইতালি সচেষ্ট ছিল।