সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

প্রাক স্বাধীনতা পর্বে ভারতবর্ষের বীমা ব্যবসা এবং আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়

প্রাক স্বাধীনতা পর্বে ভারতবর্ষের বীমা ব্যবসা এবং আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়

শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়

জানুয়ারি ২৪, ২০২৬ ১২৩ 0

(এক)

১৯৩৪ সালের ৩ এপ্রিল, লাহোরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘ইন্ডিয়ান ইন্স্যুরেন্স কনফারেন্স’ বা ‘ভারতীয় বীমা সম্মেলন’। সম্মেলনের সভাপতি এক প্রসিদ্ধ রসায়নবিদ, ভারতবর্ষের আধুনিক রসায়নচর্চার পথিকৃৎ আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়। সভাপতির ভাষণে তিনি বললেন, ভারতবর্ষে বীমা ব্যবসার অন্তরায় কী, কীভাবে বীমা ব্যবসায় আরও উন্নতি করা সম্ভব, দেশীয় শিল্পের প্রসারে বীমা কোম্পানিগুলো কীভাবে এগিয়ে আসতে পারে—এইসব নানা কথা।

আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় জন্মেছিলেন ১৮৬১ সালের ২ আগস্ট। ওই একই বছরে জন্মেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও। আচার্য প্রফুল্লচন্দ্রর রসায়নবিদ্যার চর্চা, বাঙালিকে ব্যবসামুখী করবার প্রচেষ্টার কথা হয়তো অনেকেই জানেন, তবে বীমা ব্যবসায় তাঁর আগ্রহ ও উৎসাহের কথা তেমনভাবে আলোচিত হয়নি।

প্রফুল্লচন্দ্র বাঙালিকে স্বনির্ভর করার জন্য সারাজীবন চেষ্টা চালিয়ে গেছেন; গৎবাঁধা সরকারি চাকরি কিংবা আইন ব্যবসার প্রতি বাঙালির তীব্র মোহকে তিনি সমালোচনা করেছেন। তিনি চেয়েছিলেন বাঙালি ব্যবসা করে যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে—বাংলার বিভিন্ন শিল্পের সঙ্গে তিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগাযোগ রেখেছিলেন। আজ থেকে বহুদিন আগে তিনি বুঝেছিলেন শুধু কৃষির উপর দাঁড়িয়ে আর চরকা চালিয়ে সমাজের আর্থসামাজিক উন্নয়ন সম্ভব নয়, শিল্প স্থাপন অত্যন্ত জরুরি।

প্রায় একক চেষ্টায় তৈরি করেছিলেন ‘বেঙ্গল কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস’। সমবায় আন্দোলন, খাদি ও গ্রামোদ্যোগ কর্মসূচি, বেঙ্গল সল্ট কোম্পানি, বেঙ্গল সোপ ওয়ার্কস, বেঙ্গল পটারি, বেঙ্গল এনামেল, বেঙ্গল স্টিম অ্যান্ড নেভিগেশন কোম্পানি, ট্যানারি শিল্প—নানা শিল্পদ্যোগের সঙ্গে তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন।

(দুই)

বীমা শিল্পের সঙ্গে ছিল প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের নিবিড় যোগাযোগ। ‘আর্যস্থান ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি’-তে তিনি ছিলেন অন্যতম উপদেষ্টা। কলকাতার সেন্ট্রাল এভিনিউতে (বর্তমান ১৫ নং চিত্তরঞ্জন এভিনিউ) পূর্বতন ‘আর্যস্থান ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি’-র যে বাড়িটি আছে তার দেওয়ালে উৎকীর্ণ আছে, ‘This building was named Aryasthan Insurance Building by Acharya Sir P. C. Ray on 1st January, 1941.’ কলকাতা মিউনিসিপ্যাল গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে ‘আর্যস্থান ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি’-তে তাঁর ৮২তম জন্ম-জয়ন্তী পালনের ছবি। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা দরকার, এইটিই তাঁর জীবিতাবস্থায় শেষ জন্মদিন পালন।

চিত্র ১-‘আর্যস্থান ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি’-র বাড়িটিতে দেওয়ালে উৎকীর্ণ লেখা।

‘আর্যস্থান ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি’-র সঙ্গে প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের যোগাযোগের সূত্রটি পাই জ্যোতির্ময়ী গাঙ্গুলির লেখায়। জ্যোতির্ময়ী ছিলেন বাংলার প্রথম মহিলা ডাক্তার কাদম্বিনী গাঙ্গুলির কন্যা, ব্রাহ্ম বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা, পরবর্তী কালে বেথুন কলেজের অধ্যাপিকা এবং বিদ্যাসাগর বাণীভবনের অধ্যক্ষা। তিনি স্মৃতিকথায় লিখছেন,

‘I remember the day when we went to persuade him to join us in establishing a new insurance company. Rai Bahadur A. C. Banerjee, Mr. I. B. Sen, Suresh Roy and myself were there. It was his conviction that it would be both good as a business proposition as well as a kind of social service for our people that made him accept the first Presidentship of the new company. ‘

‘আমার মনে আছে সেই দিনটি যখন আমরা তাঁকে একটি নতুন বীমা কোম্পানি প্রতিষ্ঠাযর কাজে আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে রাজি করাতে গিয়েছিলাম। রায় বাহাদুর এ. সি. ব্যানার্জি, আই. বি. সেন মহাশয়, সুরেশ রায় এবং আমি সেখানে ছিলাম। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, এটি ব্যবসায়িক প্রস্তাব হিসেবে ভালো হবে এবং জনগণের মধ্যে এক ধরনের সমাজসেবা হিসেবেও কাজ করবে। এর জন্যই তিনি নতুন কোম্পানির প্রথম সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছিলেন।’

চিত্র ২-আর্যস্থান বীমা কোম্পানির কর্মীবৃন্দের সঙ্গে আচার্য।

সেই সময়টি ছিল পরাধীন ভারতবর্ষে বীমা জাতীয়করণের পূর্ববর্তী যুগ। সে সময়ে ভারতবর্ষে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বীমা কোম্পানি বীমা ব্যবসায় নিয়োজিত ছিল। প্রফুল্লচন্দ্র ‘আত্মচরিত’-এ লিখেছেন,

‘কতকগুলি দেশী-বিদেশী ইন্সিওরেন্স কোম্পানিসমূহের উপর নানারূপ বিধিনিষেধ প্রয়োগ করা হইয়াছে—উদ্দেশ্য, দেশীয় ইন্সিওরেন্স কোম্পানিগুলি যাহাতে অবৈধ প্রতিযোগিতার হস্ত হইতে নিষ্কৃতি পাইয়া উন্নতি লাভ করিতে পারে। মেক্সিকো, চিলি, ব্রাজিল, বুলগেরিয়া, পর্তুগাল, ডেনমার্ক এবং অন্যান্য কয়েকটি দেশে এইরূপ বিধিনিষেধ আছে। কিছুদিন হইল তুরস্কের কোম্পানিগুলির উন্নতি বিধানের জন্য ঐ দেশে আইন হইয়াছে। ভারতের নিকট-প্রতিবেশী ক্ষুদ্র রাজ্য শ্যামে (থাইল্যান্ড) পর্যন্ত স্বদেশী ইন্সিওরেন্স কোম্পানিগুলিকে রক্ষা করিবার জন্য আইন হইয়াছে। আত্মমর্যাদা ও স্বার্থের দিক হইতে ভারতবাসীদেরও ভারতীয় কোম্পানিসমূহেই বীমা করা উচিত।’

সেই সময় ভারতবর্ষে যে সমস্ত বড়ো বড়ো ইন্স্যুরেন্স ব্যবসা করত, তার সংখ্যা ছিল মোটামুটি ২১টি। এদের কয়েকটির নাম এখনও অনেকের কাছে বেশ পরিচিত। বোম্বে মিউচ্যুয়াল, হিন্দুস্থান কোয়াপারেটিভ, হিন্দু মিউচ্যুয়াল, ন্যাশনাল, নিউ ইন্ডিয়ান, ওরিয়েন্টাল ইন্ডিয়া ছাড়াও উল্লেখযোগ্য কোম্পানির মধ্যে ছিল এশিয়ান, ভারত, বোম্বে লাইফ কো অপারেটিভ অ্যাসুরেন্স, ইস্ট অ্যান্ড ওয়েস্ট, এম্পায়ার, জেনারেল, ইন্ডিয়ান লাইফ, আই অ্যান্ড প্রুভেন, লক্ষী, জেনিথ প্রভৃতি।

সেই সময়কার নতুন সাময়িক পত্র ‘ইন্স্যুরেন্স ওয়ার্ল্ড’ ১৯২৯-১৯৩০ সালে লিখছে,

‘একথা সুবিদিত যে, প্রতি বছর যত টাকার নূতন কাজ সমগ্র ভারতে হয়, তার প্রধান বাংলাতেই হইয়া থাকে। যে সমস্ত ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ভারতে করবার করে, তাহারা বাংলাকে প্রধান কর্মক্ষেত্ররূপে গণ্য করিয়া থাকে এবং এখানেই এজেন্সি ও শাখা অফিস প্রভৃতি স্থাপন করে। তাহাদের মধ্যে অনেক কোম্পানি বাংলাতেই তাহাদের কাজের দুই-তৃতীয়াংশ পাইয়া থাকে। ইহার দ্বারা বোঝা যায় যে, বাংলাদেশের লোকেরা বীমার তাৎপর্য অন্যান্য প্রদেশের চেয়ে ভাল বোঝে।’

বাংলা তথা ভারতবর্ষের আর্থ-সামাজিক উন্নতির জন্য প্রফুল্লচন্দ্রের আজীবন উদ্যোগ ছিল। সেই কাজের সহায়ক হিসেবেই তিনি বাঙালিকে বীমা ব্যবসার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করতে চেয়েছিলেন। জীবনবীমার মূলধন ভারতবর্ষের শিল্প ও পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগের কথা তিনি বারবার বলেছেন। আত্মচরিতে লিখছেন,

‘ “ইনভেস্টরস্ রিভিউ” এর নবপ্রকাশিত সংখ্যায় দেখা যাইবে, ইন্সিওরেন্স কোম্পানিগুলি কিভাবে কারবার চালায় এবং লাভ করে। ইন্সিওরেন্স কোম্পানিগুলির হাতে প্রভূত মূলধন থাকে এবং এই টাকার অধিকাংশ ইংল্যান্ড ও আমেরিকার রেলওয়ে, ইলেকট্রিক কোম্পানি, গ্যাস কোম্পানি, লোহা ও ইস্পাত কোম্পানি, কয়লার ব্যবসায়, জাহাজের ব্যবসায় এবং টেলিগ্রাফ কোম্পানিসমূহের কারবারে খাটানো হয়। গ্রেট ব্রিটেনে বহু জাতি গঠনমূলক কার্যে ইন্সিওরেন্স কোম্পানির ফান্ডের টাকা এইভাবে খাটানো হইয়া থাকে। ইহা একটি লাভজনক পন্থা এবং এইভাবে তাহাদের শিল্পসম্ভার বাড়াইয়াছে, শিল্প-বাণিজ্য, অর্থনীতি ব্যাপারে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করিয়াছে।’

(তিন)

Life Insurance বা জীবনবীমার জন্ম ইংল্যান্ড-এ। ভারতবর্ষে ইংল্যান্ড-এর বীমা কোম্পানি প্রথম বীমা ব্যবসা শুরু করে ১৮১৮ সালে। ঐ সময় বিদেশি বীমা কোম্পানিগুলি ভারতীয়দের যে জীবনবীমা করত তার প্রিমিয়াম হ’ত ইউরোপীয়দের তুলনায় বেশি। এ বিষয়ে তাদের যুক্তি ছিল, ভারতীয়দের জীবনযাত্রার মান ইউরোপীয়দের মতো উন্নত নয়, সুতরাং তাদের জীবনের উপর বীমা করতে গেলে কোম্পানিগুলিকে বেশি ঝুঁকি নিতে হয়। এই সময় বীমা কোম্পানিগুলিকে নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো সরকারি বিধিনিষেধ ছিল না। ফলে ধনী ব্যক্তিরা বীমা ব্যবসা শুরু করতেন এবং বীমার প্রিমিয়াম থেকে প্রাপ্ত টাকা অন্য ব্যক্তিগত ব্যবসায় নিয়োগ করে প্রভূত লাভ করতেন। উল্টোটাও যে ঘটত না এমন নয়; বহু বীমাক্রেতা বীমা কোম্পানিতে টাকা রেখে সর্বস্বান্ত হতেন। নিজেদের গচ্ছিত প্রিমিয়ামের টাকা তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে বীমাক্রেতারা কোনো এক দুঃস্বপ্নের সকালে জানতে পারতেন, যে বীমা কোম্পানিতে তাঁর টাকা গচ্ছিত আছে সেটি নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করে বীমা বাজার থেকে বিলুপ্ত হয়েছে।

এই সময়ের প্রেক্ষিতে কিছু কথা এসে পড়বে। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলন কেবল রাজনৈতিক স্বাধীনতা লাভের জন্য ছিল না, অর্থনৈতিক স্বাধীনতাও ছিল সমান গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ এবং শাসকেরা ১৮৪০ এর দশক থেকেই এই মতে স্থিত ছিলেন যে, ভারতবর্ষের উন্নয়ন কেবলমাত্র বিদেশি পুঁজির মাধ্যমেই করা সম্ভব। ১৯৩০ এর দশকে এসে কংগ্রেস নেতৃত্বের পক্ষে দাদাভাই নৌরজি, বালগঙ্গাধর তিলক, জওহরলাল নেহরু প্রভৃতি নেতা দেশের শিল্প উন্নয়নে বিকল্প চিন্তাধারা উপস্থাপিত করেন। ১৯৩৮ সালে সুভাষচন্দ্র বসু কংগ্রেস সভাপতি হন এবং তিনি নেহরুকে চেয়ারম্যান করে ন্যাশনাল প্ল্যানিং কমিটি গঠন করেন। এইসব ঘটনার প্রেক্ষিতে বীমাকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত করার উদ্দেশ্যে ১৯৩৮ সালে তৈরি হয় Insurance Act, 1938; এই আইনে বীমাকারী, বীমা কোম্পানি এবং তাদের মূলধনের বিনিয়োগের বিষয়গুলি আইন করে বেঁধে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কোম্পানিগুলি তাদের মূলধনের ন্যুনতম ২৫ শতাংশ সরকারি কোষাগারে জমা রাখতে বাধ্য থাকবে এই  বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়।

(চার)

১৯৩৯ সালে ‘Insurance World’ পত্রিকার জানুয়ারি সংখ্যায় প্রকাশিত হ’ল প্রফুল্ল চন্দ্রের লেখা প্রবন্ধ ‘Insurance Companies and Development of National Industries’; তিনি যা লিখলেন তার বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায়,

কোনো জাতির অর্থনৈতিক উন্নতি নির্ভর করে তার আর্থ-সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে সাযুজ্য আছে কিনা তার উপরে। ভারসাম্যহীন অর্থনীতি জাতির কল্যাণের পথে অন্তরায়। দেশের আর্থ-সামাজিক বিষয়গুলি যদি অর্থনৈতিক পরিকাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে একে অন্যের পরিপূরক হয়ে উঠতে পারে তবেই জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নতির পথ প্রসারিত হতে পারে।

বীমা ব্যবসার ক্ষেত্রে বীমাকারীদের গচ্ছিত অর্থ সুরক্ষিত রাখা যেমন বীমা কোম্পানিগুলির প্রাথমিক কাজ, তেমন আমাদের মতো দেশে, যেখানে আধুনিক শিল্প স্থাপনের বিষয়টি এখনও জন্মলগ্নে রয়েছে বা সবে শুরু হয়েছে, সেখানে শিল্প স্থাপনে অর্থ বিনিয়োগ করাও বীমা কোম্পানিগুলির দায়বদ্ধতার মধ্যে পড়ে।

এই প্রবন্ধের অন্যত্র লিখলেন,

এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই বীমাকারীদের গচ্ছিত অর্থের সুরক্ষার প্রশ্নে সরকারি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ যুক্তিপূর্ণ, কিন্তু এই বিনিয়োগই বীমা কোম্পানিগুলির একমাত্র কাজ—এমনটা হতে পারে না।

(পাঁচ)

বীমা কোম্পানিগুলি দেশীয় শিল্প বিকাশে মূলধন বিনিয়োগ করবে—প্রফুল্লচন্দ্রের এই আশা তাঁর জীবদ্দশায় পূরণ হয়নি; ১৯৩৮-এ আইন প্রণয়ন হওয়ার পরও দেশি-বিদেশি নানা বীমা কোম্পানির অসাধু ব্যবসায়িক ক্রিয়াকলাপ পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। ভারতবর্ষ স্বাধীন হওয়ার পর সংবিধান রচনার জন্য ড. বাবাসাহেব আম্বেদকরকে সভাপতি করে ‘কনস্টিটুয়েন্ট অ্যাসেম্বলি’ গঠিত হয়। তাঁদের সুপারিশ ছিল ‘Insurance sector should be nationalised and managed by the state’, অর্থাৎ ভারতবর্ষের বীমাক্ষেত্র জাতীয়করণ করা উচিত এবং এর নিয়ন্ত্রণ থাকবে রাষ্টের হাতে।

১৯৫৬ সাল। তখনও ভারতবর্ষের জীবনবীমা ক্ষেত্রে দু’শরও বেশি ছোটো-বড়ো কোম্পানি জীবনবীমা ব্যবসায় লিপ্ত ছিল। বীমাশিল্পকে দেশের অর্থনৈতিক বিকাশের কাজে লাগানোর জন্য এবং অসাধু বীমা ব্যবসায়ীদের ক্রিয়াকলাপ বন্ধ করে বীমাক্রেতাদের স্বার্থ সুরক্ষিত করার উদ্দেশ্যে ১৯৫৬ সালে তৎকালীন ভারত সরকার ১৯ জানুয়ারি মধ্যরাত্রে এক অধ্যাদেশ বলে (ordinance) ২৪৫টি জীবনবীমা কোম্পানিকে জাতীয়কৃত করে এবং গঠিত হয় ‘ভারতীয় জীবনবীমা নিগম’।

প্রফুল্লচন্দ্রের আশা পূরণ হয়েছে জীবনবীমা শিল্প জাতীয়করণের পরে। বিভিন্ন পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় এবং দেশের পরিকাঠামো উন্নয়নে ভারতীয় জীবনবীমা নিগম ভারত সরকারকে ১৯৫৬ সাল পরবর্তী সময় থেকে বিগত অর্ধ শতকেরও বেশি সময় ধরে প্রভূত পুঁজি সরবরাহ করে চলেছে। 

সাহায্যকারী সূত্র:

১. আত্মচরিত, প্রফুল্লচন্দ্র রায়, দে’জ পাবলিশিং

২. স্মৃতি সত্তায় আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র সম্মিলনী

৩. আজকের ভারত ও স্বনির্ভরতা, পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ ও ফসেট

বিজ্ঞান আন্দোলনের কর্মী ও বিজ্ঞান লেখক। উল্লেখযোগ্য সম্পাদিত বই: প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের প্রবন্ধ সংগ্রহ, স্মৃতি - সত্তায় আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র, প্রফুল্লচন্দ্র রায় : একটি সংক্ষিপ্ত পরিক্রমা, বিজ্ঞান বিস্ময়, নানা চোখে বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু, প্রবাসীর প্রফুল্লচন্দ্র ইত্যাদি

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।