স্বাধীনতার আগে জওহরলাল নেহরু ১৯৪৬ সালে তাঁর ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়া বইতে সায়েন্টিফিক টেম্পার বা বিজ্ঞান মনস্কতার কথা লিখেছিলেন। স্বাধীনতার পর প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জওহরলাল ভারতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশে বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গড়ে তোলার বিষয়ে উৎসাহী ছিলেন। নেহরু তাঁর বইতে লিখেছিলেন, ‘দেশের আপামর জনসাধারণের জন্য বিজ্ঞানের প্রয়োগ আজ আবশ্যিক, একে এড়িয়ে যাবার কোনো উপায় নেই, কিন্তু প্রয়োগের পর আরও কিছু করা দরকার—তা হল বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারা গড়ে তোলা, দুঃসাহসী জটিল বৈজ্ঞানিক মেজাজ, সত্য ও জ্ঞানের জন্য অনুসন্ধান; কোনো কিছু পরখ, যাচাই না করে গ্রহণ না করা এবং নতুন প্রমাণ সামনে এলে পুরানো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার তৎপরতা; আগে থেকে ঠিক করা ধারণার উপর নয়, পর্যবেক্ষণলব্ধ সত্যের উপর আস্থা, মনের কঠোর শৃঙ্খলা—এসবই আজ প্রয়োজন। শুধু বিজ্ঞানের প্রয়োগের জন্য নয়, জীবনের জন্যও এবং তার সমস্যা সমাধানের জন্যও। বৈজ্ঞানিক মেজাজ ও দৃষ্টিভঙ্গি এক জীবনশৈলী, চিন্তা প্রক্রিয়া, কার্যধারা এবং সহ-নাগরিকদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার পদ্ধতি হওয়া উচিত। বিজ্ঞানমনস্কতা যে পথ তৈরি করে সেই পথ দিয়ে মানুষের হাঁটা দরকার। বিজ্ঞান কেবল ইতিবাচক জ্ঞানের চর্চা করে, কিন্তু বিজ্ঞানমনস্কতা যে প্রভাব তৈরি করে তা পাশফেলের চেয়ে অনেক সুদূরপ্রসারী।’