সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

পুরনো সম্পাদকীয়

আমরা এড়িয়ে যাই। আমরা যুদ্ধের কথা, সংঘাতের কথা শুনতে চাই না, দেখতে চাই না, বলতে তো মোটেই চাই না। তবুও আমাদের এড়িয়ে যাওয়া জগতে যুদ্ধ ও সংঘর্ষে মৃত্যু বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি সুইডেন-এর উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক সংঘাত ঘটেছে ২০২৫ সালে। এখনও পর্যন্ত। ১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডার গণহত্যার পর থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে গত বছরে। অনেকের হয়তো খেয়ালে আছে, নব্বইয়ের দশকে রুয়ান্ডায় হুতু চরমপন্থীরা জাতিগত সংঘাতে সংখ্যালঘু টুটসি সম্প্রদায় ও মধ্যপন্থী হুটুদের নির্বিচার হত্যা করেছিল; তারা মাত্র ১০০ দিনে ৮ লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল।
বাংলায় নিদাঘের এই মাসগুলিতেই আসে পঁচিশে বৈশাখ আর এগারই জ্যৈষ্ঠ আর প্রত্যেক বার নতুন করে ভাবায় বাংলার গানের দীর্ঘ ঐতিহ্যের কথা। অন্ত-মধ্যযুগ থেকে যে ভূখণ্ড বাঙ্গালা বা পরে বাংলা নামে পরিচিত, সেই নদীবিধৌত ভূখণ্ডের অধিবাসীরা প্রাগিতিহাস ও ইতিহাসের প্রাচীন কালপর্বে কোন ভাষায়, কোন ভাবনাকে গানের সুরে প্রকাশ করতেন তা আমরা নিশ্চিতভাবে জানি না, কিন্তু অনুমান করা যায়, আজও বাংলার জনমানস থেকে সেই সুর আর ভাবনার আবেশ লুপ্ত হয়নি। শুধু বাংলা ভাষা নয়, বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ ও ত্রিপুরার বিভিন্ন প্রান্তের জনজাতীয় অধিবাসীদের সব মাতৃভাষার সঙ্গীত ঐতিহ্যও বাংলার সেই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অঙ্গীভূত। বাংলার সঙ্গীতের ইতিহাস নিয়ে এক শতকের বেশি সময় ধরে যথেষ্ট গবেষণা হলেও, বাংলার সঙ্গীতের এই সামগ্রিক রূপটি আজও অধিকাংশ মানুষের কাছে অধরা।
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন সমাগত। এই ফাঁকে ব্রিটিশ ভারতে নির্বাচনী ব্যবস্থার শুরুর দিনগুলির ইতিহাস নিয়ে একটু আলোচনা করলে মন্দ হবে না। ১৯২০ সালে ব্রিটিশ আমলে সারা দেশে প্রথম প্রাদেশিক আইনসভার নির্বাচন হয়৷ তখন নির্বাচনী ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত জটিল। নির্বাচনে ভোটার হিসেবে যোগ্যতা অর্জনের জন্য ব্যক্তিকে সম্পত্তির বা জমির মালিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা অথবা আয়কর বা পৌরকর দেবার প্রমাণপত্র থাকতে হত। ফলে এই ব্যবস্থাতে মূলত ধনী, পশ্চিমা-শিক্ষিত ভারতীয়দেরই ভোট দেওয়ার অধিকার থাকত। নারীদের ভোট দানের অধিকার খুবই সংকুচিত ছিল। আজকের সর্বজনীন ভোটাধিকারের তুলনায় তখনকার ভোটাধিকার ছিল সীমিত সংখ্যক মানুষের—জনসংখ্যার ১০ শতাংশেরও কম মানুষ ভোট দিতে পারতেন।