সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

পুরনো সম্পাদকীয়

১৩৩২ বঙ্গাব্দের কার্তিক সংখ্যার ‘প্রবাসী’তে বিবিধ প্রসঙ্গ বিভাগে 'নারীরক্ষা সমিতি' শিরোনামে একটি আবেদন প্রকাশিত হয়। ‘বঙ্গের নানা জেলায়, বিশেষত উত্তর ও পূর্ববঙ্গে, দুর্বৃত্ত লোকেরা অনেক স্থলে নারীদের উপর অবাধে অত্যাচার করে। লাঞ্ছিতা অনেক নারী ও তাঁহাদের আত্মীয়-স্বজনগণ অনেক সময় পাতিত্যের ভয়ে কিংবা দুর্বৃত্তদের প্রতিহিংসার ভয়ে অত্যাচারের কথা প্রকাশ করে না। অনেক সময় স্থানীয় পুলিশের শৈথিল্যে বা উৎকোচগ্রাহিতার জন্য, কিংবা অত্যাচারিতাদের মোকদ্দমা চালাইবার মত টাকা না থাকায়, দুর্বৃত্তরা দণ্ড পায় না। অন্যদিকে, কয়েকটি মোকদ্দমায়, যেমন বরদাসুন্দরী ও সুহাসিনীর মোকদ্দমায়, দেখা গিয়াছে যে, অত্যাচারিতদের অভিযোগের বিরুদ্ধে মোকদ্দমা চলাইবার জন্য টাকার অভাব হয় না।
আগস্ট মাস ভারতের স্বাধীনতার মাস, সেই মাসের শুরুতেই স্বাধীনতার প্রায় আট দশক বাদে এমন একটি বিষয় নিয়ে লিখতে হচ্ছে যা আদৌ আশাপ্রদ নয়। ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষা সংস্থা এনসিইআরটি কিছুদিন আগে আরও একটি সমাজবিজ্ঞানের নতুন পাঠ্যপুস্তক প্রকাশ করেছেন, অষ্টম শ্রেণির জন্য লেখা এবারকার বইটির নাম ‘এক্সপ্লোরিং সোসাইটি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড’। বইটিতে উল্লিখিত তথ্যের সত্যি মিথ্যে নিয়ে বিদ্বান মহলে ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে, বাংলায় বর্গী হামলার ইতিহাস কেন বাদ দেওয়া হল, বা আহোমদের আদি বাসস্থান ঠিক লেখা হয়েছে কিনা এই সব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ সবের চাইতে অনেক বেশি চিন্তাজনক ভারতের মধ্যযুগের ইতিহাস সম্পর্কে একটি বিশেষ ধারণা কিশোরদের মনে গেঁথে দেওয়ার প্রয়াস এই বইটিতে প্রতিফলিত হয়েছে।
পৃথিবীর প্রত্যেক জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতির ইতিহাস অনুসন্ধান করলে ভৌগোলিক ও সামাজিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে একটি বিশিষ্ট খাদ্যাভ্যাসের ধারা লক্ষ করা যাবে। বিগত কয়েক হাজার বছর ধরে বাংলার অধিবাসীদেরও মধ্যেও এমন এক বিশিষ্ট খাদ্যাভ্যাস গড়ে উঠেছে, যার সঙ্গে উপমহাদেশের বাকি অংশের সঙ্গে মিল থাকলেও অপ্রতিমতাও লক্ষণীয়। পাহাড় থেকে সাগর, নদী আর হাওর দিয়ে ঘেরা বাংলার সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত খাবারের মধ্যে যেমন আছে বহুবিধ মাছ, মাংস, শাক, সব্জির সমারোহ, তেমনই আছে মিষ্টান্নের অভিনবত্ব। বাংলার জনমানসের সৃষ্টিশীলতা প্রতিফলিত হয়েছে বাংলার মিষ্টিতে; শিল্পীর হাতের ছোঁয়া আর বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে বাংলার মিষ্টির নান্দনিকতা ও ঔৎকর্ষ আজ সারা দক্ষিণ এশিয়ায় সমাদৃত, বিশ্বে প্রতিভাত। দীর্ঘদিন ধরে বাংলার কারিগরদের যে অনলস মেহনত ও বুদ্ধিদীপ্ত আবিষ্কারের ফলে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে, সেই ইতিহাস নিয়ে বিদ্বৎসমাজে এখনও পর্যন্ত খুব কমই চর্চা হয়েছে। বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এই দিকটি নিয়ে এখনও বিশেষ গবেষণার সন্ধান পাওয়া যায়নি।