সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

পুরনো সম্পাদকীয়

বাঙালির প্রবল ভ্রমণ পিপাসার কথা বোধ হয় সারা ভারতের সব রাজ্যের অধিবাসীদের কাছেই সুবিদিত। শুধুমাত্র আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবার নয়, অনেক স্বল্পবিত্ত বাঙালি পরিবারের নিজেদের সাধ্যাতীত ব্যয় করেও ভ্রমণ করার দৃশ্য বিরল নয়। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের জনপ্রিয় পর্যটন স্থলগুলিতে, বিশেষত ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থলগুলিতে গেলে বাংলা ভাষায় কথোপকথন না শুনতে পাওয়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু বাংলার ভৌগোলিক সীমার মধ্যে অবস্থিত ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলিকে যখন অনাদর আর অবহেলার মধ্যে পড়ে থাকতে দেখা যায়, তখন এক অদ্ভুত বৈপরীত্য অনুভূত হয়। সাগর থেকে পাহাড়, বাংলার দীর্ঘ ইতিহাসের অনেক সাক্ষী আজ জরাজীর্ণ চেহারা নিয়ে টিকে রয়েছে, প্রতিনিয়ত মুছে যাচ্ছে লোকচক্ষু থেকে। বাংলার মানুষের দেখার আগ্রহ আর জানার কৌতূহলের অভাবের কারণে বাংলার বহু অভাবনীয় পুরাকীর্তি, অনেক অসামান্য প্রত্নসম্পদ আজ বিস্মৃতির অন্তরালে চলে গেছে।
১৩৩২ বঙ্গাব্দের কার্তিক সংখ্যার ‘প্রবাসী’তে বিবিধ প্রসঙ্গ বিভাগে 'নারীরক্ষা সমিতি' শিরোনামে একটি আবেদন প্রকাশিত হয়। ‘বঙ্গের নানা জেলায়, বিশেষত উত্তর ও পূর্ববঙ্গে, দুর্বৃত্ত লোকেরা অনেক স্থলে নারীদের উপর অবাধে অত্যাচার করে। লাঞ্ছিতা অনেক নারী ও তাঁহাদের আত্মীয়-স্বজনগণ অনেক সময় পাতিত্যের ভয়ে কিংবা দুর্বৃত্তদের প্রতিহিংসার ভয়ে অত্যাচারের কথা প্রকাশ করে না। অনেক সময় স্থানীয় পুলিশের শৈথিল্যে বা উৎকোচগ্রাহিতার জন্য, কিংবা অত্যাচারিতাদের মোকদ্দমা চালাইবার মত টাকা না থাকায়, দুর্বৃত্তরা দণ্ড পায় না। অন্যদিকে, কয়েকটি মোকদ্দমায়, যেমন বরদাসুন্দরী ও সুহাসিনীর মোকদ্দমায়, দেখা গিয়াছে যে, অত্যাচারিতদের অভিযোগের বিরুদ্ধে মোকদ্দমা চলাইবার জন্য টাকার অভাব হয় না।
আগস্ট মাস ভারতের স্বাধীনতার মাস, সেই মাসের শুরুতেই স্বাধীনতার প্রায় আট দশক বাদে এমন একটি বিষয় নিয়ে লিখতে হচ্ছে যা আদৌ আশাপ্রদ নয়। ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষা সংস্থা এনসিইআরটি কিছুদিন আগে আরও একটি সমাজবিজ্ঞানের নতুন পাঠ্যপুস্তক প্রকাশ করেছেন, অষ্টম শ্রেণির জন্য লেখা এবারকার বইটির নাম ‘এক্সপ্লোরিং সোসাইটি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড’। বইটিতে উল্লিখিত তথ্যের সত্যি মিথ্যে নিয়ে বিদ্বান মহলে ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে, বাংলায় বর্গী হামলার ইতিহাস কেন বাদ দেওয়া হল, বা আহোমদের আদি বাসস্থান ঠিক লেখা হয়েছে কিনা এই সব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ সবের চাইতে অনেক বেশি চিন্তাজনক ভারতের মধ্যযুগের ইতিহাস সম্পর্কে একটি বিশেষ ধারণা কিশোরদের মনে গেঁথে দেওয়ার প্রয়াস এই বইটিতে প্রতিফলিত হয়েছে।