বাংলা সংবাদপত্রের আদি প্রকাশক – গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
(এক)
ইতিহাসের পরিহাস ছাড়া আর কী বা বলা যেতে পারে একে! না হলে, প্রথম বাংলা সংবাদপত্রের নাম হিসেবে ইতিহাস বইতে জন মার্শম্যান সম্পাদিত ‘সমাচার দর্পণ’-এর নাম জ্বলজ্বল করতে থাকে আর গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য হারিয়ে যান বিস্মৃতির অন্ধকারে৷ গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যর প্রকাশিত পত্রিকার নামও সকলে ভুলে গেছেন।
ইতিহাস বলে যে, ১৭৮০ সাধারণাব্দের ২৯ জানুয়ারি জেমস আগস্টাস হিকি (James Augustus Hicky) প্রকাশিত ‘দি বেঙ্গল গেজেট’-ই হচ্ছে ভারতবর্ষে প্রচলিত প্রথম সংবাদপত্র। তবে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের বহু পূর্বে মুঘল যুগে এক বিশেষ ধরনের হাতে লেখা সংবাদপত্র প্রচলিত ছিল। বাদশার দরবারের প্রত্যেক আমির-ওমরাহ, প্রাদেশিক শাসন-কর্তা এবং করদ-রাজার একজন করে বিশেষ কর্মচারী থাকতেন যারা নিয়মিতভাবে, অন্ততঃ প্রতিমাসে একবার করে, রাজধানীতে এবং অন্যান্য প্রদেশে যে-সকল আশ্চর্য অথবা বিশেষ বিশেষ ঘটনা সাম্প্রতিককালে ঘটেছে, তাদের সংক্ষিপ্ত বিবরণী নিজেদের প্রভুর কাছে লিখে পাঠাতেন।
‘এই সব সংবাদপূর্ণ পত্রের নাম ছিল ‘আখবার’ বা ‘আখবারাৎ’।’১
অবশ্য সেইসব সংবাদপত্রের একমাত্র পাঠক ছিলেন উচ্চপদস্থ রাজ-কর্মচারীরাই; আমজনতা তো ছার, শিক্ষিত সম্প্রদায়ের পক্ষেও তা দেখবার বা পড়বার কোনোরকম সুযোগ ছিল না। স্পষ্টতই, সংবাদপূর্ণ হলেও এই পত্রগুলি আজকালকার সুপরিচিত রাজনৈতিক সংবাদপত্রের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। পরবর্তীকালের প্রথাগত সংবাদপত্রের সঙ্গে এগুলির আর একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হল যে, আখবারাৎ-এ শুধুমাত্র ঘটনাবলীর উল্লেখ থাকত—রাজনৈতিক মন্তব্য, বিশ্লেষণ অথবা শাসন-ব্যবস্থা সম্বন্ধে সমালোচনার কোনো অবকাশ এগুলির মধ্যে আদৌ ছিল না। মুঘল যুগের আগে অবশ্য সেটুকুও ছিল না, শিলালিপি কিংবা তাম্রলিপিতে খোদিত থাকত রাজা-মহারাজাদের কীর্তি অথবা গ্রাম বা শহরের বাজারে ঢেঁড়া পিটিয়ে রাজা বা পরবর্তীকালে সুলতানের প্রতিনিধিরা রাজকীয় আদেশ জানাতেন।
প্রাচীন ভারতবর্ষে তালপাতা ও ভূর্জপত্রতে লেখা হত, সুলতানি ও মোগল আমলে এ দেশে কাগজের ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তুর্কি ও আফগান শাসনামল থেকেই মূলত চীন থেকে মধ্য এশিয়া হয়ে ভারতে কাগজ তৈরির প্রযুক্তি ও কাগজের ব্যবহার ছড়িয়ে পড়ে। আর আধুনিক যুগে ইউরোপীয়রা আমাদের দিল মুদ্রণযন্ত্র।
ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম মুদ্রণযন্ত্র তথা ছাপাখানার প্রবর্তক পর্তুগিজরা; ১৫৫৬ সালের ৩০ এপ্রিল, গোয়াতে। ওখান থেকেই ১৫৬১ সালে এদেশে প্রথম যে বইটি ছাপা হয় তা হল পর্তুগীজ ভাষায়, নাম—‘কম্পেনডিও স্পিরিচুয়াল দা ভিডা খ্রিষ্টা’। কিন্তু বাংলাদেশ তখনও এই ব্যাপারে পিছিয়ে। ব্রিটিশ বণিকরা কলকাতাতে এসে বসতি স্থাপন করল ১৬৯০ সালে। দেশের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের বা দেশের কোনো সংবাদ পাওয়ার মাধ্যম সেদিন ছিল না। বিলেত থেকে জাহাজে করে চার-পাঁচ মাসের পুরানো খবরের কাগজ বাণ্ডিল হয়ে আসতো—তাই পেয়েই সেদিন তারা উচ্ছ্বসিত হত।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দেওয়ানি (১৭৬৫) পাওয়ার তিন বছর পরে ১৭৬৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতার কাউন্সিল হাউসের দরজায় এবং বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে হাতে লেখা একটি বিজ্ঞপ্তি সাঁটানো হয়েছিল; যাতে লেখা ছিল—মিঃ বোল্টস সর্বসাধারণকে এই মর্মে অবহিত করছেন যে, এই শহরে কোনো মুদ্রণযন্ত্র না থাকায় ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে যেমন অসুবিধা হচ্ছে, তেমনি প্রতিটি ব্রিটিশ প্রজার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা সংবাদ জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই তিনি এমন কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের আর্থিকভাবে সহায়তা করতে প্রস্তুত যারা মুদ্রণকাজে অভিজ্ঞ এবং ছাপাখানা পরিচালনায় সক্ষম; তিনি নিজেই এর জন্য প্রয়োজনীয় টাইপ ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করবেন। ব্রিটিশ চিকিৎসক ও ইতিহাসবিদ হেনরি বাসটিড লিখেছেন—
‘We look back now with surprise and amusement at this primitive method of public advertisement in a city, then so rapidly striding into importance, that in six years it will be the seat of a Governor-General and Council and of a Supreme Court of Judicature. Yet for over eleven years more did the want, thus so publicly demonstrated by Bolts, remain unprovided for, and not till 1780 did the first city in Asia possess a medium which combined the object of conveying public intelligence in print, with that of promulgating the ordinary business or social wants of its European inhabitants.’২
‘যে শহরটি তখন দ্রুত গুরুত্ব সহকারে এগিয়ে চলেছিল—এবং মাত্র ছয় বছরের মধ্যেই যা গভর্নর-জেনারেল ও তাঁর পরিষদ এবং সুপ্রিম কোর্টের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হতে যাচ্ছিল—সেই শহরে জন-বিজ্ঞাপনের এমন আদিম পদ্ধতির কথা আজ আমরা বিস্ময় ও কৌতুকের সঙ্গে স্মরণ করি। অথচ বোল্টস কর্তৃক জনসমক্ষে তুলে ধরা সেই অভাবটি আরও এগারো বছরেরও বেশি সময় ধরে অপূর্ণই থেকে গিয়েছিল; এবং ১৭৮০ সালের আগে এশিয়ার এই প্রধান শহরটিতে এমন কোনো মাধ্যম গড়ে ওঠেনি যা একই সঙ্গে মুদ্রিত আকারে জনগুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রচার এবং ইউরোপীয় বাসিন্দাদের প্রাত্যহিক ব্যবসায়িক বা সামাজিক প্রয়োজনের কাজ সম্পন্ন করতে পারত।’
তাহলে বাংলার প্রথম ছাপাখানা কোনটি? এই প্রশ্নের উত্তর নিয়েও বিস্তর মতভেদ আছে। অনেকে বলেন, প্রথম মুদ্রণযন্ত্র স্থাপিত হয়েছিল হুগলিতে ১৭৭৮ সালে, জন অ্যানড্রুজ সাহেবের প্রচেষ্টায়। ঐতিহাসিক এই ছাপাখানাটি ‘অ্যানড্রুজ প্রেস’ নামে পরিচিত। আবার ভিন্নমতে হুগলিতে ১৭৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত নাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড প্রতিষ্ঠিত ছাপাখানাই আদিতম। তবে দুটোই যে খুব কাছাকাছি সময় প্রতিষ্ঠিত, তা বলা যায়। ১৭৭৯ সালের মধ্যেই কলকাতায় একের পর এক ইংরেজি ভাষার প্রেস গড়ে ওঠে—যেমন ক্রনিকল প্রেস, পোস্ট প্রেস, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ছাপাখানা, ফেরিস এন্ড কোম্পানি প্রেস ইত্যাদি।
তাহলে ব্যাপারটা দেখা যাচ্ছে যে, উত্তর-উপনিবেশবাদী ইতিহাস চর্চাকারীরা স্বীকার করুন বা না-ই করুন, বর্তমানে সংবাদপত্র বলতে আমরা যা বুঝি, তা পাশ্চাত্যের দান; ব্রিটিশ-যুগের ভারতেই তার অভ্যুদয়। এর পূর্বে সাধারণের মানুষের পক্ষে দেশে বা বিদেশে কি ঘটছে না-ঘটছে সেইসব সংবাদ সংগৃহীত হলেও, মুদ্রণযন্ত্রের অভাবে তা মাঠে মারা যেত, প্রচার করবার কোনো উপায়ও ছিল না।
(দুই)
২৯ জানুয়ারি ১৭৮০, হিকি সাহেবের ‘বেঙ্গল গেজেট’ প্রকাশের অব্যবহিত পরেই হিকির পদাঙ্ক অনুসরণ করে কলকাতায় একের পর এক ইংরেজি সংবাদপত্র প্রকাশিত হতে থাকে। আঠারো শতকের শেষ ভাগে এবং উনিশ শতকের গোড়ায় একাধিক ইংরেজি পত্রিকা প্রকাশিত হয়; বস্তুতঃ, ১৭৮০ থেকে ১৮১৮ সাল পর্যন্ত কলকাতায় নয় খানি ইংরাজি সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়েছিল। এদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, ‘ইন্ডিয়া গেজেট’ (১৭৮০), ‘বেঙ্গল জার্নাল’ (১৭৮৫), ‘দি ক্যালকাটা ক্রনিকল’ (১৭৮৬), ‘বেঙ্গল হরকরা’ (১৭৯৮), ‘দি ফ্রেন্ড অফ ইন্ডিয়া’ (১৮১৮) এবং ‘দি ক্যালকাটা জার্নাল’ (১৮১৮)।
তবে একটা কথা মনে রাখতে হবে, কলকাতায় ইউরোপীয় পরিচালিত ইংরাজি সংবাদপত্রগুলি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে যতই সরব থাকুক না কেন, আসলে অধিকাংশ সংবাদপত্রেরই ব্রিটিশদের শ্রেণিস্বার্থ এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের বিরুদ্ধে যাওয়া মোটেই অভিপ্রেত ছিল না। ‘দি ক্যালকাটা জার্নাল’ এই সংবাদপত্রগুলি সম্পর্কে যথার্থই বলেছে
‘… with the exception of two or three most, of these journals are found however to have no sentiment, either of the public or of their own, on the leading features of the times,’৩
শ্রেষ্ঠ দু-একটি বাদে, এই পত্রিকাগুলোর মধ্যে সমকালের প্রধান বিষয়গুলি নিয়ে জনমত কিংবা তাদের নিজস্ব মনোভাব—কোনোটিরই প্রতিফলন দেখা যায় না।
১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে শ্রীরামপুরের ব্যাপটিস্ট মিশন থেকে ‘দিগদর্শন’ নামে বাংলায় একখানি মাসিকপত্র প্রকাশিত হল। এতে কিছু সংবাদ পরিবেশিত হলেও আজকের দিনে সংবাদপত্র বলতে আমরা যা বুঝি সেটি তেমন ছিল না। তবে বাংলা ভাষায় প্রথম সাময়িক পত্রিকা হিসেবে এর দাবিকে অগ্রাহ্য করা যায় না। যাইহোক, ‘দিগদর্শন’ লোকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় এর সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে মিশন ‘সমাচার দর্পণ’ নামে একখানি বাংলা সাপ্তাহিক পত্র প্রকাশ করতে উৎসাহিত হয়ে উঠল। জন ক্লার্ক মার্শম্যান-এর সম্পাদনায় ১৮১৮ সালের ২৩ মে এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হল। এই প্রসঙ্গে মার্শম্যান লিখেছেন—
‘Emboldened by the liberal policy which was now in the ascendant, the Serampore Missionaries, on the 81st May, 1818, issued the first newspaper ever printed in a native language in India. It was styled the ‘Shmachar Durpun’, or ‘mirror of news’, and Dwarkonath Tagore, a name respected equally in England and in India, was the first to patronise it. This attempt to rouse the native mind from the torpidity of centuries by the stimulus of a public journal created great alarm among the leading men in the Government, but Lord Hastings determined to encourage the undertaking by allowing the numbers to be circulated through the country at one-fourth the ordinary rate of postage.’৪
তৎকালে ক্রমবর্ধমান উদারনৈতিক নীতিতে উৎসাহিত হয়ে শ্রীরামপুরের মিশনারিরা ১৮১৮ সালের ৩১ মে ভারতে দেশীয় ভাষায় মুদ্রিত প্রথম সংবাদপত্রটি প্রকাশ করেন। এর নাম রাখা হয়েছিল ‘সমাচার দর্পণ’—যার অর্থ ‘সংবাদের দর্পণ’—এবং ইংল্যান্ড ও ভারত—উভয় দেশেই সমানভাবে শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব দ্বারকানাথ ঠাকুর ছিলেন এর প্রথম পৃষ্ঠপোষক। একটি প্রকাশ্য সংবাদপত্রের মাধ্যমে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আচ্ছন্ন দেশীয় জনগোষ্ঠীর জড়তা ভাঙার এই প্রচেষ্টা সরকারি মহলের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল; তা সত্ত্বেও লর্ড হেস্টিংস সাধারণ ডাক-মাশুলের এক-চতুর্থাংশ হারে সারা দেশে এই পত্রিকা বিতরণের অনুমতি দিয়ে এই উদ্যোগকে উৎসাহিত করার সিদ্ধান্ত নেন।
অন্য একটি গ্রন্থে মার্শম্যান লেখেন—
‘The Serampore missionaries had for some time contemplated the publication of a newspaper in the Bengalee language, to stimulate a spirit of inquiry and to diffuse information.’৫
অর্থাৎ, সমাচার দর্পণ প্রকাশনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে মার্শম্যানের মন্তব্য ছিল—‘অনুসন্ধিৎসার মনোভাবকে উৎসাহ দিতে এবং তথ্য প্রচারে আগ্রহী করার জন্য’।
(তিন)
এইখানেই একটি বিতর্ক দেখা যায়; কিছু ঐতিহাসিকের মতে গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য কর্তৃক প্রকাশিত বাংলা সাপ্তাহিক ‘বেঙ্গল গেজেটি’-এর প্রকাশনা ‘সমাচার দর্পণ’-এর আগেই শুরু হয়েছিল। গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে হুগলী জেলার অন্তর্গত কালনা মহকুমার পাটুলির বহরা গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। নিজের প্রচেষ্টায় ইংরেজি শিখে তিনি শ্রীরামপুরের ব্যাপটিষ্ট মিশন প্রতিষ্ঠিত ছাপাখানায় কম্পোজিটর-এর চাকরিতে যোগ দেন। উনিশ শতকের দ্বিতীয় দশকের গোড়ার দিকে গঙ্গাকিশোর স্বাধীনভাবে জীবিকার্জনের জন্য কলকাতায় চলে এলেন।
প্রথম পুস্তক ব্যবসায়ী হিসেবে আমরা সাধারণভাবে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কথাই জানি কিন্তু তাঁর চল্লিশ বছর আগে গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য বই প্রকাশ এবং বই বিক্রয় ব্যবসায় নেমে পড়েছিলেন। ১৮১৬ সালে তিনি কবি ভারতচন্দ্র রচিত সচিত্র ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য’ ছেপে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন। এটিই ছিল কোনো বাঙালীর সম্পাদনায় প্রকাশিত প্রথম ছবিওয়ালা ছাপা বই। ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যে তখনকার দিনের নামকরা শিল্পী রামচাঁদ রায়ের খোদিত ছ’খানি ধাতু খোদাই ও কাঠ খোদাই ছবি ছিল। বইটির কাটতি দেখে গঙ্গাকিশোর উৎসাহিত হয়ে নিজেই এবার প্রেস স্থাপন করার উদ্যোগ নিলেন। এ বিষয়ে তিনি অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন সম্ভবত হিকি সাহেবের কাছ থেকে। গঙ্গাকিশোর প্রথমে কলকাতার চোর বাগান স্ট্রীট-এ প্রতিষ্ঠা করলেন ‘বাঙ্গাল প্রেস’। আর এই প্রেস থেকেই ১৮১৮ সালের ১৫ মে শুক্রবার প্রকাশিত হয়েছিল ‘বাঙ্গাল গেজেটি’ পত্রিকা—বাংলা ভাষায় প্রথম সংবাদপত্র। সম্পাদক হরচন্দ্র রায়, মুদ্রক ও প্রকাশক গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য।
সমস্যাটি হল, এই প্রকাশের তারিখটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আমাদের ট্র্যাজেডি যে, ‘বাঙ্গাল গেজেটি’-র কোনো কপি এখনও পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি, এমনকি আট দিন পরে প্রকাশিত ‘সমাচার দর্পণ’-এর কোনো সংখ্যাতেও এই পত্রিকার উল্লেখ পাওয়া যায় না। আর সেই কারণেই মার্শম্যান প্রকাশিত ‘সমাচার দর্পণ’কেই অনেকে বাংলা ভাষার আদি সংবাদপত্রের মর্যাদা দিয়েছেন।
তবে সমকালীন পত্রপত্রিকা থেকে পরোক্ষ কিছু তথ্য পাওয়া যায়। গবেষক পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ১৮১৮ সালের ৯ জুলাই গভর্নমেন্ট গেজেট-এ এই পত্রিকার অস্তিত্ব সম্পর্কে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। গঙ্গাকিশোরের জীবনীকার ব্রজেন্দ্রনাথ জানিয়েছেন, কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ১৮৫২ সালে ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকায় সংবাদপত্রের ইতিবৃত্ত প্রকাশ করেন, যাতে তিনি লিখেছিলেন—
‘শ্রীরামপুর মিশন কর্তৃক ১৮১৮ খ্ৰীষ্টাব্দে প্রবর্তিত ‘সমাচার দর্পণ’ প্রথম বাংলা সংবাদপত্র নহে—প্রথম বাংলা সংবাদপত্র ‘বাঙ্গাল গেজেটি’ ১২২২ কিংবা ১২২৩ (ইং ১৮১৫-১৬) সালে গঙ্গাধর ভট্টাচাৰ্য্য কর্তৃক প্রকাশিত হয়।’৬
এই গঙ্গাধর যে আসলে গঙ্গাকিশোর এবং ‘বাঙ্গাল গেজেটি’ ১৮১৮ সালেই প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল তা বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রমাণ করে দিয়েছেন ব্রজেন্দ্রনাথ। সে প্রসঙ্গে আসছি। সাম্প্রতিক একটি প্রবন্ধে স্বপনকুমার ঠাকুর দাবি করেছেন—
‘দুর্ভাগ্যবশত ‘বেঙ্গল গেজেটি’র কোনো কপি এখনও পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি। আর এই জন্যই ‘সমাচার দর্পণ’-কেই অনেকে বাংলা ভাষার আদি সংবাদপত্রের মর্যাদা দিয়েছেন। কিন্তু ১৮১৮ খ্রি ১৪ মে প্রকাশিত, ১২ মে তারিখ-যুক্ত এবং উক্ত বছরের ৯ জুলাইয়ে গভর্ণমেন্ট গেজেট-এ গঙ্গাকিশোরের সহযোগী হরচন্দ্র রায় যে দুটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছিলেন সেখান থেকেই জানা যায় ১৮১৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ মে শুক্রবার গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছিল ‘বাঙ্গাল গেজেটি’। আর মার্শম্যানের সম্পাদনায় সমাচার দর্পণ প্রকাশিত হয়েছিল এর আট দিন পর অর্থাৎ ২৩ মে হুগলি জেলার শ্রীরামপুর থেকে।’৭
একই প্রসঙ্গে ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’-র সম্পাদকীয় বিভাগে প্রকাশিত একটি চিঠিতে জনৈক পুলক মণ্ডল জানিয়েছেন—
‘বর্ধমান থেকে একদা প্রকাশিত ‘দামোদর’ পত্রিকার সম্পাদক দাশরথি তা এবং তার সহযোগী কালিপদ সিংহ-সহ স্থানীয় উদ্যোগী সংস্কৃতিপ্রিয় বেশ কয়েক জন মানুষের দীর্ঘ কয়েক বছরের নিরলস গবেষণায় গঙ্গাকিশোর ও ‘বঙ্গাল গেজেটি’ সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্যের উন্মোচন, যা প্রমাণ করে মার্শম্যানের এক সপ্তাহ পূর্বেই গঙ্গাকিশোর সংবাদপত্র প্রকাশ করেন। কিন্তু তিনি কলকাতা থেকে বহু দূরবর্তী প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা হওয়ার কারণেই হোক অথবা সৃষ্টিকর্তা এক জন নেটিভ বাঙালি হওয়ার কারণেই হোক, তাঁর সৃষ্টিতে সরকারি সিলমোহর লাগানো হয়নি। একটি তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরছি; গঙ্গাকিশোরের সহযোগী হরচন্দ্র রায় তৎকালীন সরকারি গেজেট-এ একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেন ১৮১৮ সালের ১৪ মে, ‘হরচন্দ্র রায় বেগস লিভ টু ইনফর্ম … হি হ্যাজ এস্টাবলিশড আ বেঙ্গলি প্রেস … ইনটেন্ডস টু পাবলিশ আ উইকলি বেঙ্গল গেজেটি … হরচন্দ্র রায়। ১৪৫ চোরবাগান স্ট্রিট প্রাইস রুপিজ ২ পার মান্থ (গভঃ গেজেট, ১৪ মে ১৮১৮)’। ১৮১৮ সালে ৯ জুলাই হরচন্দ্র রায়ের নামে গভঃ গেজেট-এ আরও একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়, যা থেকে জানা যায় পত্রিকাটি চলছে। … যদিও দুটি বিজ্ঞাপনে গঙ্গাকিশোরের নামোল্লেখ নেই, কিন্তু যে হেতু তিনি এবং হরচন্দ্র যৌথ ভাবে ব্যবসার অংশীদার ছিলেন, সুতরাং এটি প্রমাণ করে ‘বঙ্গাল গেজেটি’-ই বাংলায় প্রথম সংবাদপত্র।’৮
প্রথমে দেখা যাক, ১৪ মে তারিখের বিজ্ঞাপনে কী বলা হয়েছিল। এখানেও নামের বিভ্রাট, কারণ বিজ্ঞাপনদাতার নাম হরসুন্দর রায় এবং তিনি লিখেছেন,
‘HURROCHUNDER Roy bags leave to inform his Friends and the Public in general, that he has established a BENGALEE PRINTING PRESS, at No. 45, Chorebagaun Street, where he intends to publish a WEEKLY BENGAL GAZETTE, to comprise the Translation of Civil Appointments, Government Notifications, and such other Local Matter, as may be deemed interesting to the Reader, into a plain, concise, and correct Bengalee Language; to which will be added the Almanack, for the subsequent Months, with the Hindoo Births, Marriages and Deaths … The Price of Subscription is 2 Rupees per Month, Extras included. Calcutta, 12th May, 1818.’৯
হরচন্দ্র রায় তাঁর বন্ধু-বান্ধব ও সর্বসাধারণকে আনন্দের সাথে জানাচ্ছে যে, তিনি ৪৫ নম্বর চোরবাগান স্ট্রিটে একটি বাংলা ছাপাখানা স্থাপন করেছেন। এই ছাপাখানা থেকে তিনি একটি সাপ্তাহিক ‘বেঙ্গল গেজেট’ প্রকাশ করার পরিকল্পনা করেছেন। এতে সরকারি পদে নিয়োগ ও সরকারি বিজ্ঞপ্তির অনুবাদ এবং পাঠকদের আগ্রহের উপযোগী অন্যান্য স্থানীয় বিষয়বস্তু সহজ, সংক্ষিপ্ত ও শুদ্ধ বাংলা ভাষায় প্রকাশিত হবে। এর সাথে পরবর্তী মাসগুলোর পঞ্জিকা এবং হিন্দুদের জন্ম, বিবাহ ও মৃত্যুসংক্রান্ত তথ্যও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। গ্রাহক চাঁদার হার মাসিক ২ টাকা (অতিরিক্ত সংখ্যাসহ)। কলকাতা, ১২ মে, ১৮১৮।
এক্ষেত্রে স্পষ্ট হল না বাঙ্গাল গেজেটির প্রথম প্রকাশের তারিখ।
(চার)
১৮৩১ সালের ৬ জুন (২৫ জ্যৈষ্ঠ, ১২৩৮) ‘সমাচার চন্দ্রিকা’ সংবাদপত্রে একজন পাঠক চিঠি লিখে জানান—
‘বাঙ্গাল সমাচারপত্রের বিষয়ে কোন বিজ্ঞতম ৬৮০ সংখ্যক দর্পণে অনেক লিখিয়াছেন তম্মধ্যে এক কথা লেখেন যে—এই অপূর্ব সমাচার দর্পণাবতারের পূর্বে প্রায় কাহারো কর্ণকুহরে প্রবিষ্ট হইয়াছিল না যে বাঙ্গাল সমাচার পত্র নামে কোনো পদার্থ আছে। উত্তর ঐ লেখক মহাশয় বুঝি এতন্নগরবাসী না হইবেন কেননা গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য্য যিনি প্রথম অন্নদামঙ্গল পুস্তক ছবি সহিত ছাপা করেন তিনি ‘বাঙ্গাল গেজেট’ নামক এক সমাচারপত্র সর্জ্জন করিয়াছিলেন তাহা নগরে প্রায় সর্বত্র গ্রাহ্য হইয়াছিল কিন্তু ঐ প্রকাশক সাংসারিক কোনো বিষয়ে বাধিত হইয়া তাঁহার নিজ ধাম বহরাগ্রামে গমন করাতে তৎপরে দর্পণাবতার ঐ লেখক মহাশয়কে দর্শন দিয়াছেন অতএব এ পদার্থ প্রথমে ব্রাহ্মণ কর্তৃক অনেকে প্রাপ্ত হইয়াছিলেন।’১০
কয়েকদিন পরে ১১ জুন অবশ্য সমাচার দর্পণ পত্রিকার সম্পাদকীয়তে স্পষ্টভাবে দাবি করা হয়,
‘আমাদের প্রথম সংখ্যক দর্পণ প্রকাশ হওনের দুই সপ্তাহ পরে অনুমান হয় যে বাঙ্গাল গেজেট নামে পত্র প্রকাশ হয় কিন্তু কদাচ পূর্বে নহে। … যেহেতুক ভারতবর্ষের মধ্যে বঙ্গভাষায় যে সকল সম্বাদ পত্র প্রকাশ হয় তন্মধ্যে দর্পণ আদি পত্র ইহা আমরা স্পষ্ট জ্ঞাত হইয়া তৎসম্ভ্রম অনিবার্য্য প্রমাণ প্রাপ্ত না হইলে অমনি কদাচ উপেক্ষা করা যাইবে না।’১১
গঙ্গাকিশোর এবং তাঁর প্রিন্টিং প্রেস সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে ১৮২০ সালে ত্রৈমাসিক ‘দি ফ্ৰেণ্ড অব ইণ্ডিয়া’-র প্রথম সংখ্যায় প্রকাশিত ‘অন দি এফেক্ট অফ দি নেটিভ প্রেস ইন ইন্ডিয়া’ শীর্ষক প্রবন্ধে লেখা হয়—
‘… within a fortnight after the publication from the Serampore press of the Sumachar Durpun, the first Native Weekly Journal printed in India, he published another, which we hear has since failed.’১২
অর্থাৎ এখানেও সমাচার দর্পণ-ই যে প্রথম প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্র তা স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঠিক এর বিপরীত তথ্য পাই ১৮১৯ সালের ‘এশিয়াটিক জার্নাল’-এর জানুয়ারি সংখ্যার ৫৯ পৃষ্ঠায় যেখানে ১৬ মে ১৮১৮ তারিখের ‘ওরিয়েন্টাল স্টার’ পত্রিকা থেকে মুদ্রিত হয়েছে—
‘Amongst the improvements which are taking place in Calcutta, we observe with satisfaction that the publication of a Bengalee newspaper has been commenced.’১৩
এবার উপরোল্লিখিত ৯ জুলাইয়ের বিজ্ঞাপনে কী লেখা হয়েছিল তা একবার দেখা যাক।
‘Having established BENGALEE PRINTING PRESS and a WEEKLY BENGAL GAZETTE, which he publishes on Fridays, containing the Translation of Civil Appointments, Government Notifications and Regulations, and such other LOCAL MATTER as are deemed interesting to the Reader, into a plain, concise and correct Bengalee Language, and having spared no pains or trouble to render it as interesting as possible, earnestly hopes that in consideration of the heavy expenses which he has incurred, Gentlemen who have knowledge and proficiency in that language, will be pleased to patronize his undertaking, by becoming subscribers to the BENGAL GAZETTE. No publication of this nature having hitherto been before the Public, HURROCHUNDER ROY trusts that the community in general will encourage and support his exertions in the attempt which he has made, and afford him a small share of their Patronage.’১৪
‘বেঙ্গলি প্রিন্টিং প্রেস’ ও ‘উইকলি বেঙ্গল গেজেট’ (সাপ্তাহিক বেঙ্গল গেজেট) প্রতিষ্ঠার পর—যার মাধ্যমে তিনি প্রতি শুক্রবার সরকারি পদে নিয়োগ, সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও বিধিনিষেধের অনুবাদ এবং পাঠকদের আগ্রহের উপযোগী অন্যান্য স্থানীয় বিষয়বস্তু সহজ, সংক্ষিপ্ত ও নির্ভুল বাংলা ভাষায় প্রকাশ করছেন এবং এটিকে যথাসম্ভব আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন—তিনি আন্তরিকভাবে আশা করেন যে, তাঁর এই উদ্যোগে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে তা বিবেচনা করে, বাংলা ভাষায় জ্ঞান ও দক্ষতা সম্পন্ন ভদ্রমহোদয়গণ ‘বেঙ্গল গেজেট’-এর গ্রাহক হয়ে তাঁর এই প্রচেষ্টাকে পৃষ্ঠপোষকতা করবেন। যেহেতু এ ধরনের কোনো প্রকাশনা ইতিপূর্বে জনসাধারণের সামনে আসেনি, তাই হরচন্দ্র রায় (Hurrochunder Roy) বিশ্বাস করেন যে, সাধারণ সমাজ তাঁর এই উদ্যোগ ও প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত ও সমর্থন করবে এবং তাঁকে তাদের পৃষ্ঠপোষকতার কিয়দাংশ প্রদান করবে।
তাহলে কি দাঁড়ালো? ১৮১৮ সালের ১৬ মে ‘ওরিয়েণ্টাল স্টার’ পত্রিকা কলিকাতায় প্রকাশিত একখানা বাংলা সংবাদপত্রের কথা জানাচ্ছে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় বিজ্ঞাপনে প্রকাশিত ‘যেহেতু এ ধরনের কোনো প্রকাশনা ইতিপূর্বে জনসাধারণের সামনে আসেনি’ এই বাক্যাংশের দিকেও পাঠকপাঠিকাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। অতএব, এই সংবাদপত্র যে ‘বাঙ্গাল গেজেটি’, তাতে সন্দেহ নাই, কারণ, শ্রীরামপুর থেকে ‘সমাচার দর্পণ’ প্রকাশিত হয়েছিল আরও এক সপ্তাহ পরে ২৩ মে তারিখে।
তবে উপসংহার হিসেবে এইটুকু বলা যেতেই পারে, এই বিষয়ে সন্দেহ নেই, সমাচার দর্পণের আগে অথবা পরে, যখনই প্রকাশিত হোক না কেন, ‘বাঙ্গাল গেজেটি’ ছিল বাঙালী দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র।
তথ্যসূত্র
১) রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত, প্রবাসী পত্রিকা বৈশাখ, ১২ (১৩৩৬)৷
২) এইচ ই বাসটিড, ইকোজ ফ্রম ওল্ড ক্যালকাটা, ১৮২-১৮৩ (১৮৮৮)৷
৩) পার্থ চট্টোপাধ্যায়, বাংলা সংবাদপত্র ও বাঙালির নবজাগরণ (১৮১৮-১৮৭৮), (দে’জ পাবলিশিং, ২০২৩)৷
৪) জন ক্লার্ক মার্শম্যান, দি হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া ভলিউম ২, ৩৫৮ (লেগারি স্ট্রিট প্রেস, ২০২৩)৷
৫) জন ক্লার্ক মার্শম্যান, দি লাইফ অ্যান্ড টাইমস অফ কেরি, মার্শম্যান অ্যান্ড ওয়ার্ড ভলিউম ২, ১৬১ (লংম্যান, ব্রাউন, গ্রিন, লংম্যানস অ্যান্ড রবার্টস, ১৮৫৯)৷
৬) ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সাহিত্য-সাধক-চরিতমালা-৭: গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য, ১০ (বঙ্গীয় -সাহিত্য-পরিষৎ, ১৩৫৯)।
৭) স্বপনকুমার ঠাকুর, প্রথম বাঙালি প্রকাশক গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য, বঙ্গদর্শন ডট কম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮৷
৮) বাংলা কাগজের জনক, আনন্দবাজার পত্রিকা, ১৯ মার্চ ২০১৭৷
৯) ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সাহিত্য-সাধক-চরিতমালা-৭: গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য, ১৩-১৪ (বঙ্গীয় -সাহিত্য-পরিষৎ, ১৩৫৯)।
১০) ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সংকলিত, সংবাদপত্রে সেকালের কথা দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৭৬ (বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষদ্- মন্দির, ১৩৪০)৷
১১) ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সাহিত্য-সাধক-চরিতমালা-৭: গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য, ১১ (বঙ্গীয় -সাহিত্য-পরিষৎ, ১৩৫৯)।
১২) জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত, দি ফ্রেন্ড অফ ইন্ডিয়া, ১২৩, সেপ্টেম্বর ১৮২০ সংখ্যা৷
১৩) এ এফ সালাহউদ্দিন আহমেদ, সোশ্যাল আইডিয়াজ অ্যান্ড সোশ্যাল চেঞ্জ ইন বেঙ্গল, ৯৬ (ব্রিল, ১৯৬৫)৷
১৪) ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সাহিত্য-সাধক-চরিতমালা-৭: গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য, ১৪ (বঙ্গীয় -সাহিত্য-পরিষৎ, ১৩৫৯)।