সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

লেখক: প্রজ্ঞা পারমিতা

প্রজ্ঞা পারমিতা
প্রজ্ঞা পারমিতা দেড় দশক ধরে প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাস ও ভ্রমণ কাহিনি লিখছেন। বিশ্ব সাহিত্যের অনুরাগী পাঠক, অনুবাদক। বর্তমানে বিজ্ঞানী পূর্ণিমা সিংহকে নিয়ে গবেষণারত। প্রকাশিত বই বিষাদবন, প্রকাশক গাঙচিল।
‘তিনি যে জাতীয়তার জন্য প্রাণপণ করিয়াছেন, সে জাতীয়তার প্রকৃত নাম হিন্দুয়ানি।’ এই বাক্যটি লিখেছিলেন প্রগতি লেখক সংঘের প্রথম সভাপতি সাহিত্যিক নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত আজ থেকে একশ বছর আগে, ‘বঙ্গবাণী’ (ভাদ্র, ১৩৩৩) সাময়িকপত্রের ‘সাহিত্যে জাতীয়তা’ নামক প্রবন্ধে—জাতীয়তার ধ্বজাধারী এক সাহিত্য আলোচকের দ্বিধাহীন ভাষায় সমালোচনা করতে গিয়ে। আজ যখন হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তান মন্ত্রে দেশভক্তির পাঠ পড়ানোর আয়োজনটি সুপ্রতিষ্ঠিত, তখন তাঁর রচনা ফিরে পড়লে বিস্ময় জাগে। ওই একই প্রবন্ধের অন্যত্র তিনি লিখেছেন, ‘আমার সনাতনপন্থী স্বদেশবাসীকে বলিতে চাই … বিলাত বা কোনও বিশিষ্ট দেশের অনুকরণ আমরা চাই না। কিন্তু চার পাঁচশত বৎসরের পুরাতন ভারতবর্ষের ভিতর বসিয়া চারিদিক দিয়া পরিবর্ত্তনের পথে পাষাণ প্রাচীর গড়িয়া থাকিতেও আমরা চাই না। আমরা চাই ঠিক আজকার ভারতবাসী হইতে—আজকার বিশ্বের সমস্ত culture-স্রোতের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করিয়া সজীবভাবে অগ্রসর হইতে, এক কথায় modern হইতে। … আজকালকার যে culture বা সামাজিক সংস্কার ও আচার তাহার বেশীর ভাগই কোনও জাতি বিশেষের বিশেষ সম্পদ নয়। আজ যেসব নূতন আদর্শ নূতন ভাব বা চিন্তা গড়িয়া ওঠে, তাহা জাতীয়তার গণ্ডী ছাড়াইয়া বিদ্যুদ্বেগে সমস্ত বিশ্বে ছড়াইয়া পড়ে, সমস্ত বিশ্ব তাহা আপনার জীবন-ধারার সঙ্গে সমীকৃত করিয়া লইবার চেষ্টা করে। তাহার ফলে আজকার মানবসমাজ সমস্ত জাতীয় গণ্ডী অতিক্রম করিয়া culture-এর দিক হইতে এক বিরাট সমাজ রূপে গঠিত হইয়াছে…।’