সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

বুদ্ধভাবনায় বিষ্ণু: খড়গ্রামের এক বিরল ভাস্কর্য

বুদ্ধভাবনায় বিষ্ণু: খড়গ্রামের এক বিরল ভাস্কর্য

কুণালকান্তি সিংহ রায়

নভেম্বর ৭, ২০২৬ ৩২ 0

‘মানুষ নিজের প্রতিবিম্বের আদলেই সৃষ্টি করেছে দেবতাদের মূর্তি’ —গ্রিক দার্শনিক জেনোফেন৷

কথামুখ

মুর্শিদাবাদের কান্দি থেকে বহরমপুর অভিমুখী সড়কপথে অবস্থিত পুরন্দরপুর গ্রাম। এই গ্রামের উত্তর দিকে কানা ময়ূরাক্ষী নদী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত। ভূগোলের ভাষায়, একে মজে যাওয়া ময়ূরাক্ষী বলা যায়। এই নদী পেরিয়ে কয়েকটি গ্রাম অতিক্রম করে পৌঁছানো যায় খড়গ্রাম ব্লকের একটি অনামা গ্রামে। নিরাপত্তাজনিত কারণে গ্রামের নাম অনুল্লিখিত রাখা হল।

এ যেন নামেই গ্রাম। চারদিকে ঘন জঙ্গল বেষ্টিত এই এলাকায় একটি পরিবারের বসবাস। জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে সামান্য পদব্রজে এগিয়ে গেলেই দেখা মিলবে হাজার বছরের প্রাচীন একটি বিষ্ণুমূর্তির (চিত্র ১), যা স্থানীয় মানুষের নিত্যপূজিত দেববিগ্রহ। বর্তমানে সিমেন্টের বেদীর সঙ্গে বিগ্রহটিকে দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে, যাতে কোনোভাবে অপহৃত না হয়।

চিত্র ১ – খড়গ্রামের (কান্দি মহকুমা, মুর্শিদাবাদ) বিরল বিষ্ণুমূর্তি। উপাদান: ব্যাসল্ট পাথর। আনুমানিক সময়কাল: পাল-সেন যুগ।

বিষ্ণুমূর্তিটি একেবারে অভিনব। বিষ্ণু ধর্মচক্রমুদ্রায় পদ্মাসনে উপবিষ্ট। তিনি চতুর্ভুজ এবং তাঁর দুই সহধর্মিণী—শ্রীলক্ষ্মী ও দেবী সরস্বতী বিষ্ণুর দু’পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। এই ধরনের ভাস্কর্য ভারতীয় মূর্তিশিল্পে বিরল। কারণ, এতে একদিকে যেমন বৈষ্ণব ভাবনার প্রকাশ ঘটেছে, অন্যদিকে তেমনি ধ্যানী বুদ্ধমূর্তির প্রভাবও দেখা যাচ্ছে। ফলে ভাস্কর্যটি একাধারে আদি-মধ্যযুগীয় বাংলায় বৌদ্ধ ও বৈষ্ণব ধর্মীয় ধারণার পারস্পরিক সংলাপ এবং পাল-সেন যুগের (৭৫০-১২৩০ সাধারণাব্দ) ধর্মীয় সংশ্লেষণাত্মক সংস্কৃতির এক মূল্যবান প্রত্নসাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

ইতিহাসের দিকে ফিরে

আলোচনায় প্রবেশ করার আগে একবার ইতিহাসের দিকে দৃষ্টিপাত করা যাক। বৈষ্ণবধর্ম ভারতীয় উপমহাদেশে উদ্ভূত হিন্দুধর্মের অন্যতম প্রধান একটি শাখা। তবে এই ধর্মমতের মূল ভিত্তি হল একেশ্বরবাদ, যেখানে পরমেশ্বর বিষ্ণু বা তাঁর বিভিন্ন অবতারকে (যেমন কৃষ্ণ বা রামচন্দ্র) আদি পরম সত্তা হিসেবে উপাসনা করা হয়। অবশ্য কাঠামোগতভাবে এটি আব্রাহামিক একেশ্বরবাদ থেকে ভিন্ন। আব্রাহামিক ধর্মে (যেমন ইসলাম, খ্রিস্টধর্ম বা ইহুদি ধর্ম) ঈশ্বরকে সৃষ্টির সম্পূর্ণ বাইরে এক পরম সত্তা হিসেবে দেখা হয় এবং সেখানে অন্য কোনো দেবতার অস্তিত্বকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়। অন্যদিকে, বৈষ্ণব ধর্মের একেশ্বরবাদ (যা মূলত ভাগবত ধর্ম থেকে বিকশিত) অনেক বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক। এখানে বিষ্ণুকে পরমেশ্বর বা মূল উৎস মানা হলেও, অন্যান্য দেব-দেবীকে তাঁরই বিভিন্ন রূপ বা শক্তির প্রকাশ হিসেবে গণ্য করা হয়।

সাধারণপূর্ব চতুর্থ বা পঞ্চম শতকের দিকে (সম্ভবত তারও আগে) বাসুদেব-কৃষ্ণের উপাসনাকে কেন্দ্র করে এই মতবাদের বিস্তার ঘটেছিল। মেগাস্থিনিসের বিবরণীতে শূরসেন (মথুরা) অঞ্চলে হেলাক্লিস-এর (যাঁকে ঐতিহাসিকরা কৃষ্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন) পূজার উল্লেখ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে সাধারণপূর্ব দ্বিতীয় শতকের হেলিয়োডোরাস স্তম্ভ (বেসনগর) প্রমাণ করে যে, এমনকী ভারতে বসবাসকারী গ্রিকরাও এই ধর্মে আকৃষ্ট হয়ে নিজেদের ‘পরম ভাগবত’ বলে ঘোষণা করেছিলেন। 

‘বিষ্ণু’ নামটির আদি নিদর্শন মেলে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর সুপ্রাচীন গ্রন্থ ঋগ্বেদ-এ। এখানে তাঁর অবস্থান ভারি অদ্ভুত। ঋগ্বেদ-এ তিনি প্রথম সারির দেবতারূপে গণ্য হতে পারেননি। আবার তাঁকে অপ্রধান দেবতারূপে ভাবাও যুক্তিসংগত নয়। কারণ এই গ্রন্থে তিনি ১০৫ বার উচ্চারিত হয়েছেন। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠবে, তাহলে তিনি কোন ধরনের দেবতা? বিখ্যাত পণ্ডিত রমেশচন্দ্র দত্ত, যোগেশচন্দ্র রায়বিদ্যানিধি, অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ প্রমুখের সুচিন্তিত অভিমত হল, ঋগ্বেদ-এ বিষ্ণু হলেন সূর্যদেবতা। তবে পরবর্তীকালে রচিত রামায়ণ ও মহাভারত এবং পৌরাণিক সাহিত্যে বিষ্ণু একজন প্রধান দেবতা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন, তিনি ‘জগতের পালনকর্তা’ হিসাবে পরিচিত হন।

এবারে প্রথিতযশা ইতিহাসবিদ জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ‘পঞ্চোপাসনা’ গ্রন্থে ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতে বৈষ্ণব ধর্ম ও বিষ্ণুদেবতা সম্পর্কে যে মূল্যবান আলোচনা করেছেন, তাকে সাধারণভাবে সাজালে বলা যায়—

১) ‘বৈষ্ণব’ নামটির উৎপত্তি ‘বিষ্ণু’ থেকে।

২) সুপ্রাচীনকালে বৈষ্ণবধর্ম ‘ভাগবত ধর্ম’ হিসাবে সুপ্রচলিত ছিল। সম্প্রদায়গতভাবে ‘বৈষ্ণব’ নামটির ব্যবহার শুরু হয় গুপ্ত যুগ (৩০০-৬০০ সাধারণাব্দ) ও তার পরবর্তী সময়ে।

৩) বৈষ্ণব ধর্মের প্রধান উপাস্য দেবতা বিষ্ণুর রূপকল্প তৈরি হয়েছিল তিন দেবতার সংমিশ্রণে। এই তিনজন দেবতা হলেন—ঋগ্বেদ-এর আদিত্য বিষ্ণু, অবৈদিক নারায়ণ ও বাসুদেব কৃষ্ণ।

ভারতবর্ষে বৈষ্ণব ধর্মের প্রতিপত্তি ও জনপ্রিয়তার সূচনা হয় গুপ্তযুগে। সমুদ্রগুপ্ত, দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বা বিক্রমাদিত্য, প্রথম কুমারগুপ্ত প্রমুখ গুপ্ত সম্রাটগণের বিষ্ণুভক্তি ছিল প্রবল। তাঁরা কৌলিক প্রতীক হিসাবে বিষ্ণুর বাহন গরুড়ের ব্যবহার করতেন। বঙ্গভূমিতে বৈষ্ণব ধর্মের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে পৌঁছেছিল একাদশ-দ্বাদশ শতকে সেন নৃপতিদের রাজত্বকালে। এই সময়ে বৃহত্তর বঙ্গে (বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার উত্তর-পূর্বাঞ্চল) অজস্র চতুর্ভুজ বিষ্ণুমূর্তি নির্মিত হয়েছিল। সেন বংশের প্রথম দিকের রাজারা (যেমন বিজয়সেন ও বল্লালসেন) প্রথাগতভাবে শিবের উপাসক বা ‘পরম-মাহেশ্বর’ ছিলেন, তবে লক্ষ্মণসেন সেই ধারা পরিবর্তন করে বিষ্ণুর প্রতি অনুরক্ত হন এবং ‘পরম বৈষ্ণব’ বা ‘পরম ভাগবত’ উপাধি ধারণ করেন। শক্তিপুর তাম্রশাসন হল লক্ষ্মণসেনের রাজত্বকালে খোদাই করা একটি ঐতিহাসিক আইনি ও প্রশাসনিক দলিল। এটি ১১৭৮ সাধারণাব্দের পরে জারি করা হয়েছিল। শক্তিপুর তাম্রশাসনের শীর্ষভাগে ‘শিবম ঔঁ নমো নারায়ণায়’ উৎকীর্ণ থাকার বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। বোঝা যায়, তিনি নিজে পরম বৈষ্ণব হলেও পূর্বপুরুষদের আরাধ্য দেবতা শিবের প্রতি অসম্মান দেখাননি।

বিষ্ণুমূর্তির কথা

বিষ্ণুর রূপকল্পনাকে পৌরাণিক সাহিত্যে চিত্রিত করা হয়েছিল অনেক আগে থেকে, তবে তাকে মূর্তিশিল্পে বিগ্রহের মাধ্যমে বাস্তবায়িত করার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিল তৃতীয়-চতুর্থ শতকে। মৎস্যপুরাণ, বিষ্ণুপুরাণ, বরাহমিহিরের বৃহৎ সংহিতা, অগ্নিপুরাণ, পদ্মপুরাণ প্রভৃতি পৌরাণিক গ্রন্থসমূহে বিষ্ণুমূর্তির বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়। মোটামুটিভাবে গুপ্ত যুগে নির্মিত বিষ্ণুমূর্তিগুলিতে একাধারে শিল্প-সৌন্দর্য ও শাস্ত্রীয় বর্ণনার চমৎকার সমন্বয় হয়েছে। এখানে বিষ্ণু হলেন চতুর্ভুজ। তিনি চার হাতে শঙ্খ (পাঞ্চজন্য), চক্র (সুদর্শন), গদা (কৌমুদকী) ও পদ্ম ধারণ করেন। তিনি সৌম্যকান্তি ও সুদর্শন; তাঁর দুই পার্শ্বে শ্রী বা শ্রীলক্ষ্মী এবং পুষ্টি বা সরস্বতী উপস্থিত। তবে দক্ষিণ ভারতীয় শিল্পরীতিতে বিষ্ণুমূর্তিতে পুষ্টি বা সরস্বতীর পরিবর্তে ভূদেবীর বিগ্রহ দেখা যায়।

বৈষ্ণব ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল ‘চতুর্বিংশতিব্যুহ তত্ব’। এই তত্ত্বানুসারে বিষ্ণু হলেন চতুর্ভুজ ও একমুখী। শঙ্খ, চক্র, গদা ও পদ্ম—বিষ্ণুর এই চারটি আয়ূধ বা ভূষণকে ভিন্ন ভিন্ন হাতে পরিবর্তন করে মোট ২৪টি স্বতন্ত্র বিষ্ণু মূর্তি নির্ধারিত হয়েছে। অগ্নিপুরাণ, স্কন্দপুরাণ, গরুড়পুরাণ, পদ্মপুরাণ প্রভৃতি গ্রন্থসমূহে বিষ্ণুমূর্তির রূপভেদের বিশদ বিবরণ রয়েছে।

কান্দিতে বিষ্ণুমূর্তি

মুর্শিদাবাদ জেলার দক্ষিণ পশ্চিম দিকে অবস্থিত কান্দি মহকুমা রাঢ়ভূমির অন্তর্ভুক্ত। এই মহকুমার পাঁচটি ব্লকের (খড়গ্রাম, বড়ঞা, ভরতপুর-১, ভরতপুর-২ ও কান্দি) গ্রামগুলি থেকে প্রায় পঞ্চাশটি মতো বিষ্ণুমূর্তির (বেশিরভাগই ভাঙা মূর্তি) নিদর্শন পাওয়া গেছে, এর অধিকাংশই নির্মিত হয়েছিল পাল-সেন যুগে (৭৫০-১২৩০ সাধারণাব্দ)। এই বিষ্ণুমূর্তিগুলির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি নিচে দেওয়া হল।

১) একটি কালো পাথরের ফলকে প্রধান দেবতা বিষ্ণু এবং অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্রাকৃতি লক্ষ্মী, সরস্বতী, গরুড় ইত্যাদি নিপুণভাবে খোদিত থাকবে।

২) কান্দির বিষ্ণুমূর্তির বৃহত্তম অংশ হল ত্রিবিক্রম বিষ্ণুমূর্তি। ত্রিবিক্রম হল বিষ্ণুর ২৪ প্রকার রূপভেদের একটি বিশেষ রূপ। এগুলি সাধারণত কালো পাথরের হয়।

৩) ত্রিবিক্রম মূর্তি অনুসারে বিষ্ণু সমপদস্থানক (সমান পদে অধিষ্ঠিত) ভঙ্গিতে একটি প্রস্ফুটিত পদ্মের উপর দাঁড়িয়ে থাকবেন। তিনি অনন্ত যৌবনের অধিকারী। তাঁর দুই চক্ষু অর্ধনিমীলিত থাকবে। কখনো ওষ্ঠে থাকবে ব্যঞ্জনাময় মৃদু হাস্য। মূর্তির পিছনের ডান হাতে গদা, পিছনের ও সামনের বাম হাতে যথাক্রমে চক্র ও শঙ্খ এবং সামনের ডান হাতে পদ্ম থাকবে।

৪) বিষ্ণুর দুই সহধর্মিণীর মধ্যে ডানদিকে থাকবেন শ্রীলক্ষ্মী এবং বামদিকে বীণাপাণি সরস্বতী দাঁড়িয়ে থাকবেন। উভয় দেবীই দ্বিভুজ এবং ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিতে লীলা-লাস্যে শোভা পাবেন। একেবারে নীচের দিকে উৎকীর্ণ থাকবে বিষ্ণুবাহন গরুড়।

৫) কোনো কোনো বিগ্রহে শ্রীলক্ষ্মী ও দেবী সরস্বতীর পাশে দু’জন আয়ুধ পুরুষ অথবা চক্রপুরুষকে দেখা যায়। আবার প্রধান দেবতার দুই পাশের প্রেক্ষাপটে উৎকীর্ণ থাকে কিন্নর-কিন্নরী ও গজশার্দুলের চিত্র। 

৬) বিগ্রহের উপরের দুইদিকে মেঘের মধ্যে অবস্থান করবেন মালা হাতে দুই উড়ন্ত বিদ্যাধর, যাদের বিখ্যাত ইতিহাসবিদ আর্থার লুয়েলিন ব্যাশাম ‘স্বর্গের জাদুকর’ আখ্যা দিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে স্বর্গীয় সৌন্দর্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যই তাদের সৃষ্টি।

৭) বিষ্ণুমূর্তির একেবারে উপরে খোদিত থাকে গর্জনরত সিংহের মুখাকৃতি, যা মূর্তি শাস্ত্রে ‘কীর্তিমুখ’ নামে পরিচিত। সাধারণত গর্জনরত সিংহ শক্তি ও মঙ্গলচিহ্ন হিসাবে স্বীকৃত।

খড়গ্রামের বিষ্ণুমূর্তি

এই প্রচলিত রীতির সঙ্গে খড়গ্রামে আবিষ্কৃত আলোচ্য বিষ্ণুমূর্তিটির মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। এখানে বিষ্ণু দাঁড়িয়ে নন; বরং প্রস্ফুটিত পদ্মপীঠের উপর পদ্মাসনে উপবিষ্ট। তাঁর চক্ষুদ্বয় অর্ধনিমীলিত। তাঁর মাথায় কিরীটমুকুট, কর্ণে কুণ্ডল এবং ডান বক্ষে শ্রীবৎস চিহ্ন রয়েছে। শ্রীবৎস হল হিন্দুধর্মসহ বিভিন্ন ভারতীয় ধর্মে (যেমন বৌদ্ধ ও জৈনধর্ম) ব্যবহৃত একটি প্রাচীন ও শুভ মাঙ্গলিক প্রতীক। সংস্কৃত ভাষায় ‘শ্রীবৎস’ শব্দের অর্থ হলো—‘শ্রী বা লক্ষ্মীর প্রিয়’।

পেছন দিকের বাম ও দক্ষিণ হাতে যথাক্রমে সুদর্শন চক্র এবং কৌমুদকী গদা দেখা যাচ্ছে। দেবতার দক্ষিণে চামরধারিণী শ্রীলক্ষ্মী এবং বামদিকে বীণাবাদিনী সরস্বতী ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন। বিষ্ণু বিগ্রহের নাসিকাসহ মুখমণ্ডল ক্ষতযুক্ত এবং উপরের চালির অংশ সম্পূর্ণ ভাঙা থাকায় বিদ্যাধর ও কীর্তিমুখ এখানে অদৃশ্য। একেবারে নীচের দুই দিকে অঞ্জলিবদ্ধ রয়েছেন গরুড়।

মূর্তির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল, সামনের দুই হাতের অভিনব ভঙ্গি। প্রচলিত বিষ্ণুমূর্তির মতো এখানে শঙ্খ বা পদ্ম নেই। পরিবর্তে দেবতার দুই হাত বুকের সামনে এক বিশেষ মুদ্রায় সাজানো, যা মূর্তিশাস্ত্রে ‘ধর্মচক্রমুদ্রা’ নামে পরিচিত। ভারতীয় শিল্পকলার ইতিহাসে এই মুদ্রা সাধারণত ধ্যানী বুদ্ধের মূর্তির সঙ্গে সম্পর্কিত।

সারনাথে প্রাপ্ত গুপ্তযুগীয় অসামান্য বুদ্ধমূর্তির সঙ্গে আলোচ্য বিষ্ণুমূর্তির বিস্ময়কর সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। সারনাথের ভাস্কর্যের অন্তর্নিহিত ভাবনা গুরুত্বপূর্ণ—বৌদ্ধ ঐতিহ্য অনুসারে, বোধি বা দিব্যজ্ঞান লাভ করার পরে গৌতম বুদ্ধ সারনাথে পাঁচ জন সঙ্গীর কাছে সর্বপ্রথম তাঁর ধর্মোপদেশ ব্যক্ত করেছিলেন। বৌদ্ধ ধর্মে একে ‘ধর্মচক্র প্রবর্তন’ বলা হয়। পালি সাহিত্য ও বৌদ্ধ ধর্মে সেই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণের রূপকল্পনার ধ্রুপদী শৈল্পিক প্রতীক হল ধর্মচক্রমুদ্রা।

ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, বিষ্ণুমূর্তির রূপকল্পনায় বৌদ্ধভাবনার সংমিশ্রণ হয়েছিল কেন? এই প্রশ্নের উত্তর নিহিত রয়েছে ভারতের ধর্মীয় ইতিহাসে। প্রকৃতপক্ষে বৈষ্ণবধর্মের জনপ্রিয়তার পিছনে দুটি ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল, অপরিমিত রাজপৃষ্ঠপোষকতা এবং বিষ্ণুর অবতারবাদ।

পি. ভি. কানের মতে, সপ্তম শতাব্দী থেকেই বুদ্ধকে বিষ্ণুর অবতার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া শুরু হয় এবং বিষয়টির পূর্ণতা প্রাপ্তি ঘটে দ্বাদশ শতকে লক্ষ্মণসেনের সভাকবি জয়দেবের ‘গীতগোবিন্দ’ কাব্যে। এই কাব্যগ্রন্থের দশাবতার স্তোত্রে কবি লিখেছেন—

‘নিন্দসি যজ্ঞবিধেরহহ শ্রুতিজাতম্

সদয়হৃদয়দর্শিত পশুঘাতম্

কেশবধৃত বুদ্ধ শরীরে জয় জগদীশ হরে।’

হে কেশব, হে জগদীশ, হে হরি, তুমি বুদ্ধশরীর ধারণ করে করুণাঘন হৃদয়ে জীবহত্যা দেখে বেদ বিহিত যজ্ঞের সতত নিন্দা করেছ, তোমার জয় হোক।

সুতরাং, সেই বৃহত্তর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে খড়গ্রামের এই ভাস্কর্যটিকে বৌদ্ধ ও বৈষ্ণব ভাবনার এক সৃজনশীল সমন্বয় হিসাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।

আলোচ্য বিষ্ণু বিগ্রহটির প্রকৃতি ও গঠন কৌশলকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যাবে, এই ধরনের শিল্পকর্ম আদি মধ্যযুগের বৃহত্তর বঙ্গভূমিতে পাল-সেন নৃপতিদের আমলে সৃষ্ট পূর্বাঞ্চলীয় শিল্পরীতির প্রকাশ। তবে মূর্তিটিকে কেন্দ্র করে কোনো বিজ্ঞানসম্মত বা প্রত্নতাত্ত্বিক পরীক্ষার কথা জানা যায়নি।

এই ভাস্কর্যের মুখ্য উপাদান হল কালো পাথর বা ব্যাসাল্ট শিলা, যার সম্ভাব্য উৎপত্তিস্থল ছিল রাজমহল পাহাড়। শোনা যায়, বহু বছর আগে কাছের সরোবর থেকে মূর্তিটি পাওয়া গেছি ।

সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য

খড়গ্রামের এই অভিনব বিষ্ণুমূর্তির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রত্নতত্ত্ব ও সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত একটি উপবিষ্ট বিষ্ণুমূর্তির (চিত্র ২) আংশিক সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। একাদশ শতাব্দীর মূল্যবান প্রত্ন-ভাস্কর্যটি অবিভক্ত ২৪ পরগনা জেলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। এখানেও বিষ্ণু পদ্মাসনে প্রস্ফুটিত পদ্মপীঠে উপবিষ্ট; শিরে কিরীট মুকুট, কর্ণে কুণ্ডল, কণ্ঠে চন্দ্রহার ও বনমালা এবং বক্ষে যজ্ঞোপবীত৷ চোখ অর্ধনিমীলিত, অর্থাৎ বিষ্ণু ধ্যানমগ্ন। কালো কষ্ঠিপাথরের মূর্তির নীচের দুইদিকে অঞ্জলিমুদ্রায় গরুড় উপস্থিত।

সাদৃশ্যের পাশাপাশি এই দুই ভাস্কর্যের মধ্যে মৌলিক বৈসাদৃশ্য রয়েছে। রাজ্য সংগ্রহশালার মূর্তিতে বিষ্ণুর সামনের দুই হাত ধর্মচক্রমুদ্রায় নয়; বরং ধ্যানমুদ্রায় দুই পায়ের উপর স্থাপিত। মূর্তিতত্ত্ববিদ টি এ গোপীনাথ রাও এই ধরনের ভঙ্গিমাকে ‘যোগমুদ্রা’ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন; অর্থাৎ দেবতা গভীরভাবে ধ্যানমগ্ন। ধ্যানরত অবস্থায় দেবতার বামহাতের তালুর উপর ডানহাত অপূর্ব ভঙ্গিতে স্থাপিত রয়েছে। মালা হাতে দুই উড়ন্ত বিদ্যাধর উপস্থিতি রয়েছে। তবে বিষ্ণুর দুই সহধর্মিণী, শ্রীলক্ষ্মী ও সরস্বতী এখানে অদৃশ্য। দেবতার পিছনের দক্ষিণ হাত ভাঙা হলেও বাম হাতে সুদর্শনচক্র দেখা যাচ্ছে। গোপীনাথ রাও-এর মতে, এই ধরনের বিষ্ণুমূর্তি জন্ম ও মৃত্যুর বন্ধন থেকে আত্মার পরিত্রাণের জন্য কল্পনা করা হয়েছে; যোগীদের উপাসনা করার জন্য এটি বিশেষভাবে উপযুক্ত।

অন্যদিকে খড়গ্রামের মূর্তিতে দেবতার সামনের দুই হাত স্পষ্টভাবে ধর্মচক্রমুদ্রায় সাজানো। ভারতীয় মূর্তিশিল্পে এই মুদ্রা প্রধানত বুদ্ধমূর্তির সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে আলোচ্য ভাস্কর্যে বৈষ্ণব ও বৌদ্ধ ভাবনার যে সমন্বয় ঘটেছে, তা বাংলার মধ্যযুগীয় ধর্মীয় সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের প্রতি ইঙ্গিত করছে।

চিত্র ২ – পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত যোগাসনে উপবিষ্ট বিষ্ণু। উপাদান: কোয়ার্টজ- ক্লোরাইট-শিস্ট পাথর। সময়কাল: আনুমানিক একাদশ শতক। প্রাপ্তিস্থান: দক্ষিণ ২৪ পরগনা।

একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য হল, রাজ্য সংগ্রহশালার মূর্তিতে শ্রীলক্ষ্মী ও সরস্বতীর অনুপস্থিতি; পক্ষান্তরে খড়গ্রামের মূর্তিতে এই দুই দেবী সুস্পষ্টভাবে উপস্থিত। বলা যায়, খড়গ্রামের ভাস্কর্যটি একদিকে গার্হস্থ্য ও ঐশ্বর্যের প্রতীকী ধারণাকে গ্রহণ করেছে, অন্যদিকে ধর্মচক্রমুদ্রার মাধ্যমে ধ্যান, জ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার ভাবনাকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছে।

অতএব, খড়গ্রামের এই ভাস্কর্য কেবলমাত্র একটি উপবিষ্ট বিষ্ণুমূর্তি নয়; বরং মধ্যযুগীয় বাংলার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সমন্বয়ের এক অনন্য শিল্পসাক্ষ্য।

শেষ কথা

ইতিহাস ও সাহিত্যের ভিত্তিতে খড়গ্রামের এই ভাস্কর্যের নির্মাণকালকে আমরা আনুমানিক একাদশ-দ্বাদশ শতকের সময়সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে পারি। এই সময়কাল বৃহত্তর বঙ্গভূমির ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পাল সাম্রাজ্যের অবসান এবং সেন শাসনের উত্থানের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এক রূপান্তর ঘটছিল। বৌদ্ধধর্মের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ক্রমশ হ্রাস পেলেও তার দার্শনিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব বিলুপ্ত হয়নি। বরং বহু ক্ষেত্রে সেই প্রভাব ব্রাহ্মণ্য শিল্প ও আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ করেছিল।

আলোচ্য বিষ্ণুমূর্তি সেই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ারই এক মূল্যবান প্রতিফলন। ধর্মচক্রমুদ্রার ব্যবহার, ধ্যানমগ্ন মুখাবয়ব এবং উপবিষ্ট ভঙ্গি বৌদ্ধ শিল্পরীতির স্মারক হলেও শ্রীলক্ষ্মী, সরস্বতী, গদা ও সুদর্শনচক্রের উপস্থিতি এটিকে নিঃসন্দেহে বৈষ্ণব ভাস্কর্য হিসেবে চিহ্নিত করে। ফলে এই মূর্তিতে ধর্মীয় পরিচয়ের দ্বন্দ্ব নয়, বরং মিলনের প্রবণতাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

শিল্পগত বিচারেও ভাস্কর্যটি বিশেষ মনোযোগের দাবি রাখে। ধ্যানী বুদ্ধ মুর্তির আদলে নির্মিত খড়গ্রামের এই অভিনব বিষ্ণুমূর্তিটির গঠন ও ভঙ্গিমায় একাধারে সন্ন্যাস ও গার্হস্থ্য জীবনের (শ্রীলক্ষ্মী ও সরস্বতীর উপস্থিতিতে) মিলন ঘটেছে। অবশ্য শিল্পকর্মে শিল্পীর নামোল্লেখ নেই। তবে তাঁর শিল্পকীর্তি থেকে একথা স্পষ্ট বোঝা যায় যে, শিল্পীর গভীর উপলব্ধি ছিল শিল্পশাস্ত্র ও ধর্মশাস্ত্র বিষয়ে। এই ধরনের অপরূপ শিল্পকীর্তি শুধু মুর্শিদাবাদ জেলা নয়; সমগ্র পশ্চিমবঙ্গেও দুর্লভ।     

খড়গ্রামের এই বিরল বিষ্ণুমূর্তি নিছক একটি স্থানীয় প্রত্ননিদর্শন নয়; বরং আদি-মধ্যযুগীয় বাংলার ধর্মীয় সমন্বয়, শিল্পভাবনা এবং সাংস্কৃতিক ক্রমবিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য হিসাবে রয়ে যাবে।

শীর্ষক চিত্র পরিচিতি: দণ্ডায়মান বিষ্ণু, তামিলনাড়ু, আনুমানিক দশম শতাব্দীর তৃতীয় ভাগ, চিত্র ঋণ – দ্য মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম আর্ট, পাবলিক ডোমেইন।

তথ্যসূত্র ও ঋণস্বীকার:

১) শ্রীবিনোদবিহারী কাব্যতীর্থ বিদ্যাবিনোদ, বিষ্ণু-মূর্তি-পরিচয়, সাহিত্য পরিষদ মন্দির (১৩১৭ বঙ্গাব্দ)৷

২) নীহাররঞ্জন রায়, বাঙালীর ইতিহাস (আদিপর্ব), দে’জ পাবলিশিং, (১৪০২ বঙ্গাব্দ)৷

৩) জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, পঞ্চোপাসনা, ফার্মা কে. এল. এম., (১৯৬০)৷

৪) হংসনারায়ণ ভট্টাচার্য, হিন্দুদের দেবদেবী: উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ (২য় পর্ব), ফার্মা কে. এল. এম., (২০১৫)৷

৫) সুবীরা জয়সোয়াল, বৈষ্ণব ধর্মের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ, অনুবাদ: মৃণাল গঙ্গোপাধ্যায়, কে. পি. বাগচী, (১৯৯৩)৷

৬) কল্যাণকুমার দাশগুপ্ত, প্রতিমা শিল্পে হিন্দু দেবদেবী, প. ব. বাংলা আকাদেমি, (২০১৬)৷

৭) নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য, ভারতীয় ধর্মের ইতিহাস, জেনারেল প্রিন্টার্স অ্যান্ড পাবলিশার্স, (২০০০)৷

৮) কল্যাণকুমার গঙ্গোপাধ্যায়, বাংলার ভাস্কর্য, সুবর্ণরেখা, (২০১৪)৷

৯) অমলকুমার মুখোপাধ্যায়, পৌরাণিকা (দুই খণ্ডে), ফার্মা কে. এল. এম., (১৯৭৮)৷

১০) মোঃ মোশারফ হোসেন, হিন্দু জৈন বৌদ্ধ মূর্তিতাত্ত্বিক বিবরণ, ঢাকা, (২০১৬)৷

১১) দিলীপকুমার গঙ্গোপাধ্যায়, ভারত ইতিহাসের সন্ধানে, সাহিত্যলোক, (২০০৭)৷

১২) অপরেশ চট্টোপাধ্যায় ও কুণালকান্তি সিংহ রায় (সম্পাদিত), অঙ্গাঙ্গি: ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব ও কিংবদন্তি সংখ্যা, কান্দি, (২০১৭)৷

১৩) অরিন্দম রায় (সম্পাদিত), মুর্শিদাবাদ অনুসন্ধান (৩য় খণ্ড), মুর্শিদাবাদ জেলা ইতিহাস ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র, বহরমপুর, (২০১৯)৷

১৪) T. A. Gopinath Rao, Elements of Hindu Iconography (Vol.1, Part-1), Motilal Banarsidass, (2017).

১৫) Nalini Kanta Bhattashali, Iconography of Buddhist and Brahmanical Sculptures in the Dacca Museum, Gyan Publishing House (2008).

১৬) Enamul Haque, Bengal Sculpture: Hindu Iconography upto C. 1250 A.D., (1992).

১৭) Goutam Sengupta & Sharmila Saha, Vibrant Rock, Directorate of Archaeology and Museums, West Bengal, (2014).

১৮) A. L. Basham, The Wonder that was India, Picador, (2004).

১৯) Dr. R. C. Majumdar, History of Ancient Bengal, Tulshi Prakashani, (2005).

কৃতজ্ঞতা স্বীকার

শক্তিনাথ ঝা (বহরমপুর), সুভাষ পাণ্ডে (জিয়াগঞ্জ), সাধন মণ্ডল (রামেশ্বরপুর, খড়গ্রাম ), দিলীপ চৌধুরী (হরিনারায়ণপুর, খড়গ্রাম) ও অপরেশ চট্টোপাধ্যায় (কান্দি)।

ইতিহাসের শিক্ষক, প্রাবন্ধিক, দুই বন্ধু মিলে ‘অঙ্গাঙ্গি’ নামে একটি লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশ করেন কান্দি থেকে

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।