সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

ঋত্বিক ঘটকের চলচ্চিত্রে নারী

ঋত্বিক ঘটকের চলচ্চিত্রে নারী

লিপিকা ঘোষ

নভেম্বর ২৯, ২০২৫ ১২৪ 1

ঋত্বিক ঘটক তাঁর ছবির মধ্য দিয়েই বুঝিয়েছেন তিনি নির্ভীক, নিষ্ঠাবান, আপসহীন শক্তিশালী পরিচালক। ছবি নির্মাণে প্রথাগত ব্যাকরণ ভেঙ্গে নিজেই নতুন ব্যাকরণ তৈরি করেছেন। কাহিনি, সংলাপ, চরিত্রচিত্রণ, আবহসঙ্গীত, ক্যামেরা সবেতেই তাঁর প্রতিভা ও যত্নের ছাপ রয়েছে। উচ্চাঙ্গ সংগীতের পাশাপাশি রবীন্দ্র সঙ্গীত, লোকসঙ্গীতকেও ব্যবহার করেছেন তাঁর ছবিতে। বারবার এনেছেন দেশভাগের কথা, উদ্বাস্তু মানুষের যন্ত্রণার কথা, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতায় মানুষের বলি হওয়ার কথা। বেশির ভাগ প্রধান চরিত্র রামায়ণ, মহাভারত ও পুরাণ থেকে নিয়েছেন, শঙ্কর, ভৃগু, রাম, অভিরাম, ঋষি, ঈশ্বর, নীলকণ্ঠ তাঁর ছবির চরিত্র। নারী চরিত্রগুলিও এনেছেন সেভাবে। নামকরণের ক্ষেত্রে রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ থেকে এনে আধুনিক যুগের কালানুগ করে তুলেছেন। সীতা, অনুসূয়া, উমা, শকুন্তলা, জগদ্ধাত্রী ভারতীয় সংস্কৃতির শাশ্বত চরিত্র। তাঁর কয়েকটি ছবিতে প্রধান নারী চরিত্রের নামকরণ হয়েছে এদের নামে। সীতা, দুর্গা, উমা একাধিকবার এসেছে তাঁর ছবিতে। সেকালের নারী চরিত্ররা একালের দেশ, কাল ও সামাজিক পরিবেশে কতটা প্রাসঙ্গিক হতে পারে তা দেখিয়েছেন।

ঋত্বিক ঘটক তাঁর প্রথম ছবিতে দেখিয়েছেন দেশভাগের পর বাংলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি শুধু ওপার থেকে আসা মানুষেরই নয়, এপারের নাগরিক জীবনকে কতটা প্রভাবিত করেছিল। এ ছবিতে বাংলা জুড়ে বেকারত্বের হাহাকার ছড়িয়ে আছে। এ বাংলার তরুণের স্বপ্ন ‘একটু সুখে থাকতে চেয়ে’ একটা চাকরির চেষ্টা বারবার ব্যর্থ হয়েছে। বাবা আক্ষেপ করে বলেছেন, “আমাদের সময় ছিল গড়ার বাংলা, এখন ভাঙ্গার বাংলা।” সেই ভাঙ্গা বাংলায় মধ্যবিত্ত নাগরিক জীবনও ভেঙ্গে পড়ছে পোড়ো বাড়ির মতো। সেই ভেঙ্গে পড়া জীবনের মাঝে খুঁজে পাওয়া যায় আজকের সীতা, উমাদের।

‘নাগরিক’-এর সীতা নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের অবিবাহিতা মেয়ে। বারবার বিয়ের সম্বন্ধ আসে, তারা সীতার চেহারা দেখে, চুল খুলে দেখে, পায়ের গোড়ালি দেখে, মিষ্ট খায় আবার চলে যায়। একটা দীর্ঘ সময় ধরে এদেশের মেয়েদের এভাবেই মুখ বন্ধ করে অপমান সহ্য করতে হয়েছে। চুল খুলে তার দৈর্ঘ্য-প্রস্থ, শাড়ি তুলে পায়ের গোড়ালি, ঘুরে ঘুরে কানের লতি ও শরীরের গড়ন দেখাতে হয়েছে। ‘নাগরিক’-এর সীতা বাঙ্গালি ঘরের আর পাঁচটা মেয়ের মতোই বিবাহযোগ্যা একটি সাধারণ মেয়ে। সীতা কনে হবার, কোনো বাড়ির বৌ হবার, কারো শয্যাসঙ্গিনী হবার যোগ্যতার পরীক্ষা দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, ঠিক যেভাবে রামায়ণের সীতা বারবার অগ্নিপরীক্ষা দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। সে অর্থে প্রেমে না পড়লেও শেষ আশ্রয় খোঁজে তাদের বাড়িতে আশ্রিত যুবক সাগরের বুকে। রামায়ণের সীতা যেমন ধরিত্রীর বুকে খুঁজেছিল।

এ ছবিতেই শান্ত, সরল, ধৈর্যশীলা রামুর মায়ের চরিত্রের পাশাপাশি রামুর প্রেমিকা উমার চরিত্র চিত্রিত। গরিবের বড় মেয়ে উমা পরিবারে অভাব অনটনের সঙ্গে লড়াই করে কিন্তু বিপথে যায় না। প্রেমিক রামুর চাকরির অপেক্ষা করে। রামুর চাকরি অনিশ্চিত হওয়ায় রামু খিটখিটে হয়ে যায়, তার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয় তবু উমা অনিচ্ছা সত্ত্বেও বেকার রামুর কাছ থেকে সাহায্য নিতে বাধ্য হয় তার পরিবারকে সাহায্য করার জন্য, মায়ের চিকিত্সার জন্য। শেষ পর্যন্ত বেকার রামুকে বিয়ে করে। এই উমার চরিত্রে ‘মেঘে ঢাকা তারা’র নীতার চরিত্রের পূর্বাভাস পাওয়া যায়।

উমার বোন শিউলি যেন ‘মেঘে ঢাকা তারা’র গীতা। শিউলি গীতার মতই ভোগবিলাসী। চরম অভাবের মধ্যেও সেজেগুজে সিনেমায় যায়, সঙ্গী জোগাড় করে। বাড়িতে রামু এলে তাকে নিজের দিকে প্রলুব্ধ করে। শেষ পর্যন্ত বিপথগামী হয়। বাংলার মেয়েদের যে সমস্যা সংকুল জীবন প্রত্যক্ষ করেছেন তা তুলে ধরেছেন এই ছবিতে।

‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’ ছবিতে কাঞ্চনের মা, কনকের মা, এক দুঃখিনী মায়ের পাশাপাশি আর একটি চরিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে, সে হরিদাসের মা, বাংলা মা। হরিদাস বলে, “আমি যখন না এইটুকু ছোট তখন মা কোথায় চলে গেলো,…তারপর একদিন দেখি কি! এই মজার শহরটাই একটা গলিতে মা আমার ধুলো মেখে চুপটি করে দাঁড়িয়ে আছে। আমি কখন যাব! আমি তাকে দেখছি কত পাড়ায়, কত গলিতে…।”

এ ছবি দেশভাগের ছবি নাহলেও দেশভাগের ব্যাথা নিহিত আছে হরিদাসের কথায়, “দেশে আমি প্রাইমারি স্কুলের মাস্টার ছিলুম, দেশভাগ হয়ে গেল, পাকিস্তান, আমি বাড়ি থেকে পালিয়ে এলুম, দশ বছরে একটি চাকরি পেলুম না। এদেশে মাস্টারের দরকার নেই…, তাই রাস্তায় রাস্তায় বুলবুলভাজা বিক্রি করি।” মাত্র একটি দৃশ্যে তার এই কথাগুলো যেন গায়ে তিরের মতো এসে লাগে। হরদাসের মা দেশভাগের পর অসংখ্য উদ্বাস্তু মেয়ের একজন। রাস্তায়, পাড়ার মোড়ে, অলিতে গলিতে থাকা, অন্নবস্ত্রহীন, ধুলোমাখা বঙ্গললনা।

‘মেঘে ঢাকা তারা’র নীতার সরলতা, সততা, আত্মত্যাগ ও জীবনের করুণ পরিণতি সকলের হৃদয় স্পর্শ করে। উদ্বাস্তু কলোনিতে তাদের পরিবার প্রতিনিয়ত লড়াই করে চলেছে দারিদ্র্যের সঙ্গে। সে লড়াইয়ের একমাত্র সৈনিক নীতা যে জগদ্ধাত্রী পুজোর দিন জন্মেছিল! যে জগতকে ধারণ করা, লালন করার ক্ষমতা রাখে। নীতা তার জগৎ অর্থাৎ বাবা-মায়ের সংসার আর প্রেমিক সনতের ব্যয়ভার চালাতে সক্ষম। সে নিজের বিলাসিতার দ্রব্য, এমনকি পায়ের নতুন চটির মতো সাধারণ প্রয়োজনীয় জিনিসও নিজের জন্য কেনে না, অথচ তার টিউশনের টাকায় ছোটো ভাই-বোনের বিলাসিতা, সংসারের ব্যয় ভার, সনতের হাতখরচ চলে। সনতের বিয়ের পর আক্ষেপ করে বলে, “এত সাধারণ হওয়া আমার উচিত ছিল না!”

নীতার পাশাপাশি অসম্ভব বাস্তব হয়ে উঠেছে নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মায়ের চরিত্রটি! তার নিরস বাচনভঙ্গি, ছ’জনের সংসারের হেঁশেল ঠেলে খিটখিটে মেজাজ! সে সারাক্ষণ নিজের সংসারের একটু স্বচ্ছলতার জন্য তীর্থের কাকের মতো অন্যের রোজগারের দিকে তাকিয়ে থাকে। সনৎ দীর্ঘদিন পর তাকে দেখেই চমকে ঊঠে বলে ফেলে, “এ কি চেহারা করেছেন মাসিমা, কেমন রোগা আর কালো হয়ে গেছেন!” বাংলার চিরাচরিত মা, যারা সংসারে অন্যের গ্রাসের কথা ভাবে, নিজের নয়! রোজগেরে মেয়ে নীতার এখনই বিয়ে হোক যেমন চায়নি তেমনি গীতা সনৎকে বিয়ে করুক সেটাও মা চায়নি। সে গীতার বিয়ের আগে নীতাকে বলেছে, “কইতাছিলাম কি আমি ঠিক এটা চাই নাই!” সে স্বচ্ছলতার সঙ্গে সংসারটা চালাতে চেয়েছে, এর বেশি কিছু চায়নি।

এদের বিপরীত মেরুতে আছে চপল স্বভাবের গীতা, যে পরের রোজগারে বুক ফুলিয়ে বিলাসিতা করতে ভালোবাসে। অতি সাধারণ নীতার কাছ থেকে তার দুর্বলচিত্ত প্রেমিককে চুম্বকের মতো টেনে ছিনিয়ে নেয় চপলতা দিয়ে।

নীতা সেই সময়ের বাংলার সকল শ্রমজীবি মেয়েদের প্রতিনিধিত্ব করে, যারা অন্যের জন্য নিষ্পেষিত হয়। এই মেয়েদের প্রতি ঋত্বিক ঘটকের বক্তব্য এই সংলাপেই প্রতিফলিত – “সেকালের মাইনসে গঙ্গাযাত্রীর গলায় ঝুলাইয়া দিত মাইয়া, তারা ছিল বর্বর। আর একালে আমরা শিক্ষিত, সিভিলাইসড! তাই লেখাপড়া শিখাইয়া, মাইয়ারে নিঙরাইয়া, ডইল্যা, পিষ্যা মুছে ফেলি তার ভবিষ্যত!”

‘কোমল গান্ধার’-এ অনুসূয়া ছয় বছর ধরে অপেক্ষা করে আছে তার প্রেমিকের জন্য, যে বিদেশে থাকে আর তাকে চিঠি লেখে। বিলেত থেকে প্রেমিক ফিরলে তাদের বিয়ে হবে এই আশায় সে দিন গোনে আর নাটকের দলে অভিনয় করে। নাটক করতে গিয়ে ভৃগুর কাছাকাছি আসে এবং একে অন্যের প্রেমে পড়ে। অপেক্ষায় ক্লান্ত অনুসূয়ার হৃদয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সে দোলাচলচিত্ততায় ভোগে। আবার নাটকের দৃশ্যে অনুসূয়া আর শকুন্তলা একাকার হয়ে যায়। ঋত্বিক ঘটক তখন রবীন্দ্র অনুসারী, তার শকুন্তলা তখন বাংলাদেশ। ভৃগু অনুসূয়াকে শকুন্তলা নাটকের দৃশ্য বোঝাতে গিয়ে বলে, “বাঙালি মেয়েদের তো এ সিনে আটকানোর কথা নয়। বিশেষ করে এ যুগে ’৪৭ সালে ফিরে যাও। যেদিন উত্খাত হয়ে চলে আসতে হয়েছিল নিজের বাড়ি থেকে, চেনা জানা সব কিছু থেকে! কেন মনে করো না, এই কলকাতায় তোমার তপোবন! ওই মিছিল চলছে, ওই তোমার নবমালিকা, বনজ্যোৎস্না, ওই একটি ভিখারি মেয়ে তোমার কাছে পয়সা চাইল সে-ই মাতৃহীন হরিণশিশুটি। ভেবে দেখো যদি কোনো দিন এই বাংলাদেশ ছেড়ে, এই কলকাতা ছেড়ে, চিরকালের জন্য চলে যেতে হয়- এই সবই তোমার পায়ে পায়ে আঁকড়ে ধরবে।” একদিন সেও ওপার বাংলায় ছিল আজ সে দেশটা বিদেশ। শুধু নাটকে নয় এ মন্তব্য অনুসূয়ার জীবনকেও প্রভাবিত করে। সিদ্ধান্ত না নিতে পারায় সে আক্ষেপ করে, “আমাদের জীবনগুলো এমন করে জট পাকিয়ে গেলো কেন?” যে মুহূর্তে অনুসূয়া যখন সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না সে এদেশে ভৃগুর কাছে থেকে যাবে না বিদেশে সাগরের কাছে চলে যাবে তখন রাস্তায় প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলনের সহযোগী হয়ে পড়ে সে। জনৈক ব্যক্তির উক্তি “আপনাদের মতো মেয়েরা আজও বাংলাদেশে আছে, তাই আমরাও আছি।” ১৯৫৪ সালের শিক্ষক আন্দোলনকে কয়েকটি মাত্র দৃশ্যে কয়েকটি সংলাপে জুড়ে দিয়েছেন নিপুণ ভাবে। ঐ বছর ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষকদের দফায় দফায় যে ধর্মঘট, রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সামনে অবস্থান হয়, তা এ ছবিতে দু’ একবার উঁকি দেয়। এ দেশের প্রতি নারী হিসাবে তার কর্তব্য অনুসূয়া বুঝতে পারে। বঙ্গনারী যে এক বিশেষ শক্তির আধার! এ ছবির সুপ্ত চরিত্র অনুসূয়ার মায়ের বক্তব্যে স্পষ্ট হয় বঙ্গনারীর প্রকৃত শক্তি, “পিশাচের বর্বরতা বারবার হানা দিচ্ছে এই দেশে। তাই বীর তৈরি করতে হবে, সে ক্ষমতা একমাত্র মেয়েদেরই আছে।” অনুসূয়া দেশ ছাড়ে না বিদেশের প্রেমিককে ফিরিয়ে দিয়ে ভৃগুকে বিয়ে করে দেশে থেকে যায়।

এ ছবিতেও মাঝে মাঝে দেশভাগের কান্না গুমরে গুমরে ওঠে। কাহিনির পটভূমি কলকাতা হলেও মঞ্চে পরিবেশিত নাটকের বিষয় হয়েছে দেশভাগ, উদ্বাস্তু। শুরুতেই নাটকের এক চরিত্র বলছে, “এমন কোমল দেশটা ছাইড়া, আমার নদী পদ্মা ছাইড়া ক্যান যামু?” পরক্ষণেই এদেশে চলে এসে বলে, “এখানকার আকাশটাও ধোঁয়া।” দুটি নাটকের দলের রেষারেষি, মিলন, দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে দুটি তরুণ তরুণীর প্রেমকাহিনি  আসলে দেশভাগের পটভূমিতে দুই বাংলার মিলনের সুর বাজিয়েছে। ঋত্বিক ঘটক রাজনীতির থেকে সাংস্কৃতিক মিলনে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন, দিয়েছেন সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারকে।

‘সুবর্ণরেখা’য় কৌশল্যা বাগদীদের বৌ। উদ্বাস্তু শিবির থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায়। উদ্বাস্তু শিবিরে বিদ্যালয় স্থাপন করা গেলেও নারীর নিরাপত্তা দেওয়া যায়নি। কয়েক বছর পর কৌশল্যা নিদারুণ ভাবে মারা যায়। মারা যাওয়ার সময় সবাই জানতে পারে অভিরাম তার ছেলে। ঈশ্বরের বোন সীতা অভিরামকে ভালোবাসে দাদামণির অমতে পালিয়ে বিয়ে করেছিল। সীতা জাত-পাত দেখেনি, সীতার কাছে অভিরাম একজন মানুষ। অভিরামকে বিয়ে করার পর সীতার জীবনে আসে নতুন মোড়। সাহিত্যিক হবার স্বপ্নে ব্যর্থ অভিরাম নিয়মিত রোজগারও করে উঠতে পারে না। সীতা ভালোবাসার মুখ চেয়ে সব অভাব সহ্য করে আর বাচ্চাকে ভালো থাকার স্বপ্ন দেখায়, নতুন বাড়ির স্বপ্ন দেখায়, রবীন্দ্রসঙ্গীত শেখায় কিন্তু স্বচ্ছলতা দিতে পারে না। একটু স্বচ্ছলতার জন্য সে বিপথগামী হয়ে যায় সে পথেই এসে পড়ে তার দাদা। সীতা নিজেই নিজেকে হত্যা করে। বঁটি দিয়ে নিজের গলা কেটে ফেলে। রামায়ণের মতো এ সীতাও পৃথিবীর কন্যা পৃথিবীর কাছে নিজেই চলে যায়। খুনের দায় চাপে দাদার ওপর। দু’বছর পর দায়মুক্ত হলেও সীতার সন্তানের দায় এসে পড়ে ঈশ্বরের ওপর। অথর্ব, বৃদ্ধ, পুরাতন প্রজন্ম তখন প্রাণোচ্ছল, সরল, নতুন প্রজন্মের হাত ধরে এগিয়ে চলে হোঁচট খেতে খেতে নিরাশার পথে। সীতার মতো তার ছেলেও যে নতুন বাড়ি যেতে চায়!

এ ছবিতে দুর্গা না এলেও কালী এসেছে তাত্পর্যপূর্ণ ভাবে। হঠাৎ করেই ছোট্ট সীতার সামনে কালী মূর্তি এসে পড়ে। দেশ, কাল, সমাজ, সভ্যতা হঠাৎ করে মহাকালের সামনে যেমন পড়ে নিজেদের কর্মদোষে আর ভয় পায়। এই সমাজ আমাদের সকলকেই নিজের শিকড় থেকে মূল্যবোধ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে, শুধুমাত্র বাংলাদেশ থেকে ভিটেমাটি হারিয়ে উঠে আসা অসহায় মানুষগুলোই উদ্বাস্তু নয়, সে অর্থে মূল্যবোধ থেকে বিচ্ছিন্ন সকলেই উদ্বাস্তু। ছবির শেষের দিকে ঈশ্বর বলে ওঠে “ভেবেছ একা আমার বোনেরই এই অবস্থা? তোমাদের বোন নেই?” ‘সুবর্ণরেখা’ এক উদ্বাস্তু কলোনির মানুষের হাহাকার, জীবনযুদ্ধের ছবি। নিশ্চিত আস্তানার অন্বেষণের ছবি। যে অন্বেষণ একা সীতা নয়, সীতার মতো বাংলার হাজার হাজার মেয়েরা করেছে।

ঋত্বিক ঘটক অভিজাত পরিবারের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বড়ো হয়ে, সরোদ প্রশিক্ষণ, রবীন্দ্রচর্চার সঙ্গে নাটক, দেওয়াল পত্রিকায় হাত পাকিয়েছিলেন। শৈশব থেকেই মৈমনসিংহ, পাবনা ঘুরে রাজশাহী থেকে স্কুলের পাঠ শেষ করে বহরমপুরে চলে আসেন বড়দা মনীশ ঘটকের বাড়িতে ইংরাজিতে স্নাতক পড়তে। ততদিনে দেশভাগের কারণে তাঁর পরিবার নিজেদের বাড়ি, দেশ ছেড়ে চলে এসেছে পশ্চিমবঙ্গে, তাঁর আর বাড়ি ফিরে যাওয়া হয়নি, তাঁর সে বাংলা তখন বিদেশ। সে দেশে থেকে গিয়েছিল শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি, বাস্তুভিটে আর তাঁর যমজ বোন।  তাঁর যমজ বোন প্রতীতি ঘটককে শেষবার দেখেছিলেন মুক্তি যুদ্ধের পর, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ ছবি করার সময়। কাগজের অভাবে ঋত্বিক বোনের শাড়িতেই প্রথম স্ক্রিপ্ট লিখেছিলেন। ছবি মুক্তি পাওয়ার পর ঢাকা বিমানবন্দর থেকে ফেরার সময় বোনকে সঙ্গে করে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন, দিল্লি ফোন করে অনুমতি চেয়েও অনিবার্য কারণে আনতে পারেননি। সেদিন কাঁদতে কাঁদতে ফিরেছিলেন এ পারে। ভবা আর ভবি (ঋত্বিক ও প্রতিতী ঘটক) চিরতরে আলাদা হয়ে গেলেন। স্বজনহারার ব্যাথা তাঁকে চিরদিন কাঁদিয়েছে। ছিন্নমূল হয়ে যাওয়ার সে দুঃখ তাঁকে বরাবর কষ্ট দিয়েছে। সে কষ্ট প্রতিফলিত হয়েছে তাঁর প্রায় সব ছবিতে।

১৯৭১ সালে মুক্তি আন্দোলনের পরেই বাংলাদেশের ডাকে ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ ছবিটি করতে ছুটেছিলেন প্রাণের টানে। সে ছবিতেও বাসন্তী অনন্তর মা, কিশোর সবাই স্বজন হারার দুঃখে কাতর হয়েছে। অদ্বৈত মল্লবর্মণের কাহিনিতে বাসন্তী আর অনন্তর মা এই ছবির প্রধান চরিত্র। অনন্তর মা যতটা সরল ঠিক ততটায় বুদ্ধিমতী বাসন্তী। তিতাসের মতোই ভরা যৌবনবতী বাসন্তী ‘পদ্মানদীর মাঝি’র কপিলার কথা মনে করায়। তবে স্বভাব তার কপিলার মতো নয় বরং বাল্যবিধবা বাসন্তী স্নেহময়ী, সাহসী ও বিদ্রোহী। সে মায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে মা-হারা অনন্তকে পালন করার জন্য। অনন্ত তাকে ছেড়ে চলে গেলে বড় দুঃখ পায়। রাগ হয়! মারে, গালাগালি দেয়, আবার কাঁদে। বিধবার ব্রতচারিনী বাসন্তীর দিকে বাবুদের কুনজর পড়লে কীভাবে বাবুকে শায়েস্তা করতে হয় বাসন্তী তা জানে। আবার বাবুরা বাসন্তীর নামে কলঙ্ক দিলে গ্রামে মিটিং ডেকে তার দুর্নামের বিচার চায়, কৈফিয়ত চায় মোড়লের কাছে। সে স্পষ্ট বলে, “আমি সগগল পারি, আর কিছু না পারি, আগুন লাগাইয়া গাও জ্বালাইয়া দিতাম পারি।” তার সাহসের মূল্য দিতে হয়েছে অবশ্য গোটা গ্রামকে, বাসন্তীকেও। বাসন্তী না খেয়ে মরছে তবু মান বিক্রি করেনি। কোনও পুরুষকে সে কামনা করেনি। তিতাসের শুকিয়ে যাবার সঙ্গে সঙ্গে তাদের জীবনও শুকিয়ে যায়। তিতাস, অনন্ত সবাইকে ছেড়ে শেষবারের মতো বাঁচার চেষ্টা করে, বালি খুঁড়ে জল বার করে খায়। বাসন্তী জীবনের লড়াই চালিয়া যায়!

এদিকে অনন্তর মা নিরীহ। সে বাবা-মায়ের ইচ্ছাতে অপরিচিত কিশোরের সঙ্গে মালা বদল করে, একঘরে রাত্রিবাস করে, বিয়ে না করেই কিশোরের সঙ্গে চলে যায়। রাস্তায় ডাকাতের হাতে পড়ে, কিশোরের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে যায়, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় অন্যের ঘরে আশ্রয় নেয়। তার জীবনের সবকিছুই অদৃষ্টের নিয়মে হয়েছে। সে তার জীবনের একটি মাত্র সিদ্ধান্ত নিজে নিয়েছে। তার বাচ্চার বাবার পরিচয় দেবার জন্য কিশোরের গ্রামে এসেছে। সেখানে এসে সে জীবনযুদ্ধে হেরে গিয়ে দশ বছরের অনন্তকে রেখে মারা গেছে। অনন্তর মা মারা গেলে তাকে মাঝে মাঝে ভগবতীর রূপে দেখেছে অনন্ত। অনন্ত শুনেছিল যে সবার মা সে ভগবতী। আসলে অনন্তের মা, বাসন্তীর মতো মেয়েরা তো ভগবতীই! নীতার মতো মেয়েরা তো জগদ্ধাত্রী।

‘যুক্তি-তক্কো আর গপ্পো’তে দুর্গা তার একমাত্র সন্তানকে মানুষ করার জন্য মদ্যপ স্বামীর সাহচর্য ছেড়ে গেছে নির্মল আশ্রয়ের খোঁজে। মফস্বলে শিক্ষিকার চাকরি নিয়ে একা থাকে তার মদ্যপ স্বামীর কাছ থেকে ছেলেকে দূরে রাখার জন্য। দুর্গা সচেতন, দৃঢচেতা ও শিক্ষিতা, স্বনির্ভর নারী। এদিকে নীলকন্ঠের বাড়ির দরজা খোলা পেয়ে ভিতরে চলে আসে একটি কিশোরী, ওপার বাংলা থেকে আশা এক উদ্বাস্তু মেয়ে বঙ্গবালা, সে টোল- পণ্ডিতের মেয়ে, সব হারিয়ে এ দেশে এসেছে আশ্রয়ের খোঁজে। নীলকণ্ঠ বাগচীর মতে বর্ডারের ওপার থেকে আসা বঙ্গবালার মতো হাজার হাজার নীড় হারা পাখিই বাংলাদেশ। বঙ্গবালা গৃহহীনা, অসহায়, তবে সাহসী ও বুদ্ধিমতী। সে মদ্যপ নীলকণ্ঠের ওপর ভরসা করতে ভয় পায় না, তরুণ নচিকেতার সঙ্গ পছন্দ করে। সেও নীলকণ্ঠ-নচিকেতার মতো নীড় হারা পাখিদের দলে মিশে যায়।

এখানে আর এক দুর্গাকে দেখা যায়, ছৌনাচের মুখোশ দুর্গা। এই দুর্গার প্রাণ প্রতিষ্ঠার অধিকার শুধু পুরুষেরই আছে, নারীর নেই। বঙ্গবালা জোড় করে সে নিয়ম ভাঙ্গে। সে দুর্গার মুখোশ পড়ে ছৌনৃত্যে অংশ নেয়, দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠার অধিকার যে শুধুমাত্র পুরুষেরই নেই, নারীরও আছে সে প্রতিবাদ প্রতিষ্ঠিত হয় সেখানে।

এ ছবিতে উনিশশো সত্তর-একাত্তরের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনা বাহিনীর আক্রমণ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশ থেকে আসা উদ্বাস্তু ও পশ্চিমবঙ্গে সত্তরের দশকে মাথাচাড়া দেওয়া নকশালবাড়ি আন্দোলন পাশাপাশি রয়েছে। আংশিক আত্মজীবনীর মোড়কে তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা দেখিয়েছেন। দেখিয়েছেন তাঁর নিজস্ব যুক্তি, তর্ক দিয়ে বিশ্লেষণ করে। এক মদ্যপ বুদ্ধিজীবী, এক অরাজনৈতিক ব্যক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ করেছেন। নীলকন্ঠ বাগচী নকশালদের কাছে নিজের পরিচয় দেয় ভাঙ্গা বুদ্ধিজীবী বলে। নকশালদের ভাষায় সে ক্ষয়িষ্ণু সমাজের একটা হারিয়ে যাওয়া, ফুরিয়ে যাওয়া প্রতিনিধি। সে নিজের প্রজন্ম সম্পর্কে বলেছে, আমাদের জেনারেশনটা হয় চোর, নয় বিভ্রান্ত, না হয় কাপুরুষ। তার কাছে সত্তরের দশকের তরুণ প্রজন্ম ‘ক্রিম অফ বেঙ্গল’। তাদের বুদ্ধি, একাগ্রতা, প্রতিভা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই কিন্তু তারা মিসগাইডেড, অগ্নিযুগের তরুণদের মতো। নকশালদের সশস্ত্র আন্দোলন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতে চেয়েও নানা ভুলের কারণে তখন ব্যর্থ। তাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন তোমরা একই সঙ্গে সফল ও বিফল। আমরা কনফিউসড, আমরা সবাই দিশেহারা হয়ে হাতড়ে হাতড়ে বেড়াচ্ছি। শেষসময়ে নীলকণ্ঠ বাগচী বলে যায় মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মদন তাঁতির কথা, যত কঠিন পরিস্থিতিই আসুক মূল্যবোধ থেকে সরে গিয়ে আপস না করতে। নিঃশেষ অনিবার্য জেনেও নীতিভ্রষ্ট না হতে। 

ঋত্বিক ঘটক এ দেশের এক উত্তাল সময়ে জন্মেছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের চাবুকের ঘায়ে যখন সারা বিশ্ব কাতর, অসহযোগ আন্দোলন যখন ভারত ছেয়েছে তখন, ১৯২৫ সালে। তাঁর পঞ্চাশ বছরের জীবনে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, তেতাল্লিশের মন্বন্তর, হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা, ভারতের স্বাধীনতা লাভ আর দেশভাগ দেখেছেন, শিক্ষক আন্দোলন, খাদ্য আন্দোলন, বাংলা ভাষা আন্দোলন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, নতুন বাংলাদেশের জন্ম,  পশ্চিমবঙ্গের নকশালবাড়ি আন্দোলন দেখেছেন। দেখেছেন কুটিল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে লক্ষ লক্ষ নিরপরাধ মানুষকে গৃহহীন হতে। দেখেছেন লক্ষ লক্ষ বঙ্গবালাকে হারিয়ে যেতে, কুকুর, শূকর, হায়নায় ছিঁড়ে খেতে। তাই তাঁর ছবিতে উঁকি মারে হরিদাসের মা!

বাংলাদেশ তাঁর কাছে মা। এ বাংলাদেশের মানুষই তাঁর কাছে সব। মানুষের জন্যই তিনি ছবি করেছেন। তিনি নিজের ছবি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বলেছেন, “আমি যেমন উত্তালভাবে স্লোগানপিয়াসী নই তেমনি আমি শুধুই ‘মানবিক সম্পর্কবোধ’-এর প্রকাশের জন্য ছবি করাও ঘৃণ্য বলে মনে করি আমি মনে করি ওটা চালাকি, আসলে ফাঁকি।”

পুনে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইন্সটিটিউট, ২৬টি নাটক, বারোটি তথ্যচিত্র ও স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি এবং ছ’টি অসমাপ্ত ছবির সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে থাকলেও তাঁর মূল বক্তব্য যেন ‘অযান্ত্রিক’ বাদে ‘নাগরিক’ থেকে ‘যুক্তি-তক্কো আর গপ্পো’তে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত! বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির মতো তাঁর ছবির সীতা, উমা, নীতা, অনুসূয়া, বাসন্তী, অনন্তের মা, দুর্গা, বঙ্গবালা চরিত্রগুলিও বিবর্তিত হয়েছে সেই ধারাবাহিকতায়। আপাত নিরীহ নাগরিকের সীতা থেকে সংসারের ভার নেওয়া নীতা, জীবনসঙ্গী পছন্দের অধিকার ও দেশের প্রতি কর্তব্যের অনুভূতি নিয়ে অনুসূয়া, প্রতিবাদী ঈশ্বরের বোন, আরো পরে প্রতিবাদী বাসন্তী, তারও পরে সংসার ও সমাজের কুপ্রথাকে ভেঙ্গে ফেলার সাহস নিয়ে দুর্গা ও বঙ্গবালা হাজির হয়। এরা যেন এক সুতোয় বাঁধা বাংলার নারীশক্তি! এদের সবাইকে তিনি গড়েছেন বঙ্গসংস্কৃতির জল, মাটি দিয়ে। এরা সবাই মিলে হয়ে উঠেছে গোটা একটা বাংলাদেশ, যে বাংলাদেশ ছিল তাঁর কাছে মা, ছিল দুর্গা, জগদ্ধাত্রী, ভগবতী।

তথ্যসূত্র

১.  “জন্ম শতবর্ষে ঋত্বিক ঘটক, বিশেষ সংখ্যা”, ‘সংবর্তক, একবিংশ বর্ষ, প্রথম সংখ্যা’, জানুয়ারি, ২০২৫।

২. “শতবর্ষে তপন সিনহা ও ঋত্বিক ঘটক”, ‘সিনেমাথেক কলকাতা, বিশেষ সংখ্যা, একাদশ বর্ষ, অষ্টম সংখ্যা’, ডিসেম্বর, ২০২৪।

৩. প্রতীতি দত্ত ঘটক, আলাপন, “বাংলা দ্বিখণ্ডিত হওয়ার ঘটনা অভিশাপের মতো”, ‘ক্যানভাস’, ৬ আগষ্ট, ২০১৮।

৪. ঋত্বিক কুমার ঘটক, ‘চলচ্চিত্র মানুষ এবং আরো কিছু’; দে’জ পাবলিশিং, ২০০৫।

৫. অপূর্ব কুমার দে, “নাটকে ঋত্বিক”, ‘বঙ্গদর্শন, বঙ্কিম-জয়ন্তী’, জুন, ২০২৫।

৬. সুরমা ঘটক ‘ঋত্বিক’; অনুষ্টুপ প্রকাশনী, ১৯৯৫।

মন্তব্য তালিকা - “ঋত্বিক ঘটকের চলচ্চিত্রে নারী”

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।