কুডা কেভস, মাণ্ডাগোরা বন্দর এবং মহাভোজ রাজবংশ
“তো আপ কুডা কেভস দেখকে আইয়ে।”
“কুডা কেভস? ও কেয়া? হ্যায় কাহাঁ?”
“বহুত পুরানা বুদ্ধিস্ট কেভস হ্যায় ইয়ে কুডা কেভস। যাদা দূর নেহি। লগভগ পঁচ্চিশ কিলোমিটার হ্যায় ইঁহাসে।” উত্তর দিয়েছিলেন মুরুদ মারিনা হোটেলের ম্যানেজার।
কয়েক বছর আগের কথা। কোভিড তখন যাবো যাবো করছে। বেড়াতে গিয়েছিলাম মুম্বাই থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে আরব সাগরের তীরে মুরুদ-এ। রায়গড় জেলার অন্তর্ভুক্ত এই মুরুদের প্রধান আকর্ষণ হল জঞ্জীরা ফোর্ট। সেই জন্য মুরুদকে অনেক সময় মুরুদ-জঞ্জীরাও বলা হয়। সেই জঞ্জীরা ফোর্ট দেখতেই গিয়েছিলাম মুরুদে। কিন্তু গিয়ে জেনেছিলাম যে কোভিড-জনিত কারণে জঞ্জীরা ফোর্ট বন্ধ। তাই হোটেল ম্যানেজারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে আশেপাশে ঘুরে দেখার মতো অন্য কোনও ঐতিহাসিক জায়গা আছে কিনা। তখনই জেনেছিলাম কুডা কেভস-এর কথা। মুরুদের দক্ষিণে আছে রাজাপুরী খাড়ি। এই খাড়ির একটু উজানে, খাড়ির দক্ষিণদিকের এক পাহাড়ের উপর আছে কুডা কেভস।
কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসের সেই ট্রিপে কুডা কেভস দেখা হয়নি। কারণ গুগলম্যাপ কুডা কেভস-এর সঠিক লোকেশন খুঁজে বের করতে পারেনি। রাজাপুরী খাড়ি পেরিয়ে একটা পাহাড়ের কিছুটা উপরে নিয়ে গিয়ে এমন জায়গায় গুগলম্যাপ ছেড়ে দিয়েছিল, যেখানে না ছিল কোনও কেভস, না ছিল রাস্তা বাতলানোর জন্য লোকজন। ফিরে এসেছিলাম হতাশ হয়ে।
আবশ্য বেশিদিন অপেক্ষা করতে হল না একে দেখার জন্য। সুযোগ এসে গেল কয়েক মাসের মধ্যেই। ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান বানিয়েছিলাম শ্রীবর্ধনের জন্য – মুরুদ থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে আরব সাগরের তীরে, সেটি আর এক টুরিস্ট স্পট। মুম্বাই থেকে শ্রীবর্ধন যাওয়ার রাস্তা যায় কুডা কেভস-এর একদম পাশ দিয়ে। তাই ঠিক করলাম যে এইবার কুডা কেভস দেখতে হবেই।
যাতে আগেরবারের মত একদম শেষে গিয়ে খেই হারিয়ে না ফেলি, তাই যাওয়ার কয়েকদিন আগে থেকে নেট-এ কুডা কেভস-এর সঠিক লোকেশন খোঁজাখুঁজি শুরু করলাম। খুঁজে যা বুঝলাম তা হল, আমরা যে পাহাড়ে আগেরবার উঠেছিলাম ওই পাহাড়েই আরও উপরে ছিল কুডা কেভস, কিন্তু তাতে পৌঁছানোর রাস্তা ছিল অন্য। আমরা যেদিক থেকে পাহাড়ে উঠেছিলাম, তার উল্টোদিকের রাস্তায় আছে ‘কুডা কেভস এন্ট্রান্স পয়েন্ট’; সেখান দিয়ে যেতে হয়।
তবে এই যাত্রাতেও কুডা কেভস খুঁজে পেতে কতটা কসরত করতে হয়েছিল, সে কথায় পরে আসছি।
শুরুতে ‘কুডা কেভস এন্ট্রান্স পয়েন্ট’ খুঁজে পেতে কোন অসুবিধে হয়নি; রাস্তার একদম উপরে। সেখান থেকে একটা পাথুরে রাস্তা উঠে গিয়েছে পাহাড়ের উপরে। খুব একটা খাড়াই নয় এবং বেশ চওড়া। তাও গাড়ি নিয়ে যাওয়ার ভরসা পেলাম না। শুরু করলাম হাঁটতে। প্রায় দেড় কিলোমিটার হাঁটার পর দেখলাম রাস্তাটা শেষ; আর সেখান থেকে খুব সরু একটা পায়ে-হাঁটা পথ ঢুকে গিয়েছে গাছগাছালির মধ্যে দিয়ে।
এতক্ষণে রাস্তায় অন্য কোনো লোকের দেখা পাইনি। কুডা কেভস-এর দিকনির্দেশ দেওয়া কোন সাইনবোর্ডও রাস্তায় ছিল না; যা দেখতে পেয়েছিলাম তা হল এ. এস. আই.-এর খান দুই সাইনবোর্ড। তবে সেই সাইনবোর্ডে খুব সাধারণ কিছু সাবধানবাণী লেখা ছিল, এই গুহা নিয়ে কিছু লেখা ছিল না। একটু ধন্দে পড়ে গেলাম। ঠিক রাস্তায় চলছি তো? আরও আগে যাব, নাকি এইবারও কুডা কেভস না দেখেই ফিরতে হবে?
যখন একই জায়গায় দাঁড়িয়ে এই সব সাতপাঁচ ভাবছি তখন কানে এল কিছু মহিলাকণ্ঠ। মিনিট খানেক অপেক্ষা করার পর দেখা মিলল কণ্ঠস্বরের অধিকারিনীদের। পাঁচ-ছয় জন মারাঠি মহিলা পাহাড়ের উপর জঙ্গল থেকে কাঠ কুড়িয়ে ফিরছেন। আশেপাশে কোন গুহা আছে কি না তাদেরকে জিজ্ঞেস করলাম। কিন্তু সমস্যা হল ভাষার। তারা হিন্দি বোঝেন না; আর আমি মারাঠিতে পণ্ডিত! এই সময় দলের সবচেয়ে বয়স্ক মহিলা এগিয়ে এলেন। জিজ্ঞেস করলেন “লেনি, লেনি?” সৌভাগ্যক্রমে এইটা জানতাম যে মারাঠিতে গুহাকে বলা হয় ‘লেনি’। মাথা নেড়ে হ্যাঁ-সূচক ভঙ্গিমা করতেই যেদিকে রাস্তা সরু হয়ে গিয়েছে, ভদ্রমহিলা সেই দিকে হাত দেখিয়ে বললেন ‘সরল’। মহারাষ্ট্র চষে বেড়ানোর সুবাদে জানতাম যে ‘সরল’ মানে সোজা যেতে হবে। তাই হেসে ‘থ্যাংক ইউ’ বলে আবার হাঁটা লাগলাম জোর কদমে। এক’শ- দেড়’শ মিটার গিয়ে অবশেষে দেখা পেলাম কুডা কেভস-এর।
ব্যাসল্ট পাথর কেটে বানানো কুডা কেভস-এর গুহাগুলো বিন্যস্ত আছে দু’টি ধাপে বা দু’তলায়। আর সেই দু’তলার মধ্যে সংযোগ রক্ষা করছে পাথর কেটে বানানো এক ‘হেয়ারপিনবেন্ড-ওয়ালা’ সিঁড়ি। মোট কুড়িটি গুহা আছে এই কুডা কেভস কমপ্লেক্সে – নিচের তলায় পনেরোটি, উপরের তলায় চারটি আর সিঁড়ির বেন্ড-এ একটি। পাহাড়ের পশ্চিম ঢালে বানানো বলে সব ক’টি গুহাই পশ্চিমমুখী।
এই প্রসঙ্গে একটা কথা বলে রাখি। কুডা কেভসের মোট গুহার সংখ্যা নিয়ে মতপার্থক্য হতে পারে। আমি নিজে কুড়িটা গুহা গুনলেও, বিভিন্ন জায়গায় কুডা কেভস-এ গুহার সংখ্যা ‘পনেরো’ দেওয়া আছে। আমি তো প্রত্নতত্ত্ববিদ নই। তাই আমার গোনায় ভুল হলেও হতে পারে।
কুডা কেভস-এর গুহাগুলির নির্মাণ শুরু হয়েছিল সাধারণ পূর্বাব্দের প্রথম শতকে। পরবর্তীকালে গুহাগুলির আরও পরিবর্ধন এবং পরিমার্জন হয়। প্রথম দিকে এই গুহাগুলোতে হীনযান মতাবলম্বীরা থাকলেও, পরের দিকে এই সব গুহা মহাযান মতাবলম্বীদের হাতে চলে যায়। ঠিক কোন সময় কুডা কেভস পরিত্যক্ত হয়ে যায় তা নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। এর অস্তিত্ব সম্পর্কে আধুনিক পৃথিবী অবহিত হয় ১৮৫৪ সালে, রেভারেন্ড জে. স্টিভেনসনের লেখা থেকে।
কুডা কেভ কমপ্লেক্স-এ ঢুকেই যে গুহাটা প্রথমে পড়ে (গুহা নং ১), সেটি ছিল এক চৈত্য। আকারে বেশ বড়ো, প্রথমেই আছে এক অপ্রশস্ত বারান্দা। তারপর এক বড়ো হল ঘর। হলের ভিতরের দিকে আছে দু’টো পিলার। পিলারের পর হল একটু অপ্রশস্ত হয়ে ভিতরে ঢুকে গিয়েছে আর সেখানে রয়েছে স্তূপ।

গুহা নং ১-এর চৈত্য হলঘর এবং স্তূপ
১ নং গুহার পরের চারটি ঘর (গুহা নং ২ – ৫) ছিল বিহার। এর মধ্যে ২ নং আর ৩ নং গুহা মাপে ছিল বেশ ছোটো। ৬ নং গুহাটি পুরো কেভ কমপ্লেক্সের মধ্যে সবচেয়ে সুসজ্জিত এবং এই গুহাটি ছিল এক চৈত্য। একসময় এই গুহার ঢোকার বারান্দার দু-দিকে শুঁড়-সহ হাতির মাথা ছিল, যদিও এখন একটি মাথাই টিকে আছে। গুহার ভিতরে প্রধান হলের ভিতরের দেওয়াল বরাবর আছে বসার জন্য পাথরের বেঞ্চ। এই গুহার ক্ষেত্রেও ভিতরের পিলারের পর হলঘর একটু অপ্রশস্ত হয়ে ভিতরে ঢুকে গিয়েছে আর সেখানে রয়েছে স্তূপ। স্তূপ নির্মাণে যারা অনুদান দিয়েছিলেন দুইপাশের দেওয়ালে তাদের খোদাই করা প্রতিকৃতি দেখা যায়। এই প্রতিকৃতিগুলোর ভঙ্গি, পোশাক, গয়না ও মুকুট ইত্যাদি কার্লা গুহার বারান্দার মূর্তিগুলোর মতোই দেখতে। তবে এই মূর্তিগুলো সম্ভবত কার্লার মূর্তিগুলোর সমসাময়িক নয়; পরবর্তীকালে বানানো। এছাড়া চৈত্য হলঘরের দুইধারের দেওয়ালে এবং গুহায় ঢোকার বারান্দার পিলারেও রয়েছে পদ্মের উপর বসা গৌতম বুদ্ধে প্রতিকৃতি। এই গুহার ভাস্কর্য সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের অভিমত হল যে, পৃষ্ঠপোষকদের প্রতিকৃতি এবং অন্যান্য ভাস্কর্য গুহা নির্মাণের সময়কার হলেও, চৈত্য হলঘরের দুইধারের দেওয়ালে এবং গুহায় ঢোকার বারান্দার পিলারে বুদ্ধমূর্তি খোদিত হয়েছিল সাধারণ অব্দের পঞ্চম-ষষ্ঠ শতকে, যখন ওইসব গুহায় থাকতেন মহাযান মতাবলম্বীরা।

৬নং গুহার প্রবেশপথ

গুহা নং ৬-এর চৈত্যের ধারের দেওয়ালের উপর করা ভাস্কর্য
এক তলার বাকি সবগুলো গুহা ছিল বিহার; শুধু ৯ নং গুহা ছাড়া। ৯ নং গুহাতেও রয়েছে স্তূপ, কিন্তু ৯ নং গুহাটি এতো ছোটো যে সেটি চৈত্য হিসাবে ব্যবহার হত কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে। বাকি গুহাগুলোর মধ্যে ৭ নং গুহা ছিল বেশ বড়ো।
একতলার গুহাগুলোয় দুটো জিনিস চোখে পড়লো। প্রত্যেকটা গুহাতেই, সে বিহার হোক বা চৈত্য, বারান্দা ছিল। অর্থাৎ বাইরে থেকে ঢোকার সময় প্রথমে আসত বারান্দা এবং তারপর প্রধান কক্ষ। আর যে গুহাগুলি বিহার ছিল, সেগুলির কয়েকটার বারান্দায় জল ধরে রাখার ব্যবস্থা ছিল। আবার দু-এক জায়গায় গুহার বাইরেই ছিল জল ধরে রাখার বন্দোবস্ত।
একতলা থেকে দোতলায় ওঠার সিঁড়ির মাঝামাঝি অর্থাৎ যেখানে সিঁড়ির ‘হেয়ার পিন বেন্ড’ সেখানে ছিল গুহা নং ১৬। এই গুহা সম্ভবত ছিল চৈত্য, কারণ এই গুহাতে রয়েছে স্তূপ। মাপে এই গুহা ১ নং এবং ৬ নং গুহার থেকে ছোটো হলেও ৯ নং গুহার থেকে বেশ বড়ো যে ছিল সেটা দেখেই বোঝা যায়।
দোতলার গুহাগুলির (১৭ নং – ২১ নং) সবগুলিই ছিল বিহার এবং বেশ ছোট্ট। প্রত্যেকটা গুহাতেই একতলার গুহাগুলোর মত বারান্দা ছিল। এক তলার গুহাগুলোর সামনেটা গাছপালায় ঢাকা থাকলেও, দোতলার গুহাগুলোর সামনে কোন গাছপালা নেই। ফলে সেখান থেকে পরিষ্কার দেখা যায় রাজাপুরী খাড়ি। আজকের দিনে রাজাপুরী খাড়ি একটি গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যজীবী কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে, যেখানে স্থানীয় মানুষের বড়ো অংশ মাছ ধরা, নৌকা নোঙর করা এবং মাছ নামানোর কাজে নিয়োজিত। পাশাপাশি, এই খাড়ি থেকেই নৌকার মাধ্যমে পর্যটকরা মুরুদ-জাঞ্জীরা দুর্গে যাতায়াত করেন, ফলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন প্রবেশদ্বার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও, আশেপাশের গ্রামগুলোর মধ্যে স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতের জন্য এটি স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কাজ করে। খাড়ির উজান অংশে কিছু ক্ষেত্রে মাছ ও চিংড়ি চাষের মতো জলজ চাষও দেখা যায়। তবে একসময় কিন্তু এই রাজাপুরী খাড়ি দিয়ে আরব সাগর থেকে জাহাজ ঢুকত; অতীতে হয়তো রোমান বাণিজ্যতরীও। কবে? আজ থেকে অন্তত দু’হাজার বছর আগে তো বটেই; মাণ্ডাগোরা বন্দরের উদ্দেশ্যে। আর মাণ্ডাগোরা বন্দর ছিল বলেই গড়ে উঠেছিল কুডা কেভস।
সাধারণ অব্দের একদম গোঁড়ার দিকে, ভারত এবং রোমান সাম্রাজ্যের মধ্যে হত জবরদস্ত নৌবাণিজ্য। এই দুই সাম্রাজ্যের মধ্যের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারভাবে শুরু হয়েছিল ৩১ সাধারণ পূর্বাব্দে, সম্রাট অগাস্টাস রোমান সাম্রাজ্যের সিংহাসনে বসার পর। সেই সময় রোমানরা ভারত থেকে নিয়ে যেত দারুচিনি, গোলমরিচ, সুগন্ধি বৃক্ষ থেকে প্রস্তুত দামি মলম, জাফরান, হিমালয় থেকে প্রাপ্ত ভেষজ মূল, হাতির দাঁত, রজন, মসলিন এবং রেশম, রত্নপাথর, আবলুস কাঠ এবং সেগুন ইত্যাদি। আর ভারতে নিয়ে আসতো মদ, দুই হাতল যুক্ত পানপাত্র, মৃৎপাত্র ইত্যাদি। সাধারণ অব্দের দ্বিতীয় শতকের শেষের দিকে বিশ্বব্যাপী রোমান সাম্রাজ্য অর্থনৈতিক মন্দার সম্মুখীন হলে, প্রায় দু’শত বছর ধরে চলা এই ইন্দো-রোমান নৌবাণিজ্য ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়।
ইন্দো-রোমান নৌবাণিজ্যের সুবাদে সেই সময়ে ভারতের পশ্চিম উপকূলে গড়ে উঠেছিল অনেকগুলো বন্দর যার একটা তালিকা আমরা পাই আনুমানিক ৭৫ সাধারণ অব্দে লেখা ‘পেরিপ্লাস অফ দ্য ইরিথ্রিয়ান সী’ গ্রন্থে। এই বন্দরগুলির অনেকগুলোই ছিল আজকের মহারাষ্ট্রে।

পেরিপ্লাসে উল্লিখিত তদানীন্তন ভারতের বন্দর
যারা মহারাষ্ট্রে থাকেন, থেকেছেন বা ঘুরেছেন, তারা জানেন যে মহারাষ্ট্রের উপকূলবর্তী অঞ্চলের প্রায় পুরোটাকেই দাক্ষিণাত্য মালভূমি থেকে আলাদা করে রেখেছে পশ্চিমঘাট পর্বতমালা। অর্থাৎ পশ্চাদভূমি থেকে আরব সাগরের তীরে যেতে হলে, পশ্চিমঘাট পর্বতমালা অতিক্রম করা ছাড়া উপায় নেই। সাধারণ অব্দের শুরুর সময় দাক্ষিণাত্যের প্রধান শহর, শিল্প এবং বাণিজ্যকেন্দ্রগুলি সবই ছিল দাক্ষিণাত্য মালভূমিতে। ইন্দো-রোমান নৌবাণিজ্য শুরু হতে সেই সব শিল্পাঞ্চল, বাণিজ্যকেন্দ্র এবং উপকূলবর্তী বন্দরগুলির মধ্যে মাল পরিবহন শুরু হল পশ্চিমঘাট পর্বতমালার গিরিপথ দিয়ে। তখন দেখা দিল এক নতুন সমস্যা।
সে যুগে মাল পরিবহন হত বলদে টানা গাড়িতে। পশ্চিমঘাট পর্বতমালা পেরোতে এই যানগুলোর লেগে যেত একাধিক দিন। তাতে সমস্যা হল এইসব মাল বোঝাই গাড়ি রাতে থাকবে কোথায়? কোথায় বিশ্রাম নেবে গাড়োয়ান এবং শকটের সঙ্গে ভ্রমণরত ব্যবসায়ী? জঙ্গলে ভরা পশ্চিমঘাট পর্বতমালায় না ছিল কোনো লোকবসতি, না ছিল কোনো সরাইখানা। রোমান সাম্রাজ্যে মাল রপ্তানি করে নিজেদের সম্পদ বৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে চাইলে দাক্ষিণাত্যের তদানীন্তন বণিকগোষ্ঠীর এবং শাসককুলের এই সমস্যার সমাধান না করে কোন উপায় ছিল না।
সেই সময় দাক্ষিণাত্যে আর একটা ঘটনা ঘটছিল। সাধারণ মানুষদের মধ্যে বৌদ্ধ ধর্ম প্রভাব বিস্তার করছিল খুব দ্রুতগতিতে। শাসককুল এবং বণিকগোষ্ঠীর কাছে ধর্মভীরু সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল যে তারা ধর্মগুরুদের অর্থাৎ বৌদ্ধ শ্রমণদের থাকা এবং ধর্মসাধনার পরিকাঠামো বানিয়ে দেবেন। এদিকে বৌদ্ধ শ্রমণরা তো লোকালয়ের মধ্যে থাকবেন না। অতএব তাদের জন্য লোকালয়ের বাইরে বিহার এবং চৈত্য বানিয়ে দেওয়ার দায়িত্বও চেপেছিল স্থানীয় শাসককুল এবং বণিকগোষ্ঠীর কাঁধে।
এই দুই পারস্পরিক সংযোগহীন অর্থনৈতিক এবং সামাজিক দাবি মেটানোর জন্য দাক্ষিণাত্যের সেই সময়ের বণিকগোষ্ঠী এবং শাসককুল একটাই পন্থা নিলেন। তারা পশ্চিমঘাট পর্বতমালার মধ্যে দিয়ে উপকূল আর দাক্ষিণাত্য মালভূমির মধ্যে যতগুলো বাণিজ্যপথ ছিল, সেই বরাবর বানিয়ে দিলেন বৌদ্ধ শ্রমণদের জন্য গুহাবিহার এবং গুহাচৈত্য। এতে একদিকে যেমন বৌদ্ধধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করাও হল আবার অন্যদিকে পশ্চিমঘাট পর্বতমালার পাহাড়ি বাণিজ্যপথে রাত কাটানোর সমস্যার সমাধানও হয়ে গেল। ক্রমশ এই গুহাবিহারগুলোই হয়ে উঠলো বাণিজ্যপথের যাত্রীদের রাত কাটানোর চটি। মহারাষ্ট্রের পশ্চিমঘাট পর্বতমালায়, উত্তরে দাহানুর কাছে বাহরোট থেকে দক্ষিণে গোয়া পর্যন্ত, যে হাজারেরও বেশি বৌদ্ধ গুহা আজ আমরা দেখতে পাই, সেগুলির গড়ে ওঠার পিছনে কারণ ছিল এইটাই। কুডা কেভসও এর ব্যতিক্রম নয়।
কুডা কেভস যে পাহাড়ের উপর অবস্থিত, তার কাছেই, রাজপুরী খাড়ির ধারে আছে এক গ্রাম, নাম মান্ডাদ। ঐতিহাসিকদের বক্তব্য হচ্ছে আজকের এই মান্ডাদই ছিল সাধারণ অব্দের শুরুর সময়ে এই অঞ্চলে শাসক মহাভোজ (মহাভোজিকা) রাজবংশের রাজধানী মান্ডভ। মোটামুটিভাবে আজকের রায়গড় জেলায় ছিল মহাভোজদের রাজত্ব। প্রথমদিকে এরা সাতবাহনদের সামন্ত রাজা ছিলেন। সাতবাহনদের পতনের পর তারা পশ্চিমা ক্ষত্রপদের সামন্ত রাজা হয়ে যায়।
আজকের মান্ডাদকে মহাভোজদের রাজধানী মান্ডভের সঙ্গে মিলিয়ে দিয়েই ঐতিহাসিকরা ক্ষান্ত হননি। তাদের আরও একটা বক্তব্য আছে। তাদের ধারণায় আজকের মান্ডাদ অর্থাৎ সে যুগের মান্ডভই ছিল পেরিপ্লাসে আর টলেমির লেখা ‘জিয়োগ্রাফিয়াতে’ উল্লিখিত পশ্চিম উপকূলের এক বন্দর মান্ডাগোরা, যা দিয়ে কোঙ্কনের সঙ্গে ব্যবসাবাণিজ্য চলত রোমানদের।
কিসের ভিত্তিতে ঐতিহাসিকরা এক সুতোয় গেঁথে ফেললেন মান্ডাদ, মান্ডভ আর মান্ডাগোরাকে? ঐতিহাসিকদের এই সিদ্ধান্তের ভিত্তি হল ২০১৮ সালে মান্ডাদে খনন করে পাওয়া সাতবাহনদের সময়কার মাটির পাত্র এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের আমফোরার ভাঙ্গা হাতল; জুন্নার (নাসিকের কাছে), চউল (মান্ডাদের উত্তরে) এবং কারাদ-এ (মান্ডাদের দক্ষিণে) খুঁজে পাওয়া মহাভোজদের মুদ্রা এবং কুডা কেভস-এ পাওয়া এক ঝাঁক লেখ থেকে উদ্ধার করা তথ্য। আর এই লেখগুলির কারণেই কুডা কেভস হয়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ।
কুডা কেভস-এ পাওয়া গিয়েছে মোট তিরিশটি (মতান্তরে একত্রিশটি) লেখ। এই লেখগুলির কিছু লেখা হয়েছিল সাধারণ অব্দের প্রথম শতকের আগে – ব্রাহ্মীলিপিতে এবং পালি ভাষায়। বাকিগুলি লেখা হয়েছিল সাধারণ অব্দের চতুর্থ শতকে – ব্রাহ্মীলিপিতে এবং সংস্কৃত ভাষায়। প্রথমদিকের অর্থাৎ পালি ভাষায় লেখা লেখগুলি লিখিয়েছিলেন কুডা কেভস-এর পৃষ্ঠপোষকেরা। সেখানে তারা নিজেদের নাম, ধাম, বংশ পরিচয় এবং পেশার উল্লেখ করেছিলেন যা ঐতিহাসিকদের কাছে হয়ে উঠেছে এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভাণ্ডার।
কুডা কেভস-এর প্রথমদিকের এই লেখগুলির একটা বড়ো অংশ লিখিয়েছিলেন মহাভোজরা। তাদের লেখ থেকে যে বিষয়গুলো ফুটে ওঠে তা হল – তারা কুডা কেভস-এর পৃষ্ঠপোষক ছিলেন, তারা কুডা কেভস সংলগ্ন অঞ্চলের অধিপতি ছিলেন এবং তাদের রাজধানী ছিল মান্ডভ। ১ নং গুহায় প্রাপ্ত মহাভোজদের লেখ অনুযায়ী ১নং গুহার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন রানী মহাভোজী সদাগেরি বিজয়া, যিনি ছিলেন রাজা মহাভোজ সদাগেরির পত্নী। ৭ নং গুহাতে প্রাপ্ত লেখ অনুযায়ী এই গুহা বানাতে সহায়তা করেছিলেন জনৈক মান্ডভ কুমার (যুবরাজ)। ১১ নং গুহায় প্রাপ্ত প্রায় নষ্ট হয়ে যাওয়া লেখতে মাত্র দুটো শব্দ পড়া যায়। প্রথম লাইনে ‘মহাভোজ বা’ এবং দ্বিতীয় লাইনে ‘মান্ডভিয়া’। সম্পূর্ণ লেখ পড়া না গেলেও, এই দুই শব্দ থেকে বোঝা যায় যে, এই গুহার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন জনৈক মান্ডভ কুমার (যুবরাজ)। কুডা কেভস-এ প্রাপ্ত অন্যান্য লেখ থেকে মহাভোজ পরিবারের আরও দুই পৃষ্ঠপোষকের নাম পাওয়া যায় – রানী মহাভোজী সদাগেরি বিজয়ার পুত্র রাজা মহাভোজ মান্ডভ স্কন্দপালিত এবং রাজা মহাভোজ সদাকারা সুদামসনের কন্যা বিজয়ানিকা।
কুডা কেভস-এ সাধারণ মানুষেরও প্রচুর লেখ পাওয়া গিয়েছে। তার কারণ হল যে মহাভোজদের সঙ্গে সঙ্গে পৃষ্ঠপোষক ছিলেন অনেক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী, সন্ন্যাসিনী এবং সাধারণ ভক্ত। এই সাধারণ ভক্তরা পেশায় ছিলেন লোহার ব্যবসায়ী, সুদের ব্যবসায়ী, মালি, লেখক, চিকিৎসক, ফুল বিক্রেতা প্রভৃতি। সাধারণ মানুষের এই লেখগুলিতে অনেক ক্ষেত্রেই পৃষ্ঠপোষকদের নিজেদের নাম, বংশপরিচয় আর পেশার সঙ্গে তাদের সময়কার মহাভোজ রাজার নামও উল্লিখিত আছে।
এইরকমই এক লেখ পাওয়া গিয়েছে কুডা কেভস-এর সবচেয়ে সুন্দর ৬নং গুহাতে। সেই লেখ অনুযায়ী এই গুহাটির পৃষ্ঠপোষক ছিলে জনৈক শিবভূতি, যিনি ছিলেন রাজা মহাভোজ মান্ডভ স্কন্দপালিতের অধীনস্থ কর্মচারী, সম্ভবত মন্ত্রী। শিবভূতির বাবার নাম ছিল উলাসদাতা এবং মার নাম ছিল উতারাদাতা। শিবভূতির স্ত্রী ছিলেন নন্দা। এই লেখ থেকে আরও জানা যায় যে শিবভূতির ভাই শিবম, তাঁর স্ত্রী বিজয়া এবং তাঁদের চার পুত্র এবং চার কন্যাও এই ৬নং গুহা নির্মাণে অনুদান দিয়েছিলেন। ৬নং গুহার প্রধান চৈত্য হলঘরটি গড়ে উঠেছিল শিবম এবং তাঁর স্ত্রী বিজয়ার পৃষ্ঠপোষকতায়, চৈত্য হলের পিলারগুলি দান করেছিলেন শিবম-বিজয়ার চার ছেলে এবং পিলারে নকশার ভাস্কর্যের খরচ জুগিয়েছিলেন তাঁদের চার কন্যা। ৭নং গুহাতে প্রাপ্ত আর একটি লেখ অনুযায়ী, মান্ডভ কুমারের সঙ্গে এই গুহা নির্মাণে অনুদান দিয়েছিলেন জনৈক সোমদেব, যিনি পেশায় ছিলেন চিকিৎসক। সোমদেবের লেখতে সোমদেবের বাবা-মা এবং ছেলে-মেয়ের নামেরও উল্লেখ আছে। ১৪নং গুহাতে প্রাপ্ত লেখ অনুযায়ী এই গুহার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন মাহিকাস নামে এক লোহার ব্যবসায়ী। জনৈক রামদাতার লেখ থেকে জানা যায় যে তার সময়ে মান্ডভ-এর সিংহাসনে আসীন ছিলেন রাজা মহাভোজ মান্ডভ ভেলিদাতা কোচিকিপুতাস। তার লেখ থেকে আরও জানা যায় যে বৌদ্ধ গুহা নির্মাণে অনুদান দিলেও তিনি নিজে জৈন ধর্মাবলম্বী ছিলেন।

৬ নং গুহায় শিবভূতির লেখ
কুডা কেভসে প্রাপ্ত সাধারণ মানুষের এই লেখগুলি থেকে মহাভোজ শাসিত সমাজের আর্থসামাজিক অবস্থা সম্পর্কে দু’টো সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়। প্রথমত, মোটের উপর মহাভোজ শাসিত অঞ্চলে সাধারণ মানুষের আর্থিক অবস্থা ভালোই ছিল। তাই তারা বৌদ্ধ শ্রমণদের গুহাবিহার এবং গুহাচৈত্য নির্মাণের জন্য অনুদান দিতে পেরেছিলেন। দ্বিতীয়ত, মহাভোজ শাসিত সমাজে মেয়েদের স্থান ছিল বেশ উঁচুতে। তাই কুডা কেভসের পৃষ্ঠপোষক হিসাবে অনেক মহিলার নাম পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, পুরুষ পৃষ্ঠপোষকদের বংশ পরিচয়ে তাদের মা, স্ত্রী এবং মেয়ের উল্লেখ আছে যা পরিবারে এবং সমাজে তাদের সন্মানীয় স্থানের পরিচয় দেয়। রামদাতার লেখতে রাজা মহাভোজ মান্ডভ ভেলিদাতার পরিচয় দেওয়া হয়েছে ‘কোচিকিপুতাস’ বলে। ‘কোচিকিপুতাস’ শব্দটির অর্থ হল কোচিকি বা কৌশিকির পুত্র। রাজা মহাভোজ মান্ডভ ভেলিদাতার এহেন পরিচয় যেমন রাজপরিবারে মেয়েদের উচ্চপদমর্যাদার সাক্ষ্য বহন করে তেমনই সাতবাহনদের সঙ্গে মহাভোজদের অন্তরঙ্গতার এক আভাস দেয়, কারণ ছেলের নামে মায়ের নামের উল্লেখ ছিল সাতবাহনদের প্রথা।
কুডা কেভস থেকে পাওয়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল যে মহাভোজরা নিজেদের লোগোগ্রাম হিসাবে হিপ্পোক্যাম্পাস (ঘোড়ার মাথা ও মাছের দেহ আকৃতির কাল্পনিক প্রাণী) ব্যবহার করতেন। ১১নং গুহার প্রায় নষ্ট হয়ে যাওয়া লেখর শুরুতেই আছে হিপ্পোক্যাম্পাস-এর খোদাই করা প্রতিকৃতি। এছাড়া রাজা মহাভোজ বশিষ্ঠীপুত্র শিভম-এর মুদ্রাতেও পাওয়া গিয়েছে হিপ্পোক্যাম্পাস-এর প্রতিকৃতি। যেহেতু হিপ্পোক্যাম্পাস ছিল ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের এক কাল্পনিক জন্তু, মহাভোজদের হিপ্পোক্যাম্পাসকে লোগোগ্রাম হিসাবে ব্যবহার করা থেকে বোঝা যায় যে তাদের সঙ্গে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের ভালোই বাণিজ্যিক সম্পর্কে ছিল।
ভারতবর্ষের ইতিহাসচর্চায় এইটাই হল কুডা কেভস-এর অবদান – মহাভোজদের সম্পর্কে প্রচুর তথ্যের যোগান। কুডা কেভস আবিষ্কৃত না হলে মহাভোজরা হয়তো হারিয়ে যেতেন বিস্মৃতির অন্তরালে। এর কারণ হল কুডা কেভসের লেখগুলি ছাড়া, আর মাত্র দুই জায়গাতে মহাভোজদের লিখিত উল্লেখ পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটা হল মুম্বাই শহরতলীর কানহেরি কেভ থেকে পাওয়া এক লেখ যা এতটাই ক্ষয়ে গিয়েছে যে তার পাঠোদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আর একটা হল কার্লা এবং ভাজা কেভস-এর অদূরবর্তী বেডসে কেভ-এ প্রাপ্ত মহারথী রাজবংশের এক বধূ সমাদিনিকার লেখ, যাতে তিনি নিজেকে মহাভোজদের কন্যা বলে পরিচয় দিয়েছেন। তাই মহাভোজদের সম্পর্কে জানতে হলে কুডা কেভস-এ পাওয়া লেখগুলিই আমাদের প্রধান ভরসা।
কুডা কেভস দেখতে একদমই আহামরি নয়। শিল্প, স্থাপত্য, ভাস্কর্যের দিক থেকে কুডা কেভস পশ্চিমঘাট পর্বতমালার নামকরা বৌদ্ধ গুহাগুলো, যেমন অজন্তা, ইলোরা, কার্লা, ভাজা, কানহেরির ধারেকাছেও আসে না। তাই কুডা কেভস-এর সেইরকম নাম নেই। সাধারণ মানুষ খুব একটা আসেন না আর এলেও পথ হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু যদি কখনও মহাভোজদের ইতিহাস লেখেন আমাদের ঐতিহাসিকরা, তা সম্ভব হবে শুধুমাত্র এই সাদামাটা গুহাগুলির জন্যই।
তথ্যসূত্র:
- Kurush Dalal, Mandagora: The Konkan’s Roman Connection, Live History India, February, 2020 (https://www.livehistoryindia.com/story/cover-story/mandagora-the-konkans-roman-connection/).
- D. C. Ahir, Buddhist Sites and Shrines in India: HISTORY, ART and ARCHITECTURE, Sri Satguru Publication – A Division of Indian Books Centre, Dehi, India, 2003.
- George Michell & Gethin Rees, Buddhist Rock-Cut Monasteries of the Western Ghats, Deccan Heritage Foundations Limited, Jaico Publishing House, 2017.
- Milind Gunaji, A Travel Guide: Offbeat Tracks in Maharashtra, Popular Prakashan, 2016.
- Personal Observation at Site
দারুণ লাগল, বিশেষ করে বাণিজ্যযাত্রা আর শিলালেখর বিষয়গুলো।
আর পদ্মাসীন বুদ্ধ আর তার নিচে উপাসক নাগেদের দৃশ্যটা খুব ইউনিক- আগে কখনও দেখিনি। বিহারের মহাযানীকরণের একটা স্তর বলে অনুমান করছি
ধন্যবাদ