সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

নারীর নাগরিকত্ব, নারীর ভোটাধিকার

নারীর নাগরিকত্ব, নারীর ভোটাধিকার

শতাব্দী দাশ

জানুয়ারী ২৯, ২০২১ ৪৭১

“তুমি যে হাসপাতালে সেটা শুনে খুব প্রীত হলাম। আমৃত্যু যেন যন্ত্রণা ভোগ কর সেই কামনা করি, নির্বোধ!”

চিঠিটার নীচে স্বাক্ষর করেছিলেন ‘একজন ইংলিশম্যান’। ১৯১৩ সালের জুনে এমিলি উইল্ডিং  ডেভিডসন যখন হাসপাতালের মৃত্যু শয্যায়, তখন তাঁর কাছে এই চিঠি আসে।

এমিলি ডেভিডসন, ইংল্যান্ডে নারীদের ভোটাধিকারের আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী। কয়েকদিন আগে তিনি এপসমের রাজকীয়, সম্ভ্রান্ত ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায়  ভোটাধিকার চেয়ে বিক্ষোভ করতে গিয়েছিলেন। ঘোড়ার লাথিতে আহত হন। সংজ্ঞাহীন অবস্থায় হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়। সেই জ্ঞান আর ফেরেনি। ৮ই জুন মারা যান তিনি। মৃত্যুশয্যায় শুয়েও গালাগালি ভরা যে ধরণের চিঠি তিনি পেয়েছিলেন, তা থেকে স্পষ্ট, কীরকম ঘৃণা, বিদ্বেষ এবং হুমকির সম্মুখীন হতেন ভোটাধিকারের আন্দোলনের নারীরা।

এসব চিঠি সম্প্রতি উন্মুক্ত করা হয়েছে আগ্রহী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য, যারা এই আন্দোলনের ইতিহাস জানতে চায়।

ভাবতে অবাক লাগে না যে, একশ বছর আগেও নারীরা ভোট দেওয়ার কথা চিন্তা করতে পারতেন না?

বিশ শতকের শুরুতেও ব্রিটেনে মেয়েদের অবস্থা ছিল দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকের মতো। পুরুষদের তুলনায় তাদের স্বাধীনতা এবং অধিকার ছিল সীমিত। প্রাথমিক ভোটের অধিকারের জন্যও মেয়েদের তখন লড়াই করতে হচ্ছিল। এখন নারীবাদেও সাফ্রেজ বা ভোটাধিকার নিয়ে আন্দোলন নিয়ে, অথবা  প্রথম তরঙ্গের ভোটাধিকার-পাগল নারীদের নিয়ে, চর্চা কম হয়। কারণ ভোটাধিকার হল এমন এক অধিকার, যা পেয়ে যাওয়ার পর আর হারানোর ভয় নেই। বরং দ্বিতীয় তরঙ্গ যে সূক্ষ্ম সমস্যাগুলো উপস্থাপন করেছিল, আর তৃতীয় তরঙ্গ যে ইন্টারসেকশনালিটির কথা বলেছিল, তা নিয়ে আমরা এই মুহূর্তে বেশি মাথা ঘামাই। অন্যদিকে সাফ্রেজ মুভমেন্টের অনেক সীমাবদ্ধতা: তা সাদা ও অভিজাত মহিলাদের আন্দোলন, তা সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়েনি। আবার আমাদের কমিউনিস্ট প্রতিবেশেও তা নিয়ে আলোচনা হয় না, কারণ সোভিয়েতের চোখে এরা ছিল ‘বুর্জোয়া ফেমিনিস্ট’। কিন্তু সাদা অভিজাত মহিলাদের সঙ্গেই বা রাষ্ট্র কী ব্যবহার করে যখন তারা ন্যায্য অধিকার চায়? সেইটে ভুলে যাওয়া মানে ইতিহাসকে অবজ্ঞা করা।

যুক্তরাজ্যের নারী-ভোটাধিকার আন্দোলনের কথাই ধরা যাক৷ প্রথমত নারী-পুরুষদের সমান রাজনৈতিক অধিকার পাবার জন্য গণস্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু হয়। ব্রিটিশ সাংসদ জন স্টুয়ার্ট মিল ও  ফাউসেট নারী ভোটাধিকার আন্দোলনের সমর্থক ছিলেন।

১৮৬৫ সালে জন স্টুয়ার্ট মিল নারীদের জন্য ভোটাধিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল এমন এক প্লাটফর্ম থেকে সংসদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৮৬৯ সালে তিনি লিঙ্গ সমতার পক্ষে ‘দ্য সাবজেকশন অফ উইমেন’ নামক প্রবন্ধ প্রকাশ করেছিলেন। এছাড়াও ১৮৬৫ সালে, ‘দ্য কেন্সিংটন সোসাইটি’ নামে নারীদের আলাপ-আলোচনার একটি দল গঠিত হয়। আলোচনার পরে, এই সমিতি একটি আবেদনের খসড়া এবং স্বাক্ষর সংগ্রহের জন্য একটি কমিটি গঠন করে। ১০০ টি স্বাক্ষর সংগ্রহ হলেই স্টুয়ার্ট মিল তা সংসদে উপস্থাপন করবেন বলেন।  স্টুয়ার্ট মিল ১৮৬৬ সালে যখন সংসদে এই আবেদনটি উপস্থাপন করেন শেষ পর্যন্ত, ততক্ষণে সমর্থকরা ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল, হ্যারিয়েট মার্টিনাও, জোসেফাইন বাটলার এবং মেরি সামারভিলিসহ সর্বমোট ১৪৯৯ জনের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে ফেলেছিলেন। তবুও আবেদন গ্রাহ্য হয় না।

এর পরপরই সারা দেশে এমন অনেকগুলো দল সংগঠিত হয়। অবশেষে ১৮৯৭ সালে সবগুলো দলের সম্মিলনে মিলিসেন্ট ফাউসেটের নেতৃত্বে গঠিত হয় ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব উইমেন্স সাফ্রাজ সোসাইটিজ (NUWSS)। এই সংগঠনের সদস্যরাই সাফ্রাজিস্ট (Suffragists) নামে পরিচিত।

এঁরা শান্তিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে বিশ্বাস করতেন: পিটিশন, পোস্টার, আলাপ-আলোচনা। কিন্তু এসবের পরও দাবী আদায়ের কোনো রকম সম্ভাবনা দেখা না যাওয়ায়, অনেকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীর উপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। এঁরাই একত্রিত হয়ে আক্রমণাত্মক উপায়ে আন্দোলন শুরু করেন। ব্রিটেনের ডেইলি মেইল পত্রিকা মেয়েদের ভোটাধিকার আদায়ের এই জঙ্গী গোষ্ঠীটির নাম দিয়েছিল ‘স্যাফ্রাজেটস'(Suffragettes)। সেই নামেই তাঁরা পরিচিত হয়ে উঠলেন।  ১৯০৩ সালে সাফ্রাজেটদের যে দলটি গঠিত হয়, তার নাম উইমেন্স সোশ্যাল অ্যান্ড পলিটিক্যাল ইউনিয়ন (WSPU)। তাদের মূলমন্ত্র ছিল – কথা নয়, কাজ (Deeds, not words)।

১৯০৫ সালে ম্যানচেস্টারে একটি রাজনৈতিক বৈঠকে ক্রিস্টাবল পানখার্স্ট এবং মিলকার্কার অ্যানি কেনি বিশিষ্ট লিবারেল উইনস্টন চার্চিল এবং স্যার এডওয়ার্ড গ্রে-র বক্তব্যে বাধা দিয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে নারীদের রাজনৈতিক অধিকারের ক্ষেত্রে চার্চিল এবং গ্রের মন্তব্য কী? যখন রাজনৈতিক বৈঠকগুলিতে কেবল পুরুষরা উপস্থিত থাকতেন, তখন দুই নারীর উপস্থিতি, এমন প্রশ্ন তোলার ধৃষ্টতা ও ‘নারীদের জন্য ভোট’ ব্যানার তুলে ধরা শ্রোতাদের মধ্যে উষ্মা তৈরি করে। পুলুশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে। পানখার্স্ট এবং কেনি আদালতে হাজির হন।  উভয়েই জরিমানা প্রদানে অস্বীকৃতি জানান এবং নিজেদের ভোটাধিকার সংক্রান্ত প্রচার বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে কারাগারে যান।

এই ১৯০৫ সালেই এই দলটি পার্লামেন্টের একজন সদস্য ব্যামফোর্ড স্ল্যাকের মাধ্যমে নারী ভোটাধিকার সম্পর্কিত একটি বিল সংসদে উত্থাপন করে। বিলটি নিয়ে প্রচুর আলোচনা সমালোচনা হয়, দলটি মানুষের নজর কাড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিল পাশ হয়নি। এরপর থেকেই শুরু হয় তাদের সহিংস কার্যক্রম। তাঁরা সংসদে উন্মুক্ত বিক্ষোভ করেন।  সমবেতভাবে ‘Votes for Women’ স্লোগান দিয়ে অসংখ্য রাজনৈতিক সভা তাঁরা ভেঙে দেন। এমনকি কখনও কখনও সাফ্রেজেটরা বাড়ির জানালার কাঁচ ভাঙ্গতেন, টেলিগ্রাফের তার কেটে দিত, লেটার বক্সের ভেতর দিয়ে রাসায়নিক বোমা ফেলে দিয়ে আসতেন বিভিন্ন জায়গায় আগুনও লাগিয়ে দিতেন।

১৯০৮ সালের জুলাইয়ে ডাব্লিউএসপিইউ ম্যানচেস্টারের কাছাকাছি হিটন পার্কে একটি বিশাল বিক্ষোভের আয়োজন করে। এমালিন, ক্রিস্টাবেল এবং অ্যাডেলা পানখার্স্ট সহ তেরোটি পৃথক প্ল্যাটফর্মের বক্তারা বক্তব্য রাখেন।

সুশীল সমাজ এই জঙ্গী ভোটাধিকারকর্মীদের যখন আক্রমণ করত, তখন তার একটা মূল হাতিয়ার ছিল কার্টুন। নিচে রইল সাফ্রেজেট আর সাফ্রেজিস্টদের নিয়ে ইংল্যান্ড ও আমেরিকায় তৈরি কিছু ‘কার্টুন’। এরা যে আসলে হতাশ, ঝগড়ুটে, পুরুষের-ভালবাসায় বঞ্চিত নারীদল এবং তাদের যে নানা কঠোর উপায়ে শাস্তি দেওয়া উচিত-এই হল কার্টুনগুলির উপজীব্য।

কার্টুনিস্টরা যেহেতু পুরুষালি পোশাকের নারীদের কার্টুন আঁকছিলেন, তাই সাফ্রেজেটরা ভাবলেন, এমন কিছু রঙ ও পোশাককে তাঁদের পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে নেবেন, যা সাধারণ মহিলাদের মধ্যে জনপ্রিয় হবে।  ১৯০৮ সালে ডাব্লুএসপিইউয়ের সংবাদপত্র ভোটস ফর উইমেন এর সহ-সম্পাদক, এমেনিল পেথিক-লরেন্স, বেগুনি রঙকে সাফ্রোগেটদের রঙ হিসেবে তুলে ধরেন। বেগুনি রং বিশ্বস্ততা ও মর্যাদার জন্য পরিচিত। এছাড়াও, শুদ্ধির প্রতীক সাদা এবং আশার প্রতীক হিসেবে সবুজ রঙকেও সাফ্রোগেটরা ব্যবহার শুরু করেন। লন্ডনের ফ্যাশনেবল দোকানগুলি  তিনরঙা টুপি, রোসেটস, ব্যাজ এবং বেল্টের পাশাপাশি রঙিন পোশাক, অন্তর্বাস, হ্যান্ডব্যাগ, জুতা, চপ্পল এবং টয়লেট সাবান বিক্রি শুরু করে।  ডাব্লুএসপিইউর সদস্যপদ বৃদ্ধি পেতে থাকে। নারীদের মাঝে এই তিন রঙ ব্যবহার ‘ফ্যাশনেবল’ হিসেবে বিবেচ্য হতে থাকে।

এই সময়েই ১৯১৩ সালে এমিলি ডেভিডসন ঘোড়দৌড় ময়দানে সাফ্রাজেটসদের নিজস্ব রঙের পতাকা হাতে ছুটে যান ‘Votes for Women’ বলতে বলতে। রাজার ঘোড়ায় সাফ্রাজেটস ব্যানার পরিয়ে দেওয়া ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। সেখানে তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুবরণ করেন। এঁর কথা দিয়েই আমরা এই প্রবন্ধ শুরু করেছিলাম।

কিন্তু সুশীল সমাজ ছাড়াও দেশে আছে পুলিশ-প্রশাসন। লাগাতার এসব কর্মকাণ্ডের ফলে প্রচুর ধরপাকড় শুরু হয়। ব্রিটেনের ন্যাশনাল আর্কাইভে সংরক্ষিত দলিলপত্র ঘাঁটলে বোঝা যায় কীভাবে রাষ্ট্র এই আন্দোলন দমনের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ধরপাকড় যত বাড়ল, ততই বাড়ল ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশনের’ মাধ্যমে সরাসরি রাস্তায় নেমে অধিকার আদায়ের ডাক।

বন্দী অবস্থাতেও তাঁদের প্রতিবাদ থেমে থাকেনি। তাঁরা সকলে মিলে অনশন শুরু করেন। পুরুষ ডাক্তাররা জোর করে চেপে ধরে, অনেকে মিলে শারীরিকভাবে শক্তি প্রয়োগ করে খাওয়ানো চেষ্টা করতো তাঁদের।  ২০ ইঞ্চি লম্বা নলগুলো যখন জোর করে চেপে ঢুকিয়ে দেওয়া হত, বিদ্রোহীরা তখন নাক কান ও বুকের ব্যথায় চিৎকার করতেন। ইভালিন হিল্ডা বুরকিট প্রথম কারাবন্দী সাফ্র‍্যাজেট, যাকে সরকার জোর করে খাইয়ে অনশন ভাঙিয়েছিল।

 এত নির্যাতনের পরও আন্দোলন থামায়নি সাফ্র‍্যাজেটরা।  ১৯১৩ সালে পাশ হয় ‘ক্যাট এন্ড মাউস’ অ্যাক্ট। এই আইনানুযায়ী, বলপূর্বক খাওয়ানোর কারণে যেসব বন্দীরা অসুস্থ হয়ে যাবে তাদের সাময়িক মুক্তি দেওয়া হবে। কিন্তু সুস্থ হওয়া মাত্রই আবার তাদের আটক করা হবে। এই আইনের ফলে নির্যাতনের সময়ও দীর্ঘায়িত হয়ে যায়।

ছাড়া পেয়ে নির্যাতিতরা তাঁদের অভিজ্ঞতা জানাতে থাকেন। নারীরা এমনকি মলদ্বার দিয়ে নলপ্রবেশের মাধ্যমে খাওয়ানোর অভিযোগ ও জানান। সাফ্রাজেটদের নিজস্ব পত্রিকা ‘Votes for Women’ সহ অন্যান্য সমর্থক গণমাধ্যমের ব্যাপক প্রচারের ফলে বিষয়টি জনসাধারণের দৃষ্টি কাড়ে। সবাই এই পদ্ধতির সমালোচনা শুরু করে। ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্য টাইমস’ সাফ্রাজেটস আন্দোলনের বিপক্ষে ছিল, তবুও তারা এই পদ্ধতির সমালোচনা করে।

১৯১৪ সালের জুলাইয়ে শুরু হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। একদিকে নারীরা তাদের আন্দোলন সাময়িকভাবে  স্থগিত করেন। অন্যদিকে ব্রিটিশ সরকার সকল বন্দীদের ছেড়ে দেয়। বেশিরভাগ পুরুষ যুদ্ধে চলে যাওয়ায় নারীরা কাজে বেরোয়। তা না হলে সেসময় যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়তো। এতে সর্বস্তরের মানুষ  সচেতন হয় নারীর অধিকার ও সক্ষমতা সম্পর্কে। ১৯১৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ পার্লামেন্ট আইন করে নারীদের ভোটাধিকার দেয়। তবে শর্ত ছিল ত্রিশোর্ধ এবং সম্পদের মালিক নারীরাই কেবল ভোট দিতে পারবে।  জনপ্রতিনিধি আইন ১৯১৮ অনুসারে  নারীরা এই ভোটাধিকার পান। দশ বছর পরে, জনপ্রতিনিধি (সমানাধিকার ফ্র্যাঞ্চাইজ) আইন ১৯২৮ অনুসারে, ২১ বছর বয়স থেকেই পুরুষদের পাশাপাশি সকল নারী ভোটাধিকার অর্জন করে।

 আমেরিকার রাজনীতি, আমেরিকার ভোট, আমেরিকায় মহিলা ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত উপরাষ্ট্রপতি, এসব  নিয়ে ইদানীং এ’দেশে প্রচুর আলোচনা। এই যে ডেমোক্র‍্যাটদের আমরা আজ অপেক্ষাকৃত প্রগতিশীল বলে জানি, তাঁদেরই এক প্রেসিডেন্ট, উড্রো উইলসন তখন আমেরিকায় ক্ষমতাসীন। নারীর ভোটাধিকারের দাবিতে অজস্র পিকেটিং তখন চলছিল আমেরিকায়। বস্তুত ইংল্যান্ড থেকে অ্যালিস পল ‘পিকেটিং’ নামক অহিংস রণকৌশল শিখে, ইংল্যান্ডেই সাতবার জেল খেটে, ফিরেছিলেন আমেরিকায়। এই ভোটাধিকার-কর্মী, নারীবাদী অ্যালিস পল ইংল্যান্ড ও আমেরিকা মিলে সারা জীবনে এতবার জেল খেটেছিলেন যে প্যানক্রিয়াটাইটিস ও নানা রোগে ভুগেছিলেন বাকি জীবন।

যাইহোক, আমেরিকাতেও শুরু হল পিকেটিং। ১৯১৭ সালের  জুন থেকেই ভোটাধিকারের আন্দোলন জোরদার হয়ে উঠেছিল। নেত্রীরা গ্রেপ্তার হচ্ছিলেন। প্রথমে তাঁদের পোরা হচ্ছিল কলম্বিয়া জেলে, সে জেল ভরে গেলে ওকোকুয়ান জেলে। অক্টোবরে অ্যালিস পল স্বয়ং গ্রেপ্তার বরণ করেন। অ্যালিস, লুসি, ক্যাথারিন-সব নেত্রীরাই স্বেচ্ছায় গ্রেপ্তার হন একে একে, যাতে তাঁদের আন্দোলন দেশের মানুষের নজরে আসে। পোশাক ছাড়া তাঁদের আর সব কিছু কেড়ে নেওয়া হয়। থাকতে বাধ্য করা হয় পুরুষ বন্দী ও সিফিলিস রোগীদের সঙ্গে। দলের মাথা ঠাউরে, অ্যালিস পলকে রাখা হয় মানসিক রোগীদের জন্য যে আলাদা  সেল আছে সেখানে। ‘পাগলামি’ আর ‘নারীস্বাধীনতা’-র যোগ যে গিলবার্ট-গুবারের   ‘ম্যাডউওম্যান ইন দ্য অ্যাটিক’ লিখিত হওয়ার বহু আগে থেকেই,  তা কে না জানে!

 পিকেটিং-এর জন্য ধরা পড়া নারীদের মুক্তির দাবিতে আবার জমায়েত, আবার ধরা পড়লে আরও একদলের জমায়েত-এভাবেই আন্দোলন ক্রমে ছড়িয়ে পড়ছিল।  ইংল্যান্ডের মতো আমেরিকাতেও জেলে তাঁরা অনশন করেন এবং একই ভাবে পুরুষ পুলিশরা তাঁদের বুকের ওপর চেপে বসে ফোর্স ফিড করতে থাকে।  মুখ দিয়ে না পারলে পায়ুদ্বারে ঢোকাত টিউব, কাঁচা ডিম ঢেলে দিত তাতে।

ঠিক এইরকম সময় ওকোকুয়ান জেলে ১৪ নভেম্বর,১৯১৭ তারিখে এক বীভৎস ঘটনা ঘটে। সুপারেনটেন্ডেন্ট হুইট্যাকারের নির্দেশে চল্লিশ জন গার্ড ঝাঁপিয়ে পড়ে মেয়েদের উপর। তারা মেয়েদের কিল,চড় মারে,  টেনে হিঁচড়ে অন্ধকার সেলে নিয়ে যায়। লুসি বার্ন্সকে পিছমোড়া করে ফেলে রাখে অন্ধকারে। ডোরা লুইসকে লোহার খাটিয়ায় ছুঁড়ে ফেলে। লোহার আঘাতে মাথা ফেটে সে অজ্ঞান হয়। তা দেখে হার্ট অ্যাটাক হয়  আরেক অ্যালিসের( অ্যালিস পল নয়, অ্যালিস কসু)। মেয়েদের কষাঘাত করা হয়, গলা টিপে ধরা হয়। দৈহিক ও যৌন নির্যাতন চরমে পৌঁছয় সেই রাতে। অথচ মূলধারা ইতিহাসে সে’রাতের কথা লেখা নেই। অবশেষে আমেরিকার নারীরা ভোটাধিকার পান ১৯২০ সালে।

কোন কোন দেশে ইংল্যান্ড বা আমেরিকার আগেই নারী ভোটাধিকার পায়? ১৮৮১ সালে ‘আইল অফ ম্যান’ (যুক্তরাজ্যের সাথে সম্পর্কিত একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ও দ্বীপ) যেসব নারী সম্পত্তির অধিকারী, তাঁদেরকে ভোটাধিকার প্রদান করে। ১৮৯৩ সালে নিউজিল্যান্ড তাদের নারীদের ভোটের অধিকার দেয়। ১৮৯৪ সালে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়াও একই কাজ করে এবং সেখানে ১৮৯৫ সালের নির্বাচনে নারীরা ভোট দিতে যান। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়াতে নারীরা নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পান। ১৮৮৯ সালে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়াতেও নারীদের পূর্ণ ভোটাধিকার দেওয়া হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, ১৮৯৯ সাল থেকে ওয়েমিংয়ের পশ্চিম অঞ্চল এবং ইউটাতে ১৮৭০ সাল থেকে ২১ বছরের বেশি বয়সী সাদা নারীদের ভোট দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

ইউরোপের মধ্যে  ফিনল্যান্ডে (সেসময় রুশ সাম্রাজ্যের অংশ) সর্বপ্রথম নারীরা ভোটাধিকার অর্জন করেন এবং ১৯০৭ সালে ফিনীয় নির্বাচনে নারীরা প্রথমবারের মত সংসদে নির্বাচিত হন। ১৯১৩ সালে নরওয়ে দ্বিতীয় দেশ হিসেবে নারীদের পূর্ণ ভোটাধিকার প্রদান করে।

দুই বিশ্বযুদ্ধ-মধ্যবর্তী পর্বে বেশির ভাগ স্বাধীন রাষ্ট্র নারীদের ভোটাধিকার প্রদান করেন। কানাডা ১৯১৭ সালে, যুক্তরাজ্য ১৯১৮ সালে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯২০ সালে। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় নারীদের ব্যাপক অবদানের পরে পশ্চিমে নারীদের সম্বন্ধে জনমত পরিবর্তিত হয়।

এরপরেও ভোটাধিকার আন্দোলন কিন্তু থামেনি। স্পেনে ১৯৩১ সালে, ফ্রান্সে ১৯৪৪ সালে, ইতালিতে ১৯৪৬ সালে, গ্রিসে ১৯৫২ সালে সালে নারীরা ভোট দেবার অধিকার পান। লাতিন আমেরিকার সিংহভাগ দেশ ১৯৪০-এর দশকে নারীদের ভোট প্রদানের ক্ষমতা প্রদান করে। ১৯৬১ সালে প্যারাগুয়ে সর্বশেষ দেশ হিসেবে এই অধিকার প্রদান করে। অবিভক্ত ভারতে ১৯৩৫ সালেই মেয়েরা ভোটাধিকার পেয়েছিল। কিন্তু সৌদি আরবে ২০১৫ সালে ডিসেম্বর মাসে নারীরা পৌরসভা নির্বাচনে প্রথমবার ভোট দেবার সুযোগ পান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে জাতিসংঘ নারীদের ভোটাধিকার আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছে ও রাষ্ট্রগুলিকে সে ব্যাপারে উৎসাহিত করে এসেছে।

অথচ আমেরিকার ভোটাধিকার প্রসঙ্গেও কিছু কথা বলা বাকি থেকে যায়।  লড়াই যদি ১৯২০ সালেই শেষ হয়ে যেত, তাহলে সেলমা, অ্যালাবামায় ২৫শে জানুয়ারি, ১৯৬৫ সালেও ডালাস কাউন্টির কোর্টহাউসে ভোটার হিসেবে নাম লেখাতে এসে ফিরে যেতে হত না অ্যানি লী কুপারকে। তাঁর মতোই লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন আরও বহু কালো মানুষ, যাঁরা ভোটার হতে চান। এর আগেও অ্যানি বহুবার এই কাউন্টি অফিসে এসেছেন। ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেছেন। সেলমা শহরের প্রায় অর্ধেক মানুষ কৃষ্ণাঙ্গ, কিন্তু তাদের মধ্যে তখন ভোটার হতে পেরেছিল মাত্র এক শতাংশ।

কৃষ্ণাঙ্গ নারী বা পুরুষ ভোটাধিকার চাইলে কীভাবে তাকে রিরক্ত করা হত? রাজ্য নির্বাচন অফিসের কেরানি তাকে বলতেন, ‘সংবিধানের এই ধারাটির ওপর একটি রচনা লিখে আনুন। তারপরই আপনাকে ভোটার করা হবে।’ কোন দেশের ভোটাররাই দেশের সংবিধান মুখস্থ রাখেন না। সংবিধান যে ভাষায় লেখা হয়, তার মর্ম সাধারণের পক্ষে উপলব্ধি করাও কঠিন।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অনেক রাজ্যে ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে এমন নানা উদ্ভট নিয়ম চালু করা হয়েছিল, যার লক্ষ্য ছিল মূলত কৃষ্ণাঙ্গদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা। এক কৃষ্ণাঙ্গ নারী তার এরকম এক অভিজ্ঞতার কথা রেকর্ড করে গেছেন ইউনিভার্সিটি অব সাদার্ন মিসিসিপির সেন্টার ফর ওরাল হিস্ট্রি এন্ড কালচারাল হেরিটেজে।

১৯৬২ সালে ফ্যানি লো হেমার গিয়েছিলেন মিসিসিপির ইন্ডিয়ানোলা শহরের কাউন্টি ক্লার্কের অফিসে ভোটার তালিকায় নাম লেখাতে। তাকে রাজ্যের সংবিধানের একটি অংশের ওপর প্রবন্ধ লিখতে বলা হয়েছিল। সেদিন বাড়ি ফেরার পর ফ্যানি লো হেমার হুমকির মুখে পড়লেন। ভোটার হওয়ার আবেদন প্রত্যাহারের জন্য তাঁর ওপর চাপ দিলেন বাড়িওয়ালা। নইলে নাকি  তাঁকে বাড়ি ছাড়তে হবে। সেই রাতেই বাড়ি ছাড়লেন তিনি।

ভোটার হতে গেলে এরকম নানা বাধা-বিপত্তি আর হুমকির মুখে পড়তে হতো কৃষ্ণাঙ্গদের, বিশেষত কৃষ্ণাঙ্গ মহিলাদের। যেসব নিয়ম-কানুনের বেড়াজাল দিয়ে তাদের ভোটার তালিকার বাইরে রাখা হতো, তাদের একসাথে বলা হত  ‘জিম ক্রো’ আইন। এক শ্বেতাঙ্গ কমেডিয়ান এক কৃষ্ণাঙ্গ ক্রীতদাসের চরিত্র নিয়ে বানিয়েছিল একটি কমেডি। কৃষ্ণাঙ্গদের ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করে তৈরি সেই কমিক চরিত্রটির নাম ‘জিম ক্রো।’ শ্বেতাঙ্গদের কাছে এই ‘জিম ক্রো‌’ হয়ে উঠল কৃষ্ণাঙ্গ ক্রীতদাসের স্টিরিওটাইপ। সেখান থেকে এসেছে ‘জিম ক্রো আইন’ কথাটি।

ফ্যানিকে যেমন সংবিধানের উপর পরীক্ষা দিতে বলা হয়েছিল, তেমন কাউকে দিতে হতো স্বাক্ষরতার পরীক্ষা, কাউকে ইংরেজি ভাষার পরীক্ষা। কোনো কোনো  রাজ্যে বসানো হয়েছিল ‘পোল ট্যাক্স’ বা ‘ভোট কর’। আর নির্বাচনের দিন শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী গ্রুপ ‘ক্লু ক্লাক্স ক্লান’-এর সদস্যরা ঘুরে বেড়াত, যাতে কৃষ্ণাঙ্গরা ভোট দিতে না পারে।

এবার আবার ফেরা যাক অ্যানি লো কুপার, সেলমা আর ১৯৬৫ সালের গল্পে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলন তখন তুঙ্গে। মার্টিন লুথার কিং সারাদেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে। ১৯৬৫ সালের ২৫শে জানুয়ারি সকালে তাঁদের ডাকে সাড়া দিয়ে বহু কালো মানুষ গিয়ে লাইন দিলেন ডালাস কাউন্টির অফিসে। কিন্তু আগের বহুবারের মতো, এবারও অ্যানি লী কুপার এবং তাঁর সঙ্গীদের ব্যর্থ হতে হল। শহরের শেরিফ জিম ক্লার্ক তাঁদের নির্দেশ দিলেন সেখান থেকে চলে যেতে। শেরিফ ক্লার্ক তাঁর হাতের লাঠি দিয়ে গুঁতো দিলেন অ্যানি লী কুপারের ঘাড়ে। অ্যানি লী কুপারের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেল। মুহূর্তে ঘুরে কষে ঘুষি মারলেন শেরিফের চোয়ালে। সেই ঘুষিতেই মাটিতে পড়ে গেলেন জিম ক্লার্ক। মার্টিন লুথার কিং এর জীবনকাহিনী নিয়ে তৈরি অস্কার বিজয়ী বিখ্যাত ছবি ‘সেলমা’-তে এই দৃশ্যে অ্যানি লী কুপারের ভূমিকায় অভিনয় করেন মার্কিন শো বিজ তারকা অপ্রা উইনফ্রে।

অ্যানি লী কুপারকে এরপর সেদিন মাটিতে ফেলে লাঠি দিয়ে বেদম পেটানো হয়। তাঁর বিরুদ্ধেই ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলন এবং কৃষ্ণাঙ্গদের ভোটের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে সেলমা এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে আছে।

ভোটার হওয়ার জন্য জানুয়ারির ব্যর্থ চেষ্টার পরও সেলমায় ৭ই মার্চ গণমিছিলের কর্মসূচি নেওয়া হয়। এই মিছিল যাবে সেলমা থেকে অ্যালাবামা রাজ্যের রাজধানী মন্টোগোমারি। পথের দূরত্ব ৫৪ মাইল।

অ্যালাবামার গভর্নর জর্জ ওয়ালেস এই মিছিলকে বেআইনি ঘোষণা করেন। রাজ্যের পুলিশ বাহিনীকে নামিয়ে দেয়া হয় মিছিলে বাধা দেয়ার জন্য।

পঁচিশ বছর-বয়সী জন লুইসের নেতৃত্বে মিছিল পৌঁছেছিল একটি ব্রিজের ওপর। ব্রিজের অপর পাশে পদাতিক পুলিশ ও  ঘোড়সওয়ার বাহিনীও প্রস্তুত। সেদিন এই ব্রিজের ওপর যে রক্তপাত ঘটেছিল, তা স্মরণীয় হয়ে আছে ‘ব্লাডি সানডে’ নামে। কৃষ্ণাঙ্গদের ভোটাধিকারের দাবি এবার জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হলো।

শেষ পর্যন্ত ১৯৬৫ সালে ‘ভোটিং রাইটস আইন’ পাশ হল। প্রেসিডেন্ট লিন্ডন জনসন ৬ই আগস্ট আইনটিতে স্বাক্ষর করেন। তাঁর পাশে ছিলেন মার্টিন লুথার কিং এবং রোজা পার্কসের মতো সিভিল রাইটস আন্দোলনের শীর্ষ নেতারা। আফ্রিকান-আমেরিকানদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হতো যেসব আইন-কানুন বিধি বিধান দিয়ে, নতুন এই আইন শুধু সেগুলোই বাতিল করে দিল না, একই সঙ্গে এই সংবিধানে বলা হল, ভবিষ্যতে যদি রাজ্যগুলো ভোটাধিকার সীমিত করতে কোন আইন করতে চায়, সেটি তাদের আগে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) পূর্বানুমোদনের জন্য পাঠাতে হবে। এই বিধানটি খুবই কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল।

আজও যখন যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৩ সালে দুটি হোয়াইট সুপ্রিমেসিস্ট সংগঠন সেই ১৯৬৫ সালের ভোটাধিকার আইনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যান, তখন কালোরা সিঁদুরে মেঘ দেখেন এবং আজও সেই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পথে নেমে আসেন কালো মেয়েরাই। আজ তাঁরা পাশে পান সাদা বা বাদামি মেয়েদেরও। আমাদের দেশে, আজও আসামে নারীই এনআরসি-র ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত। কারণ হয় তার জন্মনথিভুক্তিকরণ হয়নি ঠিক ভাবে, নয় তার ভোটার কার্ডে বাবার বদলে বরের নাম, নয় তার মাধ্যমিক পাশের সার্টিফিকেটও নেই। আর এনআরসি,এনপিআর, সিএএ-র বিরুদ্ধে শাহীনবাগ থেকে পার্ক সার্কাস সর্বত্র আজও আন্দোলন গড়ে তুলছেন মেয়েরাই৷

ইতিহাস আজও তৈরি হচ্ছে। ভবিষ্যৎ তা লিপিবদ্ধ করবে নিশ্চয়।

তথ্যসূত্র:

১. Ellen Carol DuBois (1998)। Woman Suffrage and Women’s Rights। NYU Press। পৃষ্ঠা 174-6

২. Allison Sneider, “The New Suffrage History: Voting Rights in International Perspective”, History Compass, (July 2010) 8#7 pp 692–703

৩.  Holton, Sandra Stanley  “Challenging Masculinism: personal history and microhistory in feminist studies of the women’s suffrage movement”: (829–841)

৪. Harper, Ida Husted, History of Woman Suffrage, volume 6 (National American Woman Suffrage Association, 1922) p. 752.

৫. Pankhurst, Christabel (1959). Unshackled: The Story of How We Won the Vote. London: Hutchison, p. 43.

৬. Holton 2011

৭. Trueman, C.N. “Women’s Social and Political Union”

মন্তব্য তালিকা - “নারীর নাগরিকত্ব, নারীর ভোটাধিকার”

  1. নারীদের ভোটাধিকার নিয়ে এই বিশদ বিবরণ সকলের পরা উচিত | আমি এটি পরে মুগ্ধ | এটি বেশি সংখ্যায় লকেপরলে সকলের পক্ষে মঙ্গল | লেখিকাকে ধন্যবাদ অ অভিনন্দন |

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।