সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

চন্দ্রাবতীর রাম!

চন্দ্রাবতীর রাম!

লিপিকা ঘোষ

জুলাই ১২, ২০২৫ ৬৩৫ 4

‘রাম’ – এই নামে পাপ স্খলন হয়, পাষাণ গলে যায়, মুনি-ঋষিরা বলেন “এক রাম নামে কোটি ব্রহ্মহত্যা হরে”। অথচ একটি মহাকাব্যের চরিত্র এই রাম, জনপ্রিয়তার নিরিখে একটি জাতির পরম আরাধ্য দেবতায় পরিণত হয়েছে। আর এই মহাকাব্যও হয়ে উঠেছে রামের মতই ঐশ্বরিক ক্ষমতাসম্পন্ন। এই মহাকাব্য পাঠে অগতির গতি হয়, ‘পুত্রহীন পুত্র পায়, ধনহীন ধন পায়’! মহর্ষি বাল্মীকির রচিত এই সংস্কৃত রামায়ণকে অনুসরণ করেই কালে কালে লেখা হয়েছে কত শত রামকথা, কত শত রামায়ণ! পশ্চিমীভাষা বাদ দিয়ে শুধু দক্ষিণ এশিয়াতেই রামায়ণ লেখা হয়েছে আন্নামিজ, বালিনিজ, বাংলা, বর্মীজ, কম্বোডিয়ান, চিনা, গুজরাটি, জাভানিজ, কন্নড়, কাশ্মীরি, খোটানিজ, লাওশিয়ন, মালয়শিয়ন, মারাঠী, উড়িয়া, সাঁওতালী, সিংহলী, তামিল, তেলেগু, থাই ও তিব্বতী ভাষায়। বাংলাতেও লেখা হয়েছে এবং অনুবাদ করা হয়েছে বেশ কিছু রামায়ণ। পঞ্চদশ শতাব্দীতে লিখেছেন কৃত্তিবাস ও মাধব কন্দলি (শ্রীরাম পাঁচালী), ষোড়শ শতাব্দীতে লিখেছেন শঙ্কর দেব (শ্রীরাম পাঁচালী), সপ্তদশ শতাব্দীতে ষষ্ঠীবর ও গঙ্গাদাস (রামায়ণ), নিত্যানন্দ আচার্য বা অদ্ভূতাচার্য (রামায়ণ), রামানন্দ ঘোষ, পতিত ভবানীনাথ (‘লক্ষ্মণদিগবিজয়’) দ্বিজ শ্রীলক্ষমণ ‘(অধ্যাত্ম রামায়ণ)’, অষ্টাদশ শতাব্দীতে ফকির রাম কবিভূষণ (অঙ্গদ রায়বার), রামচন্দ্র (বিভীষণের রায়বার), রামনারায়ণ (বিভীষণের রায়বার), কাশীদাস (কালনেমির রায় বার), দ্বিজ তুলিসী (অঙ্গদ রায়বার), খোশাল শর্মা (অঙ্গদ রায়বার), জগন্নাথ দাস (লঙ্কাকাণ্ড), দ্বিজ দয়ারাম (তরনীসেনের যুদ্ধ), শঙ্কর চক্রবর্তী কবিচন্দ্র (অধ্যাত্ম রামায়ণ), দ্বিজ শিবরাম (লক্ষ্মণ শক্তিশেল), উত্সবানন্দ (সীতার বনবাস), জগৎরাম রায় (অদ্ভুত রামায়ণ) প্রমুখ। এছাড়াও মেয়েলি গান, বিয়ের গান, কথকতা, পটুয়ার গান, নাটক, যাত্রা, রাম-পাঁচালী, পূজাচারের গান, পুতুল নাচ, ছৌনাচ, কিষাণের গানের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে রামের নানাকথা। রামায়ণ রচয়িতার ভারে আজ বসুধাও নাকি ক্লান্ত!

তবে ষোড়শ শতাব্দীতে এই বাংলায় বসেও লেখা হয়েছিল অন্য এক রামকথা, আর এক রামায়ণ। সে রামায়ণে রাম, সীতা, রাবণের কাহিনি থাকলেও বাল্মীকি, তুলসীদাস বা কৃত্তিবাসী রামায়ণকে তোয়াক্কা না করেই লেখা হল রামের নতুন কথা। এ রামায়ণে রামের জন্মকথার শুরুতে একবার মাত্র তাকে বিষ্ণুর অবতার বা নারায়ণ বললেও সমস্ত কাহিনি জুড়ে কোথাও তার সেই চরিত্রের প্রতিফলন ঘটেনি। রাম হয়ে উঠতে পারেনি পতিত-পাবন, বীর-যোদ্ধা, কিংবা বিষ্ণুর অবতার।

এই রামায়ণ লিখেছেন এক নারী। পদ্মপুরাণের রচয়িতা দ্বিজবংশী দাসের কন্যা চন্দ্রাবতী। তিনি বাংলাসাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি। বাল্মীকি রামায়ণের আয়তনের তুলনায় অতি ক্ষুদ্র চন্দ্রাবতীর এই রামায়ণ। চন্দ্রাবতী রামায়ণ তিনটি খণ্ডে মাত্র উনিশটি অধ্যায়ে রচিত (প্রথম খণ্ডে ৮টি, দ্বিতীয় খণ্ডে ২টি ও তৃতীয় খণ্ডে ৯টি) ক্ষুদ্রায়তনে বাল্মীকি এমনকি কৃত্তিবাসী রামায়ণের বহু কাহিনি বাদ দিয়ে চন্দ্রাবতী এখানে নিজের মত করে কাহিনি সাজিয়েছেন। মহাকাব্যিক ঢঙ্গে নয়, পাঁচালীর ঢঙ্গে লেখা এই রামায়ণ প্রথমেই সীতার জন্মবৃত্তান্ত দিয়ে শুরু হয়েছে, এরপর ছোটো করে এসেছে রামের জন্ম, রাম-সীতার বিবাহ, রামের বনবাস। দ্বিতীয় খণ্ডে এসেছে মঙ্গলকাব্যের ঢঙ্গে সীতার সারা বছরের দুঃখের কাহিনি, সীতার বারোমাস্যা। সীতার দুঃখের বারোমাস্যা বর্ণনার মধ্যদিয়ে রাবণের সীতাহরণ ও অতি অল্প পরিসরে রাম-রাবণের যুদ্ধের কথা পাওয়া যায়। এখানে কথক সীতা নিজেই। তৃতীয় খণ্ডে রাবণ বধ করে অযোধ্যায় ফেরার পর রাম তার বোন কুকুয়ার চক্রান্তে সীতাকে বনবাসে পাঠিয়েছে। পাঁচমাসের গর্ভবতী সীতাকে রাজ্যের বাইরে বনবাসে পাঠালে সেখানে রামের যমজ পুত্রের জন্ম হয়েছে। পরে রাজ্যকে অমঙ্গলের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য বন থেকে সীতাকে ফিরিয়ে আনলেও অগ্নিপরীক্ষা দিয়ে তাকে সতীত্ব প্রমাণ করতে বলেছে এবং শেষপর্যন্ত অপমানে দুঃখে পাতলে প্রবেশ করেছে সীতা। মূলকাহিনি অপরিবর্তিত থাকলেও নিজের মত করে চরিত্র ও ঘটনা সাজিয়েছেন রচয়িতা। রাম চরিত্রের আমূল পরিবর্তন করেছেন। করেছেন সীতার চরিত্রও। বাল্মীকির রামায়ণের শান্তা (রামের অগ্রজা) চরিত্রের পরিবর্তে এসেছে কুকুয়া (রামের অনুজা) চরিত্র। এই রামায়ণ থেকে অনায়াসে বাদ গেছে রামের বীরগাথা, যুদ্ধের বিস্তারিত বর্ণনা, রামের দীক্ষা। নামমাত্র উল্লেখ আছে হরধনুভঙ্গ, অভিষেক, বনবাস, স্বর্ণমৃগ, অকালবোধন, সেতু নির্মাণ, ইন্দ্রজিৎ, রাবণ ও কুম্ভকর্ণ বধ।

 বাল্মীকিকে অনুসরণ না করে রামায়ণ যে লেখা হয়নি তা নয়, নানা পণ্ডিত নানাভাবে গল্প সাজিয়ে রামায়ণ লিখেছেন। এক সংস্কৃত ভাষাতেই পঁচিশটি কথন আছে রামায়ণের। ১৮২০ শকাব্দে প্রকাশিত পঞ্চানন তর্করত্ন সম্পাদিত যোগবাশিষ্ঠ রামায়ণ ছয়টি প্রকরণে বিশিষ্ট (বৈরাগ্য, মুমুক্ষু, ব্যবহার, উত্পত্তি, স্থিতি, উপমান ও নির্বাণ)। এই রামায়ণের মূল উদ্দেশ্য বিষ্ণুর অবতার হিসাবে রামের প্রচার নয় বরং জগৎ-সংসারে অনিত্যতা এবং তার পিছনে এক অবিনশ্বর তত্ত্ব বিদ্যমান- এই কথারই প্রচার করা। তেলেগু ভাষায় বুদ্ধ রেড্ডি ১২৩০ সালে ছয় খণ্ডে বিভক্ত দ্বিপদ রামায়ণ রচনা করেন। বাল্মীকি রামায়ণে নেই এমন অনেক কাহিনিই এই রামায়ণে রয়েছে। বর্মী ভাষায় আউঙ ফিয়ো যে রামায়ণ লিখেছেন সেই “রামসগীন” এ বৌদ্ধ উপাদানও মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্মার পাঠকের উপযোগী করে তুলতে চেয়েছেন। আর সেই কারণেই রামের রাজ্যত্যাগের সময় বৌদ্ধধর্মের বৈরাগ্যের প্রেরণার সন্ধান দিয়েছেন। আবার উত্তরকাণ্ড সহ তেলেগু ভাষায় প্রথম রামায়ণ লেখেন টিক্কন। তেলেগু ভাষায় রচিত আরো অনেক, প্রায় হাজার খানেক রামায়ণ বা রামকথা পাওয়া যায়, এদের মধ্যে  ভাস্কর রামায়ণ, ইয়ানা রামায়ণ, রামকথা, কট্টবরদারাজু রামায়ণ, মোল্লা রামায়ণ, অচ্চতেনুন রামায়ণ, রাঘব পাণ্ডবীয় উল্লেখযোগ্য। কন্নড় ভাষাতেও প্রায় একহাজার রামায়ণ লেখা হয়েছে। ষোড়শ শতাব্দীতে কন্নড় ভাষায় কুমার বাল্মীকি ওরফে নরহরি তোরবেয় রামায়ণ রচনা করেন। এই রামায়ণ ভাসিনী ষঠপদী ছন্দে ৫ হাজার শ্লোকে রচিত কন্নড় ভাষার প্রথম রামায়ণ। কবি নারায়ণ এই সময় লেখেন উত্তর রামকথা। সে সব কি বাল্মীকি- অনুসরণ করে লেখা? আর অষ্টাদশ শতাব্দীতে (১৭৫০) হেলবন কট্টে গিরিষম্মা সীতাকল্যাণ নামে রামায়ণ রচনা করেন। নেপালের পণ্ডিত চক্রপাণি রচিত সাত কাণ্ডে ‘নেপাল সংক্ষিপ্ত রামায়ণ’ এমন কি আদিবাসীদের মধ্যেও রামকথা বা রামায়ণ প্রচলিত আছে। মুণ্ডাদের কবি বদুবাবু রামায়ণ নামে ২১টি গান রচনা করেন। এছাড়া ওরাওঁ, অসুর, কোল, বীরহোড়দের মধ্যে রামকথার গান প্রচলিত আছে তাও প্রচলিত রামকথা থেকে কিছুটা ভিন্ন। আরো বেশ কয়েকটি ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের রামায়ণের কথাও জানা যায়, সংস্কৃতে লেখা অদ্ভুত রামায়ণ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচলিত। বড়ো অদ্ভুত সেই সাতকাণ্ড রামায়ণ। অন্যান্য কাহিনির সঙ্গে চন্দ্রাবতীর রামায়ণের মতোই সীতার অদ্ভুত জন্মবৃত্তান্ত যেমন রয়েছে তেমনি অসিতা-রূপিণী সীতার হাতে সহস্র স্কন্ধ রাবণবধের কথাও রয়েছে, এখানে রাম নয়, সীতা রাবণ বধ করেছে। বাল্মীকি নয়, দক্ষিণী জৈন রামায়ণ, কাশ্মীরি রামায়ণ ও অদ্ভুত রামায়ণের সঙ্গে চন্দ্রাবতী রামায়ণের মিল পাওয়া যায়।  আবার অনেকে চন্দ্রাবতী রামায়ণের সঙ্গে অসমের দূর্গাবর কায়স্থের গীতিরামায়ণের মিলও খুঁজে পেয়েছেন।

শুরুতেই চন্দ্রাবতীর রামায়ণে রামজন্মভূমি অযোধ্যার রাজা দশরথের রাজপ্রাসাদের বর্ণনার পরিবর্তে এই রামায়ণ বিমলসূরীর থাই রামায়ণের মতোই শুরু হয়েছে লঙ্কার রাবণের রাজপ্রাসাদের বর্ণনা দিয়ে। আশ্চর্যজনকভাবে মাইকেল মধুসূদন দত্তেরও কয়েকশো বছর আগের লেখা এই রামায়ণের সূচনা হয়েছে –

“সাগরের পারে আছে গো কনক ভূবন।

তাহাতে রাজত্বি করে গো লংকার রাবণ।।

বিশ্বকর্মা নির্ম্মাইল গো রাবণের পুরী।

বিচিত্র বর্ণনা তাহার গো কহিতে না পারি।।

যোজন বিস্তার পুরী গো দেখিতে সুন্দর।

বড়বড় ঘরগুলি গো পাহাড় পর্বত।।“

চন্দ্রাবতী- রামায়ণ শুরু হয়েছে সীতার জন্মকাহিনি দিয়ে। এই রামায়ণে সীতা রাবণ ও মন্দোদরীর কন্যা। তবে সীতা রাবণ ও মন্দোদরীর জৈবিক সন্তান নন, রাবণের ঔরসে তার জন্ম নয়, তিনি মন্দোদরীর একার সন্তান। সীতার এমন জন্মের কথা, মালয়েশিয়া, তিব্বত, কাশ্মীর, জাভা দেশের রামায়ণে দেখা যায় বটে তবে তাদের কাহিনির সঙ্গে হুবহু মিল নেই। রামের বোন কুকুয়া চরিত্রটিও কাশ্মীরী, জাভা, কম্বোজ, মালয় দেশের রামায়ণে পাওয়া যায়। এই বিভিন্ন দেশের রামায়ণ কথা বা কাহিনি চন্দ্রাবতীর বসতবাড়ি মৈমনসিংহ জেলার পাতুয়ারি গ্রাম ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বহুদিন ধরে প্রচলিত থাকায় তা সম্ভব হয়েছে। মৈমনসিংহ জেলার মেয়েদের মুখে মুখে ছড়িয়ে থাকা এই বিভিন্ন দেশের রামায়ণ কথা তিনি শৈশব থেকেই শুনে এসেছেন। ঐ অঞ্চলে ব্রাহ্মণ্যধর্ম প্রাধান্য পাওয়ার আগে বৌদ্ধ ও জৈনধর্মের প্রাধান্য থাকায় বৌদ্ধ ও জৈনদের রচিত রামায়ণের কাহিনি এই অঞ্চলে প্রচলিত থাকা স্বাভাবিক। ড. দীনেশচন্দ্র সেনও বলেছেন, “আশ্চর্যের বিষয় চন্দ্রাবতীর রামায়ণে বাল্মিকী বা কৃত্তিবাসের বৃত্তান্তের অনুরূপ কাহিনী আমরা পাই না। তিব্বত, মালয়, কাশ্মীর, জাভা প্রভৃতি স্থানে সীতার জন্ম সম্বন্ধে যে সব প্রবাদ আছে, চন্দ্রাবতী সেই সকল কথাই আমাদিগকে শুনাইয়াছেন।”

দীর্ঘ কাহিনি দিয়ে সীতার জন্মকথা শুনিয়েছেন চন্দ্রাবতী। লিখেছেন-

“শুভদিন শুভক্ষণ গো, পূর্ণিত হইল,

ডিম্ব ফুটিয়া এক কন্যা ভুমিষ্ঠ হইল।।

সর্ব সুলক্ষণা কন্যা গো লক্ষ্মী স্বরূপিণী।

মিথিলা নগর জুইর‍্যা গো, উইঠল জয়ধ্বনি।

জয়াদি জোকের দেয় গো কুলবালাগণ।

দেবের মন্দিরে বাদ্য গো, বাজে ঘন ঘন।।

স্বর্গ মর্ত্যে জয় জয় গো, সুর- নরগণে।

হইল লক্ষ্মীর জন্ম গো মিথিলা ভবনে।। “ 

ছয়টি অনুচ্ছেদে সীতার জন্মবৃত্তান্ত থাকলেও আর রামের জন্মবৃত্তান্ত রয়েছে মাত্র দুটি অনুচ্ছেদে। চন্দ্রাবতী রামের জন্মবৃত্তান্ত সারলেন ছোটো কথায়-

“কৌশল্যা রাণীর ঘরে গো জনমিলেন নারায়ণ।

স্বর্গ থাইক্যা পুষ্প বৃষ্টি গো, করে দেবগণ।।“

কেবল এইটুকু বলেই ক্ষান্ত হয়েছেন। সেখানে কৃত্তিবাস দীর্ঘ কাহিনি জুড়ে রামকে নারায়ণের অংশ বললেন। লিখলেন-

“মনে মনে প্রভূর হইল অভিলাষ।

 এক অংশ চারি অংশে হইতে প্রকাশ।।

 শ্রীরাম ভরত আর শত্রুঘ্ন লক্ষ্মণ।

 এক অংশে চারি অংশ হইল নারায়ণ।।“

বাল্মীকির রামায়ণে রাম স্বয়ং “সনাতন বিষ্ণু, তিনি বলদৃপ্ত রাবণের বধের নিমিত্ত দেবগণের প্রার্থনায় নরলোকে জন্মেছেন”। কৃত্তিবাস পাঁচালীর ঢঙ্গে রামায়ণ লিখলেও তিনি বাল্মীকির মতো রামের মাহাত্ম প্রচার করতে ভোলেননি। তিনিও লিখলেন-

“জন্মিলেন নারায়ণ বধিবারে দশানন

দেবেরে করিতে অব্যাহতি

ইহা শুনে যেই জন

হয়ে ভক্তি শুদ্ধমন ভবমুক্ত হয় সেই কৃতি।।“

তুলসী দাস তো জন্মেছেন রামনাম করতে করতে মারাও গেছেন সেই শব্দের উচ্চারণে। তাঁর রামায়ণে রাম তো ঈশ্বর হবেই তাতে অবাক হবার কিছু নেই। চন্দ্রাবতীর রাম তার সে মাহাত্ম হারিয়েছে। চন্দ্রাবতী রামের জন্মের পর এমন কোনো উদ্দেশ্যের কথা এড়িয়ে গিয়ে লিখলেন রাম এমন বলবান যে ত্রিভুবনের শত্রুকে নাশ করতে পারেন। বরং সীতার জন্মের উদ্দেশ্য যে রাবণকে ধ্বংস করা তা জানিয়ে দিয়েছেন। তাঁর কাহিনিতে সীতা ডিম্বরূপে থাকা অবস্থাতেই গণক রাবণকে জানিয়েছেন-

“এহি কন্যা হইব গো রাজা স্বর্ণালঙ্কা ধ্বংসের কারণ।

…দৈবের নির্বন্ধ কথা গো রাজা, খণ্ডানো না যায়।

 আপনি মৈরবা গো রাজা, তুমি এহি কন্যার দায়।।”

এবং সীতার জন্মের সময় পরিষ্কার বললেন এই সীতা হবেন ভুবনবন্দিতা-

“সতার নামেতে কন্যার নাম রাখে গো সীতা।

চন্দ্রাবতী কহে গো কন্যা ভুবন বন্দিতা।।’’

এই রামায়ণে রাবণের অশোকবনে বন্দিনী সীতার একমাত্র সখী হয়ে উঠেছিল সরমা। সীতা সরমার কাছে পঞ্চবটীবনের যে বর্ণনা দিয়েছেন তা মাইকেলের বর্ণনাতেও পাওয়া যায়, শুধু এই অংশটি পরবর্তীতে মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এ বিস্তৃতি লাভ করে। এই সরমা লক্ষ্মণকে তার স্ত্রী ঊর্মিলার প্রতিও সদয় হতে পরামর্শ দেন, যা পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘কাব্যে উপেক্ষিতা’র বিষয়বস্তু হয়েছে। অদ্ভুতভাবে এই মেঘনাদবধ কাব্যে মধুসূদন দত্ত রামকে খলনায়ক, ভীরু ও ভিখারি রাঘব বানিয়ে ছেড়েছেন। সেখানে রাম লক্ষ্মণকে বলেছেন-

“কেমনে পাঠাই তোরে সে সর্পবিবরে,

প্রাণাধিক? নাহি কাজ সীতায় উদ্ধারি।।’’

এখানে রাবণের সামনে দাঁড়াতে ভয় পাচ্ছেন রাম, তার জীবনের সমস্ত সমস্যার জন্য বিধাতাকে দোষারোপ করে আক্ষেপ করছেন। বিষ্ণুর অবতার থেকে বহু দূরে চলে গেছেন তিনি।

বাল্মীকি রামায়ণে রাম মহাবীর, মহাশক্তিমান, সুযোদ্ধা। তার সুউচ্চ কাঁধ, সবল বাহু, মহাধনুর্ধর রামের সুবিশাল বক্ষদেশ, উন্নত ললাট, সিংহের মতো তার বীরত্ব। সে রাম পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে দুন্দুভির কঙ্কাল অবলীলায় দশ যোজন দূরে সবেগে ছুঁড়ে দিতে পারেন। যার সোনার বাণ একবারে সাতটি শালগাছকে বিদ্ধ করে পর্বতকে বিদ্ধ করে মাটি স্পর্শ করে তূণে ফিরে আসে। রাবণের মতো যোদ্ধাকে সে অনায়াসে হারিয়ে দিতে পারেন। হনুমানের পিঠে চড়ে রাম রাবণের সঙ্গে যুদ্ধ করে। নিশিত বাণে রাবণের সারথি, রথ, অশ্ব ধ্বংস করে। উল্টে রাবণ যুদ্ধ করে ক্লান্ত হয়ে গেছেন বলে তাকে রাম বলেছেন সেদিনের মতো বিশ্রাম নিতে। পরের দিন তাকে বধ করবেন। রাম যেন রাবণকে যখন তখন বধ করতে পারেন এমন দৈব শক্তি আছে বলে বোঝানো হয়েছে সেখানে, রাবণ তার কাছে দয়ার পাত্র মাত্র। আবার কৃত্তিবাসও রামের বীরত্ব সম্পর্কে লিখলেন-

“রামের বিক্রম দেখি দেবগণ ভাষে।

এত দিনে রাবণ মরিবে অনায়াসে।।”

কিন্তু চন্দ্রাবতীর রাম তেমন যোদ্ধা হলেন কোথায়? যুদ্ধই তো কম, রামের বীরত্ব আরও কম। সেখানে রাম ভীতু। সে বিপদে পড়ে লক্ষ্মণকে ডেকেছে-

“কোথায় রইলা লক্ষ্মণ ভাই গো শীঘ্র কইর‍্যা আইস।

রাইক্ষসের হস্তে মোর গো পরাণ হয় নাশ।।”

উল্টে সীতা বলেছে বিপদের কথা আগে বুঝতে পারলে সে রামের সঙ্গে যেত। সীতা যে রামকে রক্ষা করার ক্ষমতা রাখে তা প্রকাশ পেয়েছে। কী লজ্জার কথা!

বাল্মীকির রামায়ণের বিষ্ণুর অবতার, কৃত্তিবাসী রামায়ণের পতিতপাবন রামচন্দ্র চন্দ্রাবতীর রামায়ণে খলনায়ক হয়ে উঠেছে। অগতির গতি, অজর, অমর রামের কোনো দৈবশক্তিই নেই এখানে। অথচ সীতা হয়ে উঠেছে মঙ্গলদায়িনী, কল্যাণেশ্বরী। তাই অতি দরিদ্র সতা জেলেনির ঘরে সোনার কৌটোতে করে ‘ডিম্ব’ রূপে সীতা আসার সঙ্গে সঙ্গে তাকে যত্ন করে তুলে রেখেছিল সতা, আর সেই কারণেই তার সব অভাব দূর হয়ে যায়। সতার বন্ধ্যা গাভীর বাচ্চা হয়, তাদের সুদিন ফেরে, জমিতে সোনার ফসল হতে শুরু করে, সতার স্বামী মাধবকেও আর জলে মাছ ধরতে যেতে হয় না। সতাও আর মাছ বেচতে যায় না। ছেঁড়া শাড়ির বদলে সে ‘গঙ্গাজল-শাড়ি’ পড়ে, দামী ‘রাম-লক্ষ্মণ শাঁখা’ পরে।

“মাছের ডুলি মাথায় সতা গো না যায় বাড়ি বাড়ি।

‘রাম-লক্ষ্মণ শাখা’ পরে গো মাধবের নারী।।

‘গঙ্গাজল- শাড়ি’ পরে গো পিন্ধন বাহার।

কোমরে বেড়িয়া পড়ে গো পাটের পসার।।”

আবার অযোধ্যা থেকে সীতা বের করে দিলে সেখানেও অমঙ্গলের ছায়া পড়ে, রাজ্যটাই লক্ষ্মীছাড়া হয়ে যায়।

“যেই না দিন সীতা দেবী গো বনবাসে গেল।

অযোধ্যা ভুবনে হায় গো অমঙ্গল লাগিল।।

ক্ষেতে নাই সে হয় ফসল গো, নদীতে না হয় পানি।

রোগ-ব্যাধির জ্বালায় প্রজার গো আকুলপরাণি।।”

রাম সে অমঙ্গলের হাত থেকে রাজ্য বাঁচাতে অক্ষম, রামের সে দৈবশক্তি নেই। রামের সুখের রাজ্যে অসুখের কালো মেঘ নেমে এলে রাম এখানে নিজের রাজ্যের সুখ শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য অন্যের কাছে অসহায়ের মতো পরামর্শ চায় আর তখনও সেই সীতাকে রাজ্যে ফিরিয়ে আনারই প্রস্তাব আসে।

বাল্মীকি বা কৃত্তিবাসী রামায়ণের রামের মতো স্মিতভাষী, স্বল্পভাষী, ধীর, শান্ত নরোত্তম নয় সে, এখানে উগ্রস্বভাবের পুরুষমাত্র। তাই অন্যের পরামর্শে সীতাকে বনবাসে পাঠানোর আগে সে ঘটনার সত্যমিথ্যা যাচায় করেনি, ক্রোধে রাক্ষসের চারিত্রিক গুণ ফুটে উঠেছে তার চোখেমুখে-

“উন্মত্ত পাগল প্রায় হইলেন রাম।।

রক্তজবা আঙ্খি রামের গো, শিরে রক্ত ওঠে

নাসিকায় অগ্নিশ্বাস গো ব্রহ্মরন্ধ্র ফুটে।।”

এমন খলনায়োকোচিত রাম বাঙালি আগে দেখেনি। এই রাম রাজ্যের মঙ্গলের জন্য সীতাকে ফিরিয়ে এনেও অবিবেচকের নিজে হাতে সীতার চিতায় আগুন ধরায়।

কৃত্তিবাসী রামায়ণের উত্তরকাণ্ডে সীতা সহনশীলা, তার প্রতি লাঞ্ছনার প্রশ্রয়দাত্রী। অগ্নিপরীক্ষা দেওয়ার আগে রামের কাছে বিদায় চাইতে গিয়ে বলেছে-

“জন্মে জন্মে প্রভু! মোর তুমি হও পতি।

আর কোন জন্মে মোর করো না দুর্গতি।।”

কিন্তু চন্দ্রাবতীর সীতা রামের অন্যায়কে, লাঞ্ছনাকে প্রশ্রয় দেয় না। সে তার সমস্ত দুঃখকষ্টের জন্য রামকে অভিযুক্ত করে। বারমাস্যার শুরুই হয়েছে রামকে অভিযুক্ত করে, সীতা স্পষ্টত রামের মত স্বামী পেয়ে আক্ষেপ করেছে-

“আমার দুঃখের কথা গো কহিতে কাহিনী।

কহিতে কহিতে উঠে গো জ্বলন্ত আগুনী।।

জনম- দুঃখিনী সীতা গো দুঃখে গেল কাল।

রামের মতন পতি পাইয়া গো দুঃখেরি কপাল।।”

এই রামায়ণের শেষে রামের মাহাত্ম অনেকটাই ম্লান। রাম তার কাছে কোনো দেবতার অবতার নয় – একজন ক্রুর, অপদার্থ মানুষ, যে হঠাৎ বন থেকে তুলে নিয়ে এসে সন্তানদের সামনেই তাদের মাকে পুড়িয়ে মারার ব্যবস্থা করে। বারো বছর বনবাসে পাঠিয়েও তার মানসিক শান্তি মেলেনি। নিজের স্ত্রীর প্রতি সামান্য বিশ্বাসটুকুও নেই তার। তার এটাই মনে হয়েছে রাবণের দ্বারা সীতা অশুচি হয়েছে তা প্রমাণ হলে তাকে পুড়িয়ে মারতে হবে। তাই নিষ্পাপ দুটি শিশুর সামনেই চিতা জ্বালিয়ে দিয়েছে। ভেবে দেখেনি বালকদের মানসিক অবস্থা কী হতে পারে, যারা প্রথম দর্শনেই পিতাকে দেখছে এক নৃশংস রাজা হিসাবে। বাল্মীকি-রামায়ণের বিষ্ণুর অবতার, কৃত্তিবাসী রামায়ণের পতিতপাবন রামচন্দ্র চন্দ্রাবতীর রামায়ণে খলনায়ক হয়ে উঠেছে। এই রামায়ণের শেষে মাহাত্ম্যের বিচারে অনেক ক্ষুদ্র রামকে উদ্দেশ্য করেই লেখা হয়েছে “পরের কথা কানে লইলে গো নিজের সর্ব্বনাশ।/ চন্দ্রাবতী কহে রামের গো বুদ্ধি হইল নাশ।।” রাম তার কাছে কোনো দেবতার অবতার নয়, মানুষমাত্র; একজন বুদ্ধিহীন রাজা। বাল্মীকি, কৃত্তিবাসের পতিতপাবন রামের দিকে আঙ্গুল তুলে অভিসম্পাত করতেও ছাড়েননি চন্দ্রাবতী। লিখেছেন- “পুড়িবে অযোধ্যাপুরী গো কিছুদিন পরে।/ লক্ষ্মীশূন্য হইয়া রাজ্য গো যাবে ছাড়খারে।।” তিনি ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন চিরাচরিত দেবভক্তিবাদকে, মনসাভাসান গায়কের ঘরে জন্মে, তপস্বিনীর জীবনযাপন করেও সংস্কৃত রামায়ণের ধার ধারেননি তিনি। জনম দুঃখিনী সীতার দুঃখের কথা লিখতে গিয়ে রামের প্রশস্তি আর করা হয়নি, শেষ পর্যন্ত তা হয়ে উঠেছে সীতার প্রশস্তি। তাই হয়ত চন্দ্রাবতীর রাম মেরুদণ্ডহীন প্রেমিক, প্রতারক স্বামী, পদলোভী রাজনীতিবিদ, অপদার্থ রাজা, অবিবেচক ভাই ও পিতা! দুঃখ-কষ্টের আগুনে ঝলসে সীতা তার কাছে খাঁটি সোনা, যেখানে রাম হয়ে উঠেছে রাংতা। আসলে রচনার শুরুতেই তো পুরুষের ঔরস ছাড়া মন্দোদরীর গর্ভধারণ ও অদ্ভুত প্রসব-কাহিনি বর্ণনা করেছেন, আর ঘটনাচক্রে জনক রাজার ঘরে জন্ম নিয়েও ‘সতা’ জেলেনির নামানুসারে কন্যার ‘সীতা’ নাম দিয়ে সমাজের পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে জোড়ালো এক প্রতিবাদ করেছেন! সমাজের লিঙ্গবৈষম্যের স্তম্ভের ওপর বড়সড় পেরেক ঠুকেছেন চন্দ্রাবতী সেই ষোড়শ শতাব্দীতে বসে। তাই তো রাম নয়, সীতা শ্রেষ্ঠা এ রামায়ণে!

বিংশশতাব্দীর শুরুতে সাহিত্যিক চন্দ্রকুমার দে এই রামায়ণ বাংলার পূর্বাঞ্চল থেকে সংগ্রহ না করলে, দীনেশচন্দ্র সেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশ না করলে (১৯৩২) এই রামায়ণ বাঙালির কাছে অধরাই থেকে যেত। আর ক্ষীতিশচন্দ্র মৌলিক বাকি অংশ উদ্ধার না করলে (১৯৭৫) এর অসম্পূর্ণতার দুর্নাম ঘুচত না। নবনীতা দেবসেন পড়ে অভিভূত হয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ও দিল্লিতে (১৯৮৯), হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এই রামায়ণ নিয়ে বক্তৃতা না দিলে (১৯৯১), অনুবাদ না করলে বিশ্বসাহিত্যের আলোচনা সভায় অনুল্লেখিত রয়ে যেত। তাঁর কথায়- “…‘চন্দ্রাবতী রামায়ণে’ কান পাতলে একটি পরিচ্ছন্ন উচ্চারিত নারীর কণ্ঠ স্পষ্ট শোনা যায়। চন্দ্রাবতী ব্রাহ্মণদের রামায়ণকে চুপ করিয়ে দিয়েছেন। তিনি রামের বীর্যশৌর্য বিষয়ে নীরব, নীরব রামের গুণপনা ও দেবত্ব বিষয়ে, নীরব রামের যুদ্ধ-দক্ষতা বিষয়ে, এবং নীরব রামের বোধি সম্পর্কেও।’ এ নীরবতা, অবহেলা এক দুঃসাহসিক প্রতিবাদ।

এক নারীর হাতে পড়েই যে রামের এমন হাল হয়েছে তা তো নয়! তার সমসাময়িক আরও নারী লিখেছেন রামায়ণ। চন্দ্রাবতীর সময়ে ভারতের দক্ষিণ প্রান্তে তেলেগু ভাষায় এক শূদ্র নারীর রচিত রামায়ণ পাওয়া যায় যা মোল্লা-রামায়ণ নামে খ্যাত। চন্দ্রাবতীর মত তিনিও শৈব ও চিরকুমারী ছিলেন। চন্দ্রাবতী পিতার আদেশে রামায়ণ লিখলেও মোল্লা স্বপ্নে রামের আদেশে রামায়ণ লেখেন, যেখানে ভক্তির স্রোত বয়ে যায়। বাল্মীকিকে অনুসরণ করেই উত্তরকাণ্ড বাদ দিয়ে রামায়ণ লেখেন তিনি। চন্দ্রাবতী ভিন্নগল্প শোনানোর সাহস দেখিয়েছেন, যেমন দেখিয়েছেন ব্যক্তিগত জীবনে প্রেমে প্রতারিত হয়ে সারা জীবন কুমারী থাকার সিদ্ধান্ত নেবার সাহস! সেই সাহসই তার রামায়ণের ছত্রে ছত্রে ধরা পড়েছে, পণ্ডিতরা যতই একে দুর্বল কাব্য বলুন! যারা মহাকাব্যের এই নায়ককে স্বয়ং নারায়ণ বলে বিশ্বাস করেন, যারা পাপ স্খলনের জন্য রামায়ণ পড়েন আর রাম নাম জপ করেন তারা নিঃসন্দেহে এই রামায়ণ পড়ে একবার অন্তত দীর্ঘনিঃশ্বাস ছাড়বেন ‘হে রাম’ বলে!

তথ্যসূত্র-

১. কোয়েল চক্রবর্তী, চন্দ্রাবতীর জীবন ও রামায়ণ, দে বুক স্টোর, ২০১৮

২. নবনীতা দেবসেন, চন্দ্র-মল্লিকা এবং প্রাসঙ্গিক প্রবন্ধ, দে’জ পাবলিশিং, ২০১৯

৩. এ. কে. রামানুজন, (অনুবাদ স্বাগতা দাসগুপ্তা), তিনশো রামায়ণ, একতারা প্রকাশনী, ২০২৩

৪. হেমচন্দ্র ভট্টাচার্য অনূদিত বাল্মীকি রামায়ণ, ভারবি, ১৯৭৬

৫. রাজশেখর বসু, বাল্মীকি রামায়ণ সারানুবাদ, প্রকাশক শমিত সরকার, ১৩১০ বঙ্গাব্দ

৬. বিশ্বনাথ চৌধুরী (সম্পা.), কৃত্তিবাসী রামায়ণ, অখিল ভারত জনশিক্ষা প্রচার সমিতি, ১৯৪০

৭. ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক, চন্দ্রাবতী রামায়ণ, প্রাচীন পূর্ববঙ্গ গীতিকা, সপ্তম খণ্ড, ফার্মা কে. এল. মুখোপাধ্যায়, ১৯৭৬

৮. দীনেশচন্দ্র সেন, পুর্ব্ববঙ্গ গীতিকা, চতুর্থ খণ্ড, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৩২ এবং বৃহৎ বঙ্গ, ১৯৩৯

৯. চন্দ্রাবতী বিরচিত রামায়ণ, নয়ানচাদ ঘোষ প্রণীত চন্দ্রাবতী, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা একাডেমি, ২০২৩

মন্তব্য তালিকা - “চন্দ্রাবতীর রাম!”

  1. অপূর্ব! খুব ভালো থাকুন। এমন তথ্য সমৃদ্ধ লেখাই যুক্তিবাদীদের শক্তি হতে পারে। আপনার সুস্থ ও দীর্ঘজীবন হোক। শ্রদ্ধা ও নমস্কার নেবেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।