সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

সোভিয়েত ইউনিয়নের ফিনল্যান্ড আক্রমণ ও বামপন্থী বুদ্ধিজীবীদের বিভ্রান্তি

সোভিয়েত ইউনিয়নের ফিনল্যান্ড আক্রমণ ও বামপন্থী বুদ্ধিজীবীদের বিভ্রান্তি

শিবাশীষ বসু

মার্চ ২১, ২০২৬ ১৫১ 0

১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর ভোর বেলা জার্মান সেনাবাহিনীর পোলিশ সীমান্ত অতিক্রম করবার মধ্যে দিয়ে সরকারিভাবে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সূচনা হয়। ওই বছরের আগস্ট থেকে নভেম্বর—এই কয়েক মাসে বিশ্বরাজনীতির মঞ্চে কয়েকটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে।

  • ২৩ আগস্ট বলশেভিক সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং নাৎসি জার্মানি—মতাদর্শগত দুটি সম্পূর্ণ পরস্পরবিরোধী শক্তি অনাক্রমণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করল।
  • পরের ঘটনাটি আরও চমকপ্রদ। ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি পোল্যান্ড আক্রমণ করবার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে সোভিয়েত ইউনিয়ন তাদের সীমান্ত বরাবর পোল্যান্ড আক্রমণ করে প্রায় অর্ধেক এলাকা দখল করে নেয়।
  • এবং মাসখানেক পরে ৩০ নভেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়ন ফিনল্যান্ড আক্রমণ করল।

এই তিনটি ঘটনা সারা বিশ্বের শান্তিকামী, গণতান্ত্রিক ও বামপন্থী বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। অবশ্য এই বিভ্রান্তি সৃষ্টির ক্ষেত্রে ইঙ্গ-ফরাসি জোটের সাম্রাজ্যবাদী প্রচারযন্ত্রের ভূমিকাও কম ছিল না। কিন্তু বিষয়টা বুঝতে গেলে সোভিয়েত ইউনিয়নের এই সিদ্ধান্তের ঐতিহাসিক পরিপ্রেক্ষিতটা আমাদের আলোচনা করতে হবে।

এই ঘটনার একবছর আগে থেকে, অর্থাৎ জার্মানির অস্ট্রিয়া গ্রাস পর্ব থেকে সোভিয়েত ইউনিয়ন বারংবার নাৎসি জার্মানি ও ফ্যাসিস্ট ইতালির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ইঙ্গ-ফরাসি জোটের কাছে আবেদন জানিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। উল্লেখযোগ্য, সোভিয়েত ইউনিয়নকে বাদ রেখেই সাম্রাজ্যবাদী জোট জার্মানির সঙ্গে মিউনিখ চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। এমনকী ১৯৩৯ সালের ১৫ মার্চ জার্মানির চেকোস্লোভাকিয়া দখলের পরেও পুনরায় সোভিয়েত ইউনিয়ন ২১ মার্চ ফ্যাসিস্ট আক্রমণকে প্রতিরোধ করবার জন্য বৃহৎ ছয় রাষ্ট্রের এক সম্মেলনের প্রস্তাব দেয়। সোভিয়েতের প্রস্তাব ছিল; পোল্যান্ড, রোমানিয়া, তুরস্ক, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও সোভিয়েত ইউনিয়ন—এই ছয়টি রাষ্ট্র একত্রে জার্মান আগ্রাসন রোধ করবার জন্য মৈত্রী চুক্তি করুক। এই প্রস্তাবে সবচেয়ে আপত্তি করল পোল্যান্ড এবং বলা বাহুল্য, চেম্বারলেইনও (১৯৩৭-১৯৪০ সালে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী) প্রস্তাবটি অগ্রাহ্য করলেন। পোল্যান্ড এবং রোমানিয়া সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে সামরিক মৈত্রীর প্রস্তাবে সম্মত হল না। কারণ, এই চুক্তি হলে লালফৌজকে অনুসরণ করে সেই দেশে আসবে শ্রেণীসংগ্রামের বার্তাবাহী সাম্যবাদ।

প্রখ্যাত গবেষক বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন,

‘পোল্যান্ডের বেক-স্মিগলি-রিজ গভর্নমেন্ট এবং রোমানিয়ার রাজা ক্যারলের মন্ত্রিসভা ইহাতে রাজী হইলেন না। মার্শাল পিলসুদস্কির আমল হইতেই পোল্যান্ডে ডিক্টেটরি শাসন প্রবর্তিত ছিল এবং বড়ো বড়ো ভূম্যধিকারী ছিলেন ইহার পিছনে; ১৯৩৫ সালে পিলসুদস্কির মৃত্যুর পরও সেই একই শাসন চলিতে থাকে। সুতরাং মনে-প্রাণে ইহারাও কায়েমী স্বার্থের বাহক নাৎসিতন্ত্রের ভক্ত এবং সাম্যবাদের শত্রু ছিলেন।’

পোল্যান্ড এবং রোমানিয়ার মতো চেম্বারলেনও সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে পূর্ণ সামরিক মৈত্রীর ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত ছিলেন না। ক্ষুব্ধ চার্চিল লিখেছিলেন—

‘On March 21, the Russian Government, which was profoundly affected by all that was taking place, and in spite of having been left outside the door in the Munich crisis, proposed a Six-Power Conference. On this subject also Mr. Chamberlain had decided views. In a private letter he wrote on March 26: ‘I must confess to the most profound distrust of Russia. I have no belief whatever in her ability to maintain an effective offensive, even if she wanted to. And I distrust her motives, …’ The Soviet proposal for a Six-Power Conference was therefore coldly received and allowed to drop.’

‘২১ মার্চ, রুশ সরকার, যা যা ঘটছিল তাতে গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিল, এবং সবকিছু থেকে বাইরে রাখা সত্ত্বেও মিউনিখ সংকটে ছয়-শক্তি সম্মেলনের প্রস্তাব করেছিল। এই বিষয়ে মিঃ চেম্বারলেইনেরও মতামত ছিল। ২৬ মার্চ একটি ব্যক্তিগত চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, ‘রাশিয়ার প্রতি আমার গভীর অবিশ্বাস স্বীকার করতে হবে। আমি তার কার্যকর আক্রমণ বজায় রাখার ক্ষমতার উপর কোনো বিশ্বাস রাখি না, এমনকী যদি সে চায়ও। এবং আমি তার উদ্দেশ্য নিয়েও অবিশ্বাস রাখি…’।

তাই ছয়-শক্তি সম্মেলনের জন্য সোভিয়েত প্রস্তাবটি ঠাণ্ডা মাথায় বাতিল করা হয়েছিল।

ইতিমধ্যে ইতালি আলবেনিয়া দখল করে নিয়েছে এবং জার্মানি পোল্যান্ডের কাছ থেকে ডানজিগ বন্দর এবং তার সঙ্গে সংযোগরক্ষাকারী একটি করিডোর দাবি করেছে। ইউরোপে ‘গ্রীষ্মকালীন সংকট’ আরও ঘনীভূত হতে লাগল। ১৬ এপ্রিল শেষবারের মতো সোভিয়েত ইউনিয়নের পররাষ্ট্র দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক চুক্তির প্রচেষ্টা করল; কিন্তু দীর্ঘ টালবাহানা করে শেষ পর্যন্ত সে প্রস্তাবও ঠুকরে দেওয়া হল। এদিকে ততদিনে সোভিয়েত ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এস্তোনিয়া ও লাটভিয়ার সঙ্গে জার্মানির অনাক্রমণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এইসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সোভিয়েত ইউনিয়ন বুঝতে পারল, ইঙ্গ-ফরাসি জোট এবং জার্মান-ইতালি জোট এই দুই শক্তিক্ষেত্রের মধ্যে যতই বিরোধ থাকুক না কেন তাদের উভয়েরই লক্ষ্য সোভিয়েত ইউনিয়নকে বানচাল করা। আলোচনার নামে তার সঙ্গে ধোঁকাবাজি করছে ইঙ্গ-ফরাসি জোট। এই পরিস্থিতিতে খানিকটা বাধ্য হয়েই ২৩ আগস্ট ১৯৩৯ স্বাক্ষরিত হল রুশ-জার্মান অনাক্রমণ চুক্তি।

বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো এই ঘটনা সারা ইউরোপকে স্তম্ভিত করে দিল। বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই চুক্তির গোপনীয় শর্ত হিসেবে ফিনল্যান্ড, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া এবং পোল্যান্ডের পূর্বাংশ ‘সোভিয়েত স্বার্থের অন্তর্গত’ বলে বিবেচনা করা হয়েছিল। এই চুক্তির বলেই সোভিয়েত ইউনিয়ন পোল্যান্ডের অর্ধাংশ দখল করে। ২৪ অক্টোবর জার্মান সেনানায়ক রিবেনট্রপ জানালেন,

‘Russian troops moved forward on the entire front and occupied Polish territory upon the line of demarcation which we had previously agreed upon with Russia.’

ইউরোপের পূর্বদিকে জার্মান রাজ্য বিস্তারের গতিরোধ এবং জার্মানির বিরুদ্ধে অগ্রবর্তী সৈন্যঘাটি ও রণনৈতিক সীমানা লাভ করা ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের উদ্দেশ্য। আরও একটি কথা আমাদের মনে রাখতে হবে, মিউনিখ সঙ্কটের সময় এই পোল্যান্ডই চেকদের একটি বড়ো অংশ দখল করে নিতে চেয়েছিল; সময়মতো সোভিয়েত ইউনিয়নের হস্তক্ষেপের ফলে তা শেষপর্যন্ত সম্ভব হয়নি। চার্চিলও এক্ষেত্রে পোল সরকারকে ধিক্কার না দিয়ে পারেননি।

রুশ-জার্মান চুক্তিতে কোনো বন্ধুতা অথবা মৈত্রীর অবকাশ ছিল না, এটা নিতান্তই অনাক্রমণ চুক্তি—পরস্পরের দেশ আক্রমণ না করবার প্রতিশ্রুতি মাত্র। স্ট্যালিন জানতেন, এই চুক্তি সাময়িক হতে চলেছে—তাদের কিছু সময় দরকার ছিল। এই সুযোগে জার্মানির আগ্রাসন থেকে আতঙ্কিত সোভিয়েত ইউনিয়ন বাল্টিক ও স্ক্যান্ডিনেভীয় রাজ্যগুলিতে নিজের প্রভাব বিস্তার করে সীমান্তকে রাজধানী থেকে যতোটা সম্ভব দূরে ঠেলবার প্রয়াস নিয়েছিল। মনে রাখতে হবে, বাল্টিক রাষ্ট্রগুলি দীর্ঘকাল ইঙ্গ-ফরাসি অথবা জার্মান-ইতালি জোটের হয়ে সোভিয়েট বিরোধী চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছিল।

১৯১৯ সালে বিভিন্ন রাষ্ট্রশক্তির যে মিলিত সৈন্যদল সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করেছিল, তাদের মধ্যে চেকোস্লোভাকিয়া, সার্বিয়া, ফিনল্যান্ড, পোল্যান্ড, রোমানিয়া এবং তুরস্কের সৈন্যদলও ছিল। বস্তুতঃ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর এই রাষ্ট্রগুলির সৃষ্টিই হয়েছিল পশ্চিম ইউরোপে কম্যুনিজমের প্রভাব ঠেকিয়ে রাখবার জন্য। নেহরু লিখেছেন,

‘দেখবে পশ্চিম-ইউরোপ থেকে সোভিয়েত ইউনিয়ন সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, এদের মাঝখানে রয়েছে পর পর এক সার রাজ্য; ফিনল্যান্ড, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, পোল্যান্ড এবং রোমানিয়া। তোমাকে বলেছি, এই রাজ্যগুলোর অধিকাংশই জন্মলাভ করেছিল, ভার্সাই সন্ধি থেকে নয়—সোভিয়েত বিপ্লবের ফলে। কিন্তু তাহলেও এদের উদ্ভব দেখে মিত্রপক্ষ খুবই খুশী হল; কারণ এরা সোভিয়েত ইউনিয়ন আর অ-বলশেভিক ইউরোপের মাঝখানে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এরা যেন একটা ‘স্বাস্থ্য রক্ষার সীমারেখা’ (যা দিয়ে সংক্রামক রোগগ্রস্ত স্থানকে অন্য স্থান থেকে আলাদা করে রাখা হয়); বলশেভিক-সংক্রমণকে এরা ইউরোপ থেকে দূরে ঠেকিয়ে রাখবে। বাল্টিক-অঞ্চলের এই রাজ্যগুলি সকলেই অ-বলশেভিক, তা নইলে এরা অবশ্যই গিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে যোগ দিত।’

বস্তুতঃ এই রাষ্ট্রগুলি বরাবরই সাম্রাজ্যবাদী ফ্রান্স ও ব্রিটেনের ক্রীড়ানক হয়ে কাজ করছিল এবং ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক চুক্তির বিরোধিতা করে আসছিল। এই প্রসঙ্গে চার্চিলের একটি মন্তব্য খুব গুরুত্বপূর্ণ,

‘The Polish attitude was, with the Germans we risk losing our liberty; with the Russians our soul.’ জার্মানির সঙ্গে অনাক্রমণ চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পর ১৯৩৯ সালের শেষ পর্বে সোভিয়েত ইউনিয়ন এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও অন্যান্য বাল্টিক রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে পারস্পরিক সাহায্য চুক্তি করে এবং ওই দেশগুলিতে নিজস্ব সৈন্য রাখবার অনুমতি পায়।

সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে ফিনল্যান্ডের ব্যাপারটিও কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। তিনটি বাল্টিক রাজ্যের সঙ্গে চুক্তির ফলে ফিন উপসাগরের দক্ষিণ তীরের উপর এবং বাল্টিক সাগরে সোভিয়েত ইউনিয়নের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হল ঠিকই কিন্তু ফিন উপসাগরের উত্তরাংশ এবং ক্যারেলিয়ান যোজকের (Karelian Isthmus) উপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে সোভিয়েত ইউনিয়নের সমূহ বিপদ কারণ ফিনল্যান্ডের এই অঞ্চল থেকে লেনিনগ্রাদের দূরত্ব ছিল মাত্র কুড়ি কিলোমিটার। আর ফিনল্যান্ডের এই সীমানাতেই জার্মান সামরিক তত্ত্বাবধানে তৈরি হয়েছিল বিখ্যাত ম্যানারহাইম লাইন নামে দুর্ভেদ্য দুর্গশ্রেণী। জার্মান সামরিক বাহিনীর সঙ্গে প্রবল কমিউনিস্ট বিরোধী ফিনল্যান্ড সরকারের গলাগলিও সোভিয়েত ইউনিয়নের অজ‍ানা ছিল না। সুতরাং সোভিয়েত ইউনিয়নের মনে এই সন্দেহ দেখা দিল যে, যদি অদূর ভবিষ্যতে জার্মানি ফিনল্যান্ড দখল করে নেয়, কিংবা ফিনল্যান্ডই যদি স্বেচ্ছায় জার্মানির মিত্রে পরিণত হয়, তাহলে ফিনিশ সীমান্তের এত নিকটবর্তী লেনিনগ্রাদ সম্পূর্ণ অরক্ষিত হয়ে পড়বে। অতএব জার্মানির সাম্রাজ্য লিপ্সা থেকে রুশ রাজ্যের নিরাপত্তার জন্যে এই পথটিকে বন্ধ করা সোভিয়েত ইউনিয়নের পক্ষে প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছিল। সুতরাং বাল্টিক রাজ্যগুলির সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির পর সোভিয়েত সরকার ফিনল্যান্ডের সঙ্গেও বোঝাপড়া করতে উদ্যোগী হল। ৫ অক্টোবর থেকে উভয় সরকারের মধ্যে এই সম্পর্কে আলোচনা শুরু হল এবং ১৪ অক্টোবর সোভিয়েত সরকারের পক্ষ থেকে তিনটি দাবি উত্থাপিত হল। দাবিগুলি হল;

  • ফিন উপসাগরে প্রবেশের মুখ বন্ধ করবার জন্য হ্যাঙ্গো বন্দরে একটি নৌ-ঘাঁটি স্থাপন,
  • উপসাগরের পথে লেনিনগ্রাদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য হগল্যান্ড,
  • সিয়েসকারি প্রভৃতি পাঁচটি দ্বীপ সোভিয়েত ইউনিয়নের হাতে অর্পণ এবং ক্যারেলিয়ান যোজকের ১০৬৬ বর্গমাইল পরিমিত ভূমি সোভিয়েত ইউনিয়নকে অর্পণ।

অবশ্য এই সবের ক্ষতিপুরণ স্বরূপ সোভিয়েত ইউনিয়ন ফিনল্যান্ডকে উত্তর-পূর্বের সীমানায় দ্বিগুণ পরিমাণ ২,১৩৪ বর্গমাইল জমি অর্পণ করবে।

মাসখানেকব্যাপী আলোচনা চলবার পর, ১৩ নভেম্বর ১৯৩৯, আলোচনা ব্যর্থ হয়ে গেল। ২৮ নভেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়ন-ফিনল্যান্ড অনাক্রমণ চুক্তি বাতিল বলে ঘোষিত হল এবং ৩০ নভেম্বর রুশ বাহিনী ফিনল্যান্ড আক্রমণ করল। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, এই যুদ্ধে প্রথমদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন আদৌ সুবিধা করতে পারেনি—ফিনরা প্রবল বিক্রমে সোভিয়েত ইউনিয়নের আক্রমণ প্রতিহত করে। একই সঙ্গে তীব্র কমিউনিস্ট বিরোধী প্রচার আরম্ভ করে ইউরোপের বুর্জোয়া সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলি। এমনকী ‘লীগ অফ নেশনস’ও, যারা কিনা জার্মানি ও ইতালির কার্যকলাপ নিয়ে এতদিন মৌনব্রত অবলম্বন করছিল, তারাও হঠাৎই গা-ঝাড়া দিয়ে উঠে বলশেভিক সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন নিয়ে গেল গেল রব তুলে নেশনসে সোভিয়েত ইউনিয়নের সদস্যপদ রদ করে দিল।

ভারতবর্ষের কংগ্রেস নেতারাও কম বিভ্রান্ত হননি এই ঘটনায়। জওহরলাল নেহরুর মতো ঘোষিত সমাজতান্ত্রিক নেতাও ১৯৪০ সালের ২৪ জানুয়ারী গান্ধীজিকে লেখা চিঠিতে সোভিয়েত ইউনিয়নের এই পদক্ষেপকে ভুল আখ্যা দেন। তবে তিনি এও লিখেছিলেন—

‘আমাদের যা ভাবিয়ে তুলেছে তা হল এই যে, ইঙ্গ-ফরাসি-জার্মান দ্বন্দ্বের অন্তরালে চলেছে সাম্রাজ্যবাদ ও নাৎসিবাদের সংহতিসাধন, যার উদ্দেশ্য সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে লড়াই করা। … অবস্থা শীঘ্রই আরও বেশী জটিল হয়ে পড়বে, যদি ইতালির সঙ্গে তাদের ষড়যন্ত্র সার্থক হয় এবং পশ্চিমী শক্তিগুলি যদি সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। তারা এটাকে কম্যুনিজমের বিরুদ্ধে জেহাদ বলে দাবি করবে এবং এর দ্বারা নিজেদের সাম্রাজ্য বজায় রাখার চেষ্টা তো করবেই, সেই সঙ্গে আরও চাইবে সোভিয়েট সোভিয়েত ইউনিয়নের সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে ভেঙে ফেলতে। সব দিক দিয়ে দেখলে তা হবে একটা বড়ো রকমের শোচনীয় ঘটনা; সোভিয়েত ইউনিয়নের নীতির সঙ্গে আমাদের মতৈক্য আছে কিনা সেকথা এ প্রসঙ্গে অবান্তর।’

কেবলমাত্র কংগ্রেসের রাজনৈতিক মহলেই নয়, রাজনীতি সচেতন পত্রপত্রিকাগুলিতেও সোভিয়েত ইউনিয়নের এই পদক্ষেপ নিয়ে অজস্র বিতর্ক হল। ‘অলকা’ পত্রিকার সম্পাদক প্রমথ চৌধুরী লিখলেন,

‘সোভিয়েত ইউনিয়ন পোল্যান্ডে—অর্থাৎ রণক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়েছে এবং অর্ধেক পোল্যান্ড—বেওয়ারিশ মাল বলে আত্মসাৎ করেছে। এ খবর শুনেও আমি চমকে উঠিনি। কারণ Bolshevism সোভিয়েত ইউনিয়নের স্বদেশের শৃঙ্খলার নব পদ্ধতি। কিন্তু ইউরোপের রাজ্যমাত্রেই পরস্পরের শত্রু। আমি এক্ষেত্রে সোভিয়েত ইউনিয়নের যোগদানটা অপ্রত্যাশিত বলেছি। কেন না বাংলার হঠাৎ-দার্শনিকরা আমাদের বুঝিয়েছিলেন যে, Bolshevism পৃথিবীতে স্বর্গরাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে ব্রতী হয়েছে, যার বিলেতি নাম Utopia। … সে যাই হোক, মারামারি কাটাকাটির ইউটোপিয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ ইউটোপিয়া সনাতন। জার্মানি ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মিলনেতে আমি বিস্মিত হয়েছি; কিন্তু এ ‘মোতা’ বিবাহ যে অসম্ভব, তা কখনই মনে ভাবিনি। সোভিয়েত ইউনিয়নও Totalitarian State, জার্মানিও তাই; এ উভয়ের ভিতর নাড়ীর যোগ আছে। সুতরাং এ উভয়ের মিলন হচ্ছে সেয়ানায় সেয়ানায় কোলাকুলি।’

‘প্রবাসী’ পত্রিকার ফাল্গুন ১৩৪৬ সংখ্যায় যোগেশচন্দ্র বাগল লিখলেন ‘সোভিয়েট পররাষ্ট্রনীতির স্বরূপ ও ফিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ’। প্রবন্ধটিতে সোভিয়েত ইউনিয়নের সমালোচনা করে তিনি লিখেছিলেন,

‘উদ্দেশ্য যাহাই থাকুক, রুশিয়াও যে জার্ম্মানীর মত নির্ব্বিঘ্নতা রক্ষার অছিলায় পররাজ্য হরণে প্রবৃত্ত হইয়াছে এবার তাহার প্রথম পরিচয় পাওয়া গেল। মঃ মোলোটোভের গত ৩১শে অক্টোবরের বক্তৃতায়, রুশিয়ার উদ্দেশ্য আগে যদি বা বুঝতে বাকি ছিল, আর সে অবকাশই রহিল না। … মোলোটোভ মহাশয়ের বক্তৃতায় সোভিয়েট রুশিয়ার বর্ত্তমান পররাষ্ট্রনীতির স্পষ্টভাবে রূপ পাওয়া যাইতেছে।’

কি বলেছিলেন মলোটোভ? পোল্যান্ড আক্রমণের পর এবং ফিনল্যান্ড আক্রমণের আগে সোভিয়েত ইউনিয়নের বৈদেশিক মন্ত্রী মলোটোভ (Vyacheslav Molotov) ১৯৩৯ সালের ৩১ অক্টোবর সুপ্রিম সোভিয়েট কাউন্সিলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতা দেন, যাতে তিনি তৎকালীন ইউরোপীয় রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে ‘aggressor’ ও ‘aggression’-এর নতুন সংজ্ঞা দেন। এই ভাষণের একাংশে মলোটোভ বলেছিলেন,

‘Certain old formulas, formulas which we employed but recently and to which many people are so accustomed, are now obviously out of date and inapplicable. We must be quite clear on this point, so as to avoid making gross errors in judging the new political situation that has developed in Europe. … In the past few months such concepts as ‘aggressors’ and ‘aggression’ have acquired a new and concrete connotation, a new meaning. It is not hard to understand that we can no longer employ these concepts in the sense we did, say, three or four months ago.’

কিছু পুরানো সূত্র, যে সূত্রগুলো আমরা সম্প্রতি ব্যবহার করেছি এবং যার সাথে অনেকেই অভ্যস্ত, এখন স্পষ্টতই অপ্রয়োগযোগ্য। ইউরোপে যে নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা বিচার করার সময় যাতে গুরুতর ভুল না করা যায়, সেজন্য আমাদের এই বিষয়টিতে স্পষ্টতা  থাকতে হবে। … গত কয়েক মাসে ‘আগ্রাসী’ এবং ‘আগ্রাসন’-এর মতো ধারণাগুলি একটি নতুন এবং সুনির্দিষ্ট অর্থ, একটি নতুন অর্থ অর্জন করেছে। এটা বোঝা কঠিন নয় যে আমরা আর এই ধারণাগুলিকে সেই অর্থে ব্যবহার করতে পারি না যে অর্থ আমরা তিন বা চার মাস আগে ব্যবহার করেছিলাম। 

গান্ধীজী সম্ভবত মলোটোভের এই ভাষণের পরিপ্রেক্ষিতেই নেহরুর মতামত জানতে চেয়েছিলেন।

সংক্ষেপে মলোটোভের বলতে চাইলেন, তিন-চার মাস আগে যখন যুদ্ধ আরম্ভ হয়নি তখন সেই প্রাক-যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ‘আক্রমণ’ এবং ‘আক্রমণকারী’ শব্দদুটির যে সংজ্ঞা ও অর্থ করা হত, যুদ্ধ আরম্ভ হওয়ার পর তা আর প্রযোজ্য হবে না। বিশেষত সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্ষেত্রে তো একেবারেই নয়। এই প্রসঙ্গে মনে রাখতে হবে, ১৯১৭ সালে কমিউনিস্ট সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠন হওয়ার পর থেকেই সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটেন-ফ্রান্স গোষ্ঠী এবং বিশেষ করে ফ্যাসিবাদী জার্মানি-ইতালি-জাপান গোষ্ঠীর এ্যান্টি-কমিনটার্ন প্যাক্টের পর—এই উভয় শক্তিপুঞ্জই সোভিয়েত ইউনিয়নকে পিষে ফেলবার যে নিরন্তর প্রচেষ্টা করেছে তাতে সোভিয়েত ইউনিয়নের আত্মরক্ষার প্রশ্নটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, বিশেষত সেই মুহুর্তে সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল সারা বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের আশা-আকাঙ্খার প্রতীক।

সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে সোভিয়েত ইউনিয়নের ফিনল্যান্ড আক্রমণ ন্যায়সঙ্গত বলেছিলেন স্বয়ং চার্চিলও—

‘As soon as Germany was involved in war with Great Britain and France, Soviet Russia in the spirit of her pact with Germany proceeded to block the lines of entry into the Soviet Union from the west. One passage led from East Prussia through the Baltic States; another led across the waters of the Gulf of Finland; the third route was through Finland itself and across the Karelian Isthmus to a point where the Finnish frontier was only twenty miles from the suburbs of Leningrad. The Soviet had not forgotten the dangers which Leningrad had faced in 1919. Even the White Russian Government of Kolchak had informed the Peace Conference in Paris that bases in the Baltic States and Finland were a necessary protection for the Russian capital. Stalin had used the same language to the British and French Missions in the summer of 1939; and we have seen … how the natural fears of these small states had been an obstacle to an Anglo-French Alliance with Russia, and had paved the way for the Molotov-Ribbentrop Agreement.’১০

‘জার্মানি গ্রেট ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের সাথে যুদ্ধে জড়িত হওয়ার পরে, জার্মানির সাথে সোভিয়েত চুক্তি অনুযায়ী পশ্চিম দিক থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নে প্রবেশের পথ তারা বন্ধ করে দেয়। একটি পথ পূর্ব প্রুশিয়া থেকে বাল্টিক রাজ্যের মধ্য দিয়ে যায়; আরেকটি পথ ফিনল্যান্ড উপসাগরের জলের মধ্য দিয়ে যায়; তৃতীয় পথটি ছিল ফিনল্যান্ড এবং ক্যারেলিয়ান ইস্থমাসের মধ্য দিয়ে এমন এক স্থানে যেখানে ফিনিশ সীমান্ত লেনিনগ্রাদের উপকণ্ঠ থেকে মাত্র বিশ মাইল দূরে। সোভিয়েত ১৯১৯ সালে লেনিনগ্রাদের মুখোমুখি হওয়া বিপদগুলি ভুলে যায়নি। এমনকী কোলচাকের শ্বেতাঙ্গ রুশ সরকারও প্যারিসে শান্তি সম্মেলনে জানিয়েছিল যে বাল্টিক রাজ্য এবং ফিনল্যান্ডের ঘাঁটিগুলি রাশিয়ার রাজধানীর জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা দিয়েছে। ১৯৩৯ সালের গ্রীষ্মে স্ট্যালিন ব্রিটিশ এবং ফরাসি মিশনগুলিতে একই ভাষা ব্যবহার করেছিলেন; এবং আমরা দেখেছি … কীভাবে এই ছোটো রাজ্যগুলির ভয় রাশিয়ার সাথে অ্যাংলো-ফরাসি জোটের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল এবং মোলোটভ-রিবেনট্রপ চুক্তির পথ প্রশস্ত করেছিল।‘ 

ঐতিহাসিক ও গবেষক নেপাল মজুমদার এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন,

‘সোভিয়েটের বক্তব্য ও আচরণের তাৎপর্য জওহরলালও যে সব বুঝিয়া উঠিতে পারিতেছিলেন তাহা নয়; তাহার অন্যতম কারণ এই যে তখন সোভিয়েট নেতাদের বক্তব্য ও রচনাগুলি অবিকৃত ও যথাযথভাবে এদেশে প্রকাশের ব্যবস্থা ছিল না—অর্থাৎ ভারত সরকার অনুমতিই দিতেন না। রয়টারের মাধ্যমে যেটুকুও বা আসিত তাহা ইচ্ছাকৃত বিকৃতরূপ ছাড়া কিছুই ছিল না। কিন্তু তবুও রয়টার এবং ব্রিটিশ পত্র-পত্রিকা পরিবেশিত এইসব অর্ধসত্য বিকৃত ও টুকরো-টুকরো সংবাদের জোড়াতালি দিয়া জওহরলাল এইটুকু বুঝিতে পারিয়াছিলেন, সোভিয়েটকে আক্রমণ ও ধ্বংস করিবার জন্য ইঙ্গ-ফরাসী এবং ফ্যাসিস্ট—উভয় শক্তিজোটই ফিনল্যান্ডকে ‘দাবার বড়ে’ হিসেবে ব্যবহার করার ষড়যন্ত্র করিতেছিল; সোভিয়েত ইউনিয়ন ফিন নেতাদের গোঁয়ার্তুমি এবং অভিসন্ধি ও ষড়যন্ত্রের কথা সময়মতো জানিতে পারিয়া উল্টা ফিনল্যান্ডকেই আক্রমণ করে। যদিও তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের এই আচরণ আন্তরিকভাবে সমর্থন করিতে পারেন নাই, কিন্তু তৎসত্ত্বেও ইঙ্গ-ফরাসী সাম্রাজ্যবাদীদের কিংবা ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠীর ফাঁদে পা দিয়া তিনি সোভিয়েট-বিরোধী কুৎসা ও অপপ্রচারে লিপ্ত হন নাই। পরন্তু জার্মানি এবং ইঙ্গ-ফরাসী সাম্রাজ্যবাদীদের সোভিয়েট-বিরোধী ষড়যন্ত্রই যে এইরূপ মনোভাববা পন্থা গ্রহণে সোভিয়েটকে বাধ্য করিয়াছে, এ ব্যাপারে তাঁহার কোনোই সন্দেহ ছিল না।’১১

প্রসঙ্গত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি একটি প্রচার পুস্তিকাতে (Facts About Finland) সোভিয়েত ইউনিয়নের সরকারি বক্তব্য উপস্থাপিত করলেও দেশের কিছু উগ্র সোস্যালিষ্ট এবং চরম বামপন্থী বুদ্ধিজীবী সোভিয়েত ইউনিয়নের ফিনল্যান্ড আক্রমণকে প্রবল সমালোচনা করেন। এমনকী সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো ফ্যাসিবিরোধী বাম বুদ্ধিজীবীও সোভিয়েতের তীব্র সমালোচনা করে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেন।

জওহরলাল প্রথাগত মার্কসবাদী অথবা বামপন্থী না হলেও বাস্তবিকপক্ষে আন্তর্জাতিক রাজনীতি সম্বন্ধে এতটা সর্বাধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি ভারতীয় নেতৃবৃন্দের কারুর ছিল না।

প্রায় সাড়ে তিনমাস ব্যাপী চলা তীব্র যুদ্ধ এবং প্রবল ক্ষয়ক্ষতি স্বীকারের পর অবশেষে ১২ মার্চ ১৯৪০, ফিনল্যান্ড দখল করতে সক্ষম হল সোভিয়েত সেনাবাহিনী। সত্যি কথা বলতে, ডেভিড বনাম গোলিয়াথের এই লড়াইয়ের পর সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্মান ঘরে বাইরে অনেকটাই নষ্ট হয়েছিল। সোভিয়েত নেতাদের মুখে এই যুদ্ধ বিজয়ের পরেও সামরিক বাহিনীর প্রতি প্রশংসা শোনা গেল না, ‘বরং মলোটোভ কিছুটা বিষাদের কণ্ঠেই সুপ্রীম সোভিয়েতের কাছে রিপোর্ট দিয়াছিলেন,

‘সীমান্তের একটা সামান্য সংশোধনের’ ব্যাপারে লালফৌজের ৪৮,৭৪৫ জন সৈন্য নিহত এবং ১ লক্ষ ৫৮ হাজার আহত হইয়াছে।’১২

তথ্যসূত্র:

১) বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায়, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের ইতিহাস প্রথম খণ্ড, ৭৮ (নবপত্র প্রকাশন, ২০২১)৷

২) উইনিস্টন চার্চিল, দি সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার প্রথম খণ্ড: দি গ্যাদারিং স্টর্ম, ৩১৩ (ক্যাসেল এ্যান্ড কোঃ লিঃ, ১৯৫০)৷

৩) বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায়, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের ইতিহাস প্রথম খণ্ড, ১৩০ (নবপত্র প্রকাশন, ২০২১)৷ পৃ

৪) সুরেশচন্দ্র মজুমদার অনুদিত, জওহরলাল নেহরু: বিশ্ব-ইতিহাস প্রসঙ্গ, ৬৩২ (আনন্দ পাবলিশার্স, ১৯৫১)৷

৫) উইনিস্টন চার্চিল, দি সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার প্রথম খণ্ড: দি গ্যাদারিং স্টর্ম, ৩৪৯ (ক্যাসেল এ্যান্ড কোঃ লিঃ, ১৯৫০)৷

৬) জওহরলাল নেহরু সম্পাদিত, পত্রগুচ্ছ, ৩৭২-৩৭৩ (এম সি সরকার এ্যান্ড সন্স, ১৯৬০)৷

৭) প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত, অলকা পত্রিকা আশ্বিন ১৩৪৬ সংখ্যা, ১০৪-১০৫ (১৯৪০)৷

৮) রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত, প্রবাসী পত্রিকা ফাল্গুন ১৩৪৬ সংখ্যা, ৬৫৭ (১৯৪০)৷

৯) নেপাল মজুমদার, ভারতে জাতীয়তা ও আন্তর্জাতিকতা এবং রবীন্দ্রনাথ ষষ্ঠ খণ্ড, ৭৬ (দেজ পাবলিশিং, ২০১২)৷

১০) উইনিস্টন চার্চিল, দি সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার প্রথম খণ্ড: দি গ্যাদারিং স্টর্ম, ৪৮৪ (ক্যাসেল এ্যান্ড কোঃ লিঃ, ১৯৫০)৷

১১) নেপাল মজুমদার, ভারতে জাতীয়তা ও আন্তর্জাতিকতা এবং রবীন্দ্রনাথ ষষ্ঠ খণ্ড, ৭৭ (দেজ পাবলিশিং, ২০১২)৷

১২) বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায়, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের ইতিহাস প্রথম খণ্ড, ১৪৮ (নবপত্র প্রকাশন, ২০২১)৷

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।