স্যামুয়েল পেপিস, তাঁর ডায়েরি এবং আজকের পড়ুয়াদের রায়
ইতিহাস তৈরিতে বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরাও ভূমিকা নিতে পারে।
স্যামুয়েল পেপিস-এর নাম শুনেছেন? স্যামুয়েল পেপিস (১৬৩৩–১৭০৩) ছিলেন একজন ইংরেজ লেখক এবং রাজনীতিবিদ। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন ইংল্যান্ড-এর নৌবাহিনীর বোর্ডের একজন কর্মকর্তা। তবে তিনি বিখ্যাত তাঁর ডায়েরির জন্য। প্রায় এক দশক ধরে তিনি যে ডায়েরিটি লিখেছিলেন তাঁর জন্যই তাকে স্মরণ করা হয়। তাঁর সময়ে ইংল্যান্ড-এর রাজা ছিলেন যথাক্রমে দ্বিতীয় চার্লস এবং দ্বিতীয় জেমস। যদিও তাঁর কোনো সামুদ্রিক অভিজ্ঞতা ছিল না, তবুও পেপিস রাজাদের অনুগ্রহ, পরিশ্রম এবং নিজের প্রশাসনিক প্রতিভার মাধ্যমে দুই রাজার সময়েই অ্যাডমিরালের প্রধান সচিব হয়ে ওঠেন।
১৬৬০ থেকে ১৬৬৯ সাল পর্যন্ত পেপিস যে বিস্তারিত ব্যক্তিগত ডায়েরিটি লিখেছিলেন তা প্রথমে ১৯ শতকে প্রকাশিত হয়েছিল। লন্ডনের গ্রেট প্লেগ, দ্বিতীয় অ্যাংলো-ডাচ যুদ্ধ এবং লন্ডনের গ্রেট ফায়ারের মতো ঘটনাগুলো নিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ এবং ব্যক্তিগত মতামত তিনি ডায়েরিতে লিখে রেখেছিলেন।
এহেন পেপিস-এর নাম কেমব্রিজশায়ারের একটি স্কুলের ছাত্রছাত্রী এবং কর্মীরা তাদের স্কুলের চার্চের ঘর থেকে মুছে ফেলার পক্ষে ভোট দিয়েছে।
হিনচিনব্রুক স্কুলের পেপিস হাউসের নামকরণ করা হয়েছিল ১৭ শতকের ডায়েরি লেখক, স্যামুয়েল পেপিসের নামে। গত বছরের শেষের দিকে স্কুলের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের একটি ইমেল পাঠানো হয়েছিল যেখানে বলা হয়েছিল ‘[পেপিসের] ব্যক্তিগত আচরণের উপর সাম্প্রতিক গবেষণা [থেকে জানা] ক্ষতিকারক, অপমানজনক এবং শোষণমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে, মহিলাদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক’। এই বিষয়ে কিছু তথ্য দিয়ে স্কুলের পড়ুয়া ও কর্মীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল পেপিস হাউসের নয়া নামকরণ করা উচিৎ কিনা। তাদের সঙ্গে পরামর্শের পর, স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন যে সব মিলিয়ে ১,৭৬৪ জন এই বিষয়ে মতামত দিয়েছেন। এদের মধ্যে পেপিস হাউসের জন্য নতুন নাম খোঁজার পক্ষে ছিলেন ১,০৫৪ জন। বলে রাখা ভালো পেপিস এই স্কুলেই পড়াশোনা করেছেন।
নারীদের প্রতি পেপিসের আচরণের বেশিরভাগই, যা তিনি তাঁর ডায়েরিতে নিজেই লিখে রেখেছেন আজকের মানদণ্ডে যৌন হয়রানি, যৌন নিপীড়ন এবং ধর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হবে। কিছু নারীর প্রতি তাঁর দয়া এবং আনুগত্য সত্ত্বেও, পেপিস শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস করতেন যে পুরুষরা মহিলাদের দেহের অধিকারী।
ছাত্রছাত্রীদের মতামতের পরে স্কুলের অধ্যক্ষ অ্যান্ডি হান্টার বলেছেন, ‘এই প্রক্রিয়া চলাকালীন স্কুলের [পড়ুয়ারা] যেভাবে নিজেদের পরিচালনা করেছে তাতে আমি গর্বিত। ছাত্রছাত্রীরা কৌতূহলী, চিন্তাশীলএবং সর্বোপরি শ্রদ্ধাশীল ছিল।’
আমাদের দেশে বহু বিখ্যাত মানুষ সম্পর্কে কুকথা জানবার পরেও তা নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করা কি সম্ভব?
খবরটি দিয়েছেন মধুশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়।
পুরো খবরটি পড়তে পারেন নীচের লিংক থেকে।
শীর্ষক চিত্র পরিচিতি: হিনচিনব্রুক স্কুল, কেমব্রিজশায়ার