দুই হাজার বছর আগের এক তামিল ব্যবসায়ীর নাম পাওয়া গেল মিশরে
মিশরের বিখ্যাত ‘ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান’ (World Heritage Site) ভ্যালি অফ কিংস-এর পাথর কেটে তৈরি সমাধি থেকে ভারতীয় ভাষায়, মূলত তামিল (তামিল-ব্রাহ্মী) এবং সংস্কৃত ও প্রাকৃত ভাষায় প্রায় ৩০টি শিলালিপি পাওয়া গেছে। এগুলি প্রথম থেকে তৃতীয় সাধারণাব্দের মধ্যে খোদিত। প্রায় ২০০০ বছর আগে ভারত ও মিশরের মধ্যে প্রাচীন বাণিজ্যিক সংযোগের এটি একটি স্পষ্ট প্রমাণ।
লিপিগুলি সমাধিতে ছয়টি পাথরে খোদাই করা হয়েছিল। এদের মধ্যে ২০টি তামিল ভাষায় এবং বাকি ১০টি সংস্কৃত ও প্রাকৃত ভাষায় রয়েছে, বোঝা যায় ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকেরা মিশরে যাতায়াত করতেন।
কারা যোগাযোগ রাখতেন?
তামিল ভাষাভাষী সিকাই কোরান (আধুনিক তামিল ভাষায় সিগাই কোরান), প্রাচীন তামিলগাম থেকে জাহাজে করে ব্যবসা করতে মিশরে গিয়েছিলেন। ছয়টি সমাধির মধ্যে পাঁচটিতে আটবার তার নাম খোদাই করা রয়েছে। এখানে কোরান শব্দটি চের রাজ্যের ‘দেবী কোরাভাই’ থেকে এসেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন, এই দেবীর উল্লেখ দ্বিতীয় শতাব্দীর শিলাপ্পাথিকরম (একটি নূপুরের গল্প) মহাকাব্যে পাওয়া গেছে। একটি শিলালিপিতে, আরও একজন ব্যক্তির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। তিনি ছিলেন ক্ষহরত রাজার দূত।
পরিপ্রেক্ষিত বোঝানোর জন্য বলা দরকার, সাধারণাব্দের প্রথম থেকে তৃতীয় শতাব্দী পর্যন্ত, ভারত ছিল বিভিন্ন ভাগে খণ্ডিত। উত্তরে তখন কুষাণ, শক শাসকরা রয়েছে। দক্ষিণ ভারতের ইতিহাসের স্বর্ণযুগ ছিল আনুমানিক সাধারণপূর্ব তৃতীয় শতাব্দী থেকে সাধারণাব্দ তৃতীয় শতাব্দী পর্যন্ত—পাণ্ড্য, চের এবং চোল রাজবংশের পৃষ্ঠপোষকতায় তামিল সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং বাণিজ্যের চূড়ান্ত বিকাশ হয়।
গবেষকরা জানিয়েছেন, দর্শনার্থীরা করিডোর এবং কক্ষের দেয়ালে তাদের নাম খোদাই করে সংক্ষিপ্ত শিলালিপি এবং গ্রাফিতি রেখে গেছেন; এই গ্রাফিতি সমাধিতে তাদের উপস্থিতি বোঝায়। তারা আরও বলেন যে, এই শিলালিপিগুলি সমাধির ভিতরে অন্যান্য ভাষার, মূলত গ্রিক ভাষায় বড়ো গ্রাফিতির পাশাপাশি দেখা যায়। ভারতীয় দর্শনার্থীরা সমাধির ভিতরে তাদের নাম রেখে যাওয়ার একটি প্রচলিত প্রথা অনুসরণ করেছেন বলে মনে করা যায়।
প্রাচীন কালে ভারতবর্ষের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে বিদেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগের প্রমাণ আগেও পাওয়া গিয়েছে। তবে মিশরে সরাসরি বাব্যসায়ীদের নাম খোদাই করা স্তম্ভ পাওয়া আশ্চর্য হবার মতোই আবিষ্কার বটে।
খবরটি দিয়েছেন মধুশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়।
পুরো খবরটি নিচের লিংক থেকে পড়তে পারেন।
ভারত -মিশর যোগাযোগ, ভালো লাগলো।