সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

অদৃশ্য আর্কাইভের সন্ধানে

অদৃশ্য আর্কাইভের সন্ধানে

রাখী মণ্ডল

মে ২৩, ২০২৬ ৫৮ 1

শহরকে আমরা সাধারণত দেখি স্থাপত্য, অর্থনীতি, প্রশাসন কিংবা জনসংখ্যার পরিসংখ্যানের মধ্যে দিয়ে একটি দৃশ্যমান, মানচিত্রায়িত এবং শাসিত পরিসর হিসেবে। কিন্তু শহর কি কেবল দৃশ্যমান? শহর কি কেবল রাস্তাঘাট, ভবন এবং নাগরিক পরিকাঠামোর সমষ্টি? নাকি শহরকে বোঝার জন্য আমাদের প্রবেশ করতে হবে সেইসব অদৃশ্য স্তরে, যেখানে ইতিহাস কাগজে লেখা হয় না, বরং লেখা হয় শরীরে, গন্ধে, স্বপ্নে, অনুভূতিতে? এই নিবন্ধ সেই অদৃশ্য স্তরগুলির দিকে তাকানোর একটি প্রয়াস মাত্র, যেখানে ‘গন্ধ’ এবং ‘স্বপ্ন’ মিলিত হয়ে গড়ে তোলে শহরের এক অবচেতন আর্কাইভ, এবং যেখানে জাত ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা গভীরভাবে বিন্যস্ত থাকে ক্ষমতা, বর্জন এবং স্মৃতির রাজনীতিতে।

ঐতিহাসিকভাবে ‘আর্কাইভ’ ধারণাটি যুক্ত হয়েছে দলিল, নথি, রাষ্ট্রের সংরক্ষিত কাগজপত্র এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতির সঙ্গে। কিন্তু আমরা সকলেই জানি যে এই ধারণা নিজেই এক প্রকার ক্ষমতার কাঠামো, যা নির্ধারণ করে কোন ইতিহাস সংরক্ষিত হবে এবং কোনটি বিস্মৃত হবে। মিশেল ফুকো আর্কাইভকে দেখেছিলেন একটি জ্ঞান-ব্যবস্থার শর্ত হিসেবে—যেখানে নির্ধারিত হয় কী বলা সম্ভব এবং কী বলা সম্ভব নয়।[1] এই প্রেক্ষিতে, শহরের প্রান্তিক মানুষের অভিজ্ঞতা—বিশেষত জাতভিত্তিক শ্রমে নিযুক্ত মানুষের অভিজ্ঞতা—প্রায়শই আর্কাইভের বাইরে থেকে যায়। তাদের ইতিহাস না নথিভুক্ত হয় কোনো সরকারি রিপোর্টে, না থাকে কোনো পরিকল্পনা নথিতে। অথচ তাদের শরীর, তাদের শ্রম, তাদের দৈনন্দিনতা একটি শহরের অস্তিত্বের জন্য অপরিহার্য।

শহরের এই প্রান্তিক ইতিহাসকে বুঝতে হলে আমাদের আর্কাইভের ধারণাকে প্রসারিত করতে হবে, আমাদের তাকাতে হবে এমন এক আর্কাইভের দিকে, যা লিখিত নয়, বরং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য; যা দলিল নয়, বরং অনুভূতি; যা দৃশ্যমান নয়, বরং গন্ধ ও স্বপ্নের মাধ্যমে আমাদের কাছে উপলব্ধ হয়। ‘গন্ধ’ আমাদের কাছে কেবল একটি শারীরিক অনুভূতি হলে হবে না, কারণ এটি একটি সামাজিক ও নৈতিক সংকেত—যার মাধ্যমে চিহ্নিত হয় ‘শুচি’ ও ‘অশুচি’, ‘উচ্চ’ ও ‘নীচ’, ‘স্বাস্থ্যকর’ ও ‘অস্বাস্থ্যকর’-এর মতো সামাজিক ধারণা। জাতপ্রথার প্রেক্ষিতে, এই গন্ধ এক ধরনের অদৃশ্য কিন্তু প্রবল শৃঙ্খলা তৈরি করে, যা নির্ধারণ করে কার শরীর গ্রহণযোগ্য এবং কার শরীর বর্জনীয়।[2]

ভারতীয় শহরগুলিতে স্যানিটেশন ব্যবস্থার সঙ্গে জাতের সম্পর্ক সুপ্রতিষ্ঠিত। ম্যানুয়াল স্ক্যাভেঞ্জিং, নর্দমা পরিষ্কার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা—এই সমস্ত কাজ ঐতিহাসিকভাবে নির্দিষ্ট কিছু জাতির উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই শ্রম কেবল অর্থনৈতিক নয়; এটি গভীরভাবে নৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে প্রোথিত। দুর্গন্ধ এখানে শুধুমাত্র একটি ফলাফল নয়, বরং একটি চিহ্ন—যার মাধ্যমে শ্রমিকের শরীরকে চিহ্নিত করা হয়, তাকে সামাজিকভাবে দূরে সরিয়ে রাখা হয়। এই প্রক্রিয়াকে বোঝার জন্য ‘গন্ধের রাজনীতি’ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণাত্মক সরঞ্জাম হিসেবে উঠে আসে।[3]

কিন্তু গন্ধের সঙ্গে সঙ্গে এই নিবন্ধে আরেকটি আপাতদৃষ্টিতে অপ্রত্যাশিত উপাদানকে আমাদের আলোচনায় নিয়ে আসব এবং তা হল স্বপ্ন। স্বপ্নকে সাধারণত ব্যক্তিগত, অবচেতন, এবং অ-ঐতিহাসিক উপাদান হিসেবেই দেখা হয়। কিন্তু যদি আমরা স্বপ্নকে একটি বিকল্প আর্কাইভ হিসেবে ভাবি—যেখানে প্রান্তিক মানুষের অভিজ্ঞতা, ভয়, আকাঙ্ক্ষা এবং প্রতিরোধ সঞ্চিত থাকে? গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক যে প্রশ্ন তুলেছিলেন—’সাবঅল্টার্ন কি কথা বলতে পারে?’—এই প্রবন্ধ সেই প্রশ্নকে নতুনভাবে স্থাপন করে: সাবঅল্টার্ন কি স্বপ্ন দেখে? এবং যদি দেখে, তবে সেই স্বপ্ন কি একটি ইতিহাস চেতনা বহন করে?[4]

স্বপ্ন, এই অর্থে, কেবল একটি মনস্তাত্ত্বিক ঘটনা নয়; এটি একটি সামাজিক দলিল। শহরের প্রান্তিক মানুষের স্বপ্নে যে চিত্রগুলি ভেসে ওঠে—নোংরা নর্দমা, দুর্গন্ধময় বর্জ্য, অসুস্থ শরীর অথবা মুক্তির আকাঙ্ক্ষা—সেগুলি এক ধরনের অবচেতন ইতিহাসের ইঙ্গিত দেয়। এই ইতিহাস লিখিত নয়, কিন্তু তা গভীরভাবে বাস্তব; তা রাষ্ট্রের নথিতে অনুপস্থিত, কিন্তু মানুষের অভিজ্ঞতায় স্পষ্ট। স্বপ্নের মাধ্যমে আমরা সেইসব অভিজ্ঞতার কাছে পৌঁছাতে পারি, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন, কিংবা যা প্রকাশের কোনো সুযোগই কাউকে দেওয়া হয় না।

এই নিবন্ধ তাই একটি তাত্ত্বিক ও পদ্ধতিগত প্রচেষ্টা—যেখানে ইতিহাসচর্চাকে আমরা প্রসারিত করব অবচেতনে। এটি একটি প্রচেষ্টা শহরকে নতুনভাবে পড়ার—শুধু দৃশ্যমান কাঠামো হিসেবে নয়, বরং একটি অনুভূত, গন্ধময়, স্বপ্নে-সংরক্ষিত পরিসর হিসেবে। এখানে শহর একটি ‘অবচেতন আর্কাইভ’—যেখানে জাত ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে তৈরি করে ক্ষমতার এক জটিল জাল।

এই নিবন্ধের আলোচনাকে আরও সুদৃঢ় ও বিশ্লেষণাত্মকভাবে পরিপূর্ণ করে তুলতে হলে প্রয়োজন একটি পদ্ধতিগত বিস্তার, যেখানে তত্ত্বের পাশাপাশি অভিজ্ঞতার সূক্ষ্ম স্তরগুলি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। নগর-ইতিহাসের প্রচলিত ইতিহাস চর্চা প্রায়শই নীতিনির্ধারণ, পরিকাঠামো ও প্রশাসনিক কাঠামোর উপর কেন্দ্রীভূত থাকে; কিন্তু এই কাঠামোর কার্যকারিতা যে শরীরগুলির উপর নির্ভর করে, তাদের অভিজ্ঞতা অনেকাংশেই অনুপস্থিত থেকে যায়। সেই অনুপস্থিতিকে পূরণ করার জন্য প্রয়োজন এমন এক দৃষ্টিভঙ্গি, যা দৈনন্দিনতার ক্ষুদ্রতম অনুষঙ্গ—শরীরের ক্লান্তি, ত্বকের উপর রাসায়নিকের প্রভাব, শ্বাসের সংকোচন, কিংবা সামাজিক স্পর্শবিরোধিতা—এসবকে ইতিহাসের অন্তর্গত করে তোলে।

স্যানিটেশন শ্রমিকদের জীবনের দিকে নিবিড়ভাবে তাকালে বোঝা যায়, তাদের কাজ কেবল একটি পেশাগত দায়িত্ব নয়; বরং এটি একটি অবিরাম শারীরিক ও মানসিক চাপের অভিজ্ঞতা। নর্দমার ভিতরে নেমে কাজ করা, বিষাক্ত গ্যাসের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করা, অথবা সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই বর্জ্য অপসারণ করা—এই প্রতিটি কাজ শরীরকে এক ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, এই শ্রমিকদের মধ্যে ত্বকের রোগ, শ্বাসকষ্ট এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক দুর্বলতা সাধারণ ঘটনা।[5] এই শারীরিক অভিজ্ঞতাগুলি কেবল চিকিৎসাবিদ্যার বিষয় নয়; এগুলি একটি সামাজিক বাস্তবতাও, যা নির্ধারণ করে কোন শরীরকে ‘সহনীয়’ এবং কোন শরীরকে ‘বর্জনীয়’ হিসেবে দেখা হবে।

এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত হয় সামাজিক দূরত্বের আরেকটি মাত্রা—স্পর্শ ও সহাবস্থানের নিয়ন্ত্রণ। বহু ক্ষেত্রে দেখা যায়, এই শ্রমিকদের সঙ্গে একই স্থানে বসে খাওয়া, তাদের বাড়িতে প্রবেশ করা, অথবা তাদের সঙ্গে দৈনন্দিন সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলা—সামাজিক ভাবে এসব কাজ নিরুৎসাহিত হয় বা নিষিদ্ধ রূপে গণ্য হয়। এই নিষেধাজ্ঞাগুলি কেবল সাংস্কৃতিক অভ্যাস নয়; এগুলি একটি দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক কাঠামোর অংশ, যা জাতভিত্তিক বিভাজনকে প্রতিনিয়ত পুনরুৎপাদন করে।[6] ফলে, শ্রমিকের শরীর একটি দ্বৈত অবস্থানে আবদ্ধ হয়—এটি যেমন শহরের জন্য অপরিহার্য, তেমনি সামাজিকভাবে তা বিচ্ছিন্ন।

এই প্রেক্ষিতে, অভিজ্ঞতার আরেকটি স্তর বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে—স্বপ্ন ও অবচেতনের স্তর। নৃবৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, কঠোর ও বিপজ্জনক শ্রমের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে স্বপ্নে সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি সাধারণ ঘটনা।[7] স্যানিটেশন শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও এই প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়, যেখানে তাঁদের স্বপ্নে প্রায়শই সংকীর্ণ স্থানে আটকে পড়া, শ্বাস নিতে না পারা, অথবা অদৃশ্য বিপদের সম্মুখীন হওয়ার চিত্র ভেসে ওঠে। এই স্বপ্নগুলি কেবল মানসিক প্রতিক্রিয়া নয়; এগুলি এমন এক অভিজ্ঞতার দলিল, যা সচেতন ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। অবচেতনের এই স্তর তাই ইতিহাসচর্চার জন্য একটি নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করে—যেখানে অনুভূতি, ভয় এবং আকাঙ্ক্ষা একত্রে একটি বিকল্প আখ্যান নির্মাণ করে।

ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অভিজ্ঞতার এই বিশ্লেষণকে আরও প্রসারিত করতে গেলে ‘গন্ধ’-এর পাশাপাশি ‘স্পর্শ’ এবং ‘শব্দ’-এর মতো উপাদানগুলিকেও বিবেচনায় আনা প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ, নর্দমার ভিতরে কাজ করার সময় যে প্রতিধ্বনি, জলধ্বনি বা ধাতব শব্দ শোনা যায়, তা শ্রমিকের মানসিক অবস্থার উপর গভীর প্রভাব ফেলে। একইভাবে, বর্জ্যের সঙ্গে সরাসরি শারীরিক সংস্পর্শ একটি বিশেষ ধরনের অনুভূতি তৈরি করে, যা কেবল শারীরিক নয়, বরং সাংস্কৃতিকভাবে অর্থবহ। এই সমস্ত ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য উপাদান একত্রে একটি জটিল অভিজ্ঞতার ক্ষেত্র তৈরি করে, যা শহরের দৃশ্যমান ইতিহাসের বাইরে অবস্থান করলেও, তার কার্যকারিতার ক্ষেত্রে কেন্দ্রে অবস্থান করে।[8]

প্রান্তিক অভিজ্ঞতাকে বোঝার জন্য কেবল আর্কাইভাল নথির উপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়; বরং প্রয়োজন মৌখিক ইতিহাস, সাক্ষাৎকার, এবং অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণের মতো পদ্ধতির সংমিশ্রণ। এই ধরনের পদ্ধতি আমাদেরকে এমন তথ্যের কাছে নিয়ে যায়, যা লিখিত নথিতে অনুপস্থিত থাকলেও, বাস্তব অভিজ্ঞতায় গভীরভাবে উপস্থিত থাকে। একই সঙ্গে, এই পদ্ধতি গবেষককে একটি নৈতিক দায়িত্বের মুখোমুখি করে—যেখানে প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন, ক্ষমতার সম্পর্ক এবং ভাষার সীমাবদ্ধতা নিয়ে সচেতন থাকা জরুরি।[9]

আমাদের আলোচনায় স্পষ্ট যে, শহরের ইতিহাসকে সম্পূর্ণভাবে বোঝার জন্য আমাদের প্রয়োজন এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি, যা কেবল দৃশ্যমান কাঠামোর উপর নির্ভর করে না, বরং শরীর, ইন্দ্রিয় এবং অবচেতনের স্তরগুলিকেও সমান গুরুত্ব দেয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করলে আমরা কেবল নতুন তথ্যই আবিষ্কার করি না; বরং ইতিহাসচর্চার পরিসরকেও নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে সক্ষম হই।

চিত্র: Le Rêve শিল্পী: Pablo Picasso

পূর্ব ভারতের শহরগুলি—বিশেষত কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল—এই আলোচনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। ঔপনিবেশিক সময় থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত, এই অঞ্চলে স্যানিটেশন ব্যবস্থার সঙ্গে জাতের সম্পর্ক গভীরভাবে প্রোথিত। শহরের আধুনিকীকরণ, স্বাস্থ্যনীতি, এবং নগর পরিকল্পনা—সবকিছুর মধ্যেই এই সম্পর্ক বিভিন্নভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। কিন্তু এই ইতিহাসকে আমরা সাধারণত পড়ি নীতিনির্ধারণ, প্রশাসনিক সংস্কার, বা প্রযুক্তিগত উন্নয়নের আলোকে। এই প্রবন্ধ সেই পাঠকে চ্যালেঞ্জ জানায়, এবং প্রস্তাব করে একটি বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গি—যেখানে শহরকে পড়া হবে তার গন্ধে এবং স্বপ্নে।

এইভাবে, ‘স্বপ্ন, গন্ধ ও ইতিহাস’ কেবল একটি শিরোনাম নয়; এটি একটি পদ্ধতিগত ঘোষণা। এটি ইতিহাসচর্চার প্রচলিত সীমাকে অতিক্রম করার একটি আহ্বান—যেখানে প্রান্তিক মানুষের অভিজ্ঞতা কেবল নথিভুক্ত নয়, বরং অনুভূত ও কল্পিত হয়।

কলকাতা শহরের ইতিহাস সাধারণত লেখা হয় সাম্রাজ্য, বাণিজ্য, স্থাপত্য ও আধুনিকতার ভাষায়—ভারতের একটি ‘প্রথম’ ঔপনিবেশিক মহানগর হিসেবে, যেখানে ইউরোপীয় পরিকল্পনা, পৌর প্রশাসন এবং জনস্বাস্থ্য নীতির পরীক্ষাগার গড়ে উঠেছিল। কিন্তু এই ইতিহাসের নীচে লুকিয়ে আছে আরেকটি স্তর—যেখানে শহর গঠিত হয়েছে বর্জ্য, দুর্গন্ধ, এবং সেই সব দেহের উপর, যাদের শ্রমকে একাধারে অপরিহার্য এবং অপবিত্র বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঔপনিবেশিক সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত—কলকাতার স্বাস্থ্যব্যবস্থা কেবল প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ইতিহাস নয়, বরং জাতভিত্তিক শ্রমের এক দীর্ঘস্থায়ী বিন্যাস, যা গন্ধের মাধ্যমে সামাজিক দূরত্বকে পুনরুৎপাদন করে।

ঊনবিংশ শতকের কলকাতা ইউরোপীয়দের কাছে ছিল ‘একটি বিশাল পচনশীল স্থান’—যেখানে নোংরা নর্দমা, পচা জল, এবং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রোগ একত্রে একটি ‘মিয়াজমাটিক’ আতঙ্ক সৃষ্টি করত।[10] এই আতঙ্ক থেকেই জন্ম নেয় আধুনিক স্যানিটেশন ব্যবস্থার প্রথম পরিকল্পনা। ১৮৫০-এর দশক থেকে কলকাতা মিউনিসিপ্যালিটি শহরের নর্দমা, পয়ঃনিষ্কাশন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করে। কিন্তু এই ‘পরিষ্কার’ করার প্রকল্পটি ছিল দ্বিমুখী—একদিকে ইউরোপীয় বসতিগুলিকে স্বাস্থ্যকর রাখা, অন্যদিকে দেশীয় পাড়াগুলিকে ‘অশুচি’ হিসেবে চিহ্নিত করা।[11]

এই সময়ে ‘সুইপার’ বা ‘মেথর’ সম্প্রদায়ের ভূমিকা কেন্দ্রীয় হয়ে ওঠে। উত্তর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আনা এই শ্রমিকদের শহরের নোংরা পরিষ্কারের কাজে নিযুক্ত করা হয়, এবং তাদের বসবাসের জন্য নির্ধারিত হয় আলাদা ‘বস্তি’—যা প্রায়শই শহরের প্রান্তে বা সীমানার বাইরে অবস্থিত ছিল।[12] এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষণীয়: স্যানিটেশন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ কখনোই এই শ্রমিকদের সামাজিক অবস্থানকে উন্নত করেনি; বরং তাদের কাজকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জাতের সঙ্গে যুক্ত করেছে। দুর্গন্ধ, যা ছিল বর্জ্যের একটি ভৌত বৈশিষ্ট্য, তা ধীরে ধীরে একটি সামাজিক চিহ্ন হিসেবে শ্রমিকের শরীরের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যায়।

এই প্রক্রিয়াকে বোঝার জন্য ‘গন্ধ’কে একটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে পড়া জরুরি। ঔপনিবেশিক প্রশাসনের রিপোর্টে বারবার ‘দুর্গন্ধ’কে একটি সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু সেই গন্ধের উৎপাদক হিসেবে কখনোই শ্রমিকদের উল্লেখ করা হয়নি—তারা ছিল অদৃশ্য।[13] অথচ বাস্তবে, সেই গন্ধই তাদের সামাজিক পরিচয় নির্ধারণ করত। শহরের অভিজাত অংশে প্রবেশের ক্ষেত্রে তাদের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা, তাদের বসবাসের আলাদা স্থান, এমনকী তাদের সঙ্গে সামাজিক মেলামেশার নিয়ম—সবকিছুই এই গন্ধের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হয়েছে।

ঔপনিবেশিক সময়ের এই বিন্যাস স্বাধীনতার পরেও প্রায় অপরিবর্তিত থাকে। ১৯৪৭-এর পর কলকাতা কর্পোরেশন স্যানিটেশন ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করে, কিন্তু শ্রমের কাঠামোতে মৌলিক কোনো পরিবর্তন আসে না। ম্যানুয়াল স্ক্যাভেঞ্জিং আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ হলেও, বাস্তবে এই কাজ বিভিন্ন রূপে চলতে থাকে—বিশেষত নর্দমা পরিষ্কার এবং সেপটিক ট্যাঙ্ক ব্যবস্থাপনায় এই রূপ পরিষ্কার হয়ে ওঠে।[14] এই ধারাবাহিকতা আমাদের ভাবতে বাধ্য করে: আধুনিক রাষ্ট্র কি সত্যিই এই প্রথাকে বিলোপ করেছে, নাকি কেবল তার ভাষা পরিবর্তন করেছে?

এখানেই ‘স্বপ্ন’ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণাত্মক ক্ষেত্র হিসেবে উঠে আসে। শহরের স্যানিটেশন শ্রমিকদের জীবনে যে অভিজ্ঞতাগুলি জমা হয়—দুর্গন্ধ, রোগ, সামাজিক বর্জন—সেগুলি কেবল জাগ্রত অবস্থায় নয়, তাঁদের স্বপ্নেও প্রতিফলিত হয়। সাম্প্রতিক নৃবৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, এই শ্রমিকদের স্বপ্নে প্রায়শই পুনরাবৃত্তি ঘটে নর্দমায় পড়ে যাওয়া, শ্বাসরোধ, বা অসুস্থতার দৃশ্য।[15] এই স্বপ্নগুলি কেবল মানসিক প্রতিক্রিয়া নয়; এগুলি এক ধরনের ‘অবচেতন আর্কাইভ’, যেখানে শহরের ইতিহাস ভিন্নভাবে সংরক্ষিত হয়। আমরা বিভিন্ন বস্তি অঞ্চলের মানুষদের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি এখনো তাঁদের সামাজিক ভাবে অচ্ছুত ভাবে দেখা হয়, তাঁদের সাথে হাত মেলানো তো দূর, তাঁদের সাথে কথা পর্যন্ত কেউ বলতে চান না। তাঁরা সমাজের একটি প্রয়োজনীয় অংশ হয়েও সামাজিক ভাবে ব্রাত্য।

এই প্রেক্ষিতে, কলকাতার শহরকে আমরা একটি দ্বৈত স্তরে পড়তে পারি। তাঁর একদিকে রয়েছে দৃশ্যমান শহর—যেখানে উন্নয়ন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, এবং ‘স্মার্ট সিটি’ প্রকল্পের ভাষা প্রাধান্য পায়। অন্যদিকে রয়েছে অদৃশ্য শহর—যেখানে গন্ধ, বর্জ্য, এবং স্বপ্নের মাধ্যমে ইতিহাস তৈরি হয়। এই দুই স্তরের মধ্যে একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে, কিন্তু তা প্রায়শই অস্বীকার করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, শহরের নতুন আবাসন প্রকল্পগুলিতে স্যানিটেশন ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত করা হলেও, সেই ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণে যে শ্রম প্রয়োজন, তা এখনো একই জাতভিত্তিক কাঠামোর উপরেই নির্ভরশীল।[16]

এই দ্বৈততাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে ‘স্বাস্থ্যব্যবস্থা’র ধারণা। জনস্বাস্থ্য নীতি সাধারণত রোগ প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা, এবং নাগরিক সুরক্ষার উপর জোর দেয়। কিন্তু এই নীতিগুলি প্রয়োগের ক্ষেত্রে যে সামাজিক বিভাজন কাজ করে—বিশেষত জাতভিত্তিক শ্রম—তা অদৃশ্য থাকে। ফলে, স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিজেই একটি বৈপরীত্যে আবদ্ধ: এটি একদিকে শহরকে ‘পরিষ্কার’ করে, অন্যদিকে সেই পরিষ্কারের প্রক্রিয়ায় কিছু শরীরকে স্থায়ীভাবে ‘অশুচি’ হিসেবে চিহ্নিত করে।[17]

এই আলোচনার মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই যে, কলকাতার ইতিহাসকে নতুনভাবে পড়ার জন্য আমাদের প্রয়োজন একটি ভিন্ন পদ্ধতি—যেখানে গন্ধ ও স্বপ্ন উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণাত্মক উপাদান হিসেবে কাজ করবে। গন্ধ আমাদের দেখায় কীভাবে সামাজিক দূরত্ব তৈরি হয়, আর স্বপ্ন আমাদের জানায় সেই দূরত্বের অভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞতা। এই দুইয়ের সংযোগস্থলে আমরা পাই একটি ‘অবচেতন আর্কাইভ’, যা শহরের আনুষ্ঠানিক ইতিহাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

অতএব, কলকাতার স্যানিটেশন ব্যবস্থার ইতিহাস কেবল নর্দমা ও পাইপলাইনের ইতিহাস নয়; এটি একটি গভীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিন্যাস, যেখানে জাত, গন্ধ, এবং শরীর একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

কলকাতার শহরকে বোঝার জন্য প্রচলিত ইতিহাসচর্চার সীমা অতিক্রম করা অপরিহার্য। নগর-ইতিহাসকে যদি কেবল পরিকাঠামো, প্রশাসন বা স্বাস্থ্যনীতির বিকাশের ধারায় সীমাবদ্ধ রাখা হয়, তবে সেই পাঠ অসম্পূর্ণই থেকে যায়। কারণ শহরের প্রকৃত বিন্যাস গঠিত হয় এমন এক জটিল সম্পর্কের মাধ্যমে, যেখানে শরীর, ইন্দ্রিয়, শ্রম এবং সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত।

ঔপনিবেশিক সময়ে যে স্যানিটেশন ব্যবস্থা কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা মূলত শাসন ও নিয়ন্ত্রণের একটি প্রকল্প হিসেবে কাজ করেছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শহরের নির্দিষ্ট অংশকে ‘পরিষ্কার’ এবং অন্য অংশকে ‘অপরিষ্কার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, এবং সেই বিভাজনকে বজায় রাখার জন্য নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর উপর শ্রমের দায়িত্ব আরোপ করা হয়। এই বিন্যাস কেবল প্রশাসনিক ছিল না; এটি সামাজিকভাবে বৈধতা পেয়েছিল জাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসের মাধ্যমে। ফলে, স্যানিটেশন ব্যবস্থা একদিকে যেমন শহরের স্বাস্থ্য রক্ষা করেছে, অন্যদিকে তেমনি একটি স্থায়ী সামাজিক দূরত্বকে পুনরুৎপাদন করেছে।[18]

স্বাধীনতার পর এই কাঠামোর মৌলিক রূপান্তর ঘটেনি; বরং এটি নতুন প্রশাসনিক ভাষা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে নিজেকে পুনর্গঠিত করেছে। আধুনিক নগর পরিকল্পনা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নত হলেও, সেই ব্যবস্থার কার্যকারিতা এখনো নির্ভর করে এমন এক শ্রমবিন্যাসের উপর, যা ঐতিহাসিকভাবে প্রান্তিক এবং সামাজিকভাবে বর্জিত। এই ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে যে, শহরের আধুনিকতা একটি অসম্পূর্ণ আধুনিকতা—যেখানে উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে বৈষম্যও স্থায়ীভাবে বহাল থাকে।[19]

এই নিবন্ধে গন্ধকে একটি বিশ্লেষণাত্মক উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা শহরের সামাজিক বিন্যাসকে বোঝার নতুন পথ খুলে দেয়। গন্ধ এখানে কেবল একটি ভৌত অনুভূতি নয়; এটি একটি সাংস্কৃতিক সংকেত, যার মাধ্যমে সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস এবং নৈতিক মূল্যবোধ গঠিত হয়। একইভাবে, স্বপ্নকে একটি বিকল্প আর্কাইভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, যা প্রান্তিক মানুষের অভিজ্ঞতাকে ভিন্নভাবে সংরক্ষণ করে। এই দুই উপাদানের সংমিশ্রণ আমাদেরকে শহরের ইতিহাসকে এমন একটি স্তরে পড়ার সুযোগ দেয়, যা প্রচলিত উৎস ও পদ্ধতির মাধ্যমে ধরা পড়ে না।

অতএব, কলকাতার ইতিহাসকে পুনরায় পাঠ করার জন্য একটি নতুন পদ্ধতিগত কাঠামো প্রয়োজন—যেখানে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অভিজ্ঞতা এবং অবচেতন স্তর উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, শহরের ইতিহাস কেবল দৃশ্যমান কাঠামোর ইতিহাস নয়; এটি অনুভূতি, স্মৃতি এবং অভিজ্ঞতার ইতিহাসও। এই দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করলে আমরা শহরের প্রান্তিক মানুষের অবস্থানকে আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে পারি এবং সেই সঙ্গে ইতিহাসচর্চার পরিসরকে আরও বিস্তৃত করতে সক্ষম হই।

পরিশেষে বলা যায়, কলকাতার নগর-ইতিহাসকে বোঝার জন্য এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি কেবল প্রাসঙ্গিকই নয়, বরং অপরিহার্য। এটি আমাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সমালোচনামূলক ইতিহাসচর্চার দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়, যেখানে প্রান্তিক অভিজ্ঞতাগুলি আর প্রান্তিক থাকে না, বরং ইতিহাসের কেন্দ্রে স্থান পায়। আর আমাদের ইতিহাসচর্চার মূল লক্ষ্যই তো হল প্রান্তিক মানুষের স্বর-কে প্রাধান্য দিয়ে প্রকৃত সত্যের অনুসন্ধান করা, এই নিবন্ধ তারই একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস মাত্র।

শীর্ষক চিত্র পরিচিতি: Remembrance of Scents Past শিল্পী: Daniele Castellano  


[1] Michel Foucault, The Archaeology of Knowledge (New York: Pantheon Books, 1972), 129

[2] Suparna Choudhury, “The Politics of Smell and Caste,” Economic and Political Weekly Vol. 54, No. 12 (2019): 45

[3] Nikhil Anand, Hydraulic City: Water and the Infrastructures of Citizenship in Mumbai (Durham: Duke University Press, 2017), 78–79

[4] Gayatri Chakravorty Spivak, “Can the Subaltern Speak?” in Marxism and the Interpretation of Culture, ed. Cary Nelson and Lawrence Grossberg (Urbana: University of Illinois Press, 1988), 287

[5] Bezwada Wilson and Sudharshan, The Struggle of Safai Karamcharis in India (New Delhi: Safai Karmachari Andolan, 2014), 62–64

[6] Gopal Guru, “Archaeology of Untouchability,” Economic and Political Weekly Vol. 37, No. 24 (2002): 2482–2483

[7] Nikhil Anand, Hydraulic City, 132–134

[8] Alain Corbin, The Foul and the Fragrant: Odor and the French Social Imagination (Cambridge, MA: Harvard University Press, 1986), 25–27

[9] Ann Laura Stoler, Along the Archival Grain: Epistemic Anxieties and Colonial Common Sense (Princeton: Princeton University Press, 2009), 50–52

[10] David Arnold, Colonizing the Body: State Medicine and Epidemic Disease in Nineteenth-Century India (Berkeley: University of California Press, 1993), 113

[11] Mark Harrison, Public Health in British India: Anglo-Indian Preventive Medicine 1859–1914 (Cambridge: Cambridge University Press, 1994), 67–68

[12] Samita Sen, Women and Labour in Late Colonial India: The Bengal Jute Industry (Cambridge: Cambridge University Press, 1999), 142

[13] Government of Bengal, Report of the Calcutta Municipal Commissioners (Calcutta, 1876), 24

[14] Bezwada Wilson and Sudharshan, The Struggle of Safai Karamcharis in India (New Delhi: Safai Karmachari Andolan, 2014), 55

[15] Nikhil Anand, Hydraulic City, 132–133

[16] Dwaipayan Bhattacharyya, Government as Practice: Democratic Left in a Transforming India (Cambridge: Cambridge University Press, 2016), 201

[17] Gyan Prakash, Mumbai Fables (Princeton: Princeton University Press, 2010), 98

[18] Mark Harrison, Public Health in British India: Anglo-Indian Preventive Medicine 1859–1914 (Cambridge: Cambridge University Press, 1994), 102–103

[19] Dwaipayan Bhattacharyya, Government as Practice, 214

রাখী মণ্ডল বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আরব ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে গবেষণারত। তাঁর গবেষণার আগ্রহের মূল ক্ষেত্র হলো Cultural Politics; পাশাপাশি তিনি লিঙ্গ রাজনীতি, রাষ্ট্র ও শ্রমজীবী শ্রেণির মধ্যেকার রাজনীতি এবং ধর্ম-রাজনীতির পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণেও বিশেষ ভাবে আগ্রহী।

মন্তব্য তালিকা - “অদৃশ্য আর্কাইভের সন্ধানে”

  1. অসাধারণ একটি লেখা। আরকাইভ ভাবনা নিয়ে একটি অন্য রকম প্রয়াস। লেখিকার থেকে এইরকম আরও লেখা আশা করব।

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।