সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

সাম্প্রতিক লেখা

বর্তমান উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশের বেশ কয়েকটি জেলা জুড়ে বুন্দেলখণ্ডের ভৌগোলিক এলাকার ব্যাপ্তি। বুন্দেলখণ্ডের পাহাড় আর উপত্যকা ঘেরা ভূখণ্ডে দুই নিম্নবর্গীয় বীর আল্হা আর উদলের যশোগাথা সম্ভবত অন্ত-মধ্যযুগের সূচনাকাল থেকেই লোকসংস্কৃতির অঙ্গীভূত। সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত এই লোকগাথার ২৩টি সমরাঙ্গনে ৫২টি যুদ্ধের আবেগদীপ্ত বর্ণনা এই অঞ্চলের মূলত কৃষিজীবী সমাজের কিশোর আর তরুণদের যুদ্ধে অংশ নিয়ে বীরত্ব প্রদর্শনে উদ্বুদ্ধ করে চলেছে। প্রতি বছর শ্রাবণ মাসে আকাশ যখন মেঘে ঢেকে যায়, ঢোলক, চিমটা আর মঞ্জিরার বাদ্যের সঙ্গে বুন্দেলখণ্ডের গ্রামে গ্রামে আল্হাখণ্ডের যুদ্ধগাথার হুংকারে মুখরিত হয়ে ওঠে মাটি আর পাহাড়। বীররসাত্মক আল্হাখণ্ডের বাহান্নটি যুদ্ধগাথার মধ্যে বুন্দেলখণ্ডের তরুণ হৃদয় সবচেয়ে বেশি আলোড়িত হয় যখন শুরু হয় আল্হার নিজের বিবাহের জন্য ন্যায়নাগড়ের লড়াইয়ের বাখান।
আবুল ফজল তাঁর আইন-ই-আকবরিতে লিখছেন, গোটা হিন্দোস্তান সমেত দেশ-বিদেশের দাস বাজার কিংবা আমির ওমরাহদের হারেমের জন্য সন্দলি বা আলতসি, বাদামি আর কাফুরি নামের তিন শ্রেণির খোজা’র যোগান আসত সুবা বাংলা থেকে। সন্দলি খোজাদের গোটা পুরুষাঙ্গ কাটা থাকত, বাদামি খোজাদের লিঙ্গ থাকত অর্ধকর্তিত আর কাফুরিদের অণ্ডকোষ দুটি কেটে বাদ বা অকেজো করে দেওয়া থাকত। দৈহিক বিকৃতি বাদে গায়ের রঙ দিয়েও সন্দলি, বাদামি আর কাফুরি খোজারা পরিচিত হতেন। সন্দলি আর বাদামি অর্থে ফর্সা আর মাঝারি গায়ের রঙের সুদর্শন খোজা আর কাফুরি বা কর্পূরের সাদা রং দিয়ে কালো খোজাদের বোঝানো হতো। গাত্রবর্ণ, শারীরিক গঠন, আর্থসামাজিক অবস্থান আর খোজার আদত মুলুকের ওপরও নির্ভর করত একজন বালক বা পুরুষের জন্য উপরোক্ত তিন ধরনের মধ্যে কোন খোজাকরণ পদ্ধতিটি নেওয়া হবে!