সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

ইতিহাস তথ্য ও তর্কর উপস্থাপনায়, প্রকাশিত হয়েছে ‘বঙ্গ ইতিহাস প্রবাহ’

সাম্প্রতিক লেখা

মধ্যপ্রদেশের পশ্চিম অংশে আছে মালওয়া মালভূমি—মালওয়া মালভূমি প্রায় ৬ কোটি বছর আগে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে তৈরি হয়েছিল। কালো মাটির দেশ। সেখানে গিয়েছিলাম ভীমবেটকার গুহাশিল্প দেখতে। ভীমবেটকা গুহাগুলিতে ভারতবর্ষের প্রাগৈতিহাসিক মানুষের অন্যতম প্রাচীন গুহাশিল্প পাওয়া গেছে। চারিদিকে ঘন বন। তার মাঝে পাহাড়, সেখানে আছে প্রাচীন মানুষের প্রাকৃতিক শিলাশ্রয়স্থল (রক শেল্টার)। শিলাশ্রয়স্থল হল প্রাকৃতিক, অগভীর গুহার মতো খোলা জায়গা। এই আশ্রয়স্থলগুলি প্রাগৈতিহাসিক মানুষের জন্য ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ — এখানে তারা পেত হিংস্র পশু আর রুক্ষ আবহাওয়া থেকে সুরক্ষা। আবার পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে শিলাশ্রয়স্থলগুলি থেকে পাওয়া গেছে মানুষের কঙ্কাল, প্রাগৈতিহাসিক চিত্রকলা যা তাদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে আমাদের বেশ কিছু তথ্য দেয়। ভীমবেটকাতে প্রাকৃতিক শিলাশ্রয়গুলির পাঁচটি আলাদা স্তবক (ক্লাস্টার) রয়েছে।
ঋত্বিক ঘটক তাঁর ছবির মধ্য দিয়েই বুঝিয়েছেন তিনি নির্ভীক, নিষ্ঠাবান, আপসহীন শক্তিশালী পরিচালক। ছবি নির্মাণে প্রথাগত ব্যাকরণ ভেঙ্গে নিজেই নতুন ব্যাকরণ তৈরি করেছেন। কাহিনি, সংলাপ, চরিত্রচিত্রণ, আবহসঙ্গীত, ক্যামেরা সবেতেই তাঁর প্রতিভা ও যত্নের ছাপ রয়েছে। উচ্চাঙ্গ সংগীতের পাশাপাশি রবীন্দ্র সঙ্গীত, লোকসঙ্গীতকেও ব্যবহার করেছেন তাঁর ছবিতে। বারবার এনেছেন দেশভাগের কথা, উদ্বাস্তু মানুষের যন্ত্রণার কথা, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতায় মানুষের বলি হওয়ার কথা। বেশির ভাগ প্রধান চরিত্র রামায়ণ, মহাভারত ও পুরাণ থেকে নিয়েছেন, শঙ্কর, ভৃগু, রাম, অভিরাম, ঋষি, ঈশ্বর, নীলকণ্ঠ তাঁর ছবির চরিত্র। নারী চরিত্রগুলিও এনেছেন সেভাবে। নামকরণের ক্ষেত্রে রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ থেকে এনে আধুনিক যুগের কালানুগ করে তুলেছেন। সীতা, অনুসূয়া, উমা, শকুন্তলা, জগদ্ধাত্রী ভারতীয় সংস্কৃতির শাশ্বত চরিত্র। তাঁর কয়েকটি ছবিতে প্রধান নারী চরিত্রের নামকরণ হয়েছে এদের নামে। সীতা, দুর্গা, উমা একাধিকবার এসেছে তাঁর ছবিতে। সেকালের নারী চরিত্ররা একালের দেশ, কাল ও সামাজিক পরিবেশে কতটা প্রাসঙ্গিক হতে পারে তা দেখিয়েছেন।
পূর্বতন একটি নিবন্ধে আমরা সংস্কৃতের সঙ্গে ল্যাটিনের তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে দেখিয়েছিলাম যে কোনোটিই ‘কৃত্রিম’ ভাষা নয়, বরং উভয়ই জৈবিক ভাষাগত বিবর্তনের ফলে সৃষ্ট মানকীকৃত সাহিত্যিক রূপ। এই প্রবন্ধে আমরা ল্যাটিন ভাষার সম্পূর্ণ যাত্রাকে অনুসরণ করব। তার ইন্দো-ইউরোপীয় উৎস থেকে শুরু করে আদি ল্যাটিনের উদ্ভব, ধ্রুপদী ল্যাটিনের মানকীকরণ, তার জটিল ব্যাকরণিক কাঠামো, সাহিত্যিক অবদান এবং শেষে রোমান্স ভাষাগুলিতে তার রূপান্তর। বিশেষত, আমরা দেখাব কীভাবে ধ্রুপদী ল্যাটিন একটি স্বাভাবিক ভাষাগত বিবর্তনের ফসল ছিল, যেখানে সাহিত্যিক ও বাগ্মীরা কথ্য ভাষার বৈচিত্র্য থেকে একটি মানক সাহিত্যিক রূপ তৈরি করেছিলেন।