সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

ইতিহাস তথ্য ও তর্কর উপস্থাপনায়, প্রকাশিত হয়েছে ‘বঙ্গ ইতিহাস প্রবাহ’

সাম্প্রতিক লেখা

পথ নিয়ে বই-পুঁথি ঘাঁটাঘাঁটির মাঝেই একদিন সহযাত্রীর চালানো গান কানে ঢুকলো। বেয়ারা মগজে সরল সমাধান ছেড়ে (আমার মতো পাথর আর জঙ্গলের কারবারিদের যা স্বাভাবিক) চিন্তা এল, পথ তাদের কাছে প্রিয় কেন? উত্তর এল, এ পথ তাদের কাছে পিচ ঢালা এক সরলরেখা নয়। বরং তাদের মন দেওয়া-নেওয়ার ক্ষেত্র, যার প্রতিটি বাঁকে লুকিয়ে আছে অনেক গল্প, অনেক স্মৃতি। এ পথ তাই কেবল অস্তিত্ব নয়, বহুস্তরের চেতনাযুক্ত এক সত্তা। পথকে শুধু পিচ ঢালা বা মাটির সরলরেখা হিসেবে না দেখে, প্রতিটি খাঁজে-ভাঁজে লুকিয়ে থাকা অজস্র গল্পকে চিনতে সাহায্য করেছে যে তিনটি বই- আজ সেই তিন বইয়ের আলোয় আপনাদের শোনাবো সিল্ক রুট ও ডুয়ার্স পথের কথা।
গোয়েন্দাকাহিনির গোঁড়া অনুসন্ধান করতে হলে আমাদের অনেক গভীরে ডুব দিতে হবে। ‘ক্রাইম কাহিনীর কালক্রান্তি’ বইতে আচার্য সুকুমার সেন দেখিয়েছেন গোয়েন্দাকাহিনি হল এক হিসেবে বিশ্বসাহিত্যের প্রাচীনতম শাখা। তিনি লিখেছেন, 'পৃথিবীতে মানবসংস্কৃতির ধারাবাহিক ইতিহাসে জীবনচর্যার দ্রষ্টব্য ও শ্রোতব্য শিল্প-কল্পনাকে যদি বৃক্ষের উপমা দি‌ই তবে সে বৃক্ষের প্রথম উদগত শাখাগুলির অন্যতম হবে শিকারচিত্র ও গোয়েন্দা গল্প। শিকারির কাজ ও গোয়েন্দাগিরি দুই-ই এক ব্যাপার ― গোপনে অনুসন্ধান করে ফাঁদ পেতে অথবা আঘাত করে আয়ত্ত করা। চিত্রকর্মে শিকারের ব্যাপার বেশি দূর এগোয়নি, কিন্তু গোয়েন্দা গল্প আজ পর্যন্ত একটানা চলে এসেছে।' কিশোর বয়স থেকে তাঁর গোয়েন্দা কাহিনি পড়ায় গভীর আগ্রহ। স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময়ে 'ইংরেজি ডিটেকটিভ গল্পের স্বর্গে প্রথম প্রবেশ'।
কিছুদিন আগেই ‘ইতিহাস তথ্য ও তর্ক’ ফেসবুক পেজ-এ প্রাচীনকালের খাওয়া-পরা নিয়ে একটি সচিত্র প্রতিবেদন পেয়েছি। ভালো লেগেছিল, তাই ভারতবর্ষের প্রাচীনকালের আহার নিয়ে আরও কিছু কথা বলতে উদ্যোগী হয়েছি। সব জীবিত প্রাণীরই বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য গ্রহণ করা আবশ্যক। উপরন্তু জিভের স্বাদের জন্যও সুখাদ্যের অনুসন্ধান চলে বটে। তার জন্য লাগে পছন্দসই বিশেষ খাবার! তাই আদিম যুগ থেকেই খাদ্য সংগ্রহ করা এবং তা খাবার উপযুক্ত করে তোলা—এই দুটি মানুষের প্রথম ও প্রধান চিন্তা ছিল। প্রাগৈতিহাসিক যুগে মানুষের আহার্য ছিল পশুপাখির মাংস, ফলমূল, বুনো শস্য ইত্যাদি। আদি প্রস্তর যুগেও এই দেশে পাথরের অস্ত্রশস্ত্র পাওয়া গেছে, যেগুলি মূলত শিকারে ব্যবহার করা হলেও সম্ভবত সংঘর্ষেও ব্যবহৃত হত। ভারতবর্ষে বন্য ও গৃহপালিত পশুর হাড়ও পাওয়া গেছে। মধ্যপ্রদেশের ভীমবেটকা গুহায় পশুপাখি ও শিকারিদের গুহাচিত্র দেখা যায়।
সূর্যের শীতকালীন অয়নান্ত বা উইন্টার সলস্টিস হল বছরের ক্ষুদ্রতম দিন – তিন দিন এক জায়গায় থেমে থাকার পর আবার সূর্যের উত্তরমুখী চলন শুরু হয়। সূর্যের উদয়স্থান একটু একটু করে উত্তর দিকে এগোতে থাকে, আর দিনের দৈর্ঘ্যও বাড়তে থাকে। সূর্যের এই উত্তরায়ণকে বিভিন্ন ভাবে উদযাপন করত মানুষ। বাঙালির ইতুপূজা উৎসব বা অতীতের বৈদিক গবাময়ন যজ্ঞ - মোটামুটি এই দিনটারই আশেপাশে। মকর সংক্রান্তি অতীতে এই দিনই হত- একুশে ডিসেম্বরের আশেপাশে। জার্মানদের ইউলটাইড বা রোমানদের সূর্যপূজা - সোল ইনভিক্টাস উৎসবও এই উত্তরায়ণের উদযাপন আর ক্রিসমাসের উৎস এই সোল ইনভিক্টাস উৎসব থেকেই। কিন্তু এইসব উৎসবের অনেক আগে, আজ থেকে সাড়ে চার হাজার বছর আগে, ব্যাবিলন-মিশরের জ্যোতির্বিদ্যা ইংল্যান্ডে তখনও পৌঁছায়নি - স্টোনহেঞ্জে নব্যপ্রস্তর যুগের মানুষ তৈরি করেছিল গ্রীষ্ম ও শীতকালীন অয়নান্ত মাপার ব্যবস্থা- কয়েকটি পাথরের স্তম্ভ ব্যবহার করে।
দ্বারকানাথ ঘোষ। তাঁর কোম্পানির নাম Dwarkin & Sons; নামের এইরকম ইঙ্গ-করণ হয়েছিল সম্ভবত যুগের সঙ্গে তাল রাখতে গিয়ে। ব্রিটিশের উচ্চারণে এটা হয়েছিল ‘ডোয়ারকিন’। ১৮৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানি নানারকম বাদ্যযন্ত্র তৈরি ও বিপণনে সাফল্য পায়—এর মধ্যে অন্যতম হারমোনিয়াম। কোম্পানির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, হারমোনিয়াম যন্ত্রের আধুনিক রূপটি আকার পেয়েছে দ্বারকানাথের হাতে। উনবিংশ শতকের দ্বিতীয় ভাগে যে সময়টার কথা বলছি সেই সময় ভারতের ঘর-গেরস্থালিতে চেয়ারের ব্যবহার তেমন ছিল না। ফলে ইউরোপের হারমোনিয়াম এদেশে চলেনি। দাঁড় করানো সে যন্ত্র ছিল বেশ উঁচু এবং পা দিয়ে প্যাডেল করে সেটা থেকে আওয়াজ বের করতে হত।