সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

ইতিহাস তথ্য ও তর্কর উপস্থাপনায়, প্রকাশিত হয়েছে ‘বঙ্গ ইতিহাস প্রবাহ’

সাম্প্রতিক লেখা

মুর্শিদাবাদের কান্দি থেকে বহরমপুর অভিমুখী সড়কপথে অবস্থিত পুরন্দরপুর গ্রাম। এই গ্রামের উত্তর দিকে কানা ময়ূরাক্ষী নদী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত। ভূগোলের ভাষায়, একে মজে যাওয়া ময়ূরাক্ষী বলা যায়। এই নদী পেরিয়ে কয়েকটি গ্রাম অতিক্রম করে পৌঁছানো যায় খড়গ্রাম ব্লকের একটি অনামা গ্রামে। নিরাপত্তাজনিত কারণে গ্রামের নাম অনুল্লিখিত রাখা হল। এ যেন নামেই গ্রাম। চারদিকে ঘন জঙ্গল বেষ্টিত এই এলাকায় একটি পরিবারের বসবাস। জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে সামান্য পদব্রজে এগিয়ে গেলেই দেখা মিলবে হাজার বছরের প্রাচীন একটি বিষ্ণুমূর্তির (চিত্র ১), যা স্থানীয় মানুষের নিত্যপূজিত দেববিগ্রহ। বর্তমানে সিমেন্টের বেদীর সঙ্গে বিগ্রহটিকে দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে, যাতে কোনোভাবে অপহৃত না হয়।
প্রাচীন ভারতীয় ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাস আলোচনা করতে গেলে আবেস্তীয় এবং প্রাচীন ইরানীয় ভাষার প্রসঙ্গ প্রায় অনিবার্যভাবে এসে পড়ে। কারণ বৈদিক সংস্কৃত এবং আবেস্তীয় ভাষার মধ্যে যে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তা দেখা যায়, তা কেবল কিছু শব্দের বাহ্যিক সাদৃশ্যের বিষয় নয়; ধ্বনিতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব, শব্দভাণ্ডার এবং ধর্মীয় পরিভাষার স্তরেও তাদের মধ্যে সুস্পষ্ট ঐতিহাসিক যোগাযোগ রয়েছে। এই সম্পর্কের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আধুনিক তুলনামূলক ভাষাতত্ত্ব বৈদিক সংস্কৃত এবং আবেস্তীয় ভাষাকে যথাক্রমে ইন্দো-আর্য এবং ইরানীয় শাখার প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে দেখে; উভয়ের পূর্বসূরি হিসেবে প্রোটো-ইন্দো-ইরানীয় ভাষার পুনর্গঠন করা হয় (Hoffmann, 1987/2019; Hintze, 2015)।
বাংলায় ঔপনিবেশিক আধুনিকতা ও কৃষি-অর্থনীতির প্রসারে ছোটোনাগপুর মালভূমি থেকে স্থানান্তরিত আরণ্যক শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হলেও আঞ্চলিক ইতিহাসচর্চায় তাঁরা দীর্ঘকাল উপেক্ষিত রয়েছেন। মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর ব্লকের ভাগীরথী অববাহিকায়—বিশেষত সাটুই চৌরিগাছা গ্রাম পঞ্চায়েতের ধাওড়াপাড়া (প্রাচীন বুনোপাড়া) ও পোড়াডাঙ্গা গ্রামে বসবাসকারী তথাকথিত 'বুনো' (মূলত রাজোয়ার, রাজবংশী, সাঁওতাল ও অন্যান্য প্রান্তিক সমাজ) জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক বিবর্তন, জীবনযাপন, পূজা-পার্বণ, সংস্কৃতি এবং বর্তমান সামাজিক রূপান্তর বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা হল।
ইতিহাসের পরিহাস ছাড়া আর কী বা বলা যেতে পারে একে! না হলে, প্রথম বাংলা সংবাদপত্রের নাম হিসেবে ইতিহাস বইতে জন মার্শম্যান সম্পাদিত ‘সমাচার দর্পণ’-এর নাম জ্বলজ্বল করতে থাকে আর গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য হারিয়ে যান বিস্মৃতির অন্ধকারে৷ গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যর প্রকাশিত পত্রিকার নামও সকলে ভুলে গেছেন। ইতিহাস বলে যে, ১৭৮০ সাধারণাব্দের ২৯ জানুয়ারি জেমস আগস্টাস হিকি (James Augustus Hicky) প্রকাশিত ‘দি বেঙ্গল গেজেট’-ই হচ্ছে ভারতবর্ষে প্রচলিত প্রথম সংবাদপত্র। তবে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের বহু পূর্বে মুঘল যুগে এক বিশেষ ধরনের হাতে লেখা সংবাদপত্র প্রচলিত ছিল। বাদশার দরবারের প্রত্যেক আমির-ওমরাহ, প্রাদেশিক শাসন-কর্তা এবং করদ-রাজার একজন করে বিশেষ কর্মচারী থাকতেন যারা নিয়মিতভাবে, অন্ততঃ প্রতিমাসে একবার করে, রাজধানীতে এবং অন্যান্য প্রদেশে যে-সকল আশ্চর্য অথবা বিশেষ বিশেষ ঘটনা সাম্প্রতিককালে ঘটেছে, তাদের সংক্ষিপ্ত বিবরণী নিজেদের প্রভুর কাছে লিখে পাঠাতেন।