সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

প্রাগৈতিহাসিক মানুষের সভ্যতার উত্থান – পর্ব ২

প্রাগৈতিহাসিক মানুষের সভ্যতার উত্থান – পর্ব ২

মধুশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়

জুলাই ২৩, ২০২২ ৮৮

মানুষের জ্ঞাতিভাইয়ের শিল্প ও জ্ঞানচর্চা

যখন মানুষ আফ্রিকায় চামড়া পরছে, শিশুকে কবর দিচ্ছে, পাথরের ওপরে ক্রশহ্যাচ আঁকছে, তখন ইউরোপে ‘নিয়েণ্ডারথাল’রা কেমন আছে? তারা কেমন জীবন কাটাচ্ছে?

আধুনিক মানুষ, ‘নিয়ান্ডারথাল’ ও ‘ডেনিসোভান’ উদ্ভূত হয়েছে একই পূর্বপুরুষ থেকে।

‘হোমো ইরেক্টাস’-এর যে মূল শাখাটি আফ্রিকাতে ছিল তাদের উত্তরসূরি হল ‘হোমো হাইডেলবার্গেনসিস’। ‘হোমো হাইডেলবার্গেনসিস’-রা পৃথিবীতে ছিল ৮ থেকে ৩ লক্ষ বছর আগে পর্যন্ত। থাকত পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকা, ইউরোপ, চীন, জাপানে। ওরা আগুনের প্রারম্ভিক ব্যবহার জানত, হাতে থাকত কাঠের বল্লম। ‘হোমো হাইডেলবার্গেনসিস’ থেকে উদ্ভূত তিন জ্ঞাতি ভাই আধুনিক মানুষ, ‘নিয়ান্ডারথাল’ ও ‘ডেনিসোভান’।

‘হোমো হাইডেলবার্গেনসিস’-এর একটি গোষ্ঠী আফ্রিকা ছেড়ে ইউরোপ ও এশিয়াতে চলে গিয়েছিল। তার দীর্ঘদিন পরে, ৪ লক্ষ ৭০ হাজার থেকে ৩ লক্ষ ৮০ হাজার বছরের মধ্যে কোন এক সময়ে ওরা আবার বিভক্ত হয়ে যায়। একটি শাখা উত্তর-পশ্চিম দিকে ইউরোপে ঢুকে পড়ে। এদের বলা হয় ‘নিয়ান্ডারথাল’। অন্য শাখাটি পূর্ব দিকে এশিয়াতে চলে যায়। এই শাখাটি থেকেই বিবর্তনের পথে ‘ডেনিসোভান’-এর সৃষ্টি। ‘নিয়ান্ডারথাল’ ও ‘ডেনিসোভান’রা আফ্রিকার বাইরে উদ্ভূত হয়েছে। আর আফ্রিকাতে বসবাসকারী শাখাটি থেকে আনুমানিক ৩ লক্ষ ৩০ হাজার থেকে ৩ লক্ষ বছর আগে আর্কাইক আধুনিক মানুষের উদ্ভব হয়েছে।

প্রায় ৪.৫ লক্ষ থেকে ৩৫ হাজার বছর আগে পর্যন্ত ‘নিয়ান্ডারথাল’রা বেঁচে ছিল। দীর্ঘকাল ধরে ওরা ইউরোপ, মধ্য ও পশ্চিম এশিয়াতে বাস করেছে। চলে গিয়েছে রাশিয়ার উত্তরে সাইবেরিয়ায়।

ওদের মুখ ছিল চ্যাপ্টা। ঠাণ্ডা, শুষ্ক বায়ুকে উষ্ণ করার জন্য ছিল বিশাল নাক, গাঁট্টাগোট্টা, বেঁটেখাটো চেহারা। শরীর ছিল পিপের মত চওড়া, হাত পা ছোট। যখন ইউরোপ ছিল অতীব ঠাণ্ডা তখন ওরা সেখানে থেকেছে, তাই বিবর্তনের প্রক্রিয়াতে ওদের চওড়া শরীর সাহায্য করেছে উত্তাপ ধরে রাখতে।

অন্ততপক্ষে ৪ লক্ষ বছর ধরে ‘নিয়ান্ডারথাল’রা ছড়িয়ে ছিল ইউরোপ থেকে সাইবেরিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত ভূখণ্ডে। ওরা স্থান থেকে স্থানান্তরে ইউরেশিয়া জুড়ে বিচরণ করেছে। গুহায় বসবাস করেছে। ইউরোপ ও সাইবেরিয়ার ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় বসবাস করতে গায়ে চামড়া জড়িয়ে নিতে হয়েছে। নয়তো ওরা অবলুপ্ত হয়ে যেত অনেক আগে। নিয়ন্ত্রিতভাবে আগুনের ব্যবহার করেছে। দক্ষতার সঙ্গে পরিকল্পনা করে বড় প্রাণী শিকার করতে পেরেছে।

  • পশ্চিম স্পেনে তিনটি গুহাতে ৬৪ হাজার বছর আগের আঁকা সরল চিত্র পাওয়া গেছে। সময় গণনা করে বলা যায় যে, সেগুলি হল এখনও পর্যন্ত আবিষ্কৃত পৃথিবীর প্রাচীনতম গুহা চিত্র। তবে ইউরোপের এই চিত্র আধুনিক মানুষ আঁকেনি। আমাদের জ্ঞাতি ভাই ‘নিয়ান্ডারথাল’রা সম্ভবত সামান্য আঁকতে পারত। সেইসময়ে ইউরোপে ‘নিয়ান্ডারথাল’রা জাঁকিয়ে বসবাস করছে। আর আধুনিক মানুষ ইউরোপে গেছে আজ থেকে মাত্র ৪৫ হাজার বছর আগে। তাই মনে করা হয়, ৬৪ হাজার বছর আগের এই চিত্র আধুনিক মানুষের আঁকা নয়।

চিত্র ১ – পশ্চিম স্পেনে হাতে চৌষট্টি হাজার বছর আগের আঁকা সরল চিত্র

‘নিয়ান্ডারথাল’রা লাল গিরিমাটি দিয়ে ছবি এঁকেছে। একটা ছবি অনেকটা মই-এর মত দেখতে। মই ছাড়াও কিছু বিন্দু ও হাতের ছাপ ওরা এঁকেছে। মই-এর ভেতরের পশুর মাথা ও মই-এর বাইরের জটিল প্রতীক চিহ্নটি নিয়ে বিতর্ক আছে, ওগুলো সম্ভবত পরে আধুনিক মানুষ গিয়ে এঁকেছে। এই চিত্রের অর্থ উদ্ধার হয় নি তবে এটা সুস্পষ্ট যে, একটা সময় পর্যন্ত এই দুই জ্ঞাতি ভাইয়ের চিন্তাধারায় সামঞ্জস্য ছিল।

  • ৬০ হাজার বছর আগে, পশ্চিম ফ্রান্সে এক হায়নার ফেমার বোন (ঊর্বস্থি, থাইয়ের হাড়) পাওয়া গেছে। সেই হাড়ের গায়ে ঠিক ন’টি খাঁজ কাটা আছে। ফ্রান্সের বোর্দো বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতত্ত্ববিদ ফ্রান্সেস্কো ডি এরিকো মনে করেন, এই হাড়টি কোন সজ্জা দ্রব্য নয়। এটি কার্যকরীভাবে ব্যবহার করা হত। হাড়টিতে কোন সংখ্যা সম্পর্কিত তথ্য রাখা হয়েছে। হায়েনার হাড়টি হাতে নিয়ে কোন যন্ত্রের সাহায্যে ‘নিয়েণ্ডারথাল’ মানুষটি তাতে ন’টি খাঁজ কাটে। সম্ভবত শুধু হোমো স্যাপিয়েন্স গণনা করতে পারত না, আমাদের নিকটতম অবলুপ্ত জ্ঞাতিও গণনা করে দাগ কেটে রাখতে।

চিত্র ২ – ৬০ হাজার বছর আগে, পশ্চিম ফ্রান্সে এক হায়নার ফেমার বোন পাওয়া গেছে। সেই হাড়ের গায়ে ঠিক ন’টি খাঁজ কাটা আছে।

সংখ্যার উৎস কোথায়, তাই নিয়ে গবেষণা এখনও কোন সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেনি। আজকের জ্ঞানাত্মক বিকাশের বিজ্ঞানীরা মনে করেন, যদিও সংখ্যার ধারণা করতে পারে না তবে কিছু পশু পরিমাণের সামান্য ধারণা করতে পারে। সম্ভবত হাতের আঙ্গুল থেকে প্রথম এইভাবে গণনা করা এসেছে।

এই হাড়ের মধ্যে ন’টি খাঁজ প্রায় সমানভাবে কাটা হয়েছে। সম্ভবত যন্ত্রটিকে একই ভাবে রেখে খাঁজগুলো কাটা হয়েছে। অর্থাৎ একজন ব্যক্তি একটি সেশনে কয়েক মিনিট বা ঘন্টায় এই খাঁজগুলি কেটেছে। মজার কথা হল, একটা সমান মাপের দণ্ড আজকের মানুষকে দিয়ে নটি খাঁজ কাটতে বললে, ‘নিয়ান্ডারথাল’দের মতই প্রায় সমান পরিমান ফাঁক রেখে তারা দাগ কেটেছে।

  • অবশ্য শুধু ‘নিয়ান্ডারথাল’রা নয়, দক্ষিণ আফ্রিকার বোর্ডের গুহায় ৪২ হাজার বছর আগের বেবুনের হাড়ে আধুনিক মানুষের করা খাঁজ দেখা গেছে। তাতে আবার ২৯টি দাগ ছিল। চারটি আলাদা সেশনে এই দাগ কাটা হয়েছে।

চিত্র ৩ – দক্ষিণ আফ্রিকার বোর্ডের গুহায় ৪২ হাজার বছর আগের বেবুনের হাড়ে আধুনিক মানুষের করা খাঁজ দেখা গেছে।

অর্থাৎ সম্পূর্ণ দুটি ভিন্ন মহাদেশে ভিন্ন পরিবেশে আধুনিক মানুষ ও ‘নিয়ান্ডারথাল’রা হাড়ে দাগ কেটেছে। সম্ভবত সংখ্যা বিষয়ক কোন তথ্য রেখে দিতে।

এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ৪৫ হাজার বছর আগে দেখা সাক্ষাৎ হওয়া সহজ ছিল না। কারণ ‘নিয়ান্ডারথাল’রা ইউরোপ উদ্ভূত হয়েছে আর আধুনিক মানুষ ইউরোপ গেছে ৪৫ হাজার বছর আগে। তবে এদের দেখা হওয়া একেবারে অসম্ভব এমনও বলা যায় না, কারণ ২ লক্ষ বছর আগে কিছু আধুনিক মানুষ গ্রিসে এসেছিল তার প্রমাণ আছে। তারা অবলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। ওরা কেউ হায়েনা বা বেবুনের ফিমরে দাগ কেটেছে, এমন কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তবে এই দাগ সংখ্যা মনে রাখবার জন্য কিনা তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে দ্বিমত আছে। কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের করেনলি ওভারম্যান মনে করেন, অস্ট্রেলিয়ার আদি অধিবাসীরা চ্যাপ্টা বা নলাকার দৈর্ঘ্যের কাঠের কাঠি ব্যবহার করে। সেগুলো সবসময় সংখ্যা গুনতে নয়। মনে হয় যে, কিছু কাঠি সংখ্যাসূচক তথ্য এনকোড করে- তবে অনেকগুলি সেই কাজে ব্যবহার করা হয় না। কিছু কাঠি ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত হয়- খাবার, সরঞ্জাম বা অস্ত্রের জন্য। তিনি বলেছেন, “অন্যগুলি যুদ্ধের পরে শান্তির বার্তা বহন করতে পারে।”

২০১৩ সালে ওভারম্যান আজকে বর্তমান ৩৩টি শিকারি সংগ্রাহক গোষ্ঠীর মধ্যে কাজ করেছেন। তাঁর গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত হল, যাদের সমাজে সামান্য কিছু সম্পদ থাকে, যেমন, অস্ত্রশস্ত্র, সরঞ্জাম বা গহনা, তারা অন্তত চার পর্যন্ত গুনতে পারে। যাদের এই সম্পদ একটু বেশি থাকে তারা চারের ওপরে গুনতে পারে। তাই ওভারম্যান মনে করেন, সমাজে বিভিন্ন ধরণের সম্পদ না থাকলে তাদের পক্ষে গণনা করা সম্ভব নয়।

  • ৫০ হাজার বছর আগের এক হাতিয়ারে ‘নিয়ান্ডারথাল’রা এক ধরণের আঠা ব্যবহার করেছিল, যা দেখে ওদের জটিল চিন্তা ভাবনার পরিচয় পাওয়া যায়। বার্চ গাছের টার থেকে আঠা তৈরি করতে জটিল চিন্তার প্রয়োজন হয়। যদিও সামান্য কিছু সরঞ্জামে ‘নিয়ান্ডারথাল’দের আঠা তৈরির প্রমাণ পাওয়া গেছে, তবে তার থেকে অনুমান করা যায় যে, এক সময়ে এই আঠা যথেষ্ট পরিমানে তৈরি করা হত। হাতিয়ারটি পাওয়া গেছে নর্থ সীর নিচে। সমুদ্রের নিচে থাকবার দরুন হয়তো তার আঠা সংরক্ষিত আছে। সম্ভবত অতি সরল এই সরঞ্জামগুলি ব্যবহার করা হত পশুর ছাল ছাড়াতে। অথবা গাছের ডালপালা কাটতে। পাথরের ফলকে টারের সাহায্যে কাঠের হাতল লাগানো হত। তবে ৫০ হাজার বছর আগের এই সরঞ্জামটিতে সম্ভবত শুধুমাত্র টার দিয়ে হাতল তৈরি করা হয়েছিল।

মাত্র ১২ হাজার বছর আগে ইউরোপ ও ব্রিটেনের মধ্যে ছিল এক বিরাট ভূখণ্ড, তাকে বলে ডোগারল্যাণ্ড। সেই ভূখণ্ডে ছিল জলাভূমি, জঙ্গল লেগুন। তুষার যুগের পরে বন্যায় ডোগারল্যাণ্ড ঢেকে যায় গভীর সমুদ্রে, আজ সেই সমুদ্রকে বলি ‘নর্থ সী’। তারপর ইউরেশিয়া ভূখণ্ড থেকে ব্রিটেন চিরতরে পৃথক হয়ে যায়। ৫০ হাজার বছর আগে ‘নিয়ান্ডারথাল’রা সেই তুন্দ্রাসম আবহাওয়ায় অল্প গাছপালার মধ্যে বসবাস করত। তাদের পরিকল্পনা করে খাদ্য সংগ্রহ করতে হত। ওই পেপারের সহ লেখক জেরিত ডুসেলডর্ফ বলেন, বার্চ ছাল থেকে আঠা নিষ্কাশনের বিভিন্ন পাতন পদ্ধতির মধ্যে ‘নিয়ান্ডারথাল’রা এই সরঞ্জাম তৈরি করতে সবচাইতে কঠিন পদ্ধতি নিয়েছিল।

চিত্র ৪ – ৫০ হাজার বছর আগের এক হাতিয়ারে নিয়ান্ডারথালরা এক ধরণের আঠা ব্যবহার করেছিল

  • পাইন গাছের রজন ব্যবহারের উদাহরণ পাওয়া যায় ইতালিতে ‘নিয়ান্ডারথাল’দের সরঞ্জামে। তবে মনে করা হচ্ছে, বার্চ টার ব্যবহার করতেই তারা পছন্দ করত।

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, ইতালির কাম্পিটেলোতে ২ লক্ষ বছর আগের বার্চ টার ব্যবহারের উদাহরণ পাওয়া গেছে। আর দক্ষিণ আফ্রিকাতে আধুনিক মানুষ অন্তত ১ লক্ষ বছর আগে টার ব্যবহার করেছে তার প্রমাণ আছে।

কে প্রথম টার ব্যবহার করেছে, তা এই মুহূর্তে বলা কঠিন। কারণ টার ততটা সংরক্ষণ করা যায় না।

তবে পৃথিবীর এই দুই গোলার্ধে একেবারে বিপরীত দুই স্থানে টার ব্যবহার প্রমাণ করে সম্ভবত নিয়ান্ডারথাল ও আধুনিক মানুষ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে টারের ব্যবহার শিখে তার ব্যবহার করেছে।

নিয়ান্ডারথাল ও হোমো স্যাপিয়েন্সের মস্তিষ্কের পর্যালোচনা

‘নিয়ান্ডারথাল’ ও আধুনিক মানুষ (হোমো স্যাপিয়েন্স) কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরত্বে, দুই ভিন্ন মহাদেশে, বহু নদী ও সমুদ্রের ওপারে, কয়েক লক্ষ বছর ধরে আলাদাভাবে বসবাস করেছে। এরা উদ্ভূত হয়েছে একই পূর্বসূরি, ‘হোমো হাইডেলবার্গেনসিস’ থেকে। ‘হোমো হাইডেলবার্গেনসিস’-এর শারীরিক বৈশিষ্ট্য এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অভ্যাসগুলি এরা উত্তরাধিকার সূত্রে আহরণ করেছে। যেমন আগুনের ব্যবহার, গুহায় বসবাস করা, আকুলিয়ান সরঞ্জামের ব্যবহার ইত্যাদি। ওরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে বৃহৎ মস্তিষ্ক, খাড়া হয়ে দাঁড়িয়ে হাঁটাচলা করার ক্ষমতা, মানুষের মত মুখাবয়ব, দুটি হাতের ব্যবহারের ক্ষমতা।

মস্তিষ্কের বৃদ্ধি, হাতের নিয়ন্ত্রণ এবং অঙ্গভঙ্গি, সরঞ্জাম তৈরির ক্ষমতা ক্রমাগত বাড়ছিল। এগুলি হল চিন্তার ও জ্ঞানের বিকাশের ক্ষেত্রে পূর্বশর্ত। সেই পূর্বশর্ত দুই জ্ঞাতি ভাই, ‘নিয়ান্ডারথাল’ ও আধুনিক মানুষ (হোমো স্যাপিয়েন্স), পূরণ করেছিল।

আবার ওরা নিজেরাও ধীরে ধীরে ক্রমান্বয়ে বিবর্তিত হয়েছে। ‘নিয়ান্ডারথাল’ ও ‘হোমো স্যাপিয়েন্স’-এর মস্তিষ্কের পরিমাণ প্রায় এক এবং ‘হোমো হাইডেলবার্গেনসিস’ বা ‘হোমো ইরেক্টাস’-এর থেকে অনেকটা বেশি।

  • ১ লক্ষ ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার বছর আগের ২৩টি ‘নিয়ান্ডারথাল’ করোটির এন্ডোক্রেনিয়াল আয়তন পাওয়া গেছে ১১৭২-১৭৪০ সিসি।
  • সেখানে পুরাপ্রস্তর যুগের ৬০টি ‘হোমো স্যাপিয়েন্স’ করোটির আয়তন হল ১০৯০ থেকে ১৭৭৫ সিসি।
  • ১৯৮০ সালে ১২২ জন আজকের মানুষের মস্তিষ্কের আয়তনের গড় পাওয়া গেছে ১৩৪৯ সিসি।

অর্থাৎ ‘নিয়ান্ডারথাল’দের মস্তিষ্কের আয়তন মানুষের থেকে ছোট নয়। অবশ্য আয়তন একমাত্র বিচার্য ধ্রুবক নয়।

‘নিয়ান্ডারথাল’ ও আধুনিক মানুষ ভিন্ন পরিস্থিতি ও ভিন্ন আবহাওয়াতে বিবর্তিত হয়েছে। টিকে থাকার জন্য তাদের চাহিদা ছিল ভিন্ন।

সেরিব্রাম ও সেরিবেলাম

শুধু যে মস্তিষ্কের আয়তন বৃদ্ধি পেয়েছে তা কিন্তু নয়। মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের বিবর্তন এই দুই জ্ঞাতির হয়েছে ভিন্ন ভাবে। আধুনিক মানুষ ও ‘নিয়ান্ডারথাল’দের এন্ডোকাস্ট নিয়ে গবেষণায় এই তফাৎগুলি বোঝা গেছে। দেখা গেছে যে, হোমো জেনাসের বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে ক্রমাগত মস্তিষ্কের সেরিব্রাম অংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেরিব্রাম হল মস্তিষ্কের ওপরের বৃহৎ টুপির মতো অংশটি। এটিই মস্তিষ্কের বৃহত্তম অংশ। এই অংশের বৃদ্ধির ফলে সম্পূর্ণ মস্তিষ্কটি শিম্পাঞ্জিদের থেকে ক্রমাগত বড় হয়ে গেছে। এই বৃদ্ধির প্রবণতা ছিল ‘নিয়ান্ডারথাল’ ও ‘আর্কাইক হোমো স্যাপিয়েন্স’-এর (৩ লক্ষ বছরের পুরনো আধুনিক মানুষ) মধ্যেও।

সেরিব্রামের অনেক কাজের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল দেহের পেশির চলাফেরার সূচনা এবং সমন্বয় করা। এখন খেয়াল করে দেখুন, প্রাইমেটদের মধ্যে শিম্পাঞ্জির পর থেকে ‘অস্ট্রালোপিথেকাস’ ও হোমো জেনাসের (মানব) শরীরের আয়তন বৃদ্ধি পাচ্ছে, পেশি বাড়ছে, সেরিব্রাম বাড়ছে, সামগ্রিকভাবে মস্তিস্ক বৃদ্ধি পাচ্ছে। খেয়াল রাখতে হবে, ‘নিয়ান্ডারথাল’দের দেহ আধুনিক মানুষের থেকে অনেকটা চওড়া ও বড়সড় ছিল।

সেই সময়ে মাথার পিছনের অংশের সেরিবেলামের বৃদ্ধি ততটা হয় নি। সেরিব্রাম, সেরিবেলাম এই শব্দগুলি নতুন, পরিচিত হবার সময়ে চিত্র ৫ দেখুন।

চিত্র ৫ – সেরিব্রাম ও সেরিবেলাম

সাম্প্রতিককালে, দেখা যাচ্ছে যে, জীবিত মানুষের ইমেজিং ডেটা ব্যবহার করে, জ্ঞানীয় নমনীয়তা (কগনিটিভ ফ্লেক্সিবিলিটি), মনোযোগ, ভাষা প্রক্রিয়াকরণ, কার্যকরী স্মৃতিশক্তির ক্ষমতা ইত্যাদি দক্ষতাগুলি সেরিবেলার ভলিউমের সাথে ইতিবাচকভাবে সম্পর্কযুক্ত। সেরিবেলার হেমিস্ফিয়ারগুলি স্নায়ুসংক্রান্ত নিউরাল মডিউলগুলির সাথে সম্পর্কিত। তাই বড় সেরিবেলাম জ্ঞানীয় তথ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য অধিক ক্ষমতা ধারণ করতে পারে। সেরিবেলামের পার্থক্য দুটি প্রজাতির মধ্যে জ্ঞানীয় এবং সামাজিক ক্ষমতার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যের কারণ হতে পারে এবং প্রাথমিকভাবে ‘হোমো স্যাপিয়েন্স’ দ্বারা ‘নিয়ান্ডারথাল’দের প্রতিস্থাপনে ভূমিকা রাখতে পারে।

‘হোমো স্যাপিয়েন্স’ বা আধুনিক মানুষের সেরিবেলাম ‘নিয়ান্ডারথাল’দের থেকে তুলনামূলকভাবে বৃহত্তর ছিল। হলোসিন যুগে ক্রমবর্ধমান জটিল সাংস্কৃতিক কার্যকলাপ এবং পরিবেশের সাথে লড়াই করার জন্য গণনায় দক্ষতার প্রয়োজন হয়েছে। সেই সময়ে সেরিবেলাম ও সেরিব্রামের বিকাশ একই ভাবে হয়নি। আজকের আধুনিক মানুষের মধ্যে সেরিবেলাম ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেরিব্রাম নয়। পরিবর্তনের দিক পাল্টে গেছে।

অক্সিপিটাল লোব

তবে সেরিবেলার হেমিসফিয়ারের মধ্যে ‘নিয়ান্ডারথাল’দের অক্সিপিটাল লোব ছিল আধুনিক মানুষের থেকে অনেকটা বড়। এটি দৃষ্টি শক্তির সাথে যুক্ত।

‘নিয়ান্ডারথাল’দের চোখ ছিল বড়; খেয়াল রাখতে হবে ‘নিয়ান্ডারথাল’দের শরীর ছিল আধুনিক মানুষের থেকে বড়। ওদের উদ্ভব ইউরোপে, উচ্চ অক্ষাংশ, শীতপ্রধান অঞ্চলে, সেখানে আকাশে আলো ছিল তুলনায় কম।

অন্যদিকে আধুনিক মানুষের উদ্ভব আফ্রিকায় গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলে।

চিত্র ৬ – সেরিবেলাম ও অক্সিপিটাল লোব

তাই ‘নিয়ান্ডারথাল’দের অক্সিপিটাল লোব আধুনিক মানুষের থেকে অনেকটা বড় ছিল।

‘নিয়ান্ডারথাল’ ও আধুনিক মানুষের সমগ্র মস্তিষ্কের তুলনার থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তাদের মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের তুলনা।

স্বরযন্ত্রের অভিযোজন

এই সময়ে আধুনিক মানুষের স্বরযন্ত্রেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়। ভাষা আধুনিক মানুষের জ্ঞান, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির বিকাশের পূর্বশর্ত। সে যখন থেকে কথা বলতে শিখেছে, তখন থেকে নিজের গোষ্ঠীর মধ্যে সংবাদ আদান-প্রদান করতে পেরেছে। একের চিন্তায় অন্যদের প্রভাবিত করে জীবনযাত্রায় গুরুতর পরিবর্তনের সহায়ক হয়েছে।

স্পষ্টভাবে কথা বলার জন্য স্বরযন্ত্র ও মুখগহ্বরের বিকাশের ও সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন। অন্যান্য এপ জাতীয় পশুর মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য অনুপস্থিত। ‘নিয়ান্ডারথাল’দের মধ্যে সেই পরিবর্তন কি হয়েছিল?

চিত্র ৭ – গলনালী (ল্যারিংক্স), গলবিল (ফ্যারিংক্স)

আধুনিক মানুষের কন্ঠনালী বনমানুষদের থেকে ভিন্ন। শুধু স্বরযন্ত্র নয়, আধুনিক মানুষের স্বরযন্ত্র এবং মূর্ধার মধ্যে ফাঁক ক্ষুদ্র। এই ফাঁক যত কম থাকে ততো খাবার গলায় বিঁধে শ্বাসরোধ হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। বিনিময়ে মানুষের স্বরযন্ত্র এমনভাবে পরিবর্তিত হয়েছে যাতে কথা বলার সুবিধা হয়ে গেছে। মানুষের শ্বাস নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাও অন্য এপদের থেকে উন্নত। এককথায়, যদিও আধুনিক মানুষের খেতে গিয়ে বিষম খাবার ঝুঁকি বেশি, তবে কথা বলার জন্য এই স্বরযন্ত্র ও মূর্ধার নিয়ন্ত্রিত অবস্থান অত্যন্ত সুবিধাজনক। শিম্পাঞ্জির মস্তিষ্কের বেস (স্কাল বেস) অনেকটা সমান। ওদের গলনালী (ল্যারিনেক্স) কিছুটা উঁচুতে অবস্থিত। আধুনিক মানুষের মস্তিষ্কের বেস (স্কাল বেস) ধনুকের মত বক্র। আমাদের গলনালী (ল্যারিনেক্স) আছে নিচের দিকে। নিচে থাকবার জন্য গলবিল (ফ্যারিংক্স) অনেকটা বড় হতে পেরেছে। আর তার ফলে বিভিন্ন ধরণের শব্দ করা সহজতর হয়েছে (চিত্র ৭)।

কতদিন আগে এই অভিযোজন ও পরিবর্তন হয়েছে!

এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটির উত্তর অন্য মানব প্রজাতিগুলিও কথা বলতে শুরু করেছিলো কিনা এই প্রশ্নের সমাধান করে।

বিভিন্ন এপের ‘ভাষা পূর্ববর্তী’ ইঙ্গিত ও স্বরক্ষেপন ক্ষমতা ছিল। আর অন্তত চার লক্ষ বছর আগে থেকে বিভিন্ন মানব প্রজাতির জটিল কণ্ঠের অভিযোজন শুরু হয়েছে। হোমো হাইডেলবার্গেনসিস ও নিয়ান্ডারথালদের ফসিল থেকে এ কথা প্রমাণ করা যায় যে তাদের এই অভিযোজন শুরু হয়েছিল। নিয়ান্ডারথালদের ব্যাপারটা বেশ মজার। ওদের করোটির বেস ও ল্যারিংক্সের অবস্থান অন্যান্য এপের থেকে অনেক উন্নত, তবে হোমো স্যাপিয়েন্সের থেকে উঁচুতে অবস্থিত।। এ থেকে গবেষকরা অনুমান করেন নিয়ান্ডারথালদের এক ধরনের ভাষার উপস্থিতি হয়তো ছিল, তবে তা হয়তো খুব উন্নত ছিল না।

শারীরবৃত্তিয় বিজ্ঞান থেকে মনে হয় যে ধীরে ধীরে ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে এপ থেকে হোমো জেনাস ও পরবর্তীতে আধুনিক মানুষের স্বরযন্ত্র অভিযোজিত হয়েছে।

FOXP2 জিন

স্পষ্টভাবে কথা বলার জন্য আবশ্যক স্বরযন্ত্র ও মুখগহ্বরের বিকাশ এবং সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণ। অন্যান্য এপ জাতীয় পশুর মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য অনুপস্থিত।

কোন জিনের বিবর্তনের ফলে কি আধুনিক মানুষ কথা বলতে শিখেছিল? ২০০২ সালে এঁৱাদ, পাবো এবং তার সহকর্মীরা মনে করেছিলেন FOXP2 জিন মানুষের ভাষা ও কথা বলার মুখ্য বিবর্তনীয় কারণ। আধুনিক মানুষ যে অন্যান্যদের থেকে এগিয়ে গিয়ে কথা বলতে পারে, তার পিছনে কারণ হিসাবে প্রাথমিকভাবে ওদের গবেষণায় এই জিনটির দুটি পরিব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়। পরবর্তীকালে ওই জিনে পঞ্চাশ হাজার বছর আগের আরও একটি পরিব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। উপকারী এই পরিব্যক্তি স্বাভাবিক নিয়মেই দ্রুত জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

অবশ্য একেবারে সাম্প্রতিককালে নতুন গবেষণায় ব্যাপারটা এত সহজ সরল বলে মনে করা হচ্ছে না। তবুও এই জিন ভাষার বিকাশের সঙ্গে জড়িত রয়েছে এমন দিকনির্দেশ রয়ে গেছে।

ভাষা খুবই জটিল এক বিবর্তনের ফসল। FOXP2 জিন ইত্যাদি হয়তো এই বিরাট ধাঁধায় একটি গুরুত্বপূর্ণ খণ্ডচিত্র মাত্র। অধুনা লুপ্ত বিভিন্ন মানব প্রজাতির প্রাচীন ডিএনএ থেকে পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্স করে তাদের সঙ্গে আধুনিক মানুষের তুলনা করলে হয়তো এই ধাঁধার উত্তর পাওয়া যাবে। এই পথ সহজসাধ্য নয়।

প্রশ্ন থেকে যায়, ‘নিয়ান্ডারথাল’রা কি কথা বলতে পারত? আসলে তখন তো আর লিপি ছিল না; কথা তো বাতাস, ‘Words are wind’ – উড়ে চলে গেছে। ওরা জামা কাপড় পরত, গলায় মালা ঝুলিয়ে নিজের দিকে অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করত, ঈগলের নখ দিয়ে শিল্প তৈরি করত, সম্ভবত মৃত্যু-পরবর্তী কোন পারলৌকিক অবস্থানে বিশ্বাস করত। এত সব করত কোন বাকশক্তির সাহায্য ছাড়া, এ কি বিশ্বাস হয়? হয়তো ওরাও জটিল কণ্ঠস্বর নির্গত করতে ও অনুধাবন করতে সক্ষম ছিল। হয়তো তার সঙ্গে ব্যবহার করত কোন ভঙ্গি ভাষা।

আধুনিক মানুষ সেরিবেলামের বৃদ্ধির ফলে বৌদ্ধিক নমনীয়তা (কগনিটিভ ফ্লেক্সিবিলিটি), মনোযোগ, ভাষা প্রক্রিয়াকরণ, কার্যকরী স্মৃতিশক্তির ক্ষমতা ইত্যাদি দক্ষতাগুলিতে নিয়ান্ডারথালদের থেকে এগিয়ে ছিল, স্বরযন্ত্রের অভিযোজনের ফলে, স্বরযন্ত্র ও মুখগহ্বরের বিকাশের ও সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণের ফলে স্বরক্ষেপণ করতে পারত অধিক অনায়াসে। কোন জিনের মিউটেশনের ফলে সে কথা বলতে পেরেছে এমন কোন সহজসাধ্য প্রমাণ এখনই পাওয়া যায়নি।

তবে শারীরিক এই পরিবর্তনগুলি জমে জমে তাকে সাংস্কৃতিক বিকাশে সাহায্য করেছিল। সে কথা থাকবে পরের পর্বে।

তথ্যসূত্র

  1. Ralph L. Holloway, et.al., “The Human Fossil Record, Volume 3, Brain Endocasts–The Paleoneurological Evidence”, Biological Anthropology, General & Introductory Anthropology; Wiley, February 2005, p. 224.
  • Wolfgang Enard et al., “Molecular evolution of FOXP2, a gene involved in speech and language” Nature, 418, (2002), pp. 869–872.
  • EG Atkinson et al., “No Evidence for Recent Selection at FOXP2 among Diverse Human Populations” Cell, 174(6), Sep (2018), pp. 1424-1435.  
  • Eiluned Pearce, et.al., “New insights into differences in brain organization between Neanderthals and anatomically modern humans” in ‘Proceedings of the Royal Society B’. 280: 20130168, 07 May, 2013.
  • মধুশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়, ‘প্রাগিতিহাস, ভারতবর্ষে পরিযান ও জাতিগোষ্ঠী গঠন,’ গাঙচিল, ২০২১।
  • Fran, Dorey, “How do we know if they could speak?”, Australian Museum.
  • Colin Barras, “How did Neanderthals and other ancient humans learn to count?” NEWS FEATURE, Nature, 02 June 2021.
  1. David Reich, “Who We Are and How We Got Here,” Oxford University Press, South Asia Edition, 2019.
  1. Richard Klein, with Blake Edgar, “The Dawn of Human Culture,” John Wiley & Sons, 2002.
  1. Marcel J. L. Th. Niekus, et.al, “Middle Paleolithic complex technology and a Neandertal tar-backed tool from the Dutch North Sea”, ‘Proceedings of the National Academy of Sciences’, Vol. 116, No. 44, October 29, 2019, pp. 22081-22087.
লেখিকা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনীয়ারিং বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপিকা। প্রাবন্ধিক।

মন্তব্য তালিকা - “প্রাগৈতিহাসিক মানুষের সভ্যতার উত্থান – পর্ব ২”