সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

সাক্ষ্যনির্ভর চিকিৎসার ইতিহাস (চতুর্থ এবং শেষ অধ্যায়)

সাক্ষ্যনির্ভর চিকিৎসার ইতিহাস (চতুর্থ এবং শেষ অধ্যায়)

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০ ২৬৭

পূর্ববর্তী অধ্যায়ের লিংক: সাক্ষ্যনির্ভর চিকিৎসার ইতিহাস (তৃতীয় অধ্যায়)

ম্যাচো ম্যানস সিগারেট বনাম স্যার হিল স্যার ডল

ওয়েন ম্যাকলারেন, ৫২ বছর। মৃত্যুর কারণ ফুসফুসের ক্যানসার।

এরিক লসন, ৭২বছর। মৃত্যুর কারণ ফুসফুসের ক্রনিক রোগ।

ডেভিড ম্যাকলীন, ৭৩ বছর। মৃত্যুর কারণ ফুসফুসের ক্রনিক রোগ ও ফুসফুসের ক্যানসার।

একটি আমেরিকান সিগারেট কোম্পানি ১৯২৪ সালে মহিলাদের জন্য একটি সিগারেট ব্র্যান্ড বাজারে ছাড়ে। সেটি বিশেষ চলছিল না। ত্রিশ বছর পরে বিজ্ঞাপনের আমূল পরিবর্তনের ধাক্কায় ঐ সিগারেটটিই হল পরম পুরুষালী, মাচো ম্যানের হাতে উঠল সেই পৌরুষপূর্ণ ভোগ্য। ১৯৫৫ থেকে ১৯৫৭ দুবছরের মধ্যে ঐ ব্র্যান্ডের সিগারেটের বিক্রি বেড়ে হল চারগুণ ৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার।

সিগারেটের নতুন বিজ্ঞাপনে স্মোকারদের ম্যাচোম্যান ইমেজ তৈরি হল। এল নতুন নতুন মুখ। যথা ডেভিড ম্যাকলীন, এরিক লসন, ওয়েন ম্যাকলারেন। দ্য কাউবয় হিরো। এই তিনটে নাম লেখার প্রথমেই দিয়েছি।

সিগারেটের হিরো। সিগারেটের শিকারও। আজ আমরা জানি যে রোগে এরা মারা যান সেই রোগগুলো সবই সিগারেট খেয়ে হয়। কিন্তু বৈজ্ঞানিক সত্য আদালতমান্য হতে গেলে অনেকগুলো ধাপ পেরিয়ে আসতে হয়। তাই ডেভিড ম্যাকলীন ফুসফুসের ক্যান্সারে মারা যাবার পরে তাঁর বিধবা স্ত্রী সিগারেট কোম্পানির বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়ার আদালতে মামলা করেন, কিন্তু হেরে যান। সিগারেট থেকে ঐ রোগ হয়েছে, বা বিজ্ঞাপনে সিগারেট ফুঁকতে বাধ্য হবার জন্য রোগ এসব মানেনি ক্যালিফোর্নিয়া কোর্ট। 

১৯৯০ তে ফুসফুসে ক্যানসার ধরা পড়ার পরে ওয়েন ম্যাকলারেন ধূমপান বিরোধী প্রচারে নামলেন। একটি বিখ্যাত ছবিতে একই ফ্রেমে পাশাপাশি রয়েছেন সিগারেটের বিজ্ঞাপনে উজ্জ্বল ম্যাকলারেন আর বিছানায় মৃত্যুর কাছাকাছি ম্যাকলারেন অ্যান্টিস্মোকিং প্রচারের জন্য তোলা ছবি।

শেষ পর্যন্ত সিগারেট কোম্পানিকে কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছিল। কেন দিতে হল তাই নিয়েই এখানে ইতিহাসের কথা।

স্যার অস্টিন ব্র্যাডফোর্ড হিল এবং স্যার রিচার্ড ডল। রিচার্ড ডল গণিতবিদ হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু কেম্ব্রিজের এন্ট্রান্স পরীক্ষায় আটকে যান, ভর্তি হন ডাক্তারি পড়তে। মেধাবী চিকিৎসাবিজ্ঞান গবেষক। আর ব্র্যাডফোর্ড হিল হতে চেয়েছিলেন ডাক্তার, কিন্তু ছোটবেলায় টিবি রোগের কারণে ভগ্নস্বাস্থ্য, ডাক্তারির চাপ সইবেনা, তাই হয়েছিলেন গণিতবিদ। ১৯৪০ সাল নাগাদ গণিতবিদ হয়েও হিল ডাক্তারি নিয়ে অনেক গবেষণা করেন। টিবিতে ওষুধের ভূমিকা, আর্সেনিক নিয়ে কাজ করলে ক্যানসার হয় কিনা এই সব গবেষণা। এরকম সময়ে হিল সাহেবের নজর পড়ল ফুসফুসের ক্যান্সার রোগটার ওপরে। রোগটা তার আগের দুই দশকে ছয়গুণ বেড়ে গেছে! কিন্তু কেন বেড়েছে কেউ জানেনা।

চিত্র ৬: স্যার অস্টিন ব্র্যাডফোর্ড হিল  (চিত্রঋণ উইকিপিডিয়া)

হিল বললেন ডল সাহেবকে, আরে, দেশের হল কী? ফুসফুসের ক্যান্সার হঠাৎ এত বাড়ল কেন? দুজনে মিলে মাথা ঘামিয়ে বের করলেন মোটর গাড়ির দূষণের সঙ্গে বা ধূমপানের সঙ্গে এর একটা সম্পর্ক থাকতে পারে। কিন্তু সম্পর্ক থাকতে পারে বললেইতো হবে না, বৈজ্ঞানিক প্রমাণ কোথায়? এর জন্যতো ওষুধের কার্যকারিতা প্রমাণের মতো কোনো রান্ডমাইজড কন্ট্রোলড ট্রায়াল বা আরসিটি করা যাবেনা। (পাদটীকা ৪)

চিত্র ৭: স্যার রিচার্ড ডল। (চিত্রঋণ উইকিপিডিয়া)

হিল সাহেবের প্রথমে মনে হয়েছিল, মোটর গাড়ির দূষণের সঙ্গে ফুসফুসের ক্যান্সারের সম্পর্ক বেশি ঘনিষ্ঠ। কিন্তু মোটর গাড়ির দূষণদ্বারা কে কতটা আক্রান্ত হচ্ছেন সেটা কী ভাবে মাপা যাবে? কে ধূমপায়ী আর কে ধূমপায়ী নন, সেটা চিনতে কিন্তু কোনো অসুবিধা নেই। তাই ধূমপানের সঙ্গে ফুসফুসে ক্যান্সারের সম্পর্ক আছে কিনা সেটা দেখাটাই তাঁরা প্রথম কর্তব্য স্থির করলেন।

ধূমপানের সঙ্গে ফুসফুসে ক্যান্সারের সম্পর্ক ধরার কাজে যে সমীক্ষা করতে হবে তার জন্য চাই বড় দুটো গ্রুপ – যাদের একদল ধূমপান করে, আরেক দল ধূমপান করে না। দুই দলে অনেক মানুষ চাই, যাদের জীবন যাত্রা অন্য সব বিষয়ে একই রকম, তফাৎ কেবল এই ধূমপানের ব্যাপারটায়। তাদের কয়েক বছর ধরে নিয়মিত নজরদারিতে রাখতে হবে, সমস্ত শারীরিক সমস্যার খবর লিপিবদ্ধ করে বিশ্লেষণ করতে হবে। যদি দেখা যায় ধূমপান করা মানুষদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সারের হার সত্যিই বেশি, তাহলে বুঝতে হবে ধূমপান সম্ভবত দায়ী। এই ধরনের সমীক্ষা হল কয়েক বছর ধরে চলা এক রাজসূয় যজ্ঞবিশেষ এর টেকনিকাল নাম প্রস্পেকটিভ কোহর্ট স্টাডি আমাদের দেশ হলে এমন সমীক্ষা আদৌ করা সম্ভব হত কিনা সন্দেহ, কারণ আমাদের দেশে এখনও মেডিকেল নথী কেন্দ্রীয়ভাবে ঠিক মতো রাখার ব্যবস্থা তেমন নেই।

এমন নথী ওদেশে, মানে ব্রিটেনেও বিরল। কিন্তু হিল অনেক ভেবে চিন্তে দেখলেন, ব্রিটেনের ডাক্তাররাইতো রয়েছেন। ১৯৫১ সালে ব্রিটেনে ত্রিশ হাজার ডাক্তারকে নিয়ে পঞ্চাশ বছর ধরে সমীক্ষা চালানোর ছক কষে ফেললেন তাঁরা। ডাক্তারদের দুটো দলে ভাগ করলেন একদল ধূমপান করেন, আরেক দল করেন না। ডাক্তার ধূমপায়ীরা ঝুঁকি থাকতেও পারে সেটা জেনে স্মোক করেন, চটকরে তা ছাড়বেন না। আর যাঁরা ধূমপায়ী নন তাঁদের মাঝবয়সে ধূমপান শুরু করার সম্ভাবনা কম। ডাক্তারদের একবার এই সমীক্ষাতে রাজি করাতে পারলে তাঁরা নিজেদের ইচ্ছাতেই শেষ পর্যন্ত থাকবেন, কারণ ফুসফুস ক্যান্সার বাড়ার কারণ জানা তাঁদের পেশার জন্য দরকার। এছাড়াও ব্রিটিশ ডাক্তারদের মধ্যে রোজগার, জীবনযাত্রা ইত্যাদির খানিকটা সাম্য আছেএরকম হতে পারেনা যে যাঁরা ধূমপান করেন তাঁরা বেশি কৃমি বা অপুষ্টিতে ভোগেন। অর্থাৎ এঁদের মধ্যে ধূমপান ও ক্যান্সারের যোগসূত্র থাকলে তা অন্য কোনো অজ্ঞাত তৃতীয় বিষয়ের জন্য হবার কথা নয়। (তথ্যসূত্র২)

পঞ্চাশ বছর ধরে সমীক্ষা চলবে এমন কথা ছিল। তার মানে সমীক্ষার ফল প্রকাশ হবার কথা ছিল ২০০০ সাল নাগাদ। কিন্তু প্রথম বছরেই ফলাফল এতো ইউল্লেখযোগ্য যে ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে প্রাথমিক রিপোর্ট ছাপা হল। তিন বছরের মধ্যেই সমীক্ষায় খুব নির্দিষ্ট ফলাফল আসতে শুরু করল। ত্রিশ হাজার ডাক্তারের মধ্যে ৩৭ জন তিন বছরে ফুসফুসের ক্যান্সারে মারা যান, আর তাঁদের প্রত্যেকেই ধূমপায়ী। শুধু তাই নয়, ধূমপান হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে দেয় এটাও প্রমাণিত হয়ে গেল। (প্রাথমিক রিপোর্ট তথ্যসূত্র ৭)

সিগারেট ইন্ডাস্ট্রি নানারকম পদ্ধতির ফাঁক ফোকর খুঁজে বের করার চেষ্টা করে। হাজার হোক, বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যবসা। ব্রিটিশ ডাক্তাররা নিজেরা এই সমীক্ষার গিনিপিগ ছিলেন। তাঁরা একেবারে প্রথম থেকেই সমীক্ষার পদ্ধতি সম্পর্কে নিশ্চিত ছিলেন। তাই সিগারেট ইন্ডাস্ট্রি যখন আইনি কচকচানি করছে তখন ব্রিটিশ চিকিৎসকেরা সিগারেটের বিরুদ্ধে বলতে শুরু করলেন।

এরমধ্যে ১৯৫৪ সালে এক লক্ষ নব্বই হাজার আমেরিকান নাগরিকদের নিয়ে আরেকটি সমীক্ষার ফল প্রকাশিত হল, তাঁর ফলাফল ব্রিটিশ ডক্টরসসার্ভের অনুরূপ (পাদটীকা ৫)। কীভাবে ধূমপান থেকে ক্যান্সার হতে পারে তার সম্ভাব্য উত্তরও দ্রুত মিলতে শুরু করল। পরীক্ষাগারে তামাকের ধোঁয়া থেকে পাওয়া আলকাতরার মতো জিনিসটি ইঁদুরের চামড়ায় লাগালে সেখানে ক্যান্সার হতে দেখাগেল। আবার হার্ট অ্যাটাক, ক্যান্সার, ফুসফুসের অন্যান্য রোগ মিলিয়ে মোট মৃত্যুর হার হিসেব করে দেখা গেল, আমেরিকাইউরোপের ৩৯ বছর থেকে ৬৯ বছর বয়সী মানুষদের মধ্যে অধূমপায়ীদের মৃত্যুহার বেশ কম। মোটামুটি শতকরা ১৫ জন অধূমপায়ী মানুষ এই বয়সে মারা যান, অথচ শতকরা ৪৩ জন ধূমপায়ী এই বয়সে মারা যান। অর্থাৎ শতকরা ২৮ জনের মৃত্যুর পেছনে ধূমপানের অবদান থাকার যথেষ্ট সম্ভাবনা। 

ব্র্যাডফোর্ড হিল এবং রিচার্ড ডল চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রথম প্রস্পেকটিভ কোহর্ট স্টাডি করলেন, এমন নয়। এর আগেও এরকম সমীক্ষা হয়েছিল। কিন্তু এ ধরনের সমীক্ষার মধ্যে এটি সবথেকে নাড়া দেবার মতো ঘটনা। খুব দ্রুত পাশ্চাত্যের নানাদেশে ধূমপান ও তামাক বিরোধী আইনগুলো এল।

দুঃখের বিষয় এর ফলে সিগারেট কোম্পানিগুলো আরও বেশি করে ঝাঁপিয়ে পড়ল আমাদের মতো দেশগুলোর ওপর, যেখানে আইন প্রণয়ন হল দেরীতে, আর আইনের প্রয়োগ হল আরও আলগা ভাবে – আমাদের দেশ এখন তামাকজনিত ক্যান্সারে বিশ্বে শীর্ষের দিকে। (তথ্যসূত্র ৮)

পাদটীকা

(১) প্রকৃতপক্ষে একটি নয়, দুটি প্রায় একই রকম পরীক্ষা হয়েছিল। প্রথমটি ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটন স্কুল অফ মেডিসিন, ইউএসএ—তার ফলাফল জার্নালে প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ সালে (তথ্যসূত্র ১ দেখুন)। দ্বিতীয়টি ইউনিভার্সিটি অফ কানসাস মেডিক্যাল সেন্টার, ইউএসএ, এটির ফল প্রকাশ হয় ১৯৬০ সালে (তথ্যসূত্র ২ দেখুন)।

() ‘র‍্যান্ডম’-ভাবে কথাটার এমনিতে বাংলা হল ‘এলোমেলোভাবে’, কিন্তু পরিসংখ্যানশাস্ত্রে ‘র‍্যান্ডম’-ভাবে কথাটার একটা বিশেষ পারিভাষিক অর্থ আছে। ‘র‍্যান্ডম’-ভাবে একদল রোগীকে দুটো আলাদা দলে ভাগ করার মানে হল, কোনও একজন বিশেষ রোগীর দু’দলের কোনো একটিতে যাবার সম্ভাবনা সমান। এতে সুবিধা হচ্ছে যে পরীক্ষকদের কোনও দলের ওপর যদি পক্ষপাত থাকেও, দুই দলে রোগীরা এমনভাবে ভাগ হয়ে যাবেন যে একদলে অপেক্ষাকৃত খারাপ রোগী আর অন্য দলে তুলনায় ভাল রোগী—সে রকম হবার সম্ভাবনা খুব কম। ‘র‍্যান্ডম’-ভাবে ভাগ করার ফলে দু’দলের সদস্যরা ছিলেন মোটামুটি একই বয়সী, এবং তাঁদের রোগ ছিল একই রকমের তীব্র।

() একেই বলে ‘দুই অন্ধ’ পদ্ধতি। পুরো পরীক্ষার নাম দাঁড়াল, ‘ডাবল ব্লাইন্ড র‍্যান্ডমাইজড প্লাসিবো কন্ট্রোলড ট্রায়াল’; সংক্ষেপে একে এখন র‍্যান্ডমাইজড কন্ট্রোলড ট্রায়াল বা আরসিটি বলে।

 (৪) ওষুধ কাজ করে কিনা সেটা জানার জন্য রোগীদের দুটো দলে ভাগ করে, তাদের একদলের ওপর ওষুধ প্রয়োগ করে আর অন্যদলের ওপর ওষুধের মতো কিন্তু আসলে অকেজো জিনিস দিয়ে, কিছুদিন পরে তুলনা করা যায়। যদি ওষুধ পাওয়া রোগীরা অকেজো জিনিস পাওয়া রোগীদের চাইতে গড়ে বেশি উপকৃত হয় তাহলে বুঝতে হবে ওষুধটা ঐরোগে কাজের। নইলে বুঝতে হবে ঐ রোগের জন্য ওটা ওষুধ নামের যোগ্য নয়। একে বলে র‍্যান্ডমাইজড কন্ট্রোলড ট্রায়ালসংক্ষেপে আরসিটি।

(৫) স্যার হিল ও স্যার ডলএর সমীক্ষাটিব্রিটিশডক্টরসসার্ভেবলে আধুনিক চিকিৎসা শাস্ত্রে বিখ্যাত। জার্নাল অফ আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনর ইতিহাসে এই সমীক্ষাটি একটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইল ফলক বলে স্বীকৃত।

তথ্যসূত্র

১। How the British defeated Napoleon with citrus fruit. Andrew George. The Conversation. May 19, 2016 https://theconversation.com/how-the-british-defeated-napoleon-with-citrus-fruit-58826

২। Trick or Treatment: Alternative Medicine on Trial. Simon Singh & Edzard Ernst. Corgi Books, 2009.

৩। How Wars Are Won: The 13 Rules of War from Ancient Greece to the War on Terror. Bevin Alexander. Crown Publishers, 2002

৪। Snake Oil Science: The Truth About Complementary and Alternative Medicine. R. Barker Bausell. Oxford University Press; 2009

৫। Cobb, L. A., Thomas, G. I., Dillard, D. H., Merendino, K. A., & Bruce, R. A. (1959). An Evaluation of Internal-Mammary-Artery Ligation by a Double-Blind Technic. New England Journal of Medicine, 260(22), 1115–1118. (https://scihub.wikicn.top/https://doi.org/10.1056/nejm195905282602204, accessed on 25 June 2020)

৬। Dimond, E. G., Kittle, C. F., & Crockett, J. E. (1960). Comparison of internal mammary artery ligation and sham operation for angina pectoris. The American Journal of Cardiology, 5(4), 483–486. 
(https://scihub.wikicn.top/https://doi.org/10.1016/0002-9149(60)90105-3, accessed on 25 June 2020)

৭। Smoking and Carcinoma of the Lung. Richard Doll and A. Bradford Hill. Bristish Medical Journal. 1950 Sep 30; 2(4682): 739–748. https://www.bmj.com/content/2/4682/739 accessed on 28 June 2020

৮। India Against Cancer পোর্টাল http://cancerindia.org.in/tobacco-related-cancer/  accessed on 28 June 2020.

মন্তব্য তালিকা - “সাক্ষ্যনির্ভর চিকিৎসার ইতিহাস (চতুর্থ এবং শেষ অধ্যায়)”

  1. ধূমপান বা হুঁকোয় তামাক সেবন, আমাদের দেশে অনেক পুরাতন অভ্যাস। এখনকার মতো আকছার ক্যান্সার রোগীর কথা জানা গেছে এমন তো চোখে পড়েনি। কেন? প্রশ্নটা র‌ইলো আপনার কাছে। লেখাটি একসাথে পড়লাম। বাংলায় এরকম মূল্যবান লেখা সচরাচর চোখে পড়ে না। আমার খুবই ভালো লাগলো। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

  2. চারটে পর্বই চিত্তাকর্ষক।
    পড়তে পড়তে অনেক কথাই মনে আসছিল। পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্যে দিয়ে সত্যে পৌঁছানো, এটা শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞান নয়, আমাদের জীবনের ও সমাজ রাষ্ট্রের নানা ক্ষেত্রে কাজে লাগালে কতই না ভালো হত।
    যেমন এমন সমীক্ষা যদি করা হত যে একই সুযোগ সুবিধাপ্রাপ্ত শ্রেণির, মেধার, বুদ্ধিবৃত্তির ছাত্রছাত্রীদের একদলকে মাতৃভাষায় ও একদলকে বিদেশী (ধরা যাক আমাদের ক্ষেত্রে ইংরাজীতে) ভাষায় পড়ানো হল সমমানের বইপত্র ও অন্যান্য রেফারেন্স দিয়ে। তারপর কোন দলটি থেকে বেশি সাবলীল, শিক্ষিত, মৌলিক চিন্তাক্ষমরা উঠে এল তা পরীক্ষা করে দেখা হল।
    এরকম নানা রকম সমীক্ষা করে করে এগোতে পারলে অনেক সত্য সামনে উঠে আসে। তবে সত্যটা সামনে থাকলেই যে সবাই সেটাকে গ্রহণ করবেন এমন নয়। সেটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। সত্যের পাশাপাশি আছে কায়েমি স্বার্থ। যেমন সিগারেট কোম্পানির। আবার অদ্ভুত চয়েসের প্রশ্নও আছে। যেমন সিগারেট খেলে ক্ষতি হয় এটা জেনেও অসংখ্য মানুষ সেটা খান।
    তবে সিগারেট নিয়ে প্রচারের ফলে আজকের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সিগারেট খাবার হার আগের চেয়ে অনেক অনেক কম বলেই মনে হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।