সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

ওপেনহেইমার ও গীতা

ওপেনহেইমার ও গীতা

সহস্রলোচন শর্মা

আগস্ট ৫, ২০২৩ ১১৫৮ 14

গুরু

১৯০৫ সালে ইউএসএ-র হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয় প্রাচীন ভারতের খ্যাতনামা নাট্যকার শূদ্রকের মৃচ্ছকটিক নাটকের ইংরাজি অনুবাদ ‘দ্য লিটল ক্লে কার্ট’। ‘হার্ভার্ড ওরিয়েন্টাল সিরিজ’-এর অধীনে তখন দু’ এক বছর ছাড়া ছাড়াই প্রকাশিত হতো সংস্কৃত, পালি প্রভৃতি ভাষায় লিখিত বিভিন্ন পুস্তকের ইংরাজি অনুবাদ। আর সে বইগুলো যথেষ্টই সমাদর লাভ করত সুধীসমাজে। কিন্তু এবারের মৃচ্ছকটিকের অনুবাদটা যেন সাড়া ফেলে দিয়েছে পাঠক মহলে। নাটকটা অনুবাদ করেছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত ভাষার ইনস্ট্রাকটর আর্থার উইলিয়াম রাইডার। রাইডারের কাজে মুগ্ধ পণ্ডিত মহল। এক লহমায় পাদপ্রদীপের আলোয় চলে আসেন রাইডার. আর সেই সূত্রেই, সুদূর পশ্চিম প্রান্তের বার্কলে শহরের ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফর্নিয়া থেকে অধ্যাপনার ডাক পেলেন। সেই প্রস্তাব গ্রহণ করলেন রাইডার। ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফর্নিয়াতে অবশ্য পৃথক কোনও সংস্কৃত ডিপার্টমেন্ট ছিল না তখনও পর্যন্ত। ১৮৯৭ সাল থেকে ‘সাউথ এশিয়ান সাডিজ’ ডিপার্টমেন্টের অধীনে সংস্কৃত ভাষা চর্চা করা হতো তখন। ১৯০৬ সালে ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফর্নিয়াতে যোগদান করেন রাইডার। সেই বছর থেকেই সংস্কৃত ভাষাকে স্বতন্ত্র এক ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করে, সেই ডিপার্টমেন্টের সমস্ত দায়ভার রাইডারের হাতে ন্যস্ত করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আমৃত্যু রাইডারই ছিলেন এই বিভাগের একমাত্র ও সর্বময় কর্তা। আর ছাত্র সংখ্যা? ভারতেই যেখানে সংস্কৃত পাঠ লুপ্ত হওয়ার মুখে সেখানে সুদূর ইউএসএতে আর ক’জন ছাত্র সংস্কৃত পড়তে আসবেন? ছাত্র বলতে ছিল ওই হাতে গোনা দুই বা তিন জন। এই দু’ তিন জন ছাত্রকেই তাঁর সর্বোচ্চ জ্ঞান দিয়েই পাঠ দান করতেন রাইডার। কারণ, এই পাঠ দান ছিল তাঁর কর্তব্য। তবে রাইডারের দুর্নিবার আকর্ষণ ছিল সংস্কৃত সাহিত্যের দুর্লভ গ্রন্থরাজির সন্ধান করা আর সেই গ্রন্থকে ইংরাজি ভাষায় অনুবাদ করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদানের পাশাপাশি রাইডার তাই একমনে তখন পড়ে চলেছেন সংস্কৃত সাহিত্য। আর সেই সমস্ত গ্রন্থগুলোকে একে একে ইংরাজি ভাষায় অনুবাদ করে চলেছেন। দু’ এক বছর ছাড়া ছাড়াই প্রকাশিত হতে থাকল মূল সংস্কৃত থেকে অনুবাদ করা রাইডারের বই অভিজ্ঞান শকুন্তলা (১৯১২), হিতোপদেশ (১৯১৭) পঞ্চতন্ত্র (১৯২৫), ভগবত গীতা (১৯২৯) ইত্যাদি, ইত্যাদি। রাইডারের কাজে মুগ্ধ পণ্ডিতজন। তাঁর নীরব সাধনা বিদ্বৎ সমাজের সম্ভ্রম আদায় করে নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌহদ্দির বাইরে, আমজনতার চোখেও রাইডার তখন এক সাধক-অধ্যাপকের প্রতিমূর্তি। 

আর্থার উইলিয়াম রাইডার

শিষ্য

১৯২৯ সাল, জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব গটিঙয়েন থেকে পিএইচডি লাভ করে তখন সদ্য দেশে ফিরেছেন তরুণ পদার্থবিদ জুলিয়াস রবার্ট ওপেনহেইমার। চার বছর ধরে ইউরোপে অধ্যয়ন কালে খ্যাতনামা পদার্থবিদের সান্নিধ্য পেয়েছেন তিনি। কে নেই তাঁর সেই পরিচিতির তালিকায়? রয়েছেন ব্রিটিশ পদার্থবিদ আর্নেস্ট রাদারফোর্ড ও পল ডির‍্যাক, ড্যানিশ পদার্থবিদ নিলস বোর, অস্ট্রিয় পদার্থবিদ এরভিন শ্রোডিঙার ও ভোলফগ্যাঙ পাউলি, জার্মান তাত্ত্বিক পদার্থবিদ ওয়ার্নার হেইসেনবার্গ ও ম্যাক্স বর্ন। তাছাড়াও তিনি পরিচিত হয়েছেন ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক, আইনস্টাইন প্রমুখ বিজ্ঞানীদের কর্মকাণ্ডের সাথে। ফলশ্রুতিতে দেশে ফেরা মাত্রই একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অধ্যাপনার ডাক পান ওপেনহেইমার। অনেক বাছ বিচার করে শেষ পর্যন্ত বার্কলে শহরের ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফর্নিয়াতে অধ্যাপনার কথা বিবেচনা করলেন তিনি।

ওপেনহেইমার তখন সদ্য যোগ দিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফর্নিয়াতে। ঠিক সেই বছরই প্রকাশিত হলো রাইডারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ ভগবত গীতার ইংরাজি অনুবাদ। এমনিতেই রাইডারের কর্মকাণ্ড সম্ভ্রম আদায় করে নিয়েছিল পণ্ডিতমহলের। এবার গীতার অনুবাদ যেন খাতির চূড়ায় নিয়ে গেল তাঁকে। এমন এক অসামান্য সাধকের সাথে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন ওপেনহেইমারও। বারকয়েক সামনা সামনি দেখাও হয়েছে তাঁদের মধ্যে। কিন্তু সেভাবে কোনও কথাবার্তা হয়ে উঠে নি তখনও পর্যন্ত। যতদিন যায় অধ্যাপক রাইডার এবং তাঁর কর্মকাণ্ডের প্রতি ততই আগ্রহান্বিত হয়ে পড়েন ওপেনহেইমার। এমনিতে কোনও ধর্মের প্রতি কোনও দূর্বলতা নেই তাঁর। তিনি একজন নাস্তিক। ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন না বটে তবে প্রাচীন ইতিহাস, দর্শন, এমনকি ধর্মীয় মতবাদ সমূহকে জানতে কোনও কুণ্ঠা বোধ করেননা তিনি। পদার্থবিজ্ঞানের পাশাপাশি এই সমস্ত বিষয়েও তাই বিশেষ আগ্রহ ছিল তাঁর। আর তাঁর সেই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুই ছিল প্রাচীন ভারত ও তার সাহিত্য। ঘটনাক্রমে আজ তাঁর সহকর্মী স্বনামধন্য অধ্যাপক আর্থার উইলিয়াম রাইডার। রাইডারকে দেখার পর সংস্কৃত সাহিত্য পড়ার আগ্রহ যেন ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠতে থাকল ওপেনহেইমারের মনে। একদিন তো রাইডারকে হুট করে বলেই বসলেন, আপনার কাছে সংস্কৃত ভাষার পাঠ নিতে চাই আমি। পড়তে চাই গীতা।

জুলিয়াস রবার্ট ওপেনহেইমার

ওপেনহেইমারের কথা শুনে তো রাইডার অবাক! পদার্থবিদ হিসেবে ওপেনহেইমারের পরিচিতি তখন ঊর্ধমুখী। এহেন খ্যাতনামা পদার্থবিজ্ঞানী বলেন কিনা সংস্কৃত শিখতে চান! পড়তে চান গীতা! হাসতে হাসতে বিষয়টাকে এড়িয়ে গিয়ে রাইডার বলেন, “আচ্ছা, আচ্ছা, সে হবে ক্ষণ”।

তাহলে আপনার আজকের ক্লাসেই কিন্তু উপস্থিত হচ্ছি আমি, বলে উঠেন ওপেনহেইমার।

আজকের ক্লাসেই?! আমতা আমতা করে রাইডার বলেন, “আচ্ছা … বেশ … আসুন”।

সেদিনে নিজের সংস্কৃত ক্লাসে ঢুকে রাইডার দেখেন, গোটা দুই ছাত্রের মাঝে তাঁর পাঠ গ্রহণের জন্য বেঞ্চে বসে আছেন বিখ্যাত পদার্থবিদ জুলিয়াস রবার্ট ওপেনহেইমার! সেটা ১৯৩৩ সাল। সেই থেকে নিয়মিত রাইডারের ক্লাসে বসে সংস্কৃত ভাষার পাঠ নিয়েছেন ওপেনহেইমার। পাঠ নিয়েছেন গীতার। কখনও কখনও এমনও হয়েছে যে নিজের কর্মব্যস্ততার চাপে রাইডারের ক্লাসে আর উপস্থিত হতে পারেননি ওপি (পরিচিতরা তাঁকে ‘ওপি’ নামেই ডাকতেন)। কিন্তু সেই ক্লাসের পড়া ঠিক পুষিয়ে নিতেন তিনি। পরে সময় বার করে, সোজা গিয়ে হাজির হতেন রাইডারের বাড়ি। সেখানে গিয়ে আগের ক্লাসের পড়াগুলো আদায় করে নিতেন ওপি। ওপেনহেইমারের আগ্রহ দেখে বেজায় বিস্মিত ও তুষ্ট হয়েছিলেন রাইডার। বিপরীতে রাইডারের মতো শিক্ষক পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করতেন ওপি। তাঁর শিক্ষক প্রসঙ্গে পরে ওপি লিখেছেন “তাঁর অনুভব, চিন্তাভাবনা, বাচনভঙ্গি ছিল ঋষিতুল্য …জীবনটাকে তিনি বিষাদ সিন্ধু হিসেবে ব্যাখ্যা করতেন। …তিনি বলতেন, যে মানুষ কঠিন কাজও সমভাবে নির্বাপিত করেন তিনি সম্মানের উপযুক্ত বলেই বিবেচিত হন”। ওপির জীবনে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল রাইডার ও তাঁর গীতা। প্রায়শই বন্ধুবান্ধবদের রাইডার অনূদিত গীতা উপহার দিতেন ওপি। তাঁর কাজের টেবিলে সব সময়ে একখানা গীতা থাকত বলে অনেকেই জানিয়েছেন। মাঝে সাঝে রাইডারের গীতা থেকে ইংরাজি শ্লোক আওড়াতে শোনা যেত ওপিকে। সেই শ্লোকের অর্থ সবটা বুঝতে পারতেন না তাঁর বন্ধুরা। তবে এটুকু তাঁরা বুঝতেন যে গীতাটা ভালোভাবেই রপ্ত করেছেন ওপি।

সাধনা

অক্টোবর ১৯৩৯, সদ্য শুরু হওয়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জেরে তখন প্রচণ্ড ব্যস্ততার মধ্যে দিন কাটছে ইউএসএ-র প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্টের। হিটলারের নেতৃত্বাধীন জার্মান শক্তির সামনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে গোটা ইউরোপ। ইউএসএর গায়েও এই যুদ্ধের আঁচ পড়তে আর বেশি দেরি নেই। এমন সময়ে, ১১ অক্টোবর ১৯৩৯, প্রেসিডেন্টের কাছে এসে পৌঁছল এক পত্র। পত্রলেখক বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন। সম্ভাব্য পারমাণবিক বোমা প্রস্তুতি বিষয়ে পত্র মারফৎ প্রেসিডেন্টকে অবগত করেছেন আইনস্টাইন। তিনি লিখেছেন, ”Some recent work by E. Fermi and L. Szilard, which has been communicated to me in manuscript, leads me to expect that the element uranium may be turned into a new and important source of energy in the immediate future. …This new phenomenon would also lead to the construction of bombs, …extremely powerful bombs …destroy the whole port together with some of the surrounding territory. …”

পারমাণবিক বোমা নিয়ে গোপনে গবেষণা করে বেশ কিছুটা অগ্রসর হয়েছে জার্মানরা, এমন একটা খবর প্রেসিডেন্টের কানে এসেও পৌঁছেছে। এই দেশের কিছু পদার্থবিদও বেশ কিছুদিন ধরে পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছেন বটে, তবে বিষয়টাকে এতদিন পর্যন্ত তেমন ভাবে আমল দেননি তিনি। এখন আইনস্টাইনের পত্র পাওয়ার পর আর এক মুহূর্তও দেরি করলেন না প্রেসিডেন্ট। পাশের ঘর থেকে সেক্রেটারিকে ডেকে আইনস্টাইনের চিঠিটা হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন, “This requires action”। ২১ অক্টোবর ১৯৩৯, পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব কি না, সেই বিষয়ে সবিস্তারে তদন্ত করে দেখার জন্য ‘অ্যাডভাইসরি কমিটি অন ইউরেনিয়াম’ গঠন করেন প্রেসিডেন্ট। কয়েক মাসের মধ্যেই আইনস্টাইনের অনুকূলে রায় দান করে কমিটি। ব্যাস, অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে শুরু হয়ে গেল পারমাণবিক বোমা প্রস্তুতির পরীক্ষা নিরীক্ষা। বছর দু’য়েক ধরে বিস্তারিত পরীক্ষা নিরীক্ষার পর বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হলেন পারমাণবিক বোমা বানানো সম্ভব। প্রেসিডেন্ট অনুমতি দিলে এখনই তাঁরা তৈরি করে দিতে পারেন পারমাণবিক বোমা।

৯ অক্টোবর ১৯৪১, পারমাণবিক বোমা বানানোর সবুজ সংকেত দিলেন প্রসিডেন্ট রুজভেল্ট। এবার প্রয়োজন বোমা বানানোর চূড়ান্ত পরিকল্পনা, সতর্কতা আর গোপনীয়তা। আর প্রয়োজন দক্ষ এক নেতার। বোমা বানানোর উপযুক্ত নেতা হিসেবে বিভিন্ন মহল থেকে উঠে আসছে রবার্ট ওপেনহেইমারের নাম। জুলাই ১৯৪২, বোমা বানানোর পরিকল্পনার কথা জানানো হল ওপেনহেইমারকে। ১৩ অগস্ট ১৯৪২, বোমা বানানোর জন্য গঠন করা হলো শীর্ষ কমিটি – ‘ম্যানহাটন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিস্ট্রিক্ট’, লোকমুখে যা ‘ম্যানহাটন প্রজেক্ট’ হিসেবে পরিচিতি পায়। কমিটির শীর্ষনেতা মনোনীত হলেন লেফটানেন্ট জেনারেল লেসলি রিচার্ড গ্রুভ। জেনারেল গ্রুভের নেতৃত্বে ইউএসএ-র একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় সমেত প্রায় ১৭টা ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বোমা বানানোর প্রক্রিয়া শুরু হলো। তবে বোমা বানানোর মূল গবেষণাগারের জন্য নির্বাচন করা হলো নিউ মেক্সিকো প্রদেশের প্রায় জনহীন প্রান্তর ‘লস অ্যালামস’ নামক স্থানটাকে। না, এখানে কোনও বিশ্ববিদ্যালয় বা কোনও গবেষণাগার অস্তিত্ব নেই। তবুও নভেম্বর ১৯৪২ সালে, লস অ্যালামস অঞ্চলের এক বিশাল এলাকা কিনে নেয় ‘ম্যানহাটান প্রজেক্ট’। লস অ্যালামসে অত্যাধুনিক গবেষণাগার নির্মাণ থেকে পারমাণবিক বোমা বানানো পর্যন্ত সমগ্র কর্মকাণ্ডের দায়ভার ন্যস্ত করা হলো ওপেনহেইমারের ওপর। ১৫ মার্চ ১৯৪৩, লস অ্যালামসে গবেষণাগার নির্মাণের প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ শেষ হয়। এরপর শুরু হয় বোমা বানানোর মূল প্রক্রিয়া। বছর দেড়েক পর, জুলাই ১৯৪৫ সালে, শেষ হয় পৃথিবীর প্রথম পারমাণবিক বোমা নির্মাণের কাজ। বোমার নাম রাখা হয় ‘দ্য গ্যাজেট’। এই বোমার শক্তি ১৯,০০০ টন টিএনটি তুল্য হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে (হিরোসিমায় ব্যবহার করা ‘লিটল বয়’ পারমাণবিক বোমার শক্তি ছিল ১৫,০০০ টন টিএনটি তুল্য আর নাগাসাকিতে ব্যবহৃত ‘ফ্যাট ম্যান’ বোমার শক্তি ছিল ২১,০০০ টন টিএনটি তুল্য)। এখন পরীক্ষামূলক এই বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দেখতে হবে প্রত্যাশা মতো ফল পাওয়া যাচ্ছে কিনা। স্থির হলো ১৬ জুলাই ১৯৪৫, সোমবার, ভোর ৪টে নাগাদ ঘটানো হবে বিস্ফোরণ।

প্রথম পারমাণবিক বোমা ‘দ্য গ্যাজেট’

কিন্তু বোমা তো আর লস অ্যালামসে বসে ফাটানো যাবে না। তাহলে তো গবেষণাগার সমেত পুরো অঞ্চলটাই উড়ে যাবে। ঠিক হলো বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হবে নির্জন মরুভূমিতে। সেই মতো, লস অ্যালামস থেকে ৩৫০ কিমি দক্ষিণে হোরনাডা ডেল মোরাটো মরুভূমিকে নির্বাচন করা হলো বিস্ফোরণের স্থান হিসেবে। মরুভূমির ঠিক যে জায়গায় বিস্ফোরণটা ঘটানো হবে বলে স্থির করা হলো সেই স্থানের নাম দেওয়া হলো ‘ট্রিনিটি সাইট’। ট্রিনিটি সাইটে নির্মাণ করা হলো ১০০ ফুট উঁচু একটা লোহার টাওয়ার। সেই টাওয়ারের চূড়ায় স্থাপন করা হলো ‘দ্য গ্যাজেট’। ট্রিনিটি সাইট থেকে ১০ কিমি দূরে – উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে, তিনটে বাংকার নির্মাণ করা হলো। এই তিন বাংকারের নাম দেওয়া হলো যথাক্রমে আবেল, বেকার ও পিটসবুর্গ। এই বাংকারগুলোয় উপস্থিত থাকবেন এনরিকো ফার্মি, জেমস চ্যাডউইক, রিচার্ড ফাইনম্যান, রিচার্ড টলম্যান, হান্স বেথের মতো পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় পদার্থবিদরা। থাকবেন জেনারেল গ্রুভ সহ কিছু সামরিক আধিকারিক। দক্ষিণ দিকের বেকার বাংকারটার দায়িত্বে ছিলেন ওপি। এই বাংকার থেকেই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছিল সব কিছু।

ট্রিনিটি সাইটে ১০০ ফুট উঁচু এই লোহার টাওয়ারের চূড়ায় স্থাপন করা হয়েছিল ‘দ্য গ্যাজেট’

১৫ জুলাই রাত থেকে শুরু হয় বৃষ্টি। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। রাত যত বাড়ে ততই বেড়ে চলল বৃষ্টি দাপট। সাথে মুহুর্মুহু বজ্রপাত আর দাপুটে হাওয়া। প্রকৃতি বুঝি ক্রুদ্ধ হয়েছে এহেন কর্মকাণ্ডে। না হলে, এত জায়গা থাকতে ঠিক ট্রিনিটি সাইটের উপর দিয়েই কেন বয়ে যাবে এমন ভয়ঙ্কর ঝোড়ো হাওয়া? হাওয়ার দাপটে উলটে না পড়ে বোমা সমেত লোহার টাওয়ারটা। অগত্যাই সাময়িক ভাবে পিছিয়ে দেওয়া হলো বিস্ফোরণের সময়। ভোর ৪টে ৪৫ মিনিটের পর আবহাওয়ার উন্নতি লক্ষ করা যায়। শান্ত হয় ধরণী। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠে ধীরে ধীরে। তৈরি হয় বিস্ফোরণের অনুকূল পরিবেশ। সাথে সাথে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ভোর সাড়ে পাঁচটায় ঘটানো হবে বিস্ফোরণ। ৫টা ১০ থেকে শুরু হয় ২০ মিনিটের কাউন্ট ডাউন। ইন্টারকম স্পিকারে ঘোষিত হয় সতর্ক বার্তা – এই বিস্ফোরণ থেকে তিনটে ফলাফল আশা করা হচ্ছে। ১) প্রত্যাশার থেকেও অধিক জোর বিস্ফোরণ হতে পারে। সেক্ষেত্রে বাংকারও নিরাপদ নয়। অঙ্গহানি বা প্রাণহানি হতে পারে অনেকের কিংবা সবার। ২) প্রত্যাশা থেকে কম মাত্রা পেতে পারে বিস্ফোরণ। সেক্ষেত্রে পরীক্ষা ব্যর্থ বলেই ধরা হবে। ৩) প্রত্যাশা মতো মাত্রা পাবে বিস্ফোরণ। কেবলমাত্র সেক্ষত্রেই পরীক্ষা সফল বলা হবে। কাউন্ট ডাউনে তখন চলছে শেষ ১০ সেকেন্ডের গণনা … ১০ … ৯ … ৮ …। অজানা উৎকণ্ঠার ছাপ প্রত্যেকের চোখেমুখে। চোখে ঘন কালো চশমা পড়ে নিয়ে প্রস্তুত হলেন সবাই। ৩ … ২ … ১। স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ২৯ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড – প্রচণ্ড আলোর ঝলকানি আর গগনভেদী শব্দে কেঁপে উঠল বাংকারগুলো। কয়েক মুহূর্ত ধরে সবার চোখের সামনে তখন শুধু সাদা আলোর ঝলকানি। তালা লেগে ভোঁ ভোঁ করছে সবার কান। তার মাঝেই আনন্দে চেঁচিয়ে উঠেন সবাই, “It Works”। হয়েছে, সফল হয়েছে তাঁদের পরীক্ষা। সার্থক হয়েছে তাঁদের পরিকল্পনা আর পরিশ্রম। আনন্দে একে অপরকে জড়িয়ে ধরছেন সবাই। ব্যতিক্রম শুধু ওপি। হ্যাঁ, খুশি হয়েছেন তিনি নিশ্চয়, তিনিই তো এই সমস্ত কর্মকাণ্ডের নেতা। এতদিনের পরিশ্রম, ধৈর্য, অধ্যবসায়, ত্যাগ সব সার্থক হয়েছে। কিন্তু তবুও নির্বিকার তিনি। কারণ, তিনি জানেন কি পরিণতি পেতে চলেছে তাঁদের তৈরি এই সৃষ্টি। খুব শীঘ্রই মারণাস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে এই বোমা। হরষ বিষাদে আজ তাঁর চোখ তাই ভিজে উঠেছে। বুজে আসছে তাঁর গলা। রুদ্ধ কণ্ঠে ওপি বলে ওঠেন, “Now, I am become Death, the destroyer of worlds.”। রাইডারের বই থেকে গীতার শ্লোক আউড়ে চলেছেন তিনি। তাঁর সমস্ত মানসিক যন্ত্রণা এই শ্লোকের মধ্যেই সান্ত্বনা খুঁজে নিয়েছে।

মাহেন্দ্রক্ষণ – প্রথম পারমানবিক বোমা ‘দ্য গ্যাজেট’ বিস্ফোরণ

মূল্য

বোমা বিস্ফোরণের দিন আক্ষেপ করে ঠিক কী বলেছিলেন ওপেনহেইমার তা তো আর কারও জানার কথা নয় কারণ, এটা ছিল তাঁর স্বগতোক্তি। তবে বিষয়টা সামনে আসে ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকার সাংবাদিক উইলিয়াম লিওনার্ড লরেন্সের দৌলতে। ১৬ জুলাই, বিস্ফোরণের দিন, একমাত্র সাংবাদিক হিসেবে ট্রিনিটি সাইটে উপস্থিত ছিলেন লরেন্স। বিস্ফোরণের কয়েক ঘন্টা পরই, বেকার বাংকারের ভিতরে বসে ওপেনহেইমারের একটা সাক্ষাৎকার নেন লরেন্স। সেই সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় বোমা বিস্ফোরণ প্রসঙ্গে গীতার শ্লোক উচ্চারণ করে ওপেনহেইমার বলেন- “Now, I am become Death, the shatterer of worlds”। ১৯৫৯ সালে নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত হয় লরেন্সের লেখা গ্রন্থ ‘মেন অ্যান্ড অ্যাটমস: দ্য ডিসকভারি, দ্য ইউজেস, অ্যান্ড দ্য ফিউচার অফ অ্যাটমিক এনার্জি’। এই গ্রন্থে ওপেনহেইমার উক্ত গীতার শ্লোক লিপিবদ্ধ করেন তিনি। কিন্তু ওপেনহেইমারের মুখে গীতার শ্লোক অধিক জনপ্রিয় হয় ইউএসএ-র টিভি চ্যানেল ন্যাশনাল ব্রডকাস্টিং কোম্পানির (এনবিসি) দৌলতে। ১৯৬৫ সালে পারমাণবিক বোমার উপর ৩৫ মিনিটের একটা ডকুমেন্টারি ফিল্ম নির্মাণ করে এনবিসি। ‘ডিসিশন টু ড্রপ দ্য বম’ শীর্ষক এই ডকুমেন্টারিতে ওপেনহেইমারের একাধিক বক্তব্য স্থান পেয়েছে। ফিল্মের ২৬ মিনিটের মাথায় চোখের জল মুছতে মুছতে ওপেনহেইমারকে বলতে শোনা যায়, “I remembered the line from the Hindu scripture the Bhagavad Gita. Vishnu is trying to persuade the prince that he should do his duty and, to impress him, takes on his multi-armed form and says ‘Now I am become Death, the destroyer of worlds.’ I supposed we all felt that, one way or another.”

স্পষ্টতই, লরেন্স ও এনবিসির ভাষ্য দুটোর মধ্যে ফারাক বিদ্যমান। তবে এনবিসির ভাষ্যটাই অধিক গ্রহণযোগ্য হয়েছে এই কারণে, এই ফিল্মে স্বয়ং ওপেনহেইমারকে বক্তব্য রাখতে দেখা গেছে। আবার বেশ কয়েকটা অসঙ্গতিও রয়েছে এনবিসির ভাষ্যে। যেমন, কৃষ্ণকে বিষ্ণু বলে উল্লেখ করেছেন ওপেনহেইমার। তার থেকেও বড় ধন্দ, গীতার কোন শ্লোকটা পাঠ করেছেন ওপেনহেইমার? ১৮ অধ্যায়ের গীতায় মোট ৭০০টা শ্লোক গ্রন্থিত রয়েছে। এই ৭০০ শ্লোকের মধ্যে কোন শ্লোকটা পাঠ করেছেন তিনি? গবেষকরা জানাচ্ছেন, গীতার একাদশ অধ্যায়ের ৩২ নম্বর শ্লোকটা সেদিন পাঠ করেছিলেন ওপেনহেইমার। সেই ৩২ নম্বর শ্লোকটার মূল ভাষ্যটা এই রকম –

শ্রীভগবানুবাচ

কালোহস্মি লোকক্ষয়কৃৎ প্রবৃদ্ধো

লোকান্ সমাহর্তুমিহ প্রবৃত্তঃ।

ঋতেহপি ত্বাং ন ভবিষ্যন্তি সর্বে

যেহবস্থিতাঃ প্রত্যনীকেষু যোধাঃ

এই শ্লোকের বঙ্গানুবাদ করলে দাঁড়ায়- শ্রীভগবান বললেন – আমি লোকক্ষয়কারী প্রবৃদ্ধ কাল এবং এই সমস্ত লোক সংহার করতে এক্ষণে প্রবৃত্ত হয়েছি। তোমরা ছাড়া উভয়-পক্ষীয় সমস্ত যোদ্ধারাই নিহত হবে।

রাইডারের বইতে এই ৩২ নম্বর শ্লোকটার ইংরাজি অনুবাদ পাওয়া যায় এই ভাষায়-

The Blessed one said:

Death am I, and my present task

Destruction. View in me

The active slayer of these men;

For though you fail and flee,

These captains of the hostile hosts

Shall die, shall cease to be.

স্পষ্টতই রাইডারের বইয়ের সাথেও হুবহু মিলছে না ওপেনহেইমারের বিবৃতি। এই অমিল বিষয়ে গবেষকরা জানাচ্ছেন, শ্লোক পাঠে কিছুটা বিস্মরণ ঘটেছে ওপেনহেইমারে। তবে এই ৩২ নম্বর শ্লোকটাই বলতে চেয়েছিলেন তিনি।   

ওপি জানতেন এক ভয়ঙ্কর মারণাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার হবে এই পারমাণবিক জ্ঞান। কিন্তু মানুষ মারার লক্ষ্য নিয়ে তো গবেষণা করেননি তিনি। বিজ্ঞানের এক নতুন দিক উন্মোচনই ছিল তাঁর লক্ষ্য। পারমাণবিক শক্তির নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারই ছিল তাঁর গবেষণার মূলমন্ত্র। অথচ ভবিতব্য আজ তাঁকে মানুষ নিধন যজ্ঞে সামিল করেছে। তাই তাঁর বার বার মনে হয়েছে, “I am the destroyer of world”। মনে হয়েছে, এই ভয়ঙ্কর হত্যা লীলার দায় এড়াতে পারেন না তিনি। দায় এড়ানও নি তিনি। তৎকালীন ইউএসএ প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানকে তিনি সরাসরি বলেছিলেন, “Mr. President, I feel I have blood on my hands”। এ এক ভয়ঙ্কর মনস্তাপ। জঘন্যতম অপরাধের অনুশোচনার ভারে আজ ন্যুব্জ তিনি। গীতার শ্লোক পাঠ করতে গিয়ে সেদিন তাই চোখের জল সংবরণ করতে পারেননি ওপি। এক নাস্তিক পাষাণ হৃদয়ের বিজ্ঞানীর চোখের জলের মূল্য বুঝবে ক’ জন? 

তথ্যসূত্র (বর্ণানুক্রমে):  

  1. Kai Bird and Martin J. Sherwin, ‘American Prometheus, the triumph and tragedy of J. Robert Oppenheimer’; Vintage Books, New York. 
  • Lawrence Lewis, ‘Becoming Death, the Destroyer of Worlds: A brief psychobiographical sketch of Dr. J. Robert Oppenheimer’; Research gate, March 2016.
  • ‘Decision To Drop The Bomb’ by National Broadcasting Company; Encyclopaedia Britannica Films, inc., 1965. 
  • H. A. Bethe, ‘J. Robert Oppenheimer 1904—1967, A Biographical Memoir’; National Academies Press, Washington D.C., 1997.
  • ‘Los Alamos National Laboratory: Complete Guide. History, Products, Founding, and More’, Blog by Rebeca, May 8 2023.
  • ‘Misquotation: ‘I am become Death, the destroyer of worlds’, Oxford Dictionary of Quotations’; July 2013. 
  • ‘Oppenheimer and influence of Vedic Philosophy’, Lite Blog, October 2022. 
  • Jessica Sleight, Scientists and the Bomb: ‘the Destroyer of Worlds’; July 2019.
  • Arthur W Ryder, ‘The Bhagavad-Gita’ The University of Chicago Press, Chicago. 1929.
  1. James A. Hijiya, ‘The Gita of J. Robert Oppenheimer’. 
  1. ‘The History of Asian Studies at Berkeley’; Berkeley Library.
  1. Martin Sherwin, ‘The Life and Times of J. Robert Oppenheimer’; 1946.
  1. ‘The Manhattan Project, an interactive history’; U.S. department of energy, January 1999.
  1. ‘Trinity Test -1945’; Atomic Heritage Foundation, June, 2014.

মন্তব্য তালিকা - “ওপেনহেইমার ও গীতা”

  1. অসাধারণ নিবন্ধ। পড়তে পড়তে আমারও চোখে জল এলো। অবশ‍্য তাতে দাবী করা যায় না যে নাস্তিক বিজ্ঞানীর চোখের জলের মূল্য আমি বুঝেছি। কিন্তু অন্তত তাঁর কষ্টটুকু অনুভব করতে চেষ্টা করছি। এবং নিবন্ধ লেখক সফল হয়েছেন সে অনুভূতি লেখার মাধ্যমে বহন করে আনতে। সেই দূর অতীতে প্রথম পরমাণু বোমা বিস্ফোরণের মুহুর্তে এক বিজ্ঞানীর মনোজগতে ঘটে যাওয়া অনুশোচনার বিস্ফোরণকে সার্থকভাবে তুলে এনেছেন তিনি।
    এন বি সির তথ‍্যচিত্রটার খবর জানা ছিল না। ওটার খোঁজ করতে হবে। ধন্যবাদ লেখককে এই মনোজ্ঞ রচনাটির জন্য।

  2. লেখাটা পড়ে খুব ভালো লাগলো। আমার পড়াশোনা খুবই কম এবং ছড়ানো ছেটানো। সম্প্রতি oppenheimer সিনেমার কারণে এই সব বিষয়ে একটু বই এর পাতা উল্টাচ্ছি। আপনার লেখা আমাকে সমৃদ্ধ করলো।

  3. অনেক অজানা তথ্য বিস্তারিতভাবে জানলাম লেখাটি পড়ে।
    খুবই মনোগ্রাহী লেখা।
    যদিও শ্রদ্ধেয় নারায়ণ সান্যালের লেখা বিশ্বাসঘাতক গল্পটিও আগে পড়েছি।

  4. ওপেনহাইমার এবং বিস্ফোরণ মুহূর্তে গীতা আওড়ানো মিথে পরিণত হয়েছে অনেক দিন আগে। নোলানের সিনেমা অনেক দর্শকের আগ্রহের আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছে বলা যায়।এই লেখাটি চমৎকার, বিশদে এমন পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ পেয়ে ভারী উপকার হল।

  5. অসাধারণ একটা আলোচনা । গল্পের ছলে বলা নিবন্ধটিতে অব্যক্ত অনেক কথা লুকিয়ে আছে । ওপেনহাইমার আর পারমাণবিক বোমা তৈরির ঘটনা মন উদাস করে।

  6. নারায়ন সান্যালের লেখা বিশ্বাসঘাতক বইটি পড়েছি, সুলিখিত বইটি যে বই থেকে অনুপ্রাণিত সেটিও পড়া। তারপর এই লেখা, সংক্ষিপ্ত হলেও লেখাটি অসম্ভব ভালো।

  7. নিবন্ধটা পড়া ও মন্তব‍্য করার জন‍্য ধন‍্যবাদ। আপনার অনুসন্ধানের জবাবে ও পাঠকদের জ্ঞাতার্থে, NBC তথ‍্যচিত্রের লিংক সংযোজন করলাম।
    https://youtu.be/iZ85SgoLRNg

  8. অসাধারণ লাগলো পড়ে, কেবল শেষ অংশের আবেগটুকুর জন্য নয়। একজন নিষ্ঠাবান বিজ্ঞানী তার সময়ের দুর্যোগ, ভয়াবহতা, বিপদ ও প্রয়োজনের জন্য এমন একটা আবিষ্কার করেছিলেন যার পরিনতি তিনি জানতেন। তিনি এমন যুগান্তকারী সাফল্যের পরেও হয়তো নিজেকে আগামী মৃত্যুর দায় থেকে মুক্তি দিতে পারেননি।

    ওপেনহাইমার হয়তো নাস্তিক হয়েও তার মনের ব্যাখ্যা পেয়েছিলেন গীতার একটা শ্লোক থেকে। আবেগ যখন ধর্মের পথ নেয় তা যেমন ভক্তিতে মিশে যায়, কিন্তু একজন ধর্ম অবিশ্বাসী মানুষেরও আবেগ থাকে, অপরাধবোধ থাকে, মানবিকতা থাকে যা ধর্মের পথের উপরই একমাত্র নির্ভরশীল না বা সেই পথেই একমাত্র উপলব্ধি হয়, এমনটা যে নয় সেই বাস্তবতাই লেখাটার মধ্যে পেলাম। কৃতজ্ঞতা‌ জানাই।

  9. খুব ভালো লেগেছে। ওপেনহাইমার নাস্তিক মানুষ। তিনি গীতা থেকে যে আবৃত্তি করে ছিলেন সেটা মুলতঃ গীতা নামক এক প্রাচীন সাহিত্য থেকে। কিন্তু ধর্মোন্মাদরা গীতাকে ওপেনহাইমার স্বীকৃত এক বিজ্ঞানের বই বা বিজ্ঞানের উৎস হিসেবে প্রচার চালায়। এই লেখা ধর্মোন্মাদদের অসৎ উদ্দেশ্যকে প্রকাশ করার পক্ষে উপযুক্ত। লেখক কে অনেক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

  10. অসাধারণ বললে কম বলা হবে যেন। এমনই ভালো লাগল এই নিবন্ধটি। ইতিহাসের আড্ডা -পোর্টালে আমার পড়া অন্যতম সেরা নিবন্ধ হয়ে থাকবে বর্তমান লেখাটি। এমন একটি লেখার জন্য লেখককে ধন্যবাদ জানাই।

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।