সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

কমলার নৃত্য ও জয়াপীড়

কমলার নৃত্য ও জয়াপীড়

শাহরিয়ার কবির

জুন ১২, ২০২১ ২৩৫ ১১

ভালো করিয়া বাজাও গো দোতারা

সুন্দরী কমলা নাচে,

সুন্দরী কমলা চরণে নূপুর

রিনিঝিনি করিয়া বাজে রে…

নাচতে জানুক বা না জানুক উপরের গানের কলি কয়টি জানে না এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। বাংলার নাচের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এ গানটি প্রাচীন কোন অজানা স্বভাবকবি রচনা করেছিলেন যা লোকমুখে আজো কমলার নৃত্যের কথা বলে। কখনো কি ভেবেছেন কে এই কমলা?

আশ্চর্য মনে হলেও সত্যি যে কমলা এ বাংলার একজন নারী, বস্তুত পুণ্ড্র-তনয়া। একজন দেবদাসী হয়েও যিনি ইতিহাসের পাতায় একটি উজ্জ্বল নাম।

স্কন্দ গোবিন্দয়োর্ম্মধ্যে গুপ্তা বারাণসী পুরী।

তত্রারোহণ মাত্রেণ নরো নারায়ণো ভবেৎ।।

করতোয়া মাহাত্ম্যে বর্ণিত পুণ্ড্রনগরের স্কন্দ বা কার্তিকেয় মন্দির ভারতে বিখ্যাত। স্কন্দ পুরাণেও এ মন্দিরের উল্লেখ পাওয়া যায়। কমলা এই স্কন্দ মন্দিরের দেবদাসী ছিলেন। তিনি নৃত্যগীতে পারদর্শী ও অসামান্যা সৌন্দর্যের অধিকারী ছিলেন। কমলার কথা বলতে গেলে রাজতরঙ্গিণী গ্রন্থ ও কাশ্মীররাজ জয়াপীড়ের কথা চলে আসে; কারণ এ তিনটি একই সুতায় গাঁথা।

কবি কলহনের রাজতরঙ্গিণী নিঃসন্দেহে একটি মহত্তম সৃষ্টি, যেখানে শুধু কাব্য নয়, ইতিহাসের নির্ভরযোগ্য উপকরণ বিদ্যমান। এ বিশাল গ্রন্থের ৪র্থ খণ্ডে ৪২১ থেকে ৪৭০ ও ৪৮৩ – ৮৪ নং শ্লোকে আমরা কমলা ও কাশ্মীররাজ মুক্তাপীড় ললিতাদিত্যের পৌত্র রাজাধিরাজ জয়াপীড় বিনয়াদিত্যের প্রেমময় কাহিনীটি পাই। পুণ্ড্রের তনয়া এ গ্রন্থে আপন মহিমায় বিরাজমান।

কাশ্মীররাজ জয়াপীড় (৭৫১ – ৭৮২ খ্রিস্টাব্দ) দিগ্বিজয়ের উদ্দেশ্য বের হয়ে কান্যকুব্জ ও সারস্বত জয় করে মিথিলার দিকে যেতে চান। কিন্তু তাঁর সৈন্যদল উৎসাহ হারিয়ে ফেলে কাশ্মীর ফিরে যেতে চায়। ফলে সঙ্গীদের বিদায় দিয়ে জয়াপীড় একাকী ছদ্মবেশে দেশভ্রমণের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন। ঘুরতে ঘুরতে গৌড় সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত পুণ্ড্রনগরে উপস্থিত হন। একসময়ের সুবিশাল গৌড় সাম্রাজ্য তখন খণ্ড খণ্ড রাজ্যে বিভক্ত। এর মধ্যে পুণ্ড্ররাজ্য শাসন করছিলেন রাজা জয়ন্ত, যাঁর সুশাসন ও প্রজাপালনের খ্যাতি সুবিদিত ছিল। পুণ্ড্রনগরের সৌন্দর্য ও সুখী প্রজাপুঞ্জ দেখে মুগ্ধ হন জয়াপীড়।

‘Pleased there by the wealth of the citizens, which was rendered enjoyable by a good government, he went to the temple of Kartikeya to view the dancing’. [Rajatarangini, 422]

নিঃসঙ্গ জয়াপীড় ইতস্তত ঘুরতে ঘুরতে হাজির হন পুণ্ড্রনগরের বিখ্যাত স্কন্দ মন্দিরে, তখন সন্ধ্যা উত্তীর্ণ। মন্দির প্রাঙ্গণে নাগরিকেরা সমবেত হয়েছে সন্ধ্যারতি ও দেবদাসীর নৃত্যগীত উপভোগ করতে। জয়াপীড় একটি পাথর খণ্ডের উপরে বসলেন নৃত্যোপভোগ করতে। তাঁর চেহারার রাজাসুলভ দীপ্তি ও ভাবভঙ্গি দেখে সাধারণ নাগরিকরা অস্বস্তি পেয়ে একটু তফাতে দাঁড়ালেন।

স্কন্দ মন্দিরে তখন নৃত্যগীত পরিবেশন করছে অপরূপ সুন্দরী কমলা, যিনি ভরতাচার্য প্রণীত নৃত্যকলা অনুযায়ী ‘লাস্য’ নৃত্য পরিবেশন করছিলেন। ভরত নাট্যশাস্ত্র অনুসারে নৃত্যের দুটি মুখ্য প্রকারভেদ হলো তাণ্ডব (পুরুষের নৃত্য, শিবের নৃত্য) এবং লাস্য (পার্বতীর নৃত্য, কমনীয় ও প্রেমময়)। আবার, সেসময় গৌড়রাজ্য নিজের নৃত্য রীতির প্রচলন ঘটায় যেটি ‘গৌড়ীয় নৃত্য’ নামে খ্যাত। কমলা নৃত্য ও রূপে গৌড়ীয় নৃত্যের শোভাবর্ধন করেছিলেন।

জয়াপীড় নৃত্যরতা কমলার চোখ এড়াতে পারেননি। বিশেষত, জয়াপীড়ের রাজসুলভ অভ্যাস ও চেহারার আকর্ষণ ছিল এর প্রধান কারণ। প্রাচীনকালে রাজরাজড়াদের পেছনে তাম্বূলকার দাঁড়িয়ে থাকত তাম্বূল হাতে। যখনই পান খেতে ইচ্ছে করত, পেছন দিকে হাত বাড়িয়ে পান নিত।

কলহন রাজতরঙ্গিণীতে বলছেন, ময়ূর যেমন বৃষ্টি না হলেও অভ্যাসবশত মেঘ দেখলই কেকা রব করে ও পেখম মেলে, জয়াপীড়ও তন্ময় হয়ে নৃত্য দেখতে দেখতে তেমনি অভ্যাসবশত বারবার পেছনের দিকে হাত বাড়াচ্ছিলেন। সুশিক্ষিতা ও বুদ্ধিমতী কমলা সেটি খেয়াল করে বুঝলেন যে, ইনি কোন রাজা না হয়ে পারেন না। নৃত্য শেষে একজন পরিচারিকার দ্বারা জয়াপীড়কে নিজের গৃহে তিনি ডেকে আনেন এবং নৃপতিতুল্য সম্মান ও সেবা নিবেদন করেন। কাশ্মীররাজ দেখলেন কমলা কোন সাধারণ দেবদাসী নন, তাঁর বাসগৃহ সুরম্য প্রাসাদের ন্যায়, ঘরে সোনার পালঙ্ক, মুক্ত বাতায়ন, দাস-দাসী পূর্ণ। একজন দেবদাসীর মুখে শুদ্ধ সংস্কৃত উচ্চারণ ও আচার ব্যবহারে জয়াপীড় কমলার প্রেমে পড়ে যান। কমলাকে প্রেম নিবেদন করেন জয়াপীড়।

Thereupon the long-armed [prince] embraced her, who felt ashamed, as if he were going to enclose her in his broad chest, and spoke slowly the following: “0 you, whose eyes are like lotus-leaves, indeed, you have captured my heart. But regard for the [proper] time makes me offend [you].” [Rajatarangini 436-37]

কমলার গৃহে শান্তিপূর্ণ দিনযাপনকালে জয়াপীড় সন্ধ্যার সময় নদীতীরে ভ্রমণ ও প্রাত্যহিক প্রার্থনার জন্য যেতেন। একদিন একটু বিলম্বে ফিরে এসে দেখেন কমলার উৎকণ্ঠিত মুখ। তখন কমলা জানান, নগরীর প্রান্তে কিছুদিন যাবৎ একটি সিংহের উৎপাত শুরু হয়েছে। অনেক চেষ্টা করেও সিংহটিকে মারা যাচ্ছে না। ফলে নগরবাসী সন্ধ্যার পর নদীতীরে বেশিক্ষণ থাকে না। রাজা জয়ন্ত এ নিয়ে বিব্রত এবং সিংহকে মারার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

এ কথা শুনে মৃদু হেসে নীরব রইলেন কাশ্মীররাজ। রাজ রক্ত চনমন করে উঠল তাঁর। পরদিন কাউকে কিছু না জানিয়ে নদীতীরে অপেক্ষা করতে থাকেন সিংহটির জন্য। কথিত আছে, তরবারির এক আঘাতে সিংহটিকে হত্যা করেন জয়াপীড়। কিন্তু মৃত্যুর আগে সিংহটি জয়াপীড়ের হাত কামড়ে দিয়েছিল, জয়াপীড় বেঁচে গেলেও তাঁর বাহুবন্ধ সিংহের মুখে রয়ে যায়।

পরদিন সকালে নগরবাসী সিংহের মৃতদেহ দেখে। হৈচৈ শুরু করে। খবর পেয়ে রাজা জয়ন্ত ছুটে আসেন এবং কোন বীর এটি করেছে তার খোঁজ করেন। কিন্তু কেউ কিছু বলতে পারে না। হঠাৎ এক অমাত্য সিংহের মুখে আটকে থাকা বাহুবন্ধ পেয়ে রাজা জয়ন্তকে দেন। বাহুবন্ধে জয়াপীড় নাম উৎকীর্ণ দেখে জয়ন্ত ভীত হয়ে পড়েন। কাশ্মীররাজের বিক্রম সম্পর্কে তিনি অবহিত এবং এও বুঝতে পারেন যে জয়াপীড় নিশ্চয়ই ছদ্মবেশে পুণ্ড্রনগরে লুকিয়ে আছেন। গুপ্তচর দিয়ে খোঁজ শুরু হলো। অবশেষে কমলার গৃহে পাওয়া গেলো তাঁকে। রাজা জয়ন্ত নিজে এসে বরণ করে জয়াপীড়কে প্রাসাদে নিয়ে যান এবং যথোপযুক্ত সমাদর করেন। জয়ন্তের কোন পুত্র ছিলো না, কন্যা কল্যাণী দেবীই তাঁর সবকিছু। কাশ্মীররাজের সাথে নিজ কন্যার বিবাহ দিয়ে কাশ্মীরের সাথে সুদৃঢ় সম্পর্ক তৈরি করেন।

রাজতরঙ্গিণী সাক্ষ্য দিচ্ছে জয়াপীড় তাঁর বীরত্বে শ্বশুর জয়ন্তকে পঞ্চ গৌড় জয় করে পঞ্চগৌড়েশ্বর করে দেন। এ নিয়ে আরেকদিন বিশদ কথা হবে।

জয়াপীড় কল্যাণী দেবীকে বিয়ে করলেও কমলাকে ভোলেননি। প্রেমময়ী কমলাকে বিয়ে করেন এবং দুই স্ত্রীকে নিয়ে কাশ্মীর ফিরে যান। কল্যাণী রাজকন্যা হলেও কমলার নাম রাজতরঙ্গিণীতে বেশি অংশ জুড়ে বিদ্যমান। কমলার হাত ধরেই গৌড়ীয় নৃত্যকলা কাশ্মীর পৌঁছায় এবং কাশ্মীরী নাচে গভীর প্রভাব ফেলে। জয়াপীড় যে কমলাকে বিয়ে করেন, ড. অতুল সুরও তা সমর্থন করেছেন।

দেবদাসী প্রথা কত প্রাচীন তা জানা নেই। তবে মধ্যযুগের বাংলাদেশের বড় বড় মন্দিরে যে অনেক দেবদাসী থাকতো তার প্রমাণ আমরা ভবদেব ভট্টের “ভুবনেশ্বরী প্রশস্তি” এবং বিজয় সেনের “দেওপাড়া প্রশস্তি” তে পাই। সন্ধ্যাকর নন্দীর “রামচরিত” ও ধোয়ীর “পবনদূত” কাব্যদ্বয়েও দেবদাসীর কথা উল্লিখিত হয়েছে। অনেক সময় দেবদাসীর রাজানুগ্রহ লাভ করে রাজার গৃহিণীও হতেন। “রাজতরঙ্গিনী” থেকে জানা যায় যে, অষ্টম শতাব্দীতে উত্তর বাংলার পুণ্ড্রবর্ধন নগরে অবস্থিত কার্তিকেয়ের মন্দিরে কমলা নামী এক অলৌকিক রূপগুণসম্পন্ন দেবদাসী ছিল। কাশ্মীররাজ জয়াপীড় বিনয়াদিত্য তার প্রতি আসক্ত হয়ে তাকে বিবাহ করেছিলেন। (ভারতের বিবাহ ইতিহাস, ড. অতুল সুর)

জয়াপীড় কমলাকে যোগ্য মর্যাদা দিয়েছিলেন। কমলার নামে কমলাপুর ও কল্যাণীদেবীর নামে কল্যাণপুর নামে দুটি নগরী স্থাপন করেন।

In that land where the king met with good fortune (Kalyana) after the destruction of his enemy, Kalyanadevi founded Kalyanapura. The king built Malhanapura and established the [shrine of] Vipulakesava. Also, Kamala founded a town called after her own name Kamala[pura]. [Rajatarangini 483-84]

অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের লেখা থেকে জানা যায়, কাশ্মীরে কমলাপুর ও কল্যাণপুর নগরীর ধ্বংসাবশেষ এখনো আছে, তবে নগর দুটি গ্রামে পরিণত হয়েছে। দুটি বঙ্গতনয়া কাশ্মীরের ইতিহাসে অমর হয়ে রইলেন।

পুণ্ড্রও তার তনয়া কমলাকে ভোলেনি। তাইতো নৃত্যশিল্পে কমলা আজো আছে। উপরের গানের কলি ছাড়াও আরো নাচের গানে কমলা অমর। যেমন নিচের আরেকটি জনপ্রিয় গান:

তোমরা দেখ গো আসিয়া

কমলায় নৃত্য করে থমকিয়া থমকিয়া।

আরে নাচে কমলা সুন্দরি

দেখ যেন ইন্দ্রপুরী গো,

এগো কিভাবে বা নাচে দেখো সরমে মরিয়া

কমলায় নৃত্য করে থমকিয়া থমকিয়া হায় রে।

দীনেশচন্দ্র সেন রায়বাহাদুর যখন পূর্ব্ববঙ্গ গীতিকা সম্পাদনা করেন, তখন “কমলা” ও “কমলারাণীর গান” নামে দুটি পালাগানের সন্ধান পান। এছাড়া “কমলার বনবাস” নামের কেচ্ছা বা লোককাহিনী সারা বাংলায় আজো প্রচলিত।

যে কার্তিকেয় মন্দিরে কমলা নৃত্য করতেন, সেটির ধ্বংসাবশেষ আজো স্কন্দের ধাপ নামে খ্যাত। উঁচু ঢিবিতে লাল পাথরের একটি ভাঙা কার্তিকের মূর্তি খুঁজে পায় স্থানীয় একজন। বাংলায় এ ধরনের লাল পাথরের মূর্তি অতি বিরল, মূর্তিটি কুষাণ আমলের বলে জানা যায়। মূর্তিটি সম্ভবত দিনাজপুর জাদুঘরে আছে। এছাড়া ঢিবির উপরে অলংকৃত ইট, খোলামকুচি ইত্যাদি ইতস্তত পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঢিবিতে এখনো উৎখনন কাজ শুরু হয়নি; শুরু হলে আমরা জানতে পারবো স্কন্দ মন্দিরটির বিষয়ে। কোন খননকর্মী হয়ত সহসাই পেয়ে যাবে কমলার পায়ের ঘুঙুরের একটি পুঁতি। পাবে কিনা জানি না, ভাবতে মন্দ লাগছে না – যদি সত্যিই পায়! কমলা তাহলে হয়তো আবার ফিরবে নিজ দেশে, শ্বশুরবাড়ি থেকে মেয়ে ঘরে ফিরলে কার না ভালো লাগে!

গ্রন্থপঞ্জি:

১. কলহন, রাজতরঙ্গিণী

২. করতোয়া মাহাত্ম্য

৩. অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, পঞ্চগৌড়েশ্বর জয়ন্ত, বঙ্গদর্শন নবপর্যায় (২য় খণ্ড)

৪. লেখক অজ্ঞাত, (কমল চৌধুরী সম্পাদিত) পুণ্ড্রবর্ধন, উত্তরবঙ্গের ইতিহাস ও সংস্কৃতি

৫. দীনেশচন্দ্র সেন রায়বাহাদুর, পূর্ব্ববঙ্গ গীতিকা (১ম খণ্ড),

৬. ড. অতুল সুর, ভারতের বিবাহ ইতিহাস

৭. আবুল কালাম মোহাম্মদ জাকারিয়া, দিনাজপুর মিউজিয়াম, ১৯৮৯

চিত্রঋণ: ছবি দুটি নেয়া হয়েছে পূর্ব্ববঙ্গ গীতিকা (১ম খণ্ড), দীনেশচন্দ্র সেন রায়বাহাদুর বই থেকে।

পেশায় ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট ও এক্সিকিউটিভ কোচ, শাহরিয়ার কবির সাহিত্য ও ইতিহাসের একজন একনিষ্ঠ ছাত্র। বিভিন্ন প্রত্নস্থল ঘুরে দেখতে ভালবাসেন। ইতিহাস চর্চায় তাঁর প্রধান বিষয়বস্তু প্রাচীন যুগ এবং পুণ্ড্র-বরেন্দ্র অঞ্চল নিয়েই তাঁর প্রধান বিচরণ কেন্দ্র।

মন্তব্য তালিকা - “কমলার নৃত্য ও জয়াপীড়”

  1. খুব ভাল ও মৌলিক লেখা। আঞ্চলিক ইতিহাস ও বৃহত্তর প্রেক্ষাপটকে এই যে মিলিয়ে ইতিহাস নতুনভাবে পরিবেশনের চেষ্টা এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের লেখা পড়লে মনে হয় ইতিহাসে আমাদের নিজেদের কথা ক্রমশ উঠে আসছে। শাহরিয়ার বাবুর আরেকটা বিষয়কে কুর্ণিশ জানাই, যা আন্তত আমি ক্রমশ শেখার চেষ্টা করছি তাঁদের লেখা থেকে, তা হল আঞ্চলিক ইতিহাসের মেথডলজি কি হবে, সেটা। আমার জানায় এই নিয়ে বহু সেমিনার হয়েছে বিশেষত আঞ্চলিক ইতিহাস নিয়ে যারা সিরিয়াস গবেষণা করেন তাদের ভেতরে। আমরা এই ধারার ইতিহাস ক্রমশ শিখছি, জানছি ও নিজেদের মত মেথডলজি প্রয়োগ করছি। শাহরিয়ার বাবুর লেখা এই চর্চার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে চলেছে।

    1. আপনাদের অকুণ্ঠ ভালোবাসা ও সহযোগিতা আমার চলার পাথেয়। শুধু ধন্যবাদ দিয়ে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই না, সেই সাথে জানাচ্ছি অতল শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। পাশে থাকবেন 🙏🙏

  2. একটি অসাধারণ প্রতিবেদন। ইতিহাস জেন জীবন্ত হয়ে চোখের সামনে ধরা দিল । আর এইরকম লেখার অনুরোধ রইল

  3. অসাধারণ লেখা। ইতিহাসের অনেক অজানা তথ্য জানা যায় এসব প্রতিবেদন থেকে। লেখনীতে অনেক মাধুর্য মিশ্রিত আছে তাই ইতিহাস যেন চোখের সামনে ভেসে উঠে। অসংখ্য ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।