সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

হেলেন লেপচা: দেশব্রতী সিকিম কন্যা

হেলেন লেপচা: দেশব্রতী সিকিম কন্যা

সুচেতনা মুখোপাধ্যায়

জুন ১, ২০২২ ৯৯

আদিগন্ত বিস্তৃত সিকিম হিমালয়ের দুর্গম দক্ষিণ কোলে ছোট্ট গ্রাম সাংমু। ১৯০২ সালের কোন এক ভোরে আচুং লেপচার বাড়িতে জন্ম নিলো এক কন্যা। একটু বড় হতেই আঙিনায় প্রাচীন পিয়ার গাছটির আশপাশে খেলে বেড়ায় সে। ফুটফুটে শিশুটির নাম রাখা হয়েছে হেলেন। আচুং তাঁর সাত সন্তানকেই আধুনিক ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চেয়েছিলেন। তাই গ্রাম ছেড়ে সপরিবারে উন্নততর জীবনের খোঁজে তিনি বাসা বাঁধলেন দার্জিলিংয়ের কার্শিয়াং শহরে। হেলেন তখন বেশ ছোট্ট। শহরের স্কটস্‌ মিশনারি স্কুলের প্রাথমিক বিভাগে ভর্তি করা হলো হেলেনকে। কিন্তু স্কুলের গণ্ডিবদ্ধ পঠন-পাঠন আর কঠোর শৃঙ্খলা মোটেই ভালো লাগতো না শিশুটির। তাই কষ্টেসৃষ্টে কয়েক বছর পড়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে বাড়ির প্রবল অমত সত্ত্বেও বিলাতি স্কুল ছেড়ে দিল হেলেন।

কৈশোর থেকেই পাহাড়ের গ্রাম-গ্রামান্তরে নিজের খেয়ালে একলা ঘুরে বেড়াতে খুব ভালো লাগতো হেলেনের। সেসময় বহুবার খুব কাছ থেকে সে দেখেছিল লেপচা সহ সমস্ত নিরীহ-গরীব পাহাড়ি মানুষের উপর প্রতিনিয়ত নির্মম অত্যাচার চালায় ব্রিটিশ সরকার। তার মনে চরম অমানবিক এই সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষের জন্ম হয়েছিল সেই দিনগুলিতেই। ক্রমে পাহাড়ি জনজাতিগুলিকে একজোট করে সরকারি পীড়নের বিরুদ্ধে  প্রতিরোধ গড়ে তোলার ইচ্ছা তীব্র হয়ে উঠলো হেলেনের মধ্যে। ১৯১৭-১৮ সাল নাগাদ, মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহ আন্দোলনের রেশ এসে পৌঁছেছিল দার্জিলিং পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে। সেখানে গোপনে গড়ে উঠছিল ব্রিটিশবিরোধী জাতীয়তাবাদী নানা সংগঠন।

সেইসব সংগঠনগুলির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করলো কিশোরী হেলেন। তাঁদের আলোচনা ও কার্যক্রমগুলিতে নিয়মিতভাবে উপস্থিত থাকতেও শুরু করলো সে। তাদের প্রভাবে ভারতবর্ষকে ব্রিটিশমুক্ত করার লক্ষ্যে দেশের সর্বত্র বহমান স্বাধীনতা আন্দোলনের যে কোন কাজে সর্বশক্তি নিয়ে সক্রিয় ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললো হেলেন। তখন তার মাত্র ১৭ বছর বয়স।

এসময় বাড়ির সকলের অমত সত্ত্বেও পাহাড় ছেড়ে কলকাতা শহরে চলে আসে হেলেন ও থাকতে শুরু করে তার দিদির সঙ্গে। কিছুদিনের মধ্যেই খাদি কাপড় বুনন শেখার জন্য গড়ে ওঠা স্বদেশী স্কুলে সে যোগ দেয়। সহজাত দক্ষতা ও একাগ্র নিষ্ঠায় চরকা চালাতেও শিখে যায় অতি স্বল্পসময়ে। চরকা চালনায় হেলেন এতটাই পারঙ্গম হয়ে উঠেছিল যে, তার প্রশিক্ষকরা তাকে বিহারের মুজাফফরপুরে আয়োজিত জাতীয় চরকা ও খাদি প্রদর্শনীতে কলকাতার স্কুলের প্রতিনিধিরূপে পাঠিয়েছিলেন।

১৯২০ সাল। প্রবল বন্যায় বিহার রাজ্য জুড়ে অগণিত মানুষ প্লাবিত ও ক্ষতিগ্রস্ত। একদিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয়, অন্যদিকে ন্যূনতম সরকারি ত্রাণের অভাবে রাজ্য জুড়ে সর্বহারা বন্যার্ত জনগণের ওপর নেমে এসেছে এক চরম বিপদ। বিহারের পরিস্থিতির খবর শুনে মানবদরদী তরুণী হেলেন দ্রুত ছুটে গেলেন সেখানে এবং আর্ত জনতাকে সাহায্যের কাজে সম্পূর্ণ আত্মনিয়োগ করলেন। বন্যা পরিস্থিতি, দরিদ্র জনগণের দুরবস্থা এবং কংগ্রেসের স্বেচ্ছাসেবীদের দ্বারা পরিচালিত ত্রাণকাজ পরিদর্শন করতে সে সময় বিহারে এসেছিলেন মহাত্মা গান্ধী। হেলেনের অসামান্য সেবাদানের সুখ্যাতি শুনে তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন এবং আমেদাবাদের সবরমতী আশ্রমে আসার জন্য তাঁকে আহ্বান জানান। বিহারের পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার পর সবরমতী আশ্রমে এসে হেলেন গান্ধীবাদী জীবনাদর্শ ও কার্যপদ্ধতির সঙ্গে সম্যকভাবে পরিচিত হলেন। আশ্রমে মহাত্মা হেলেনের বিদেশি নামটি পাল্টে নতুন নাম রেখেছিলেন, সাবিত্রী দেবী। এরপর থেকে আজীবন তাঁর বিবিধ কার্যক্ষেত্রে সাবিত্রী দেবী নামেই সুবিদিতা হয়েছিলেন সিকিম কন্যা হেলেন লেপচা।

১৯২১- ২২ সালে, অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের সময় কংগ্রেস স্বেচ্ছাসেবী রূপে সাবিত্রী দেবীকে সাবেক যুক্তপ্রদেশ ও বিহারের গ্রামাঞ্চলে সত্যাগ্রহ আন্দোলন সংগঠিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিস্তীর্ণ গ্রামান্তর ও বিহারের খনি অঞ্চলগুলিতে ঘুরে ঘুরে দরিদ্র কৃষক, শ্রমিক ও প্রান্তিক দলিত জনগণকে তিনি সফলভাবে স্বাধীনতা আন্দোলনের লক্ষ্যে সংগঠিত করেন। চির অবহেলিত এই মানুষগুলির প্রতি নিখাদ মমত্ব ও নিবিড় সেবামূলক কাজ সাবিত্রী দেবীকে বিহারের ঝরিয়ার খনি শ্রমিক ও যুক্তপ্রদেশের চাষিদের অতি নিকটজন করে তুলেছিল।

কিন্তু এরই পাশে আঞ্চলিক ব্রিটিশ প্রশাসনের প্রবল মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন তিনি। গ্রাম দেহাতের জমায়েতগুলিতে তাঁর ব্রিটিশ বিরোধী আগুন ঝরানো বক্তৃতাগুলির ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও সরকার বিরোধী রাজনৈতিক কার্যকলাপের কারণে অচিরেই তাঁকে গ্রেফতার করতে তৎপর হয়ে উঠলো সরকার। এমনকি এক মিছিলে তাঁর উপর পুলিশের তরফে গুলিচালনার ঘটনাও ঘটলো। কিন্তু সাবিত্রী দেবী প্রতিবারই সুকৌশলে গ্রেফতারি এড়িয়ে আত্মগোপন করতে সফল হতেন। জাতীয় কংগ্রেসের আমেদাবাদ সম্মেলনে হেলেন যোগ দিয়েছিলেন এসময় আর সরোজিনী নাইডু, জওহরলাল নেহরু, মোরারজি দেশাই সহ কংগ্রেসের প্রথম সারির নেতানেত্রীরা সাগ্রহে এই নির্ভীক হিমালয়কন্যার সঙ্গে সখ্যতাও গড়ে তুলেছিলেন। অসহযোগ আন্দোলনের চরমতম পর্বে  ১৯২১ সালে কলকাতা শহরের মহম্মদ আলী পার্কে মহাত্মা গান্ধী, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ও বাসন্তী দেবীর উপস্থিতিতে আয়োজিত এক মহতী জনসভায় তাঁর মূল কর্মস্থল ঝরিয়ার কয়লাখনি অঞ্চল থেকে শ্রমিকদের একটি বিশাল মিছিলকে নেতৃত্ব দিয়ে নিয়ে এসেছিলেন সাবিত্রী দেবী।

অসহযোগ আন্দোলনের শেষদিকে সাবিত্রী দেবীর মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায়, তাঁর সেবাশুশ্রূষার জন্য সাময়িকভাবে কলকাতা ছেড়ে কার্শিয়াঙয়ের বাড়িতে ফিরে যান পাহাড়ের বিপ্লবী কন্যা। কিন্তু সেখানেও আঞ্চলিক আন্দোলন সংগঠিত করা থেকে দীর্ঘদিন নিজেকে বিরত রাখতে পারেননি সাবিত্রী দেবী। ১৯২২ এর জানুয়ারি মাসে শিলিগুড়ি শহরের বুকে সাবিত্রী দেবী এবং কংগ্রেসের গোর্খা স্বেচ্ছাসেবকদের নেতৃত্বে শুরু হয়েছিল বিদেশি পণ্য বয়কট অভিযান। সাবিত্রী দেবীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে গোর্খা জনজাতি ছাড়াও পাহাড় ও সমতলের বহু মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই অভিযানে জমায়েত হচ্ছিলেন প্রতিদিন। কিন্তু শিলিগুড়ির শ্বেতাঙ্গ প্রশাসন এই অভিযান বিফল করার জন্য শহরের সর্বত্র জারি করে কার্ফু। নিরস্ত্র প্রদর্শনকারীদের ওপর নির্বিচারে লাঠি ও গুলি চালানোও শুরু হয় একসময়। সাবিত্রী দেবী এবং কংগ্রেস সচিব ই. আহমেদ সহ গোর্খা মুক্তিসংগ্রামীরা গ্রেফতার বরণ করেন। বিচারে তিনমাসের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন সবাই। কারাদণ্ড শেষ হলেও তাঁদের পক্ষে চরম বিপজ্জনক সাবিত্রী দেবীকে পুরো মুক্তি না দিয়ে আবারও তাঁকে কার্শিয়াঙয়ের বাড়িতে নজরবন্দি করে রাখে ব্রিটিশ সরকার। এরপর আর সমতলে তাঁর পুরোনো কার্যক্ষেত্রে ফিরে যাননি সাবিত্রী দেবী। ১৯৩০ ও ৪০ এর দশকে দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি এলাকাতেই একদিকে সমাজসেবা অন্যদিকে ব্রিটিশবিরোধী গণআন্দোলন গড়ে তোলার কাজে মনোনিবেশ করেছিলেন তিনি।

১৯২৫ সাল। অসুস্থ চিত্তরঞ্জন দাশকে দেখতে মহাত্মা গান্ধী এসেছেন দার্জিলিংয়ে। সেসময় একদিন বহুমূল্য নানা গহনা পড়ে সাবিত্রী দেবী গান্ধীজীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। এক সত্যাগ্রহী দেশকর্মীর পক্ষে সর্বতভাবে অনুপযুক্ত এই মহার্ঘ বেশভূষা দেখে মহাত্মা অসন্তুষ্ট হয়ে ওঠেন এবং তাঁকে অবিলম্বে বিলাসী জীবনযাপন ত্যাগ করতে নির্দেশ দেন। নিজের ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত সাবিত্রী দেবী সেদিন সেই মুহূর্তেই নিজের সকল গহনা খুলে জাতীয় আন্দোলনের ব্যয় বহনের জন্য গঠিত ‘স্বরাজ ফান্ডে’ দান করে দিয়েছিলেন। এরপর থেকে আমৃত্যু তিনি আর কখনও কোন গহনা পরিধান করেননি। মহাত্মা গান্ধীর সন্ন্যাসীসম জীবনচর্যা গভীরতমভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল সাবিত্রী দেবীকে। বাকি জীবন পারিবারিক সূত্রে প্রাপ্ত নিজের সকল বহুমূল্য দ্রব্যাদি দেশ ও দরিদ্র সেবায় বিলিয়ে দিয়ে সম্পূর্ণ অনাড়ম্বর জীবন যাপন করেছিলেন তিনি।

১৯৩২ সালে সাবিত্রী দেবী কার্শিয়াং পৌরসভার প্রথম মহিলা প্রধান নির্বাচিত হয়েছিলেন। জনপ্রিয় এই নেত্রী জাতি-ধর্ম-গোষ্ঠীবোধের অনেক উপরে আপামর পাহাড়ি জনগণের সেবায় সবসময় তৎপর থাকতেন। লেপচা ও অন্যান্য পার্বত্য উপজাতিদের গণসংঘগুলি, কার্শিয়াং নগর কংগ্রেস এবং অঞ্জুমান-এ- ইসলামিয়ার মত বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সাবিত্রী দেবী। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে আমৃত্যু তাঁর প্রশ্নাতীত গ্রহণযোগ্যতা ছিল।

১৯৩৬ সালে কার্শিয়াংয়ের গিদ্দা পাহাড়ের একটি বাড়িতে সুভাষচন্দ্র বসুকে সাত মাসের জন্য অন্তরীণ করে রেখেছিল ব্রিটিশ সরকার। এই পর্যায়ে সুভাষচন্দ্রের সঙ্গে অপরাপর জাতীয়তাবাদী নেতাদের গোপন যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিলেন সাবিত্রী দেবী। স্বামী ঈশান আহমেদের বেকারিতে বানানো রুটির মধ্যে লুকিয়ে দেওয়া নেওয়া হতো স্বাধীনতা আন্দোলন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নানা তথ্যে ভরা চিঠি। সেই বাড়িতেই সম্ভবত বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহায়তা লাভের উদ্দেশ্যে ভারত থেকে মহানিষ্ক্রমণের প্রাথমিক পরিকল্পনা সুভাষচন্দ্র শুরু করেছিলেন আর সেই পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহায়িকা ছিলেন সাবিত্রী দেবী। তিনি ছিলেন মাতৃভূমির স্বাধীনতার প্রতি একনিষ্ঠ কর্মী এবং সম্পূর্ণ প্ৰচার বিমুখ এক ব্যক্তিত্ব। তাই তাঁর ১৯২০ এর দশকের ব্যাপক রাজনৈতিক সক্রিয়তা বা ১৯৩৬ পরবর্তী সময়ের গোপন কার্যাবলী সম্পর্কে ভাবীকালের পক্ষে জানা সম্ভব হয়েছে কেবলমাত্র সমকালীন প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকেই। 

ভারতবর্ষ স্বাধীনতা লাভ করার পর থেকে আমৃত্যু সাবিত্রী দেবী পাহাড়ি জনজাতিগুলির সার্বিক উন্নয়নের জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে গিয়েছিলেন। মহীয়সী এই জননেত্রীকে ১৯৭২ সালের ১৫ অগাস্ট তাম্রপত্র ও পেনশন দিয়ে সম্মান জানিয়েছিলেন স্বাধীন ভারত সরকার। তাঁর বহুমুখী সমাজসেবামূলক কাজের পর্বগুলি বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে ক্রমে সীমিত হয়ে এলেও তিনি আমৃত্যু মানুষের জন্য সক্রিয় ছিলেন। ১৯৮০ সালে সকলের অগোচরে একান্তে প্রয়াত হয়েছিলেন দেশব্রতী সিকিমকন্যা হেলেন লেপচা, মহাত্মা গান্ধীর পরম স্নেহের সাবিত্রী দেবী।

দার্জিলিং পাহাড়ের প্রান্তিক উপজাতিরা, যুক্তপ্রদেশের গ্রামীণ কিষাণ হোন বা দলিত ক্ষেতমজদুর অথবা বিহারের কয়লাখনি অঞ্চলের দরিদ্রতম শ্রমিক; নীরব বঞ্চিত শ্রমজীবী জনতার ভিতর সাবিত্রী দেবীর রাজনৈতিক সংগঠন এবং সেবাকাজের প্রকৃত মূল্যায়ন স্বাধীনতার সাত দশক পরে আজও হয়ে ওঠেনি। তাঁর স্মৃতিতে নিদেনপক্ষে একটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনও হয়নি তাঁর কর্মক্ষেত্রগুলির কোথাও। কার্শিয়াং ও দার্জিলিং পাহাড়ের গোর্খা ও লেপচা জনজাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ পরিচিতির বাইরে তাঁর প্রিয়তম দেশের পরবর্তী প্রজন্মরা মনে রাখেনি তাঁর অবদান। তিনি এতখানিই বিস্মৃত যে তাঁর জীবন সম্পর্কে বিশদতর তথ্য পাওয়াও দুরূহ হয়ে উঠেছে বর্তমানের গবেষকদের কাছে। তবে তাঁদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় সাবিত্রী দেবীর অনন্য জীবনের মেঘাচ্ছন্ন অংশগুলি দ্রুত নিশ্চয়ই আলোকিত হয়ে উঠবে, সে আশা রাখাই যায়।

উৎস সূত্র:

১) Helen Lepcha Alias Sabitri Devi: Lone Freedom Fighter From The Lepcha Tribe – Dr. Shera Pandi Molommu

২) HISTORICAL AWAKENING: BGP To Remember Helen Lepcha, The Lone Crusader From Sikkim – Himalgroup

বর্তমানে শিক্ষকতার পেশায় নিযুক্ত লেখক ও প্রাবন্ধিক সুচেতনা মুখোপাধ্যায় অতীতের প্রেসিডেন্সি কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছেন। নারী ইতিহাস রচনা ও সমাজে তাদের অবদানকে উন্মিলিত করা তিনি নিজের ব্রতজ্ঞান করেন। তার রচিত ‘আলোর মেয়েদের গল্প’ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্রন্থ। নিয়মিত লেখালেখি, নারী আন্দোলন ও সামাজিক কাজে যুক্ত থাকা তার আগ্রহের বিষয়।

মন্তব্য তালিকা - “হেলেন লেপচা: দেশব্রতী সিকিম কন্যা”

  1. খুব সুন্দর প্রতিবেদন। এইরকম ভুলে যাওয়া মহৎ প্রাণদের কীর্তি সামনে নিয়ে আসা উচিৎ

    1. আমার লেখাটি সময় বের করে পড়ার জন্য ও পছন্দ করার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

  2. আনেক না জানা জীবনের একটা জীবন সাবিত্রী দেবীর।
    লেখিকাকে ধন্যবাদ জানাই।

    1. পড়ে ভালো লেগেছে জেনে আনন্দিত হলাম।
      আন্তরিক ধন্যবাদ আপনাকেও।

  3. তথ্য প্রচুর, কিন্তু স্টোরি হয়নি। পর পর তথ্য গুলো সাজিয়ে দিয়ে লেখা ইতিহাস আমরা ক্লাস সেভেন এইটেই পড়ে ফেলেছি। এখন মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য গল্প দরকার।

    1. সময় খরচ করে পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে শান্তনুবাবু।
      তবে “স্টোরি হয়নি” বলতে কি বোঝাতে চেয়েছেন, সেটি বুঝলাম না। অনুগ্রহ করে বুঝিয়ে দেবেন। আমি সমৃদ্ধ হবো।

      দেখুন আমি অতি পন্ডিত/বিদগ্ধজনের জন্য নয়, আমার মতো ইতিহাস আগ্রহী সাধারণ পাঠকদের জন্য লিখি। অজানা অথচ আকর্ষণীয় যে কোন ঐতিহাসিক বিষয় তাঁদের কাছে প্রাঞ্জল,সহজ,সঠিক ও নিরপেক্ষভাবে হাজির করার চেষ্টা করি অনেককাল ধরেই।
      তাঁদের প্রতিক্রিয়া দেখে লেখাগুলি কেবলই ‘নিরস তথ্যসমৃদ্ধ’ তা তো কখনো মনে হয়নি।

      আপনার বক্তব্যটি উদাহরণ সহ ব্যাখ্যা করলে ভবিষ্যতে লেখার ক্ষেত্রে উপকৃত হবো।

      অগ্রিম ধন্যবাদ জানবেন।

    1. লেখাটি পড়ার জন্য আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জানবেন।