সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

কফিহাউসের সেই আড্ডাটা

কফিহাউসের সেই আড্ডাটা

কাবেরী চ্যাটার্জী রায়

জানুয়ারি ২৭, ২০২৪ ৩২২ 32

পেনি ইউনিভার্সিটি— নামটা কানে বেশ একটু অদ্ভুত শোনাচ্ছে বটে, কিন্তু অক্সফোর্ড শহরের কফির দোকানগুলোকে তখন এই নামেই ডাকে সেখানকার মানুষ। শব্দটা সপ্তদশ শতাব্দীর। সময়টা আন্দাজ ১৬৫০। অক্সফোর্ড শহরের রাস্তার ধারে খোলা হয়েছে ইংল্যান্ডের প্রথম কফিহাউস। মাত্র এক পেনির বিনিময়ে সেখানে মেলে ফায়ার প্লেসের ধারে সুগন্ধি গরম কফি, বিদগ্ধ আলোচনা আর জ্ঞানী-গুণী মানুষজনের সান্নিধ্য। অক্সফোর্ডের ছাত্র বা শিক্ষক না হয়েও সেখানকার জ্ঞানী-গুনী মানুষের সঙ্গে সমানে সমানে কথাবার্তা, আলোচনা, তর্ক বিতর্কের সুযোগ। সঙ্গে? কফি। পৃথিবীর অন্য প্রান্ত থেকে আসা চনমনে সুগন্ধি এক নতুন পানীয় যা মানুষের শরীর মন দুইই চাঙ্গা করে দেয়।

এই স্বাদ গন্ধ তখন অক্সফোর্ডের তো বটেই, সারা ইংল্যান্ডের মানুষের কাছেই একেবারে নতুন।

এতদিন পর্যন্ত সবাই যেত সরাইখানা বা বীয়ারহাউসে— যেখানে জিন, বীয়ার, এল এইসব মাদক পানীয় মেলে। নার্ভকে আর তার সঙ্গে সঙ্গে চিন্তাশক্তিকেও আস্তে আস্তে যা শিথিল করে দেয়— চুমুকে চুমুকে। আবার কফিহাউস মানুষকে দিতে শুরু করল কফি, হট চকোলেট, চায়ের মতো চনমনে চাঙ্গা করা গরম পানীয়। প্রতি চুমুকে যা কাটিয়ে দিচ্ছে মগজের, শরীরের জড়তা, ক্লান্তি, ঘুম।

আসলে, ষোল’শ শতাব্দীর শেষ ভাগ থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় দ্রুত ব্রিটিশ বাণিজ্য ছড়িয়ে পড়বার সঙ্গে সঙ্গে, আফ্রিকা আর এশিয়ায় বহু যুগ ধরে জনপ্রিয় তিনটে পানীয় এসে পৌঁছোয় ইংল্যান্ডে— কফি, চকলেট আর চা। তিনটেই উদ্ভিদজাত, তিনটেই শরীর মনকে চাঙ্গা করে, তিনটেই মূলতঃ গরম পানীয়। সাধারণ ব্রিটিশদের কাছে অবশ্য এই পানীয়গুলো সুলভ হতে শুরু করে আরও বেশ কয়েক দশক পরে। কফিহাউসগুলোর হাত ধরে।

ইতিমধ্যে কফিকে ব্রিটিশরা জানছে মূলতঃ ওষধি হিসেবে। কফি নিয়ে গবেষণা করে কেউ বলছেন, কফি মাথার যন্ত্রণা, গেঁটেবাত, স্কার্ভি, স্মল পক্স আর মাতলামি সারায়। কেউ বলছেন বেশি মাত্রায় কফি থেকে বিভিন্ন নার্ভাস ডিসঅর্ডার এমন কি প্যারালিসিস পর্যন্ত হতে পারে। এই সব আলোচনা আর গবেষণা চলতে চলতে, কয়েক দশকের মাথায় দেখা গেল ইংল্যান্ড কফিকে কেবলমাত্র ওষধি ভাবছে না। দিব্যি একটা পানীয় ভাবতে শুরু দিয়েছে।

এই বদলাতে থাকা ভাবনার মধ্যেই, জ্যাকব নামে এক ইহুদি ১৬৫০ সালে ইংল্যান্ডের প্রথম কফিহাউস নিয়ে এলেন অক্সফোর্ডের ‘দ্য এঞ্জেল কোচিং ইনে’। এখন সেখানেই অক্সফোর্ডের বিখ্যাত ‘গ্ৰ্যন্ড কাফে’। জ্যাকব সাহেবের সেই কফিহাউসের জনপ্রিয়তা ছিল এতটাই যে তার পরে পরেই দ্বিতীয় কফিহাউস চালু হল কেমব্রিজে।

অক্সফোর্ড আর লন্ডনের বিভিন্ন জায়গায় ঝটপট আরও বেশ কিছু কফিহাউস চালু হয়ে গেল। যেখানে প্রবেশমূল্য মাত্র এক পেনি। সমাজের সব শ্রেণীর, সব বয়সের মানুষ সেখানে ঢুকে মাত্র এক পেনি খরচা করলেই পাচ্ছেন চাঙ্গা করা গরম কফি, বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে এক টেবিলে বসবার, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবার, মতামতো দেবার বা তর্ক বিতর্কের সুযোগ। মনে রাখতে হবে, যে সময়ের কথা হচ্ছে তখন ইংল্যান্ডে সামাজিক আর অর্থনৈতিক শ্রেণিবিভাগ ছিল বেশ জোরদার। অথচ এই সব কফিহাউসে হয়তো দেখা যেত, এক টেবিলে এক বিখ্যাত আর্লের পাশে এক নামকরা জজ আর তাঁর পাশে তুলনায় অচেনা এক সাধারণ অক্সফোর্ডবাসী বা ছাত্র বসে কফির চুমুকের সঙ্গে তুমুল আলোচনা করছেন। বিষয় কোনো পাণ্ডুলিপি বা সদ্য প্রকাশিত কোনো বই বা থিসিস বা নতুন কোনো গবেষণা; অথবা রাজনৈতিক পরিস্থিতি বা মতাদর্শ। কেবলমাত্র একটা পেনির তোয়াক্কা। তার বদলে গরম ফায়ারপ্লেসের কাছে বন্ধুবান্ধব বা বিদগ্ধ মানুষদের সঙ্গে যতক্ষণ ইচ্ছে কথা বলার সুযোগ, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা আর জানবার সুযোগ। কফির কাপ হাতে। ওই এক পেনির দৌলতে এক কাপ কফি আবার খালি হবার পরে ভরেও যাচ্ছে দিব্যি। চারপাশের কথাবার্তা, পরিবেশ, হাতের গরম কফি সব কিছু মিলে চাঙ্গা হয়ে যাচ্ছে মন শরীর দুই-ই। অক্সফোর্ডের ছাত্ররা সব তখন এই কফিহাউসগুলোর পৃষ্ঠপোষক। কেউ কেউ ক্লাসের থেকে বেশি সময় কাটায় কফিহাউসের ফায়ারপ্লেসের কাছে, সমমনস্ক মানুষদের সঙ্গে। পাণ্ডুলিপি পড়া, আলোচনা, টুকরো কথা, তর্ক বিতর্কের মধ্যে দিয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথাগত শিক্ষা কাঠামোর বাইরে আরেকটা শিক্ষা ক্ষেত্র জন্ম নিল। এসব দেখে কোনো কোনো কফিহাউস তাদের বিদগ্ধ পৃষ্ঠপোষকদের সাহায্যে বিভিন্ন বিষয়ে ছোটখাটো কোর্সও চালু করে দিয়েছিল। বিজ্ঞান, দর্শন, সাহিত্য, ভাষা এমন কি অসিক্রীড়া অব্দি শেখানো হতো সেখানে। আর এইসবের মধ্যেই একদিন দেখা গেল কফি হাউসগুলোর বাজার চালু নাম হয়ে গেছে ‘পেনি ইউনিভার্সিটি’।

আসলে, কফিহাউস আর সরাইখানার চরিত্রগত ফারাক সবাই বুঝে গেছে ততদিনে। কফিহাউসে মাদক পানীয় মেলে না। তাই সরাইখানা বা বীয়ারহাউসের মতো শুধুমাত্র দেখা হওয়া আর আবোলতাবোল হৈ হৈ আড্ডা নয়, কফিহাউসে হয় সুস্থ, সুচিন্তিত আলোচনা, আদানপ্রদান, তর্ক বিতর্ক। লিখিত বা অলিখিত বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলত কফিহাউসগুলো আর তাদের পৃষ্ঠপোষকরা। যেমন, তর্ক বিতর্কের মাঝে কোনো বাজে কথা মুখ দিয়ে বেরোলে বারো পেন্স জরিমানা হবে, ঝগড়া হলে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে কফি খাওয়াতে বাধ্য থাকবে, তাস-পাশা খেলা বা বাজি ধরা নৈব নৈব চ, সবাই সেখানে সমান তাই কাউকেই উঠে দাঁড়িয়ে অন্য কারোর জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে হবে না। এমন কি ১৬৭৪ সালে ‘রুলস এণ্ড অর্ডার্স অফ কফিহাউস’ ছাপা অব্দি হয়েছিল।

এদিকে, ততদিনে অক্সফোর্ডের দেখাদেখি লন্ডনেও এসে পৌঁছে গেছে পেনি ইউনিভার্সিটি। খুব সম্ভব ১৬৫২ সালে লন্ডনের প্রথম কফিহাউস, কর্ণহিলে— পাস্কা রোসি নামের এক তুর্কের। দ্বিতীয় কফিহাউস ‘দ্য টেম্পল বার’ ১৬৫৬ সালে। শহরের পাড়ায় পাড়ায়, রাস্তার ধারে ধারে তখন কফিহাউস। শহরের যে কোনো প্রান্তে কারোর সঙ্গে দেখা করবার, কম খরচে আগুনের ধারে এককাপ কফি হাতে কথাবার্তায় সময় কাটাবার সুযোগ পেয়ে সাধারণ মানুষ খুশি। ১৬৫০ সাল থেকে এক’শ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাই চূড়ান্ত জনপ্রিয় কফিহাউসগুলো। নোয়ার আর্কের মতো, সবার জন্য জায়গা আছে সেখানে। এমনকী লন্ডনের ১৬৬৫-র ভয়াবহ ইয়েলো ফিভার বা ১৬৬৬-র ভয়ঙ্কর আগুনেও কফিহাউসের জনপ্রিয়তা কমেনি।

পাস্কা রোসির কফিহাউসেকে আজও মনে রেখেছে লন্ডন

মনে রাখতে হবে, সে সময়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমন জোরালো ভাবে গড়ে ওঠেনি। টেলিফোন, টেলিগ্রাফ নেই। ডাকব্যবস্থাও পরবর্তী সময়ের তুলনায় খুবই কমজোরি। ফলে, মুখের কথা, গুজব, শোনা কথা— এ সবই তখন খবরের সূত্র। এই আবহে, মানুষে মানুষে মুখোমুখি দেখা করবার, নেশা না করে সুস্থভাবে তথ্য আদান প্রদান বা বিশ্লেষণের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছিল এই পেনি ইউনিভার্সিটিগুলো। ‘রানার’রা দৌড়ে দৌড়ে ক্রমাগত এক কফিহাউস থেকে আরেক কফিহাউসে, এই টেবিল থেকে ওই টেবিলে সারাদিন পৌঁছে দিত তাজা খবর। সংগ্রহ করে নিত সেখানকার খবর। কফিহাউসগুলোর বিলি করা ক্ষুদ্র প্রচারপত্র, ইস্তাহারগুলোর দাম ধরা থাকতো কফির দামের মধ্যেই। পৃষ্ঠপোষকরা তাঁদের সময় সুবিধা মতো সেগুলো পড়তেন। অর্থাৎ, পরবর্তীকালের প্রিন্ট এন্ড পাবলিশিং বা নিউজপেপার ইন্ডাস্ট্রির পথ চলা শুরু এখান থেকেই।

রাজনৈতিক দলগুলোও কফিহাউসেই দেখা করত। রাজনৈতিক খবর, রাজনৈতিক কেচ্ছা, পরবর্তী পদক্ষেপ— সব তথ্যের আদানপ্রদানের জায়গা তখন কফিহাউস। এসব কারণে রাজা দ্বিতীয় চার্লস গদি কেঁপে ওঠবার ভয় পেয়েছিলেন। ১৬৭৪-র ঊনিশে ডিসেম্বর তাই হুকুমনামা জারি হয়েছিল— সমস্ত কফিহাউস বন্ধ করে দিতে হবে। কিন্তু সারা দেশ জুড়ে ঝড় উঠল এই আদেশের বিরুদ্ধে। চূড়ান্ত বিরুদ্ধ জনমতের পাশাপাশি কফিহাউস মালিকদের যুক্তি— কফি, চা, চকলেট বিক্রি পড়ে গেলে তো এই পানীয়গুলো বিক্রির খাতে সরকারের পাওনা করও কমে যাবে। কফিহাউসকে সরকার যে অনুমতিপত্র দেয় সেই অনুমতিপত্রর জন্য দেয় করও পাবে না। ফলে, দেশের অর্থনীতি ধাক্কা খাবে, ক্ষতি হবে সাধারণ মানুষের। সব মিলিয়ে অবস্থা এতটাই উত্তাল হয়ে দাঁড়াল যে মাত্র এগারো দিনের মাথায় রাজা সেই হুকুমনামা তুলে নিতে বাধ্য হলেন। তারিখটা দশই জানুয়ারি, ১৬৭৬।

অবশ্য এর পরবর্তীকালে ধর্ম আর রাজনীতি, চিরকালের দুটো স্পর্শকাতর বিষয়কে, কফিহাউসের আলোচনার বিষয় নয় বলেই মনে করা হতো।

সাধারণ মানুষের মধ্যে তখন কফিহাউসের জনপ্রিয়তা এতটাই ছিল যে খুচরো পয়সা ফেরত না দিতে পারলে তারা টী বা কফি টোকেন দিত। অনেকটা আজকালকার দিনে খুচরো পয়সার বদলে লজেন্স দেবার মতো। টোকেনগুলো তামার, পেতলের বা চামড়ার ওপর গিল্টি করা, যে কফিহাউস দিচ্ছে তার নাম লেখা। সেই পাড়ার অন্যান্য দোকানে সেগুলো চলতো। তবে সাধারণত আশেপাশের দোকানেই চলত, দূরে না।

অবশ্য কফিহাউসের এই গল্পের মূল চরিত্র ছিলেন পুরুষেরাই। কারণ সেই সময়কার ব্রিটিশ সমাজ মোটেও মহিলাদের সমমর্যাদা দিয়ে তাদের সঙ্গে কফির পেয়ালায় তুফান তোলবার জন্য তৈরি ছিল না। ভদ্র পরিবারের মহিলাদের কফিহাউসে খুব একটা দেখা যেত না। ‘নিউজ রানার’ হিসেবে যে কজন মহিলা দৌড়ে বেড়াতেন এই কফিহাউসের টেবিল থেকে ওই কফিহাউসের টেবিলে , তাদের চরিত্র নিয়ে রসালো কথা ভাসতো বাতাসে। 

কয়েক’শ বছর আগের সেই তাবড় তাবড় কফিহাউসের কেউ কেউ আজও রয়ে গেছে অন্য চেহারায়। যেমন, ১৬৮৮ সালের এডওয়ার্ড লয়েডের ‘লয়েডস’। সেখানে ভীড় করত জাহাজ মালিক, আমদানি-রপ্তানী ব্যবসায়ী আর নাবিকদের দল। শিপিং ইন্ডাস্ট্রির নানা খবরাখবর মিলত সেখানে। শিগগিরই দেখা গেল, সেখানে জাহাজের আর জাহাজী মালপত্রের বিমা করানো হয়। আর সেই তখন থেকেই, সময়ের উঁচু নিচু বাঁকের ওপর দিয়ে চলতে চলতে এসে আজ আমরা পাই বিখ্যাত বিমা সংস্থা লয়েডস অফ লন্ডন।

এদিকে দশকের পর দশক ধরে কফিহাউসের এই জনপ্রিয়তার পাশাপাশিই ঘটে যাচ্ছিল আরও অনেক কিছু। বিভিন্ন পেশা, চরিত্র, শ্রেণি, মানসিকতার মানুষেরা এক জায়গায় নিয়মিত ভাবে আসতে থাকায়, ধীরে ধীরে কিছু মানুষ মিলে একেকটা দল হতে শুরু করল যারা কেবলমাত্র নিজেদের মধ্যে মেলামেশা কথাবার্তাই পছন্দ করে। উন্নাসিকতা এসে আস্তে আস্তে সরিয়ে দিল কফিহাউসের গণতান্ত্রিক চরিত্র। গোড়াপত্তন হল ক্লাব সংস্কৃতির। ক্লাবের দরজা শুধুমাত্র তার সদস্যদের জন্যই খোলা, অথচ সদস্যদের পদ সবার জন্য নয়। আস্তে আস্তে দেখা গেল, অষ্টাদশ শতকের শুরুতে লন্ডনে যত কফিহাউস ছিল, শতাব্দীর শেষে ক্লাবের সংখ্যা প্রায় তাই।

শুধু তাই নয়, ততদিনে পাড়ার মুদিখানায় চা আর কফি সহজলভ্য। মানুষ ইচ্ছে করলেই বাড়িতে বানিয়ে নিতে পারে তার প্রিয় পানীয়। উপরন্তু, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চায়ের একচেটিয়া ব্যবসাকে সাহায্য করবার জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেতে শুরু করল চায়ের ব্যবসা। ব্রিটেন সগর্বে ‘টী ড্রিঙ্কিং নেশনের’ তকমা এঁটে নিল গায়ে। সেখানে কফি পিছু হটল।

ধীরে ধীরে পেনি ইউনিভার্সিটিরাও ঘুমিয়ে পড়ল সময়ের আস্তরণের তলায়। তারা যে রমরম করে রাজত্ব করেছিল প্রায় একশ বছর ধরে, গোড়াপত্তন ঘটিয়েছিল প্রিন্ট মিডিয়া আর সংবাদ প্রকাশনা শিল্পর, জড়িয়ে গেছিল বড়ো বাজেট বিমাসংস্থার সঙ্গে, ‘ব্রিটিশ এনলাইটমেন্ট’ জামানার সঙ্গে, এই সব তথ্য বিশ্রাম নিতে লাগল লোকচক্ষুর আড়াল, পুরোনো দলিল দস্তাবেজের তলায়।

আর তার পাশাপাশিই শুরু হল আর এক নতুন গল্পের— চা এসে পৌছাল ব্রিটিশ বৈঠকখানা থেকে আমাদের পাড়ার রোয়াকে, পাড়ার দোকানে, রেল স্টেশনে। ভারতবর্ষের চা অনায়াসে পৃথিবী জয় করতে বেরিয়ে পড়ল। আমরা জানতে শুরু করলাম নানা সময়ের চা পাতার স্বাদের বাহার, নানান পদ্ধতিতে চা তৈরি করা। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে, ব্রিটিশ সাহেবদের হাত ধরে তাদের বিজ্ঞাপন মেশিনারির মাধ্যমে, আমাদের রোজকার জীবনের অঙ্গ হয়ে উঠতে শুরু করল পৃথিবীর দ্বিতীয় জনপ্রিয় পানীয়, জলের ঠিক পরেই যার স্থান, চা।

তথ্যসূত্র:

  1. English Coffeehouses in the 17th and 18th centuries – Wikipedia https://en.m.wikipedia.org/wiki/English_coffeehouses_in_the_17th_and_18th_centuries (visited on 03/01/2023)
  2. William H.Ukers, All About Tea’, (original publication by Kingsport Press Inc,) Reprinted by Rio Akasaka, chapter IV, (2023): 43-46
  3. https://www.historic-uk.com/CultureUK/English-Coffeehouses-Penny-Universities/ (visited on 04.01.2024)
  4. London Coffee House Tokens, https://c17thlondontokens.com/category/london-coffee-house-tokens/
  5. Coffeehouse tokens, https://www.mernick.org.uk/lnc/talks/2006oct.htm (visited on 03/01/2024)
  6. Rules and orders of coffeehouse, https://quod.lib.umich.edu/e/eebo/B01780.0001.001/1:1.1?rgn=div2;view=fulltext (visited on 03/01/2024)
  7. https://www.bbc.com/travel/article/20201119-how-coffee-forever-changed-britain#:~:text=The%20king%20feared%20that%20coffee%20may%20provoke%20instigation,of%20Coffee%3A%20The%20Emergence%20of%20the%20British%20Coffeehouse (visited on 04.01.2024)
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর। বর্তমানে কলকাতা বন্দরে কর্মরত। ভালোবাসেন ইতিহাস, কবিতা এবং চা। এছাড়াও নিয়মিত গল্প-টী-খাসা নামে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এক কাপ চায়ের সঙ্গে, বাংলা গল্প পাঠ করে শোনান।

মন্তব্য তালিকা - “কফিহাউসের সেই আড্ডাটা”

      1. পাশ্চাত্য জগতে কফি ব্যবহারের প্রারম্ভ ও তার বিস্তারের ইতিবৃত্ত জেনে খুব ভালো লাগলো । লেখাটি অত্যন্ত পাঠযোগ্য এ কৌতুহলোদ্দীপক ।

  1. লেখা খুব সুন্দর। অনেক অজানা খবর জানা গেল। এই সঙ্গে ভারতবর্ষে কফির চাষ ও প্রচলন সম্পর্কে জানতেও ইচ্ছা করছে।

  2. অসম্ভব সব অজানা তথ‍্য সমৃদ্ধ চমৎকার লেখা। এক কাপ কফি খেতে কার না ভালো লাগে? কিন্তু সেই এক কাপ কফির পেছনে কত মানুষের কত পরিশ্রম,কত অবদান আছে তা জেনে সত্যিই অভিভূত।

  3. পেনী ইউনিভার্সিটি খ্যাত অক্সফোর্ড ও পরবর্তীতে লন্ডন শহরের কফি হাউজ গুলো সৃজনশীলতা চর্চার কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। মানুষের চেতনাকে বিস্তৃত করেছিল। মানুষের মধ্যে অধিকারবোধকে জাগিয়ে তুলেছিল। ইংল্যান্ডের শাসকরা ভয় পেয়েছিল, তাই তারা কফি হাউজ গুলো বন্ধ করার জন্য ফরমান ও জারি করেছিল।
    তথ্য সমৃদ্ধ চমৎকার এই লেখার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই ম্যাম।

  4. সকালে একদম এক cup ধুমায়িত দার্জিলিং চায়ের সাথে পড়লাম কফির ইতিহাস! কি তথ্যপূর্ণ লেখা। জানলাম অনেক কিছু। প্রিন্ট মিডিয়া কি ভাবে শুরু হলো জানলাম। জানলাম এক কফি শপের কত ক্ষমতাও ছিলো যে রাজা ও চিন্তিত হয়ে পরতেন। শীতের সকালটা জমে গেল কফির ওপর এই লেখা পড়ে 👍 এক cup দরকার এক্ষুনি!

  5. পেনি ইউনিভার্সিটি থেকে কফি হাউস,কফি হাউস থেকে ক্লাব কালচার, ক্লাব কালচার থেকে পাড়ার চা য়ের ঠেক….এক নিশ্বাসে পড়ে ফেললাম এই বিবর্তনের ইতিহাস…. বেশ লিখেছিস বন্ধু…..শুভেচ্ছা রইল।

  6. অজানা তথ্যে ভরপুর লেখাটি। আমরা একটা অত্যন্ত ভাল সময়ে বসবাস করছি এই কারণে যে কত লোক কতভাবে আমাদের জীবন সমৃদ্ধ করে চলেছেন এসব লেখার মাধ্যমে, ঘরে বসেই যার সুফল আমরা পেয়ে যাচ্ছি। অনেক ধন্যবাদ লেখিকা🙏

  7. খুব চিত্তাকর্ষক লেখা, তথ্য বহুল। একটানা পড়লাম। নতুন বিষয়। জানা ছিল না একেবারেই। পেনি ইউনিভার্সিটি নামের ব্যাখ্যাটি খুবই ইন্টারে্টিং। এইরখম লেখা আরো লিখুন।

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।