সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

চেন্নাম্মার কথা

চেন্নাম্মার কথা

শান্তনু ভৌমিক

মে ২৮, ২০২২ ৪০০ 5

ইউয়ের্গ পি মারমেট-এর নাম কি মনে আছে আমাদের? সম্ভবত ‘না’! মনে রাখা তো দূরের কথা, আমাদের অনেকেই হয়তো ইউয়ের্গ পি মারমেট-এর নাম এই প্রথম শুনলাম। ঠিক কি না? ইউয়ের্গ পি মারমেট কিন্তু মোটেই হেঁজিপেঁজি লোক ছিলেন না। উনি যে কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন তা অর্জন করার কথা আমি বা আপনি হয়তো স্বপ্নেও ভাবতে পারবো না। তাও উনি যে কে, কি করতেন – তা আমরা ঠিক করে জানি না! কি আর করা যাবে! তার চেয়ে বরং আপাতত ইউয়ের্গ পি মারমেটকে কাটিয়ে দেই চলুন।

আচ্ছা, মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেছেন এই রকম কয়েকজন পর্বতারোহীর নাম তো নিশ্চয় বলতে পারবো আমরা। কি বললেন? তেনজিং নোরগে? ঠিক আছে। আর কোন নাম মনে আসছে? এডমুন্ড হিলারি? হ্যাঁ, এই নামটাও ঠিক আছে। আর কোন নাম মনে আসছে? আসছে না! ঠিক আছে, ঠিক আছে। আর মাথা চুলকোতে হবে না। তার চেয়ে বরং এইটা বলুন দেখি যে আজ পর্যন্ত মোট কত জন পর্বতারোহী মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেছেন? এ বাবা! আবার মাথা চুলকোতে শুরু করলেন! এত মাথা চুলকালে মাথায় যে ক’টা চুল টিকে আছে সেগুলোও পড়ে যাবে যে! থামুন, থামুন আমিই না হয় গুগল করে বলে দেই আজ পর্যন্ত মোট কত জন পর্বতারোহী মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেছেন। খুব বেশি নয়, মাত্র ৫৭৮৮ জন।

তার মানে ৫৭৮৮ জন এভারেস্ট জয়ীর মধ্যে আপনি, আমি, আমরা শুধু দু’জনের নাম বলতে পারি। অবাক হচ্ছেন? হবেন না। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। মানুষের বিভিন্ন কীর্তির ক্ষেত্রে আমরা শুধু তাঁদের নামই মনে রাখি যারা সর্বপ্রথম সেই কাজ করেন। পরে কেউ সেই একই কাজ করলেও তাঁর কথা আমরা মনে রাখি না। তিনি চলে যান বিস্মৃতির অন্তরালে। এটাই জীবনের দস্তুর। তাই আমরা তেনজিং নোরগে এবং এডমুন্ড হিলারির নাম মনে রাখি কিন্তু তাঁদের এভারেস্ট জয়ের প্রায় তিন বছরের মধ্যে এভারেস্টের মাথায় আবার মানুষের বিজয়কেতন ওড়ানো সুইস ভদ্রলোক ইউয়ের্গ পি মারমেটকে আমরা চিনিই না। 

তাহলে নিয়মটা কি দাঁড়ালো? অমরত্বের অধিকার শুধু ক্লাসের ফার্স্ট বয় বা ফার্স্ট গার্ল-এর আছে। হুম, সেটাই নিয়ম। তবে সব নিয়মেরই ব্যতিক্রম হয়। এই নিয়মেরও ব্যতিক্রম আছে। আসুন, আজ বরং আপনাদের এই নিয়মের এক ব্যতিক্রমের গল্প শোনাই – এক ফার্স্ট গার্লের কথা, ক্লাসে প্রথম হওয়া সত্ত্বেও যিনি হারিয়ে গিয়েছেন বিস্মৃতির অন্তরালে।

চেন্নাম্মাকে আমিও আগে চিনতাম না। কয়েক মাস আগে ‘লাক বাই চান্স’ চেন্নাম্মা’র পরিচয় পেয়েছি। একদিন মর্নিং ওয়াক করে এসে ডাইনিং হলে বসে চা খেতে খেতে মোবাইলে স্ক্রল করে করে খবরের হেডিংগুলো দেখছিলাম। সেই সময় একটা হেডিং-এ এসে চোখ আটকে গেল- Mumbai-Karnataka region consisting of 7 districts renamed ‘Kittur Karnataka’।চোখ আটকে যাওয়ার কারণ? অঞ্চলের নাম বদল হচ্ছে বলে? না, না, মোটেই তা নয়। এইরকম নামবদল তো এখন আকছার হচ্ছে। চোখ আটকে গেল অন্য দু’টো কারণে – (১) জীবনে বহুবার কর্ণাটক যাওয়া সত্ত্বেও কর্ণাটকের কোন অঞ্চলকে যে ‘মুম্বাই-কর্ণাটক অঞ্চল’ বলা হয় তা না জানা; এবং (২) ‘কিত্তুর কর্ণাটক’এর ‘কিত্তুর’ সম্পর্কে কোন ধারণাই না থাকা। কৌতূহল নিরসনের জন্য খবরটা খুঁটিয়ে পড়তে শুরু করলাম।

খবর থেকে ‘মুম্বাই-কর্ণাটক অঞ্চল’-এর বৃত্তান্ত খুঁজে বের করতে বেশি সময় লাগলো না। কর্ণাটক রাজ্য তৈরি হয়েছিল ১৯৫৬ সালের ১লা নভেম্বর ‘স্টেট রিঅর্গানাইজেশন অ্যাক্ট’এর মধ্য দিয়ে। সেই সময় তদানীন্তন বোম্বে প্রেসিডেন্সি থেকে সাতটি জেলাকে বের করে এনে এই নতুন রাজ্যের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই সাতটি জেলা হল উত্তর কানাড়া, বেলাগাবি, ধারওয়াড়, বিজয়পুরা, বাগালকোট, গাডাগ এবং হাবেরি। যেহেতু এই জেলাগুলি একসময় বোম্বে প্রেসিডেন্সিতে ছিল তাই এদেরকে একত্রে আজও মুম্বাই-কর্ণাটক অঞ্চল বলা হয়ে থাকে। খবর পড়ে এইটাও বুঝলাম কেন এই অঞ্চলের নাম পরিবর্তন করা হচ্ছে। মারাঠি ভাষাভাষীদের সংগঠন ‘মহারাষ্ট্র একীকরণ সমিতি’ আজও থেকে থেকেই এই সাতটি জেলা মহারাষ্ট্রে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার দাবি তোলে। সেই দাবিকে প্রতিহত করার জন্যই কর্ণাটক সরকার এই সাতটি জেলার নাম ‘কিত্তুর কর্ণাটক’ দিয়ে দিল যাতে এই জেলাগুলি যে কর্ণাটকের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, তা নিয়ে কারোর মনে কোনরকম সন্দেহ না থাকে।

কিন্তু তখনও ‘কিত্তুর’-এর পরিচয় অজানা রয়ে গিয়েছে। অতএব খবর পড়া অব্যাহত থাকলো। স্ক্রল ডাউন করে খবরের আর একটু নিচে গিয়ে পরিচয় পেলাম ‘কিত্তুর’-এর। কিত্তুর হল বেলাগাবি জেলার এক তালুকা। কিত্তুরের পরিচয় তো পাওয়া গেল কিন্তু সামান্য এই তালুকা কী করে সাতটি জেলা নিয়ে গঠিত এক অঞ্চলের নামে জুড়ে গেল? আবার শুরু হল স্ক্রল ডাউন। আর এই স্ক্রল ডাউন করতে করতে পরিচয় পেলাম চেন্নাম্মার। একসময় কিত্তুরের রানি ছিলেন চেন্নাম্মা যিনি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিলেন। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই অঞ্চলের নাম রাখা হচ্ছে ‘কিত্তুর কর্ণাটক’।

কিত্তুরের অবস্থান

খবরে ওইটুকুই ছিল চেন্নাম্মা সম্পর্কে। খবর পড়া শেষ করে যখন ভাবছি যে গুগল করে চেন্নাম্মা সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য খুঁজবো কিনা, সেই সময় ভিতরের ঘর থেকে দৈববাণী ভেসে এল – “সকাল থেকে মোবাইলে মুখ গুঁজে বসে থাকলে দোকানবাজার কি ভূতে করবে?” গলার স্বরেই পরিষ্কার যে মেজাজ বিপদসীমার কাছাকাছি বইছে। তাই আর ঝুঁকি না নিয়ে, চেন্নাম্মার সাথে আলাপ পরিচয় তখনকার মত মুলতবি রেখে থলি হাতে বেরিয়ে পড়লাম বাজারের উদ্দেশ্যে। মাথায় কিন্তু ততক্ষণে চেন্নাম্মার ভূত ঢুকে গিয়েছে। বাজারে পটল বাছতে বাছতেই ঠিক করে নিলাম যে চেন্নাম্মা সম্পর্কে আরও জানতে হবে।    

কিত্তুর রাজ্য ছিল আজকের কর্ণাটকের বেলাগাবি জেলায়, কর্ণাটক আর গোয়ার সীমান্তে, পশ্চিমঘাট পর্বতমালার পূর্বদিকে। এই রাজ্যের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৫৮৪ সাধারণ অব্দে। প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দুই শেট্টি ভাই – হিরেমাল্লা এবং চিক্কমাল্লা যাঁরা আদতে ছিলেন শিমোগা জেলার সাগর-এর লোক। তাঁরা চাকরি করতেন বিজাপুরের আদিল শাহিদের অধীনে। তাঁদের কাজকর্মে এবং বীরত্বে খুশি হয়ে বিজাপুরের তৎকালীন শাসক দ্বিতীয় ইব্রাহিম আদিল শাহ (১৫৮০-১৬২৭ সাধারণ অব্দ) তাঁদের কিত্তুরে নিজেদের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করার অনুমতি দেন।

যেহেতু আদিল শাহিদের বদান্যতায় কিত্তুর রাজ্যের পত্তন হয়েছিল, শুরু থেকেই কিত্তুর ছিল আদিল শাহিদের সামন্ত রাজ্য। সপ্তদশ শতকের আশির দশকে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব-এর হাতে আদিল শাহিদের যবনিকা পতন হলেও, কিত্তুর রাজ্য কিন্তু টিকে যায়। শুধু টিকে যাওয়াই নয়, মুঘল সাম্রাজ্যের অধীনে না এসে কিত্তুর হয়ে যায় স্বাধীন। ততদিনে কিত্তুরের পঞ্চম শাসক আল্লাপ্পা গৌড়া সরদেশাই (১৬৬০-১৬৯১ সাধারণ অব্দ) রাজধানী কিত্তুরে বানিয়ে ফেলেছেন এক শক্তপোক্ত দুর্গ।

কিত্তুর দুর্গের ধ্বংসাবশেষ

কিত্তুরের প্রথম দিককার আর এক রাজার নাম পাওয়া যায় স্থানীয় এক লোকগাথা থেকে। তাঁর নাম ছিল রুদ্র গৌড়া। তবে তিনি এই লোকগাথার মুখ্য চরিত্র ছিলেন না। এই লোকগাথার মুখ্য চরিত্র ছিলেন তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী, যাঁর বিবাহপূর্ব ধর্ম ছিল ইসলাম। রুদ্র গৌড়া তাঁর প্রেমে পড়ে তাঁকে বিয়ে করলে, তিনি বীরশৈব ধর্মে দীক্ষা নেন। লোকগাথা অনুযায়ী রুদ্র গৌড়া তাঁর জন্য এক প্রাসাদ নির্মাণ করিয়েছিলেন। আজও কিত্তুরের আশপাশে কান পাতলে এই লোকগাথা শোনা যায়।

কিত্তুরের কপালে দুর্যোগের ঘনঘটা শুরু হয় সাধারণ অব্দের অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয় ভাগে। উত্তর থেকে মারাঠা আর দক্ষিণ থেকে হায়দার আলি এবং টিপু সুলতানের আগ্রাসনে কিত্তুর হতে থাকে চিঁড়েচ্যাপ্টা। কিছুদিনের মধ্যে গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মত হাজির হয় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। এই ত্রয়ীর ত্রাহস্পর্শের মধ্যে কিছুদিন নিজের স্বাধীন সত্তা টিকিয়ে রাখতে পারলেও, ১৭৭৮ সাধারণ অব্দে কিত্তুর টিপু সুলতানকে বার্ষিক নজরানা দিতে সম্মত হয়। কিন্তু তাতেও কিত্তুরের জীবনে শান্তি ফেরেনি। কারণ পরের বছরই মারাঠারা অবরোধ করে কিত্তুর দুর্গ এবং কিছুদিনের জন্য কিত্তুর দুর্গ চলে যায় মারাঠা বিদ্রোহী ধন্দু বাঘ-এর হাতে। এরপর কিত্তুর আবার স্বাধীনতা ফিরে পায় এবং ১৭৮২ সাধারণ অব্দে কিত্তুরের সিংহাসনে আসীন হন মল্ল সারজা। তাঁর সিংহাসনে বসার বছর দু’এর মধ্যে টিপু আবার কিত্তুরের দখল নেন আর বন্দি করে রাখেন তরুণ রাজাকে।  মল্ল সারজার এই বন্দিদশা কাটে তিন বছর পর ১৭৮৭ সাধারণ অব্দে যখন মারাঠারা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সহায়তায় টিপুকে হটিয়ে আবার কিত্তুরের দখল নেয়।

এরপর কিত্তুরের দখল নিয়ে টিপু, মারাঠা এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ত্রিপাক্ষিক লড়াই বন্ধ হয়ে যায়। এর একটা কারণ ছিল ১৭৯২ সাধারণ অব্দে তৃতীয় ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধে টিপুর হার এবং তার সাত বছর পর ১৭৯৯ সাধারণ অব্দে চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধে টিপুর হার এবং মৃত্যু। অন্য কারণ ছিল ১৭৯২ সাধারণ অব্দে টিপুর বিরুদ্ধে হাত মেলানোর পর থেকে মারাঠা এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে একে অন্যের অঞ্চলে নাক না গলানোর সমঝোতা। ফলে কিত্তুর পাকাপাকিভাবে হয়ে যায় মারাঠাদের করদ রাজ্য।

মারাঠাদের করদ রাজা হিসাবে মল্ল সারজা কিত্তুরে তাঁর রাজ্যপাট চালাতে থাকলেও তাঁর সাথে মারাঠা অধিপতিদের সম্পর্ক খুব একটা মসৃণ ছিল না। ১৮০৪ সাধারণ অব্দে মারাঠারা মল্ল সারজাকে সিংহাসন থেকে সরাতে উদ্যত হলে মল্ল সারজা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে খুশি করে গদি বাঁচান। মল্ল সারজার ওপর প্রসন্ন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আধিকারিকরা তখনকার মত মারাঠাদের মল্ল সারজাকে সিংহাসনচ্যুত করা থেকে নিরস্ত করেন। মারাঠাদের সাথে মল্ল সারজা’র এই ঝামেলা আবার মাথা চাড়া দেয় ১৮০৯ সাধারণ অব্দে যখন পেশোয়া কিত্তুরের ওপর বার্ষিক পৌনে দুলক্ষ টাকার নজরানা চাপান এবং মল্ল সারজাকে পুণেতে বন্দী করে রাখেন। এই বন্দিদশা থেকে মল্ল সারজা মুক্তি পান যখন তিনি তাঁর মৃত্যুশয্যায়। ১৮১৬ সাধারণ অব্দে দেহত্যাগ করেন মল্ল সারজা। কিত্তুরের সিংহাসনে বসেন তাঁর পুত্র শিবলিঙ্গ রুদ্র সারজা।

নিজের বাবার সাথে মারাঠাদের এইরকম আচরণের জন্যই বোধহয় ১৮১৭ সাধারণ অব্দে তৃতীয় ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধ শুরু হলে শিবলিঙ্গ রুদ্র সারজা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে সমর্থন করেন। তবে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাঁর এই সদ্ভাবের কোন প্রতিদান দেয়নি। শিবলিঙ্গ রুদ্র সারজা ছিলেন শারীরিক ভাবে দুর্বল এবং অসুস্থ। তাঁর এই শারীরিক দুর্বলতা এবং অসুস্থতার সুযোগ নেওয়ার জন্য ১৮১৮ সাধারণ অব্দে ব্রিটিশ সেনাপতি টমাস মুনরো, যিনি পরবর্তীকালে মাদ্রাস-এর গভর্নর হয়েছিলেন, ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধে পেশোয়া শাসনাধীন অঞ্চলের দক্ষিণাংশ অধিকার করার পর কিত্তুর আক্রমণ করেন। নিজের রাজ্য বাঁচাতে অসম্মানজনক শর্তে সন্ধি করা ছাড়া কোন উপায় ছিল না শিবলিঙ্গ রুদ্র সারজার। সন্ধির শর্ত অনুযায়ী কিত্তুরের এক অংশ চলে যায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে। এছাড়াও কিত্তুর সম্মত হয় বার্ষিক পৌনে দুলক্ষ টাকা নজরানা দিতে। কিত্তুর হয়ে যায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’র করদ রাজ্য। এই সময় আসরে অবতীর্ণ হন শিবলিঙ্গ রুদ্র সারজার বিমাতা, মল্ল সারজার দ্বিতীয় স্ত্রী চেন্নাম্মা। অসুস্থ সৎপুত্র শিবলিঙ্গ রুদ্র সারজার বকলমে তুলে নেন কিত্তুরের শাসনভার।

চেন্নাম্মার জন্ম হয়েছিল আজকের বেলাগাবি জেলার কাকাতি বলে এক ছোট্ট গ্রামে। তাঁর সাথে মল্ল সারজার প্রথম মোলাকাত নিয়ে একটা ছোট গল্প আছে। তাঁদের প্রথম মোলাকাত কোন লোকালয়ে হয়নি, হয়েছিল জঙ্গলে। বিধাতার ইচ্ছায়, দু’জনে একই সময়ে একই জঙ্গলে শিকার করতে বেরিয়েছিলেন, তবে একসাথে নয়, পৃথকভাবে। জঙ্গল শিকার করতে করতে যখন তাঁরা কাছাকাছি এসে পড়েছেন তখন বিধাতা সেখানে একটি বাঘ পাঠিয়ে দেন। বাঘ দেখে দুজনেই তির ছোড়েন। বিধাতার গেমপ্ল্যান অনুযায়ী বাঘ পড়ে মারা। এইবার মল্ল সারজা আর চেন্নাম্মার মধ্যে গোল বাধে বাঘ মারার কৃতিত্বের দাবি নিয়ে। কিন্তু বিধাতার প্ল্যানিং ছিল ‘পিকচার পারফেক্ট’। দেখা গেল যে বাঘের গায়ে দু’টো তিরই বিঁধে আছে। অর্থাৎ দু’জনে যুগ্মজয়ী। ব্যাস ঝগড়া বদলে গেল দোস্তিতে। মল্ল সারজা’র সাথে বিয়ে হয়ে হয়ে গেল চেন্নাম্মা’র।

মল্ল সারজার প্রথম স্ত্রী ছিলেন রুদ্রাম্মা এবং তিনিও ‘পটের বিবি’ ছিলেন না। ফারসি এবং উর্দু ভাষায় পারদর্শী রুদ্রাম্মা টিপুর হাত থেকে কিত্তুরকে বাঁচাতে যুদ্ধের ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছিলেন এবং সেই যুদ্ধে টিপুকে পিছু হটতে হয়েছিল। চেন্নাম্মা এবং রুদ্রাম্মার মধ্যে সম্পর্ক ছিল খুব ভালো এবং চেন্নাম্মা রুদ্রাম্মাকে দিদির মত দেখতেন। ১৮১৮ সাধারণ অব্দে কিত্তুরের শাসনভার চেন্নাম্মার নিজের হাতে তুলে নেওয়ার একটা কারণ ছিল যে ততদিনে রুদ্রাম্মা সংসারধর্ম ত্যাগে করে পুজার্চনায় মন দিয়েছিলেন।

চেন্নাম্মা ছিলেন কুশলী এবং দক্ষ প্রশাসক। ফলে কিছুদিনের মধ্যেই তিনি হয়ে উঠলেন প্রজাদের শ্রদ্ধেয় ‘রানি চেন্নাম্মা’। এদিকে সময়ের সাথে সাথে শিবলিঙ্গ রুদ্র সারজার শারীরিক অবস্থার হয় আরও অবনতি এবং ১৮২৪ সাধারণ অব্দ নাগাদ এইটা পরিষ্কার হয়ে যায় যে শিবলিঙ্গ রুদ্র সারজার আর বেশী দিন নেই। শিবলিঙ্গ রুদ্র সারজার কোনো সন্তান ছিল না। অর্থাৎ কিত্তুরের সিংহাসনের কোন উত্তরাধিকারী ছিল না। ততদিনে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আধিকারিকরা দেশীয় রাজ্যগুলোকে সরাসরি নিজেদের অধীনে নিয়ে আসার জন্য এক নতুন ফন্দি বার করে ফেলেছিলেন – ‘স্বত্ববিলোপ নীতি’। এই নীতি অনুযায়ী কোন দেশীয় রাজ্যের শাসক যদি পুরুষ উত্তরাধিকারী ছাড়া মারা যান তাহলে সেই দেশীয় রাজ্যে সরাসরি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের আওতায় চলে আসবে। যদিও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সরকারিভাবে এই নীতি লিপিবদ্ধ করেছিল ১৮৪৮ সাধারণ অব্দে, এর প্রয়োগ করা শুরু হয়েছিল তার অনেক আগে থেকেই এবং কিত্তুর খুব সম্ভব ছিল এই নীতির প্রথম শিকার।

চেন্নাম্মা এবং শিবলিঙ্গ রুদ্র সারজা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এই অভিপ্রায় সম্পর্কে অবহিত ছিলেন। তাই মারা যাওয়ার ঠিক আগে শিবলিঙ্গ রুদ্র সারজা শিবলিঙ্গাপ্পা নামে দূরসম্পর্কের এক আত্মীয়কে সিংহাসনের জন্য মনোনীত করেন। সিংহাসনের ওপর শিবলিঙ্গাপ্পার দাবি যাতে শক্তপোক্ত হয় তার জন্য তাঁকে পুত্র হিসাবে দত্তক নেন চেন্নাম্মা। এই মর্মে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে এক চিঠিও পাঠান শিবলিঙ্গ রুদ্র সারজা। এই চিঠি পাঠানোর কিছুদিনের মধ্যেই তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

কিন্তু শিবলিঙ্গ রুদ্র সারজা কিত্তুরের সিংহাসনের জন্য শিবলিঙ্গাপ্পাকে মনোনীত করে গেলে কি হবে? বাঘ কি অত সহজে নিজের মুখের গ্রাস ছাড়বে? সেই সময় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির তরফ থেকে কিত্তুর এবং তার সন্নিহিত অঞ্চলের দেখভাল করছিলেন টমাস মুনরোর ঘনিষ্ঠ মাদ্রাস সিভিল লাইনস-এর জন থাকারে। তিনি সেই সময় ছিলেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নিয়ন্ত্রিত ধারওয়াড়-এর কালেক্টর। যথা সময়ে তাঁর হাতে পৌঁছল শিবলিঙ্গ রুদ্র সারজার লেখা চিঠি। থাকারে প্রথমে এই চিঠি আদৌ শিবলিঙ্গ রুদ্র সারজার লেখা কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেন। তারপরে বললেন যে উত্তরাধিকারী মনোনয়ন যদি সত্যি সত্যি হয়েও থাকে, তাহলেও তা অবৈধ কারণ উত্তরাধিকারী মনোনয়নের আগে কিত্তুরের উচিত ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অনুমোদন নেওয়া। থাকারের এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালেন চেন্নাম্মা। তাঁর অভিমত ছিল যে মুনরোর সাথে ১৮১৮ সাধারণ অব্দে করা চুক্তি অনুযায়ী কিত্তুরের উত্তরাধিকার নির্বাচনের জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আগাম অনুমতি নেওয়ার দরকার ছিল না।          

চেন্নাম্মার প্রতিবাদ কানে তুললেন না থাকারে। ছলে বলে কৌশলে কিত্তুরকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সরাসরি শাসনের আওতায় নিয়ে আসা ছিল তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। লোক পাঠালেন কিত্তুর দুর্গে। দুর্গের টাকাপয়সা, সোনাদানা, হীরে-জহরত এবং অন্যান্য সম্পত্তির হিসেবে নেওয়ার জন্য। ভাবখানা এমন যে কিত্তুর ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সম্পত্তি আর তাতে বেআইনি অনুপ্রবেশ করেছিলেন চেন্নাম্মা এবং রাজপরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। থাকারের ব্যবহারে হতবাক এবং ক্ষুব্ধ চেন্নাম্মা দূত পাঠালেন বোম্বের গভর্নর মাউন্টস্টুয়ার্ট এলফিনস্টোনের কাছে। কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছু হল না।

কিছুদিন এই ধরণের চিঠিচাপাটি, বাদপ্রতিবাদ চলার পর, ১৮২৪ সাধারণ অব্দের ২৩ অক্টোবর থাকারে সদলবলে গেলেন কিত্তুরে। উদ্দেশ্য কিত্তুর দুর্গের দখল নেওয়া। কিত্তুর পৌঁছে থাকারে দেখলেন চেন্নাম্মার অন্য রূপ। প্রশাসক চেন্নাম্মা হয়ে গিয়েছেন বীরাঙ্গনা চেন্নাম্মা। খাড়া করে ফেলেছেন এক প্রতিরোধ বাহিনী, যার লোকবল থাকারের লোকবলের থেকে বেশি।

শুরু হল লড়াই। প্রথমদিকে কিত্তুরের বাহিনী আত্মরক্ষায় ব্যস্ত থাকলেও একটু পরে শুরু করলো প্রতি আক্রমণ। আমতুরের সাধুনাভার বালাপ্পার গুলিতে বিদ্ধ হলেন থাকারে। ঘোড়া থেকে হলেন ভূপতিত। সেই সুযোগে কিত্তুর বাহিনীর আফ্রিকান সৈন্য রাম হাবসি করে দিলেন থাকারের মুণ্ডচ্ছেদ। লড়াইয়ে আরও তিন ব্রিটিশ সৈন্য প্রাণ হারান। দুই ব্রিটিশ নাগরিক স্টিভেনসন এবং এলিয়ট হন যুদ্ধবন্দি। ফিরে চলে যায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’র বাকি সৈন্যদল। যুদ্ধে জয়ী হল কিত্তুর। ২৭ অক্টোবর খুব ধুমধাম করে হল শিবলিঙ্গাপ্পার রাজ্যাভিষেক।

খবর পৌঁছল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বোম্বে দপ্তরে। কিত্তুরের এই বিদ্রোহ নিয়ে হল মিটিং কোম্পানির আধিকারিকদের মধ্যে। কিন্তু কোম্পানি সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাঘাত করলো না। উল্টে প্রস্তাব পাঠালো চেন্নাম্মার কাছে যে স্টিভেনসন এবং এলিয়টকে ছেড়ে দিলে সব মিটমাট হয়ে যাবে। প্রস্তাবে সায় দিলেন চেন্নাম্মা। ছেড়ে দিলেন স্টিভেনসন এবং এলিয়টকে কোম্পানির সাথে সন্ধি করার জন্য। কিন্তু স্টিভেনসন এবং এলিয়টকে ফেরত পেয়েই বিশ্বাসঘাতকতা করল কোম্পানি। খুব বড় সৈন্যদল নিয়ে আক্রমণ করলো কিত্তুর। এই অভিযানের জন্য সেনা নিয়ে আসা হল সাতারা, পুণে, বোম্বে, শোলাপুর এবং বেল্লারি দিকে। এই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল শুধু কিত্তুর অধিকার করা নয়, কোম্পনির বিরুদ্ধে হওয়া এই বিদ্রোহ এমনভাবে দমন করা যা দেখে ভবিষ্যতে কেউ বিদ্রোহ করতে সাহস না পায়।

শুরু হল অসম যুদ্ধ। দুই সেনাধিনায়ক সাঙ্গলি রায়ান্না এবং গুরুশিদাপ্পার যোগ্য সহায়তায় মরণবাঁচন লড়াই লড়লেন চেন্নাম্মা। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। ৪ ডিসেম্বর রাতে কোম্পানির বাহিনী দুর্গে ঢুকতে শুরু করে এবং পরের দিন সকালে পুরো দুর্গের দখল কব্জা করে নেয়। যুদ্ধে কিত্তুরের সেনাবাহিনীর করা শক্ত প্রতিরোধ সম্পর্কে কোম্পানি’র কমিশনার উইলিয়াম চাপলিন বোম্বে অফিসে পাঠানো রিপোর্টে লিখলেন, “strong fort of Kittor ……… defended by [a] garrison of an unusally determined character”। যুদ্ধ শেষে চেন্নাম্মা এবং তাঁর পুত্রবধূ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনাদের হাতে হয়ে গেলেন বন্দি। তারপর দিন দশেক তাঁকে রাখা হয় কিত্তুরে নিজের প্রাসাদেই। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাঁর থেকে লিখিয়ে নিল কিত্তুর। এরপর তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয় ২০ মাইল উত্তরের বাইলহেঙ্গাল দুর্গে। সেখানে ৪ বছরের বেশি বন্দিদশা কাটিয়ে ১৮২৯ সাধারণ অব্দের ২ ফেব্রুয়ারি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন চেন্নাম্মা।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে বিদ্রোহের যে আগুন চেন্নাম্মা লাগিয়েছিলেন, তা কিন্তু চেন্নাম্মা বন্দি হয়ে যাওয়ার পরও নিভে যায়নি। বরং বলা ভালো যে চেন্নাম্মা নিভতে দেননি। বাইলহেঙ্গাল দুর্গে বন্দী থাকাকালীন কিত্তুর রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সহযোগী বিদ্রোহীদের সাথে তিনি যোগাযোগ স্থাপন করেন, তাঁদের পরামর্শ দিতে থাকেন এবং কোম্পানির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে উদ্বুদ্ধ করতে থাকেন। তাঁর প্রাক্তন সহযোগী সঙ্গলি রায়ান্না ১৮২৯ সাধারণ অব্দ পর্যন্ত চালিয়ে যান কোম্পানির বিরুদ্ধে চোরাগোপ্তা লড়াই। এরপর কয়েকজন সহযোদ্ধার বিশ্বাসঘাতকতায় তিনি ধরা পড়ে যান এবং ১৮৩০ সাধারণ অব্দের ২৮ ডিসেম্বর তাঁর ফাঁসি হয়। চেন্নাম্মার দত্তক পুত্র শিবলিঙ্গাপ্পাও বেশ কিছুদিন জ্বালিয়ে রাখেন বিদ্রোহের ধিকিধিকি আগুন।

মোটের ওপর এই হলো চেন্নাম্মার কথা। আপনি বুদ্ধিমান এবং বিচক্ষণ পাঠক। এতক্ষণে নিশ্চয় বুঝে গিয়েছেন যে কেন লেখার শুরুতে বলেছিলাম চেন্নাম্মা ক্লাসে প্রথম হয়েও ফার্স্ট গার্ল-এর মর্যাদা পাননি। তাও, ব্যাখ্যাটা দিয়েই লেখা শেষ করি। 

চেন্নাম্মা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে কবে লড়াই করেছিলেন? ১৮২৮ সাধারণ অব্দে। সিপাহী বিদ্রোহ কবে হয়েছিল? ১৮৫৭ সাধারণ অব্দে। অর্থাৎ সিপাহী বিদ্রোহের প্রায় ৩০ বছর আগে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন চেন্নাম্মা। এইবার যদি আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করি যে ‘ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোন ভারতীয় মহিলা সর্বপ্রথম নেতৃস্থানীয়া ভূমিকা নিয়েছিলেন?’, আপনি কার নাম নেবেন? আপনি তো কর্ণাটকের এই রানির নাম নেবেন না। আপনি নেবেন রানি লক্ষ্মীবাই-এর নাম। শুধু তাই নয়, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী মহিলাদের তালিকাতেও হয়তো রাখবেন না চেন্নাম্মাকে। তাই বলছিলাম ………

তবে চেন্নাম্মাকে আমরা একদম ভুলে গিয়েছি এই কথা বললে সত্যের অপলাপ হবে। ২০০৭ সালে সংসদ ভবন চত্বরে চেন্নাম্মার মূর্তি স্থাপিত হয়েছে। চেন্নাম্মার নামে এক ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৭৭ সালে। ভারতের কোস্ট গার্ডের এক জাহাজের নাম ছিল ‘কিত্তুর চেন্নাম্মা’ যা ১৯৮৩ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সক্রিয় ছিল। ভারতীয় রেল বেঙ্গালুরু আর মিরাজ-এর মধ্যে ‘রানি চেন্নাম্মা এক্সপ্রেস’ বলে একটি  ট্রেন চালায়। ১৯৬২ সালে কন্নড় ভাষায় তৈরি হয়েছিল ‘রানি চেন্নাম্মা’ চলচিত্র। তবে চেন্নাম্মার বিদ্রোহের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি কিন্তু দিয়েছে ব্রিটিশরা, প্রত্যক্ষ ভাবে নয়, পরোক্ষ ভাবে – কিত্তুর বাহিনীর হাতে নিহত থাকারে এবং অন্যান্য মৃত ব্রিটিশ সৈনিকদের সমাধি সৌধ বানিয়ে।

বই পড়ে, নেট ঘেঁটে চেন্নাম্মা সম্পর্কে এর বেশি তথ্য পাওয়া গেল না। পাওয়া সম্ভবও নয় কারণ চেন্নাম্মা হলেন আমাদের ইতিহাসের এক প্রান্তিক চরিত্র। চেন্নাম্মা সম্পর্কে আরও জানতে গেলে, যেতে হবে তাঁর স্মৃতিবিজড়িত জায়গাগুলিতে। গুগল ম্যাপে দেখলাম কিত্তুর আর বাইলহেঙ্গাল বেলাগাবির খুব কাছেই। বেলাগাবি বহুবার গিয়েছি কিন্তু তখন তো চেন্নাম্মাকে চিনতামই না। ভবিষ্যতে বেলাগাবি গেলেই দেখে আসব চেন্নাম্মার কর্মভূমি , মাথা ঠেকিয়ে আসব তাঁর স্মৃতিসৌধে। আর তখন যদি আরও কিছু জানতে পারি চেন্নাম্মা সম্পর্কে, তাহলে নতুন করে আবার লিখব ‘চেন্নাম্মার কথা’।

তথ্যসূত্র:

  1. Rajmohan Gandhi, Modern South India: A History from the 17th Century to our Times, Aleph Book Company, 2018.
  • Nanditha Krishna, Heroes of Freedom – Rani Chennamma of Kittur, Press Information Bureau, Governement of India, Special Services and Features, 2016 (https://pib.gov.in/newsite/printrelease.aspx?relid=148944).
  • http://diksoochi.blogspot.com/2012/01/chennamms-kittur.html
  • https://en.wikipedia.org/wiki/Kittur_Chennamma
  • https://www.indiatoday.in/india/story/mumbai-karnataka-region-7-districts-renamed-kittur-karnataka-1874596-2021-11-09.
লেখক মুম্বাইতে স্বনিযুক্ত শান্তনু কারিগরিবিদ্যায় স্নাতক এবং ফিনান্স'এ এম.বি.এ। পেশার বাইরে শান্তনু'র শখ হলো নতুন জায়গা ঘুরে দেখা এবং ইতিহাসচর্চাকরা।

মন্তব্য তালিকা - “চেন্নাম্মার কথা”

  1. আপনার লেখা পড়ে, সমৃদ্ধ হলাম। একজন ইতিহাসের ছাত্র হিসেবে এটা দেখে খুব ভালো লাগল যে, ইতিহাসের পাতায় স্থান না পাওয়া এক অসীম সাহসী নারীর কথা তুলে ধরলেন। কারণ আমি বিশ্বাস করি, সকলের ইতিহাসই হল প্রকৃত ইতিহাস। আপনার জন্য মেলা শুভেচ্ছা রইল। 😊
    সাহেব দাস, স্নাতকোত্তরের ছাত্র, প্রাচীন ভারতীয় এবং বিশ্ব ইতিহাস, সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়।

  2. আপনার সংগ্রহের তথ্য সমৃদ্ধ করলো। আপনার মতোই আমারও অজানা ছিলো মুম্বই-কর্ণাটক অঞ্চলের কথা।যদিও বেশ কয়েকবার ব্যাঙ্গালোর গেছি।আর এই কথাটাও ভুলবো না…ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহিণীর নাম। অনেক ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।