সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি

বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি

লিপিকা ঘোষ

ডিসেম্বর ১, ২০২১ ৩৪৯

(গ্রন্থ নাম: নমো তস্স; লেখকের নাম: কৌশিক সরকার; প্রকাশক: মণিকর্ণিকা প্রকাশনী, প্রাপ্তিস্থান: অনলাইনে মণিকর্ণিকা প্রকাশনী, আমাজন)

রাজকুমার সিদ্ধার্থ তাঁর স্ত্রী, পুত্র ও রাজৈশ্বর্য পরিত্যাগ করে সন্ন্যাসী হয়েছিলেন জরা, ব্যাধি, মৃত্যু ও দুঃখ থেকে মুক্তির পথ(মার্গ) খুঁজতে। কঠিন সাধনার পর বোধিপ্রাপ্ত হয়ে তিনিই হয়ে উঠেছিলেন তথাগত বুদ্ধ- এই গল্পটা আমাদের সকলেরই জানা। তাঁর প্রথম জীবনের এই গল্প অত্যন্ত জনপ্রিয়ও বটে। তবে তাঁর মহাভিনিষ্ক্রমণের পরবর্তী জীবন, দুর্গম তপস্যার পথ, তাঁর বোধিপ্রাপ্ত হওয়া, নতুন পথের সঙ্গী পাওয়া, তাঁর উপদেশ সমূহ নিয়ে সাধারণের মনে আগ্রহ তুলনামূলক কম। তথাগত বুদ্ধের জীবনকে দুটি ভাগে অনায়াসে ভাগ করা যায়। প্রথমটি বোধিপ্রাপ্ত হওয়ার আগের জীবন আর দ্বিতীয়টি বোধিপ্রাপ্তের পরের জীবন। তথাগত বুদ্ধের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ জীবনের দ্বিতীয় ভাগের পূর্ণাঙ্গ আলোচনা ‘নমো তস্স’ বইয়ের মূল বিষয়। এই বইটিতে রাজপুত্র সিদ্ধার্থকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। ২২৩ পাতা জুড়ে আছেন শুধুই তথাগত বুদ্ধ। আলোর উদ্দেশে ভগবান বুদ্ধের কঠিন যাত্রাপথ গল্পাকারে বর্ণিত।

সম্পূর্ণ ঘটনাটি মোট বারোটি পর্বে ভাগ করে আলোচিত হয়েছে। প্রত্যেকটি পর্বই সুচিন্তিত শিরোনামে বিভক্ত। শুরু হয়েছে সিদ্ধার্থের সংসার ত্যাগের ছ’বছর পরে নৈরঞ্জনা নদীর তীরে জঙ্গলের মধ্যে অশ্বত্থ গাছের নিচে বসা মহাপুরুষদের শরীরের বিবরণ দিয়ে। দীর্ঘ অনাহারে কৃশকায় সেই দেহ প্রাণ ধরে রাখতে প্রায়াক্ষম। মহাভিনিষ্ক্রমণের পর এই ছ’ বছরে গুরু আলাড় কালাম এর কাছে দীক্ষা নিয়ে যোগসাধনা, তপস্যা করেও মনের তৃষ্ণা মেটেনি তাঁর। ছুটে গেছেন গুরু উদ্দক রামপুত্তের কাছে। সেখানেও জরা, ব্যাধি, মৃত্যু, দুঃখ থেকে মুক্তির উপায় খুঁজে পাননি। কঠিন তপস্যা করেও বোধিপ্রাপ্ত হননি। এমন সময় এক মধ্যবয়সী শ্রেষ্ঠী- কন্যা সুজাতার কাছ থেকে তিনি জীবনের চরম শিক্ষা পেয়েছিলেন। ‘শরীরই যদি না থাকল, তাহলে পরম সত্যকে অনুভব করবেন কোথায়?’ এই কথা শুনে তার দেওয়া পরমান্ন ফিরিয়ে দিতে পারেননি তথাগত। বোধিসত্ত্বের শেষ ভক্ষণ ছিল সুজাতার পরমান্ন। জীবনের শেষ দিনেও এই সুজাতার পরমান্নের কথা পরম স্নেহে স্মরণ করেছেন তিনি।

দ্বিতীয় পর্বে ‘মার’কে পরাজিত করার কাহিনী রয়েছে। ভগবান বুদ্ধ মারের পুত্র, কন্যা নামক রতি, প্রীতি, তৃষ্ণা, হর্ষ, বিলাস, দর্প নামক শত্রু কে পরাজিত করে তপস্যায় সিদ্ধি লাভ করেছেন। তর্কে পণ্ডিত ব্রাহ্মণকে জবাব দিয়েছেন, “জন্মসূত্রে কেউ ব্রাহ্মণ বা শূদ্র হয় না। ব্রাহ্মণ বা শূদ্র হয় কর্মসূত্রে।” তাঁর মতে আসক্তিরহিত নিষ্পাপ ব্যক্তিই ব্রাহ্মণ। অর্থাৎ কর্ম দিয়েই তিনি জাতপাতের বিচার করেছেন।

লেখক যথাযথ, যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যা করেছেন বুদ্ধ সম্পর্কে প্রচারিত নানা অলৌকিক ঘটনারও। যেমন এই পর্বেই (মার বিজয়) গৌতম বুদ্ধ যখন মুচলিন্ড সরোবরের কাছে ধ্যান করছিলেন, তখন প্রবল ঝড় বৃষ্টি শুরু হলে সরোবর থেকে নাগরাজের এসে তাঁর মাথায় ফনার ছত্র ধরেছিল বলে গল্প শোনা যায়। লেখক ব্যাখা করেছেন প্রকৃতপক্ষে ঐ অঞ্চলের নাগবংশীয়দের এক সর্দার তাঁকে ধ্যান করতে দেখেছিলেন। প্রবল ঝড় বৃষ্টিতে তাঁর সাধনা যাতে ভঙ্গ না হয় তার জন্য তিনি তাঁর মাথায় ছাতা ধরেছিলেন।

তৃতীয় ও চতুর্থ পর্বে রয়েছে তাপস্সু ও ভল্লিকের সঙ্গে সাক্ষাত ও মধুপিষ্টক ভক্ষণ যা ছিল বোধিপ্রাপ্ত হবার পর প্রথম ভক্ষণ। আছে রেঙ্গুনের সুয়াদগন প্যাগোডা নির্মানের প্রকৃত উদ্দেশ্য, আছে তথাগত বুদ্ধের ভোজন রীতি, শয়ন রীতির বর্ণনা। মন্ত্রমুগ্ধ করেছে চার আর্য সত্য, পঞ্চস্কন্ধ, ধর্মচক্রপ্রবর্তন, দশমশীলের আলোচনা। চার আর্য সত্য হল দুঃখ, দুঃখ সমুদয়, দুঃখ নিরোধ, দুঃখ নিরোধের মার্গ। অর্থাৎ জগতে দুঃখ চিরসত্য। জীবনে দুঃখ থাকবে, তার কারণ থাকবে, তৃষ্ণা পরিত্যাগ করার মধ্যে দিয়ে দুঃখকে নিরোধ করতে শিখতে হবে। এই দুঃখ নিবারনের আটটি মার্গের কথা বলেছেন। এদের একত্রে অষ্টাঙ্গীক মার্গ বলে। এই মার্গের প্রতীক রূপে আটটি দণ্ড বিশিষ্ট ধর্মচক্র প্রবর্তন করলেন। অষ্টাঙ্গীক মার্গ হল সম্যক বাক্য, সম্যক কর্ম, সম্যক জীবিকা, সম্যক প্রযত্ন, সম্যক স্মৃতি, সম্যক সমাধি, সম্যক দৃষ্টি ও সম্যক সংকল্প। আছে দশটি শীলের কথা। শীল হল পাপ কর্ম থেকে বিরত থাকার উপদেশ। যে দশটা পাপকর্ম করতে নিষেধ করেছেন, সেগুলি হল প্রাণী হত্যা না করা, চৌর্য বৃত্তি থেকে দূরে থাকা, মিথ্যাচার না করা, ব্যাভিচার না করা, মাদকদ্রব্য গ্রহণ না করা, অপরাহ্নে ভোজন না করা, নৃত্য-গীত দর্শনে অধিক ব্যস্ত না থাকা, সুগন্ধি ও অলঙ্কার ব্যবহার না করা, আরামদায়ক শয্যা ব্যবহার না করা, স্বর্ণ- রৌপ্য মুদ্রা আদান প্রদান না করা। এর মধ্যে প্রথম পাঁচটি শীল পঞ্চশীল বলে পরিচিত যা তথাগতর মতে গৃহস্থ উপাসকদের অবশ্য পালনীয় কর্তব্য। কিন্তু ভিক্ষুদের জন্য দশটিই পালনীয় কর্তব্য। তাঁর মতে তৃষ্ণাক্ষয় সব দুঃখকে অভিভূত করে, তাই তৃষ্ণাকে রোধ করতে পারলে দুঃখ আর উৎপন্নই হয় না। তিনি এও বলেছেন, কোনো চরম পন্থাই মুক্তিলাভের মার্গ হতে পারে না। শরীরকে বেশি মাত্রায় কষ্ট দেওয়া যেমন উচিত নয় তেমন বেশি মাত্রায় ভোগবিলাসে রাখাও উচিত নয়। এই দুটির মাঝে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা উচিত। তাঁর শিষ্যদের বলেছিলেন বহুজনের হিতের জন্য, বহুজনের সুখের জন্য, দেবতা ও মানুষের কল্যাণের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে। সরল, সাবলীল রচনাভঙ্গিতে ধম্মপদে বর্ণিত সমস্ত উপদেশ এই বইটিতে সহজবোধ্য হয়ে উঠেছে।

চতুর্থ পর্বেই বারাণসীর রাজপুত্র যশ তথাগত বুদ্ধের সাক্ষাত লাভ করে নিজের কলুষিত জীবন থেকে মুক্তি লাভ করেছেন, প্রবজ্জা গ্রহণ করেছেন।

এই বইয়ের পাতায় স্পষ্ট হয়েছে অনেক অস্পষ্ট ধারণা, পঞ্চম পর্বে রাজপুত্র সিদ্ধার্থ রাতের অন্ধকারে রাজপ্রাসাদ ছেড়ে এসেছিলেন না দিনের আলোতে সকলের সামনে নিজেই কেশ মুণ্ডন করে রাজবস্ত্র ত্যাগ করে কাষায় বস্ত্র পরে সন্ন্যাসী হয়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন তার গ্রহণযোগ্য তথ্য প্রমাণ রয়েছে।

ষষ্ঠ পর্বে আছে, ধর্ম প্রচারে কপিলাবস্তু গিয়ে তথাগত, সাক্ষাত করেছিলেন পরিবারের সঙ্গে। তখন বহু রাজপুত্র তাঁর সংঘে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁর নিজের বালকপুত্র রাহুলও প্রবজ্জা নিয়েছেন। তাঁর ধর্মের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন কোশলরাজ প্রসেনজিত। পরের পর্বগুলিতে রয়েছে বুদ্ধের নতুনধর্ম প্রচার, সংঘ তৈরি, এসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তথাগত এর বিরুদ্ধে দেবদত্তের চক্রান্ত, হত্যার প্রচেষ্টা, অজাতশত্রুর সঙ্গে যোগাযোগ।

উঠে এসেছে তথাগত বুদ্ধের ধর্মের প্রতি অনুগত মগধরাজ বিম্বিসারের শেষ জীবনের করুন কাহিনী। পুত্র অজাতশত্রু নিজে হাতে হত্যার চেষ্টা করেছেন পিতাকে। অজাতশত্রু কর্তৃক বিম্বিসার বন্দী হয়েছেন, এ ইতিহাস একসূত্রে বাঁধা হয়েছে বুদ্ধের জীবনযাত্রা বর্ণনায়। তন্ময় হয়ে পড়তে হয় এক অমোঘ টানে গৃধকূটা পাহাড়ে প্রিয় মহারাজা বিম্বিসারের কারাগারের সামনে কিছুদিনের জন্য তথাগত বড় চাতালে বসে ভিক্ষুসংঘকে ধর্মশিক্ষা দিতেন আর বন্দী বিম্বিসার কারাগারের জানালা দিয়ে দেখতেন চীবরধারী তথাগত বুদ্ধের জ্যোতির্ময় রূপ।

রাজা বিম্বিসারের পুত্র অজাতশত্রু যেদিন বন্দী পিতাকে হত্যা করেছিলেন সেদিনই তাঁর পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করে, এই ঘটনা পিতৃহন্তা পুত্রের মানসিক অস্থিরতা তৈরি করে। এর পর দেবদত্তর মৃত্যু হলে অজাতশত্রু ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। ছুটে যান তথাগত বুদ্ধের কাছে। অজাতশত্রু পিতৃহন্তা জানার পরেও তিনি তাকে উপদেশ দিয়েছিলেন। সেই উপদেশ ত্রিপিটকে ‘শ্রামণ্যফল সুত্ত’ নামে লিপিবদ্ধ আছে। এরপর থেকে অজাতশত্রু বুদ্ধের ধর্মের পরম অনুগত হলেও নিজ পাপকর্মের কর্মফল থেকে নিষ্কৃতি পাননি। অজাতশত্রু পরে পুত্র উদয়িভদ্রের হাতে নিহত হন। এছাড়া এই পর্বে আকর্ষণ বাড়িয়েছে জীবকের কাহিনী।

দশম পর্বে আছে আম্রকানন থেকে পাওয়া কন্যাসন্তানের কথা, যে কন্যা পরবর্তীতে দুর্ভাগ্যবশত নগরবধূ হয়েছিলেন, সেই আম্রপালী একদিন তথাগত বুদ্ধের শরণাপন্ন হয়েছেন এবং নিজের আম্রকুঞ্জ সংঘ তৈরির জন্য দান করেছেন। বুদ্ধের কাছে প্রবজ্জা গ্রহণ করেছেন আম্রপালী নিজে। প্রবজ্জা গ্রহণ করেছেন আম্রপালী  ও বিম্বিসারের পুত্র বিমল কৌন্ডন্য। আম্রপালী যোগ দিয়েছিলেন ভিক্ষুনী সংঘে। তথাগতর মতে জগতের সকল বস্তুতে নারী পুরুষের সমান অধিকার, সাধনাতে, সৎকর্মেও তাই- এযুক্তিতে ভিক্ষুক সংঘের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ভিক্ষুনী সংঘও।

একাদশ পর্বে তথাগতর দ্বাদশ নিদানের বিশ্লেষণ-অবিদ্যা, সংস্কার, বিজ্ঞান, নামরূপ, ষড়ায়তন, স্পর্শ, বেদনা, তৃষ্ণা, উপাদান, ভবিষ্যতে, জাতি ও জরামরণের স্বচ্ছ ধারণা দিয়েছেন লেখক।

দ্বাদশ পর্বে আলোচিত হয়েছে বিশেষ বিতর্কিত শূকরমদ্ধবের কথা। জীবনের শেষ সময়ে শিষ্য চুন্দর বাড়িতে শূকরমদ্ধব খেয়েছিলেন। এই ‘শূকরমদ্ধব’ বস্তুটি আসলে কী সে সম্পর্কে যে যুক্তি পাওয়া যায় তা পাঠকের সমর্থন পেতে পারে। এই শেষ পর্বে তথাগতর মহাপরিনির্বাণ এর মধ্য দিয়ে আলোচনা শেষ হলেও রেশ রয়ে যায় হৃদয়ে। পরম শ্রদ্ধায় রচিত চীবরধারী, ভিক্ষাপাত্র হস্তে ধারণকারী, রাজার রাজা তথাগত বুদ্ধের জীবনী ও ধর্মশিক্ষার বইখানি পড়তে পড়তে বুদ্ধ, ধর্ম ও সংঘের সঙ্গে চলতে চলতে কখন যেন শব্দগুলো মনে গেঁথে যায় –

“বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি।

ধম্মং শরণং গচ্ছামি।

সংঘং শরণং গচ্ছামি।“

প্রকৃতপক্ষে তথাগত কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের জন্য ধর্ম প্রচার করেননি, প্রচার করেছেন শুদ্ধ, সার্বজনীন, প্রাকৃতিক, সনাতন ধর্মের যা সকল দুঃখ থেকে নিষ্কৃতির মার্গ দেখায়। তিনি আজীবন মানুষকে মুক্তির মার্গ দেখিয়েছেন। তিনি নিজেকে মার্গদাতা বলতেন, মুক্তিদাতা নয়। লেখকর ভাষায়, “ধর্মের অসংখ্য গলিপথের মধ্যে থেকে সঠিক রাস্তা দেখিয়েছেন।”

আজকের অত্যাধুনিক যুগে ঘটনাবহুল, যন্ত্রনির্ভর, জটিলজীবন যখন হাঁপিয়ে ওঠে- অপূর্ণতা হতাশা, নিরাশা, মানসিক অবসাদের সৃষ্টি করে, আড়াই হাজার বছর আগে জন্মান সেই মহাপুরুষের প্রবর্তিত মার্গ অবসাদের অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসার আলো দেখায়। ‘নমো তস্স’র পাতা থেকে তাঁর জীবন স্মরণ করে যে ধ্যানের কথা, বিশেষ করে walking meditation এর কথা জানা যায় তা হৃদয়ের চরম অস্থিরতা কাটিয়ে তোলার মহৌষধ বললে অত্যুক্তি হয় না। সর্বোপরি বইটি শুধুমাত্র তথাগত বুদ্ধের জীবনী নয়, নয় বাণীর আকর। বইটি একই সঙ্গে ঐতিহাসিক ও মনস্তাত্ত্বিক গুরুত্ব বহন করে চলেছে।

‘নমো তস্স’র প্রচ্ছদ, মুদ্রণ সৌকর্য, পর্ব বিভাজন ও বিষয়বিন্যাস নজর কাড়ে। নজর কাড়ে পালি সংস্কৃত ভাষা থেকে চারুচন্দ্র বসুর অনুবাদ করা সমস্ত শ্লোক। যা লেখকের প্রয়োগ ও বিশ্লেষণের গুণে ঐতিহাসিক জ্ঞানপ্রদানের সঙ্গে আধ্যাত্মিক অনুভূতি জাগিয়ে তুলতে সক্ষম। সক্ষম জ্ঞানপিপাসা মিটিয়ে ক্ষণিকের জন্য মেডিটেশনের সুখানুভূতি দান করতে, বারংবার পাঠের আগ্রহ জাগাতে।

ইতিমধ্যেই বইটা জনপ্রিয় হয়েছে। আর তথাগতকে নিয়ে এতো সুপাঠ্য বইয়ের ক্ষেত্রে সেটাই তো স্বাভাবিক।

মন্তব্য তালিকা - “বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি”

  1. যেমন সুন্দর বইটা তেমনি লিপিকাদির লেখাটা। ইতিহাস, কবিতা ও কাহিনী সুন্দরভাবে একত্রিত হয়েছে এই বইটিতে। অকারণ দার্শনিক জটিলতা নেই, তবু বুদ্ধের ভাবনা চিন্তা ও বক্তব্য সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে।

    বুদ্ধ নামক মহাসমুদ্রকে সম্পূর্ণ ভাবে জানা মানুষের এক জীবনে সম্ভব নয়। তবু তাঁর জীবনের দ্বিতীয়ার্ধের যথাসম্ভব পূর্ণাঙ্গ চিত্র এই বইতে পাওয়া যায়।