সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

বোধিবৃক্ষতলে

বোধিবৃক্ষতলে

দীপরাজ দাশগুপ্ত

সেপ্টেম্বর ২, ২০২৩ ৪২০ 6

সুজাতা স্তূপের কিছুটা দূরে এক টুকরো চৌকোণা মসৃণ পাথর চোখে পড়ায় কৌতূহলবশত তা হাতে তুলে নিয়েছিলাম। বেশ পাতলা কিন্তু শক্ত গড়নের পাথর। একদিকে অস্পষ্ট রেখা ফুটে উঠেছে। কিছু যেন আঁকা আছে ওখানে। বহুদিনের ধুলোকাদা ময়লা লেগে খোদিত রেখাটা প্রায় দেখা যায় না। হোটেলে ফিরে পরিষ্কার করে দেখব ভেবে সেটা ব্যাগে ঢুকিয়ে নিলাম। ভাবলাম ইতিহাসের পথে পাওয়া দান স্মৃতিচিহ্ন স্বরূপ কাছে রেখে দেব।

বুদ্ধগয়া বেড়াতে এসেছি আজ দুদিন। গতকাল মহাবোধি মন্দির দেখে আজ সুজাতা স্তূপ দেখতে এসেছিলাম। আমার স্বভাব ঐতিহাসিক নিদর্শনের সব দিক খুঁটিয়ে দেখা। সেই মতো সুজাতা স্তূপের সব দিক সময় নিয়ে ধীরে ধীরে ঘুরে দেখছিলাম। আর তখন স্তূপের কিছুটা দূরেই এই পাথরের টুকরোটি পেলাম। সূর্যদেব পশ্চিমের যাত্রী। শেষ বিকেলের আলোয় সুজাতা স্তূপ পরিসর আরেকবার ঘুরে দেখে একটা অটো ধরে ফিরে চললাম হোটেলের দিকে।

হোটেলে ফিরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে এক বাটি জল আর সেই কুড়িয়ে পাওয়া পাথরের টুকরোটা নিয়ে বসলাম। পাথরের দুদিকটা জল দিয়ে ভালো ভাবে পরিস্কার করলাম। তারপর তোয়ালেতে মুছতে মুছতে দেখলাম পাথরের একদিক ফাঁকা কিন্তু অন্যদিকে কিছু একটা আঁকা আছে। ভালো করে চেয়ে দেখলাম ওতে ভূমিস্পর্শ মুদ্রায় বুদ্ধমূর্তি খোদাই করে আঁকা রয়েছে। এখন বেশ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। বুদ্ধমূর্তির নিচে তিন লাইনে কিছু লেখা আছে। পড়ার চেষ্টা করলাম। কি ভাষা ওটা? পালি? হ্যাঁ পালি ভাষা বটে! আমি ইতিহাসের ছাত্র ছিলাম। সংস্কৃত ও পালি ভাষা কিছুটা শিখেছিলাম আমার মাস্টারমশাইয়ের আগ্রহে। আজ সেই বিদ্যে কাজে লেগে গেল। লেখা পড়তে পারলাম। ওটা ত্রিশরণ মন্ত্র।

বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি,

ধর্মং শরণং গচ্ছামি,

সংঘং শরণং গচ্ছামি।।

বুদ্ধগয়ার ইতিহাস প্রাচীন ভূখণ্ড থেকে ইতিহাসের এমন একটি সুন্দর নিদর্শন হাতে পেয়ে খুব ভালো লাগল। মন খুশিতে ভরে উঠল। সেই সাথে মনে বেশ কিছু প্রশ্নের উদয় হলো। কত পুরনো এই পাথর খণ্ডটি, পাথরে বুদ্ধমূর্তি ও ত্রিশরণ মন্ত্র কেন আঁকা, কে খোদাই করে এঁকেছে এটা? আচ্ছা ইতিহাসে এই পাথরটির স্থান কী? পাথর খণ্ডটির পুরাতাত্ত্বিক মূল্য কতটুকু? এক ইতিহাসের ছাত্রের মনের স্বাভাবিক সব প্রশ্ন। কিন্তু উত্তর দেবে কে? এই হোটেলের চার দেয়াল? হা হা হা হা। মহাকাল নীরব। জানি এর উত্তর পাওয়া সহজ হবে না। কলকাতায় ফিরে গিয়ে জানার চেষ্টা করতে হবে। আপাতত ব্যাগেই তোলা থাক।

পাথরের টুকরোটার কথা বারবার মনে হতে লাগল। সেদিন রাতে শোবার আগে ব্যাগ থেকে সেটা বের করে খাটের পাশে রেখে দিলাম। রাতে স্বপ্নে দেখলাম এক বিচিত্র কাহিনী। সে কি শুধুই স্বপ্ন ছিল না কি আমারই মনোজগতের অভিজ্ঞতা?

উরুবেলা গ্রামের এক প্রান্তে মূর্তিকার আনন্দের বাড়ি। আনন্দের এ পৈতৃক পেশা। আনন্দের পিতার মৃত্যুর পর তাদের পারিবারিক শিল্পশালার দায়িত্ব এখন তাঁর। আনন্দ পাথর দিয়ে নানা ধরনের মূর্তি গড়ে। তার মধ্যে বুদ্ধমূর্তিই প্রধান। শাক্যমুনি বুদ্ধের ধ্যানী, ভূমিস্পর্শ, ধর্মচক্রপ্রবর্তন, দণ্ডায়মান, মহাপরিনির্বাণ মুদ্রার মূর্তি আনন্দ গড়ে। তবে তার সবচেয়ে প্রিয় ভূমিস্পর্শ মুদ্রার মূর্তি গড়া। কারণ এই গ্রাম তো তথাগতের বোধিলাভের স্থান। এ গ্রামেরই এক গোপবালা সুজাতা পায়েসান্ন নিবেদন করে তপস্বী সিদ্ধার্থের জীর্ণ শরীরে নতুন বলের সঞ্চার করেছিল। সেই বলে বলীয়ান সিদ্ধার্থ নতুন উদ্দীপনায় সাধনা রত হয়ে অবশেষে বোধিজ্ঞান লাভ করে বুদ্ধ হয়েছিলেন। তাই বৌদ্ধদের কাছে এই উরুবেলা পরম পবিত্র তীর্থস্থান। গ্রামেরই এক প্রান্তে মহাবোধি মন্দির আর সেই পবিত্র বোধিবৃক্ষ। আনন্দ প্রতিদিন সকালে সেখানে গিয়ে পরম কারুনিকের উদ্দেশে প্রণাম জানিয়ে আসে। তারপর তার শিল্পশালায় কাজ শুরু করে। আনন্দ মূর্তির পাশাপাশি ছোট স্তূপ নির্মাণ করতে জানে। বুদ্ধগয়ায় আসা সম্পন্ন তীর্থযাত্রীরা বুদ্ধের উদ্দেশে মহাবোধি মন্দিরের আশেপাশে ছোট স্তূপ নির্মাণ করায়, বুদ্ধমূর্তি উৎসর্গ করে। এজন্য আনন্দের মতো শিল্পীদের ডাক পড়ে। পারিশ্রমিকের বিনিময়ে বহু স্তূপ ও বুদ্ধমূর্তি নির্মিত হলেও কাজের মান সব ক্ষেত্রে একই হয় না। আনন্দ তার পিতার মতো শিল্প সৃষ্টির জন্য কাজ করে। শুধুমাত্র পারিশ্রমিকের প্রত্যাশায় নয়। তার হাতের কাজ তীর্থযাত্রী দাতাদের মুগ্ধ করে। শিল্প সৃষ্টির সেই দর্শক মুগ্ধতা আনন্দের কাছে সবচাইতে বড় পারিশ্রমিক। কাজের সুনামের জন্য মাঝে মধ্যেই মহাবোধিতে স্তূপ ও মূর্তি নির্মাণের জন্য আনন্দের ডাক পড়ত। দাতারা তার কাজে খুব খুশি হয়।

আগে মহাবোধিতে এ ধরনের স্তূপ ও বুদ্ধমূর্তি নির্মাণ খুব হতো। এখন অনেক কমে গেছে। কমতে কমতে এখন শুধুমাত্র প্রস্তর খণ্ডে বুদ্ধমূর্তি আঁকায় তা সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। দেশে এখন ঘোর দুর্দিন অরাজকতা। পশ্চিম দিক থেকে তুরুস্কু নামে দুর্ধর্ষ সেনাদল মগধ রাজ্যের নানা জায়গায় ধ্বংসের তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। কয়েক বছর আগে তারা নালন্দা ও বিক্রমশীলা মহাবিহার জ্বালিয়ে দিয়েছে। এখন রাজ্যের বিভিন্ন জনপদে লুঠতরাজ করে চলেছে। এদের বাধা দেয়ার কেউ নেই। মহাবোধিতে এখনো পর্যন্ত কোনো আক্রমণ হয়নি। তবে আশেপাশের নানা অঞ্চলে যেভাবে আক্রমণ হয়ে চলেছে, তাতে করে যে কোনোদিন বুদ্ধগয়াতেও আক্রমণ নেমে আসতে পারে। এখন সর্বত্র এক উদ্বেগজনক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এতো কিছুর মাঝেও আনন্দ নিশ্চিন্তে নিজের কাজ করে চলেছে। তার শিল্পশালায় প্রতিদিন মূর্তি গড়া হয়। আনন্দ তাঁর পিতার কাছে শিখেছে শিল্পসৃষ্টি হলো এক সাধনা। তা অব্যাহত থাকা চাই। তাতে যেন কোনো শৈথিল্য না আসে। পিতার উপদেশ অক্ষরে অক্ষরে সে মেনে চলে।

প্রতিদিনের মতো আজও সে শিল্পশালার দাওয়ায় বসে কাজ করে চলেছে। কাজের ফাঁকে হঠাৎ আনন্দের চোখে পড়ল বাড়ির নিকোনো উঠোনে খেলা করা শিশুপুত্র সুনন্দকে। বছর তিনেকের ছোট্ট সুনন্দ পিতার তৈরি একটি ক্ষুদ্র পুতুল নিয়ে আপন মনে খেলা করে চলেছে। এই শিশুপুত্র ও স্ত্রী মালবিকাকে নিয়ে আনন্দের ক্ষুদ্র সংসার। এখন থেকেই সুনন্দের শিল্পপ্রীতি বোঝা যায়। সে খেলার ছলে পিতার কোনো শিল্পদ্রব্যে আঘাত করে না। বরং গভীর মমতায় তাতে হাত বোলায়। এসব দেখে আনন্দ খুব খুশি হয়। ছেলেকে নিয়ে সে এখন থেকেই বেশ নিশ্চিন্ত বোধ করে।

আনন্দ সস্নেহে ছেলের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে আবার কাজে মনোনিবেশ করে। এমন সময় মহাবোধি মন্দিরের এক সেবক ভিক্ষু অনিরুদ্ধ দুই বিদেশীকে নিয়ে তার গৃহে প্রবেশ করে। আনন্দ তাদের দেখেই বুঝতে পারে বুদ্ধগয়ায় তীর্থদর্শনে এসেছে এই বিদেশী আগন্তুকেরা। প্রস্তরে বুদ্ধমূর্তি অঙ্কিত করানোর ইচ্ছেতেই তারা তার কাছে এসেছে। আনন্দ উঠে দাঁড়িয়ে তাদের প্রণাম জানাল। তারাও প্রতি নমস্কার করল। ভিক্ষু অনিরুদ্ধ বলল, আনন্দ এঁরা বহুদূর থেকে বুদ্ধগয়ায় তীর্থদর্শনে এসেছেন। এঁদের বাসভূমি ব্রহ্মদেশ। এঁরা দশ জনের একটি দল নিয়ে আজ ভোরে এখানে এসে পৌঁছেছেন। দুপুরের মধ্যেই এঁরা ফিরতি পথ ধরবেন। এখন তুমি আমাদের সঙ্গে মহাবোধি মন্দিরে চলো। সেখানে গিয়ে তুমি এঁদের প্রত্যেকের জন্য একটি বুদ্ধমূর্তি অঙ্কিত করে দেবে। 

আনন্দ তখন যাবার জন্য প্রস্তুত হলো। শিশুপুত্রকে কোলে তুলে নিয়ে বাড়ির ভেতরে স্ত্রী মালবিকার কাছে দিয়ে এলো। মালবিকার উৎকণ্ঠিত মুখ দেখে তাকে তাড়াতাড়ি ফেরার কথা বলে এলো। মূর্তির রেখা আঁকার সরঞ্জাম সঙ্গে নিয়ে আনন্দ ভিক্ষু অনিরুদ্ধদের সাথে মহাবোধি মন্দিরের পথ ধরল। 

মন্দিরে পৌঁছে আনন্দ একবার চারিদিকে দেখে নিল। প্রতিদিনের মতো আজ সকালে আর মন্দিরে আসা হয়নি তার। তাই বোধহয় বুদ্ধদেব তাকে ডেকে নিয়ে এলেন কাজের অছিলায়। ওই তো মহাবোধি মন্দিরের পাশে গোড়া বাঁধানো বোধিবৃক্ষ। ডালপালা প্রসারিত করে চিরমৌনভাবে দাঁড়িয়ে আছে বুদ্ধের বোধিজ্ঞান লাভের সহায়। চারদিকে কত বুদ্ধমূর্তি আর ছোট-বড় স্তূপ ছড়িয়ে আছে এখানে তার কোনো স্থিরতা নেই। এখন অবশ্য মূর্তি ও স্তূপ বাড়ার আর কোনো সম্ভাবনা নেই। একথা ভাবতেই আনন্দের বুক থেকে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে। কবে যে আবার সব স্বাভাবিক হবে তা তথাগতই জানেন।

ভিক্ষু অনিরুদ্ধ আনন্দকে আলাপ করিয়ে দিলেন ব্রহ্মদেশীয় তীর্থযাত্রীদলের প্রধানের সাথে। বৃদ্ধ ভদ্রলোকের নাম অং মিন্ট। তিনি ব্রহ্মদেশের বাগান নামক নগরে বাস করেন। তার মসলা দ্রব্যের বাণিজ্য আছে। বৃদ্ধ বয়সে তিনি চেনা পরিচিত কয়েকজনকে নিয়ে বহু সময় ও অর্থ করে বুদ্ধের পদচিহ্নিত পবিত্র তীর্থস্থানগুলো দর্শন করতে এসেছেন। কিন্তু এখন উত্তর ভারতের রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখে আর না এগিয়ে বুদ্ধগয়া থেকেই দেশে ফিরে যাবেন। বৃদ্ধ অং মিন্টকে আনন্দের বড়ো ভালো লেগে গেল।

আলাপ শেষে আনন্দ নিজের কাজে লেগে গেল। একদিন কত মূর্তি ও স্তূপ এখানে গড়া হতো। দিনের পর দিন কাজ চলত। আর আজ এই তো শুধু কাজ। পাথরের টুকরোতে বুদ্ধমূর্তির রেখাঙ্কন করা। দীর্ঘশ্বাস গোপন করে সে কাজে মনোযোগ দিল। তার হাতের নৈপুণ্যে একের পর এক পাথরের টুকরোতে বুদ্ধমূর্তির রেখা ফুটে উঠতে লাগল। খুব যত্ন নিয়ে করা কি অপূর্ব সেই কাজ! ব্রহ্মদেশীয় তীর্থযাত্রী দাতারা আনন্দের কাজ দেখে মুগ্ধ হয়। আনন্দ এক এক করে মূর্তির রেখাঙ্কন করে আর তা দাতার হাত দিয়ে মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে বুদ্ধের বোধিবৃক্ষের নিচে বজ্রাসনের তলে স্থাপিত হতে থাকে। 

নয়টি রেখাঙ্কন সমাপ্ত করে শেষ রেখাঙ্কনের জন্য আনন্দ একটি পাথর হাতে তুলে নিয়েছে এমন সময় চারদিক থেকে হুলুস্থুল ভয়ার্থ চিৎকারের আওয়াজ ভেসে আসতে থাকে। মুহূর্তে মহাবোধি মন্দির প্রাঙ্গণের ধ্যানী নীরবতা ভঙ্গ হয়। ভিক্ষু অনিরুদ্ধ কোথা থেকে দৌড়ে এদিকে এসে সবাইকে বললেন, পালাও সবাই। তুরুস্কু সেনা মন্দির আক্রমণ করেছে। ব্রহ্মদেশীয়রা যে যে অবস্থায় ছিলেন সেভাবেই দ্রুত পলায়ন করে। অবস্থার আকস্মিকতায় আনন্দ হতবুদ্ধি হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। সে কি করবে ভেবে পায় না। এমন সময় এক বিশাল দেহী তুরুস্কু ঘোড়সওয়ারের হাতে যখন অতর্কিতে আনন্দের শিরচ্ছেদ ঘটে তখনো তার হাতে ধরা এক টুকরো রেখাঙ্কনের পাথর।

স্বপ্নটা ভেঙ্গে গেল। আমি খাটে উঠে বসলাম। খাটের পাশে ছোট্ট টেবিলে রাখা বুদ্ধমূর্তি আঁকা সেই পাথরটা তুলে নিয়ে বসে রইলাম। বাইরে তখন ভোরের আলো ফুটছে।

গল্পের সূত্র : দে’জ পাবলিশিং প্রকাশিত রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের “ইতিহাস চিন্তা” গ্রন্থের – গৌড়ীয় শিল্পে দাক্ষিণাত্য প্রভাব (গৌড়ীয় শিল্পকথা) শীর্ষক প্রবন্ধের শেষাংশ আমার এই গল্পের অনুপ্রেরণা। গল্পের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এখান থেকেই নেয়া হয়েছে। এই প্রবন্ধটি বৈশাখ ১৩৩৭ বঙ্গাব্দে প্রবাসীতে প্রকাশিত হয়েছিল। প্রবন্ধ থেকে গল্পে ব্যবহৃত তথ্য এখানে উল্লেখ করছি — “বুদ্ধগয়া বা মহাবোধি বৌদ্ধ তীর্থের মধ্যে তীর্থরাজ বৌদ্ধেরা তখন লুকাইয়া চুরি করিয়া মহাবোধি বা বুদ্ধগয়ায় আসিত। আগে আগে তীর্থযাত্রীরা মহাবোধিতে আসিয়া যেমন বড় বুদ্ধমূর্তি বা স্তূপ প্রতিষ্ঠা করিয়া যাইত তখনও সে রীতি ছিল, কিন্তু তুরুস্কুদের ভয়ে যাত্রীরা বেশি দিন তীর্থে বাস করিতে ভরসা করিত না, সে তাড়াতাড়ি পাথরের গায়ের আঁচড় কাটিয়া বোধিবৃক্ষতলে বৌদ্ধমূর্তি আঁকিয়া দিত।” এটা ১২০২ খ্রিস্টাব্দের কথা।

মন্তব্য তালিকা - “বোধিবৃক্ষতলে”

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।