সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

কংসনারায়ণ নয়, বাঙলায় প্রথম দুর্গাপূজা মল্লরাজার

কংসনারায়ণ নয়, বাঙলায় প্রথম দুর্গাপূজা মল্লরাজার

চন্দ্রশেখর ভট্টাচার্য

অক্টোবর ২২, ২০২০ ২২৪৯ 17

দুর্গাপূজার শুরু ঠিক কবে থেকে, তাঁর নিশ্চিত মীমাংসা করা খুব কঠিন। চতুর্থ শতকের মার্কণ্ডেয় পুরাণ-এর অংশই শ্রী শ্রী চণ্ডী বা সপ্তশতী চণ্ডীতে বলা হয়েছে, মেধা মুনির নির্দেশে ভিল রাজা সুরত প্রথম কাত্যায়নী দেবীর পূজা করেন। পৌরাণিক এই কাহিনীর কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া সম্ভব নয়। আবার, পঞ্চদশ শতাব্দীর কৃত্তিবাস ওঝার রামায়ণ বলছে, বনবাসকালে রাবণের সঙ্গে যুদ্ধে বিজয় কামনায় রামচন্দ্র দুর্গার প্রচলিত কাহিনী, সেখানে একটি নীলপদ্ম কম পড়ায় রামচন্দ্র নিজের চোখ উৎসর্গ করতে চান, ইত্যাদি। কিন্তু, রামের দুর্গাপূজার কাহিনী কেবলই বাঙলা রামায়ণেই। সংস্কৃত, হিন্দি বা অন্য কোনও ভাষার রামায়ণেই তার উল্লেখ নেই।

যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধির মতে, ‘দুর্গাপূজা বৈদিক যজ্ঞের রূপান্তর, তন্ত্র দ্বারা সমাচ্ছন্ন।’ বৈদিক যুগে প্রত্যেক ঋতুর শুরুর মতোই শরৎ ঋতুর শুরুতেও যজ্ঞ হতো। ‘এই শরৎকালীন যজ্ঞই রূপান্তরিত হইয়া দুর্গাপূজা হইয়াছে।’ দেবীর পূজা ও বৈদিক যজ্ঞ হত ধন, ধান্য ও পুত্র লাভ, রোগমুক্তি ও শক্তিনাশের জন্য। পূজায় পুষ্পাঞ্জলির মন্ত্র ছিল, “আয়ুরারোগ্যং বিজয়ং দেহি দেবি নমস্তুতে।/ রূপং দেহি, যশো দেহি, ভাগ্যং ভগবতি দেহি মে।/ পুত্রান দেহি, ধনং দেহি, সর্ব্বকামাংশ্চ দেহি মে।” যার অর্থ, হে ভগবতী, আমাকে রোগমুক্ত করো, বিজয়ী করো, রূপ দাও, যশ ও সৌভাগ্য দাও, পুত্র ও ধন দাও এবং আমার সর্বকামনা পূর্ণ করো। বিদ্যানিধির মতে, দুর্গাপূজার মন্ত্রে ‘যজ্ঞ’ শব্দটির ব্যাপ্তি বিরাট। বৈদিক ধর্ম যজ্ঞসর্বস্ব, তাই দুর্গাপূজায় ‘দেবি যজ্ঞভাগান্ গৃহান’ উচ্চারণ করে দেবীকে যজ্ঞভাগ উৎসর্গ করা হয়। পশুবলির সময় বলা হয়, “যজ্ঞার্থে পশবঃ সৃষ্টাঃ, তস্মিন্ যজ্ঞে বধোহবধঃ”, অর্থাৎ যজ্ঞের জন্যই পশুর সৃষ্টি, তাই যজ্ঞে বধ যথার্থ। বৈদিক শারদযজ্ঞই তন্ত্র-প্রভাবে দুর্গোৎসবে পরিণত।

মহিষাসুরমর্দিনী রূপে দুর্গাপূজার প্রথম উল্লেখ আছে ‘ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ’-এ (রচনাকাল আনুমানিক অষ্টম শতাব্দী)। যদিও আরও প্রাচীন বৃহন্নন্দীকেশ্বর পুরাণ (রচনাকাল অজ্ঞাত), কালিকাপুরাণ (আনুমানিক ৯ম-১০ম শতাব্দী) ও বৃহদ্ধর্মপুরাণ-এ (আনুমানিক ১২শ শতাব্দী) দুর্গাপূজার বিবরণ আছে। নবম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর একাধিক মহিষাসুরমর্দিনী মূর্তি বাংলার নানা স্থানে পাওয়াও গিয়েছে। একাদশ শতকের বাঙালি পণ্ডিত ভবদেব ভট্ট কয়েকজন আরও প্রাচীন স্মৃতিকারের নাম উল্লেখ করে মৃন্ময়ী মূর্তিতে দুর্গাপূজার বিধান দিয়েছিলেন। এরপর চতুর্দশ শতাব্দীর দুই পণ্ডিত বিদ্যাপতির ‘দুর্গাভক্তি-তরঙ্গিণী’ গ্রন্থে এবং শূলপাণির ‘দুর্গোৎসব-বিবেক’ গ্রন্থে দুর্গাপূজা পদ্ধতির উল্লেখ আছে। এ থেকে জানা যায়, চতুর্দশ শতকে বাংলায় দুর্গাপূজা ‘উৎসব’ ছিল। আরও পরের নবদ্বীপের স্মার্ত পণ্ডিত রঘুনন্দনের (১৫৪০-১৫৭৫) ‘দুর্গাপূজা তত্ত্ব’ গ্রন্থের প্রসঙ্গ নিষ্প্রয়োজন। কারণ, তিনি নিজেই জানিয়েছেন, বিধানের সবগুলি তাঁর সৃষ্টি নয়, আগের পুরাণ ও স্মৃতিশাস্ত্র থেকে সংগৃহীত। বেশ কিছু পূজাপদ্ধতির পৌরাণিক প্রমাণ না দিয়ে সেগুলিকে তিনি বলেছেন, আচার, দেশাচার বা কুলাচার।

কিন্তু, বৌদ্ধ পরিব্রাজক হিউয়েন সাং-এর লেখায় পাওয়া যায়, ৬৩০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ এক শরৎকালে তিনি গঙ্গাপথে যাওয়ার সময়ে দস্যুদের কবলে পড়েন। দস্যুরা তাকে ধরে এনে এক দেবীর সামনে বলি দিতে নিয়ে যায়। বলির আয়োজনও সম্পূর্ণ, এমন সময় প্রবল ঝড় ও প্রবল বৃষ্টিতে সব আয়োজন ভেসে যায়। দস্যুরা দিগ্বিদিকে পালায় এবং সেই সুযোগে নিজেকে মুক্ত করে পালান হিউয়েন সাং। কিন্তু, সেই দেবী দুর্গাই, এমন কোনও প্রমাণ নেই।

ঘোষাল বাড়ির পূজা

প্রচলিত মত হল, বাংলায় প্রথম দুর্গাপূজা করেন নদীয়ার তাহেরপুরের রাজা কংসনারায়ণ। আকবর দ্বারা বাংলা-বিহারের দেওয়ান হিসাবে নিযুক্ত কংসনারায়ণ বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে দেওয়ানি ছেড়ে নদীয়ার (এখন রাজশাহীর) তাহেরপুরে বসবাস শুরু করেন। দেওয়ানকে স্থানীয়রা ‘রাজা’ বলতো। রাজকীয় কিছু করার ইচ্ছায় মহাযজ্ঞ করার সিদ্ধান্ত নেন। বংশানুক্রমিক পুরোহিত নাটোর বাসুদেবপুরের ভট্টাচার্য বংশের পণ্ডিত রমেশ শাস্ত্রী তাঁকে বলেন, চারটি মহাযজ্ঞের বিশ্বজিত ও রাজসূয় যজ্ঞের অধিকারী শুধু সম্রাটরা। কংসনারায়ণের বংশ পশুবলি-বিরোধী বলে অশ্বমেধ বা গোমেধ করা যাবে না। একমাত্র উপায় দুর্গাপূজা। সেই মতো, ১৫৮০ সাধারণ অব্দে সাড়ে ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সেই পূজা হয়। কিন্তু এই দাবি সত্য নয়। তারও আগে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রধান শিষ্য নিত্যানন্দ খড়দহে স্বগৃহে প্রতিমায় দুর্গোৎসব করেছিলেন।

যুগান্তর পত্রিকায় বাংলায় দুর্গাপূজার ক্রমবিকাশের একটি তালিকা প্রকাশিত হয়। তাতে বলা হয়, দক্ষিণ ২৪ পরগণার সোনারপুরের কাছে মালঞ্চ গ্রামের জনৈক চামু (বাগচী) ব্রহ্মচারী ১৪৯১ সালে বৃহন্নন্দিকেশ্বর মতে দুর্গাপূজা করেন। সেই নিবন্ধের হিসাবে, এটি প্রাচীনতম বাঙলার প্রাচীনতম দুর্গাপূজা রূপে চিহ্নিত হতে পারে। এর পরের দুর্গাপূজাগুলির যে তালিকা নিবন্ধে দেওয়া হয়, সেই অনুযায়ী, চন্দননগরের কমললোচন বসুর বাড়িতে (১৫২২), হাওড়া আমতার রসপুরের যশচন্দ্র রায় বাড়িতে (১৫৩০), ১৫৪০-এ কোন্নগরের আশুতোষ ঘোষালের পরিবারে, পূজা শুরু হয়। এর পর, ১৫৮০-তে কংসনারায়ণ পূজা করেন।

কিন্তু, সেই তথ্যেও কিছু ভ্রান্তি রয়েছে। কনৌজ-এর পাঁচ কুলীন ব্রাহ্মণের এক ব্রাহ্মণ সুধানিধির বংশকে ‘ঘোষাল’ উপাধি দেন লক্ষণ সেন। আকবরের আমলে এঁরা জমিদারি পায়। এই ঘোষাল বংশই ভূকৈলাশের ঘোষাল বংশ। সেই বংশের আশুতোষ ঘোষাল কোন্নগরে আসেন ১৪৫০-এ। ঘোষাল বংশের পারিবারিক নথি অনুযায়ী, কোন্নগরের বাড়িতে পূজা শুরু হয় ১৪৫৪-তে। চামু (বাগচী) ব্রহ্মচারীর পূজা হয় ১৪৯১ সালে। এরপর ১৫০৭-এ চন্দননগরের খলিসানির বসু বাড়িতে দুর্গাপূজার প্রবর্তন করে করুণাময় বসু। সেই পূজার বিস্তৃতি ছড়ায় কমললোচন, মতান্তরে রামকমল বসুর আমলে। পর্তুগিজদের সঙ্গে ব্যবসা করতেন বলে তাঁকে বলা হতো ‘ফিরিঙ্গি কমল বসু’। তার ৫১ আপার চিৎপুর রোডের (বর্তমানে ২৩২ রবীন্দ্র সরণি) বাড়িতে এখন ‘মাতৃমঙ্গল প্রতিষ্ঠান’ নামে হাসপাতাল রয়েছে। সেই হিসেবে, কোন্নগরের ঘোষালদেরই বাঙলা আদি দুর্গাপূজার সম্মান দেওয়া যেতে পারে।

কিন্তু, এই তথ্যও নির্ভুল, এই দাবি করা যাবে না। ইতিহাস বলছে, বাংলায় সবার আগে মাটির মূর্তিতে দুর্গাপূজা হয়েছে বিষ্ণুপুরের মৃন্ময়ী মন্দিরে। তখন প্রদ্যুম্ননগরে ছিল মল্লভূমের রাজধানী। রাজবংশের কুলদেবী ছিলেন দেবী রাজরাজেশ্বরী। রাজা জগৎমল্ল ছিলেন এই বংশের ১৯তম রাজা, রাজত্বকাল ৯৯৪ থেকে ১০০৭ সাধারণ অব্দ। লোকশ্রুতি, একদিন রাজা একান্তে থাকার সময়ে গাছের উপরে একটি সারসের দিকে চোখ যায়। সারসটি বার বার তার একটি পোষ্য কুকুরকে আক্রমণ করছিল। তিনি এর পিছনে অলৌকিক কিছু আছে ভেবে তাকাতেই দেখেন মৃন্ময়ী রূপে দেবী এসে তাঁকে রাজধানী বিষ্ণুপুরে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন। সেই নির্দেশ মেনে তিনি জঙ্গল সাফ করে প্রদ্যুম্ননগর থেকে রাজধানী বিষ্ণুপুরে সরিয়ে আনেন এবং মৃন্ময়ী দেবীর মূর্তি পূজা শুরু করেন। এই বাড়িতেই একচালা মূর্তিতে লক্ষ্মী-গণেশ ও কার্তিক-সরস্বতীর স্থানবদল হয়। লক্ষ্মীর স্থলে গণেশ ও গণেশের স্থলে লক্ষ্মী এবং কার্তিকের স্থলে সরস্বতী ও সরস্বতীর স্থলে কার্তিক আসে।

বিষ্ণুপুরের মৃন্ময়ী মন্দির

এই বদল ঘটে মল্ল রানির নির্দেশে। পরিবারে নারীদের সর্বোচ্চ স্থান দেওয়ার উদ্দেশ্যে রানি এই নির্দেশ দেন। তাঁর কথাতেই একচালায় লক্ষ্মী ও সরস্বতী উপরে, আর তাঁদের পায়ের কাছে কার্তিক ও গণেশ। মূর্তি নির্মাণের এই রীতিকে বলা হয় বিষ্ণুপুরী ঘরানা বা জগৎমল্ল-প্রথা। সারা বাঙলার হাজার হাজার দুর্গামূর্তি এই প্রথা মেনে তৈরি হলেও অনেকেই এর মূল কারণ সম্পর্কে অন্ধকারে। যদিও, সেই মন্দিরের পূজাপদ্ধতি ও মূর্তিভাবনাই আজও বহন করছে বাঙলার সংস্কৃতি।

সূত্র –

১) বাঙলার পূজাপার্বণ, যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধি

২) যুগান্তর পত্রিকা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৯০

৩) আশুতোষ ঘোষাল বাড়ির পারিবারিক ইতিহাস

৪) Dasgupta, Gautam Kumar; Biswas, Samira; Mallik, Rabiranjan (2009), Heritage Tourism: An Anthropological Journey to Bishnupur, Mittal Publication, p. 20.

মন্তব্য তালিকা - “কংসনারায়ণ নয়, বাঙলায় প্রথম দুর্গাপূজা মল্লরাজার”

  1. অনেক তথ্যবহুল লেখা। মাঝে মাঝে নানা জনশ্রুতির উল্লেখ করে তাও আবার বাতিল করে দেয়া হয়েছে। এরকম বাতিলের খাতায় ইংরেজদের ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধে জয়লাভের পর, বাংলায় দুর্গোৎসবের প্রচলন- এরকম কিছু পাওয়া যায় কিনা দেখছিলাম। এ সম্পর্কে অন্যখানে আলোচনা দেখেছি। এর সত্যাসত্য সম্পর্কে জানালে ভালো হবে। ধন্যবাদ।

    1. ইংরেজদের যুদ্ধ জয়ের অনেক আগেই যে বাঙলার জমিদাররা জাঁকজমকের সঙ্গে দুর্গাপুজো করতেন, তার উল্লেখ তো করেছি এই লেখায়। ১৪৫৪ তে কোন্নগরে আশুতোষ ঘোষালদের পুজোর ভাসান আগে হতো রাতে। একবার এক বাঘ এক দর্হককে টেনে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দিনে হয়। তার পরে শুরু হয়েছিল চন্দননগরের খলিসানির বসু বাড়ির দুর্গাপুজো। সেটিও যথাবিহিত আড়ম্বড়ের সঙ্গেই হতো বলে জানা যায়।
      কলকাতায় রাজা নবকৃষ্ণ দেবদের পুজোর উৎসব ছিল ইংরেজদের বিজয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই কারণে, সেই সময়ে ফোর্ট উইলিয়াম থেকে ব্রিটিশ ব্যান্ড আসতো সুতানুটির দেব বাড়িতে। সন্ধি পুজোর সময় ফোর্ট উইলিয়াম থেকে তোপধ্বনী হতো। বাইজী নাচতো, সেখানে লর্ড ক্লাইভ দর্শক হয়েছেন।
      বড়িষা সাবর্ণ বাড়ির পুজোতে কিন্তু ব্রিটিশ সংযোগ ছিল না। তাঁরা বস্তুত ব্রিটিশের বিরোধীই ছিলেন।

      1. ধন্যবাদ আপনাকে। সেটা মনে হয় সরাসরি আলোচনা করেননি। দ্বিতীয় প্যারায় স্পষ্ট করেছেন। এই বিষয়টাকে অনেকে বড় করে দেখে বলে মনে হয়। তাই, জানতে চাচ্ছিলাম। আবারও ধন্যবাদ ও শুভকামনা।

  2. ত‌বে কংসনারায়‌নের পুজা একটা বড় উৎসব। যা ইং‌রেজ‌দের খু‌শি কর‌তে শুরুর মাধ্য‌মে একটা নিয়‌মিত বড় উৎস‌বের শুরু।

    1. কংসনারায়ণের পুজোর শুরু ১৫৮০ খ্রিস্টাব্দে। খরচ হয়েছিল ৮.৫০ লাখ টাকা, সেই আমলে। তখন ইংরেজ কোথায়?

  3. লেখাটি পড়ে সমৃদ্ধ হলাম। নারী হিসেবে মল্লরানীকে প্রণাম জানাই নারী কে প্রাধান্য দিয়ে দুর্গা মায়ের বর্তমান একচালার সপরিবার মূর্তি গড়ার নির্দেশ দেওয়ার জন্য। লেখাটির জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।

  4. ঐতিহাসিক আলোচনা মন দিয়ে পড়লাম ।মল্ল রাজাদের আমলে প্রচলিত হওয়া দুর্গাপুজোর ব্যপক প্রচলন মনে হয় রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এবং রাজা নবকৃষ্ণ দেবের জাঁকজমকপূর্ণ পূজানুষ্ঠানের পর থেকে শুরু হয় যখন ইংরাজকৃত জমিদার শ্রেণী তৈরি হওয়া শুরু হয় ও তা ব্যাপকতা লাভ করে ।

    1. ব্যাপক প্রচলন হয়েছে গুপ্তিপাড়ার ১২ বন্ধু রাজ পরিবারের বাইরে এসে পুজো করার পর থেকে। সেটাই প্রথম বারো ইয়ারি = বারোয়ারি পুজো। এর সঙ্গে ইংরেজদের সম্পর্ক নেই।
      ইংরেজদের সম্পর্ক শুধুই নবকৃষ্ণ দেব পরিবারের সঙ্গে। প্রচারে সেটাই ত গুরুত্ব পেয়েছে যে, ব্রিটিশ-বিরোধী দুর্গাপুজোর উদাহরণগুলি হারিয়ে গিয়েছে।
      শিবপুরের জমিদার মুখার্জিদের বাড়িতে অসুরের গায়ের রঙ হতো সাদ। সাদা পাঠা বলি দেওয়া হতো। এর কারণ, ব্রিটিশরা সাদা।
      ঘোড়াদাবা সিংহ, যার ঘাড়টা ধনুকের মতো বাঁকা হয়, সেই সময় তাকে বলা হতো ‘গোরাদাবা’ সিংহ। গোরা অর্থে ব্রিটিশ।

  5. এই নিবন্ধটিতে উল্লিখিত তথ্যগুলি মূলত অনুমানকেন্দ্রিক। তাই এইসব তথ্যের পক্ষে ঐতিহাসিক প্রমাণ উপস্থাপন করা বেশ কঠিন।

    1. সবই কি অনুমানকেন্দ্রিক পেলেন? যে ইতিহাসের তথ্য আজও রয়ে গিয়েছে, তাতে অস্বীকার করা যায় কি?

  6. অনেক সুন্দর লিখেছেন এবং অনেক ধন্যবাদ। দুর্গা পুজা নিয়ে এমন সমৃদ্ধ লেখার সন্ধানে ছিলাম।

    1. এটা একটা সামান্য অংশ। শুধু এই রাজ্যে দুর্গাপুজোর ইতিহাস। দুর্গা নিয়ে লোকসংস্কৃতির আঙ্গিকে আরও অনেক কিছু লেখা যায়।

  7. খুব তথ্য পূর্ণ লেখা। অনেক ধন্যবাদ। একটি প্রশ্ন ছিল। দুর্গা মূর্তির iconography সংক্রান্ত একটি ব্যাপার সম্প্রতি নজরে এসেছ। মহিষাসুরের গায়ের রঙ অনেক সময় সবুজ (rather, different shades of green) রঙ হয় কেন? একই প্রতিমায় নিহত মোষ তো মোষের মতই গায়ের রঙ – কালো। তাহলে মহিষাসুর কেন green? In fact, পুজোর ঘোরাঘুরির সুযোগে একটা হিসেব করলাম। এই মুহূর্তে যেসব প্রতিমার ছবি আমার ফোনে, বন্ধুদের স্ট্যাটাসে, এই গ্রুপে আছে তার একটা মোটামুটি হিসেব করলাম। Repeat না করে।

    মহিষাসুরের গায়ের রঙ –
    সবুজ ৩৬,
    মেটে রঙ brown skinned ৯,
    গৌর বর্ণ / fair (প্রায় দেবীর মত) ১৩ আর শোভাবাজার রাজবাড়ীর দুই অসুর, সাবর্ণ রায়চৌধুরী বাড়ি, বেলুড় মঠ, বাগবাজার সার্বজনীন আর শিমলা ব্যায়াম সমিতি সব অসুরের গায়ের রঙ সবুজ। এবং আমার জ্ঞানত এরকমই আছে বহু বছর এবং দশক ধরে। আর যতগুলি বাড়ির প্রতিমা নজরে এল সব অসুর সবুজ।
    সব মিলিয়ে, যদিও data set complete নয়, বললে অত্যুক্তি হবে না যে বাঙলায় প্রথাগত ভাবে মহিষাসুরের গায়ের রঙ সবুজ করা হয়েছে। এর কারণ কি হতে পারে? একাধিক অনলাইন ফোরামে প্রশ্নও করেছি, হাইপথিসিস এবং অনুমান একাধিক পেলেও তথ্যপূর্ণ তেমন কিছু পাইনি। । কোন তথ্য আপনার গবেষণায় নজরে এসেছে কি?

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।