সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

লেখক: দীপান ভট্টাচার্য

দীপান ভট্টাচার্য
নৈহাটির সান্দীপনি ভট্টাচার্য বেশি পরিচিত দীপান ভট্টাচার্য নামে। অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর, কর্মজীবনে শিখেছেন রুশ ভাষাও। ভারত সরকারের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক ছিলেন, স্বেচ্ছাবসর নিয়ে এখন এক কর্পোরেট সংস্থার গ্রুপ ডিরেক্টর। অনেক শখের মধ্যে একটি শখ হল ফসিল সংগ্রহ করা।
মানুষ ঠিক কবে থেকে সঙ্গীত আয়ত্ত করেছিল, তার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। প্রথম সঙ্গীত ছিল মানুষের কণ্ঠস্বর আর আশেপাশে থাকা বস্তুর উপর ঠুকে তোলা আওয়াজ বা ছন্দ; স্বাভাবিকভাবেই তার কোনো বস্তুগত প্রমাণ পাওয়া যায় না। তবুও গবেষণায় মোটামুটি পরিষ্কার যে, প্রাগৈতিহাসিক মানুষের দৈনন্দিন জীবনেই সঙ্গীতের বীজ তৈরি হয়েছিল। প্রকৃতির বিভিন্ন শব্দ ও পশুপাখিদের আওয়াজ অনুসারে সুর তৈরি করে তা গুনগুন করা, তালি বাজানো, পা ফেলা, পাথর বা কাঠের টুকরো ঘষে বা ঠুকে শব্দ বের করা—এসবই ছিল যোগাযোগ, শিকার, উৎসব আর গোষ্ঠীর ঐক্য রক্ষার এক স্বাভাবিক উপায়। শব্দের মধ্যেই প্রাচীন মানুষ নিরাপত্তা, উত্তেজনা বা সংহতির অনুভূতি তৈরি করত। এর ফলে সঙ্গীত কেবল বিনোদন ছিল না, বরং সামাজিক ও মানসিক দিক থেকে বেঁচে থাকার একটা হাতিয়ার।
রঞ্জনদার কাছে একবার একটা পাথর নিয়ে গিয়েছিলাম, যেটাকে দেখে আমার ফসিল মনে হয়েছিল। পাথর হলেও অনেকটা গাছের কাণ্ডের মতো দেখতে। মনে হয়েছিল যে প্রস্তরীভূত গাছ (Petrified Wood) হয়তো হবে, কিন্তু সে আশায় জল ঢেলে দাদা বলল যে, ওটা কোন ফসিলই নয়, সাধারণ পাথর। অনেক পাথরের বাইরের দিকটা বিভিন্ন কারণে এবড়ো খেবড়ো হয়ে যায়; আর তখন দেখলে মনে হয় যে, পাথরে পরিণত হওয়া গাছের কাণ্ড বুঝি। ওই পাথরটাও দেখতে অনেকটা সেই রকমই ছিল, কিন্তু জানতে পারলাম যে ওটা প্রস্তরীভূত গাছ নয়। আমার মনটা খারাপ দেখে রঞ্জনদা সান্তনা দিয়ে বলল, “ভাবিস না রে, কয়েকদিন পরেই আমি রাণীগঞ্জের কাছে ট্রান্সফার হয়ে আসছি। দেখা যাক, তোকে একটা গাছের ফসিল হয়তো জোগাড় করে দেওয়া যাবে।” তাও ভালো!