সূচী

ইতিহাস তথ্য ও তর্ক

পুরনো লেখা

বর্তমান বিহারের নালন্দা জেলায় অবস্থিত, প্রাচীন মগধের দুই প্রধান নগর রাজগৃহ ও পাটলিপুত্রকে সংযোগকারী রাজপথের ধারে অবস্থিত নালন্দার বৌদ্ধ মহাবিহারের গৌরবের ইতিহাস বিগত কয়েক দশক যাবৎ ভারতের প্রায় সব বিদ্যালয়ের পাঠক্রমের অন্তর্ভুক্ত। কিভাবে পঞ্চম শতকের শুরুতে গুপ্ত বংশের সম্রাটদের পৃষ্ঠপোষকতায় স্থাপিত পূর্ব ভারতের বৌদ্ধশাস্ত্রের, বিশেষতঃ মহাযান ধর্মশাস্ত্র ও বৌদ্ধ মূর্তিনির্মাণশাস্ত্র চর্চার এই মহান বিদ্যাপীঠের পঠন-পাঠনের সমাপ্তি ঘটল, এই প্রশ্নের উত্তরে, বোধহয় প্রায় সবাই বলবেন, ‘নালন্দা মুসলিম আক্রমণকারী বখতিয়ার খলজি ধ্বংস করেছিল।‘ এই বিশ্বাস জনমানসে অত্যন্ত ব্যাপক, এবং এর কারণ সম্ভবতঃ বিংশ শতক থেকে বহু আধুনিক বিদ্বানদের রচনায় এই বিশ্বাসের অভিব্যক্তি। এই বিদ্বানদের অনেকেই আবার নিজেদের বিশ্বাস অনুযায়ী, ১১৯৩, ১১৯৭, ১১৯৮, ১২০০ ১২০২, ১২০৫ বা ১২০৬ সাধারণাব্দের মধ্যে কোন একটি বর্ষকে এই ‘ঘটনা’র সম্ভাব্য তারিখ বলে চয়ন করেছেন।[১]
১৯৯৫ সালের ডিসেম্বরের এক শীতল ও সিক্ত সন্ধ্যায় ইংল্যান্ডের সোয়াস-এ, বিশিষ্ট লেখক গুলাম মুর্শিদ মন্তব্য করেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ মুসলিম সমাজ সম্পর্কে তেমন কিছু লেখেননি। প্রয়াত অধ্যাপক ধ্রুব গুপ্ত অবশ্য এই মন্তব্যের প্রত্যুত্তরে জানিয়েছিলেন, মুসলিম সমাজের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সম্পর্ক কেবলমাত্র পরিমাণগত দিক থেকে বিচার করা ঠিক নয়। বরং এই বিষয়ে বিশ্বকবির আলোচনাগুলির গুণগত মূল্যায়ন করতে পারলে তা আরও অর্থবহ হবে। রবীন্দ্রনাথের মুসলিম সমাজের উপর আলোচনায় যে অন্তর্দৃষ্টির গভীরতা লক্ষ্য করা যায়, তা এমনকি ইসলাম সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের পর্যন্ত বিস্মিত করে। প্রকৃতপক্ষে এই কারণেই আমি উত্সাহিত হয়েছি এই রকম কম আলোচিত ভূখণ্ডে ঐতিহাসিক গবেষণা এগিয়ে নিয়ে যেতে।